জম্বুকেশ্বর মুর‍্যাল

জম্বুকেশ্বর — জলাধিপতি দ্বিতীয় পঞ্চভূতলিঙ্গমের কথা ও কাহিনী

জম্বুকেশ্বর — জলাধিপতি দ্বিতীয় পঞ্চভূতলিঙ্গমের কথা ও কাহিনী ।পঞ্চভূতের দ্বিতীয় ‘ভূত’ হল অপ্ বা জল। এই অপ্-য়ের অধীশ্বর হলেন অপ্ লিঙ্গম জম্বুকেশ্বর শিব। এঁর অবস্থান তিরুচিরাপল্লীর কাছে থিরুভনাইক্কাভালে। জম্বু অর্থাৎ জাম গাছের নীচে অবস্থিত বলে শিবের নাম জম্বুকেশ্বর। বলা হয় যে এই জামগাছটি সাধারণ জামগাছ নয়, সাদা জাম (Syzygium cumini)। চোল রাজাদের আমলে তৈরী সাতটি গোপুরম ও পাঁচটি দেওয়াল ঘেরা মন্দিরে মূল শিবলিঙ্গ একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণার জলে ঘেরা (অপ্ বা অপ্পু লিঙ্গ)। পার্বতী এখানে আছেন অখিলান্দেশ্বরী নামে। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহের পশ্চিম দিকের দেওয়ালে জানালা দিয়ে শিবলিঙ্গ দর্শন করার প্রথা।আজ আমরা জম্বুকেশ্বরকে দর্শন করব। লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়।

ভরতপুরের পটচিত্র

ভরতপুরের পটচিত্র- প্রচারের আলো বঞ্চিত এক শিল্পগ্রাম

ভরতপুরের পটচিত্র- প্রচারের আলো বঞ্চিত এক শিল্পগ্রাম।বাঁকুড়া জেলার পটের গ্রাম ভরতপুর। একটি অবহেলিত, গরিব পটশিল্পীদের গ্রাম, যার সম্মন্ধে খুব কম লোকেই অবহিত।কেবলমাত্র পটচিত্রকে পেশা করে যেসব পটুয়া সম্প্রদায় আদি পটচিত্রের অঙ্কন ধারা এখনও বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, ভরতপুর সেরকম একটি গ্রাম। এইযুগেও কেবলমাত্র পটচিত্র এঁকে, কথকথা করে বা পটের গান শুনিয়েই এনারা জীবননির্বাহ করে।–লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ।

পুরুলিয়ার ঠাকুর গোস্বামী বাড়ির দুর্গা

পুরুলিয়ার ঠাকুর গোস্বামী বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো

পুরুলিয়ার ঠাকুর গোস্বামী বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো।দ্বাদশ গোপালের অন্যতম ছিলেন ধনঞ্জয় পণ্ডিত।বীরভূমের জ্লন্দি  থেকে তাঁর উত্তর পুরুষ পুরুলিয়ার বেগুনকোদরে বসবাস শুরু করেন।এখান থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজো।সেই পুজো নিয়ে লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী।

বীরভূমের ধর্মজীবন

বীরভূমের ধর্মজীবন এবং শৈবসংস্কৃতির নানা বৈচিত্র্যময় দিক

বীরভূমের ধর্মজীবন এবং শৈবসংস্কৃতির নানা বৈচিত্র্যময় দিক।সুদূর অতীত থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত শিব আমাদের কাছে সমান ভাবে পূজনীয়। আদিদেবতা শিবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানান গল্পগাথা। সৃষ্টি হয়েছে নানান সাহিত্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভেঙে গড়ে শিব চরিত্রকে ভিন্ন ভিন্ন রূপদান করেছে। পৌরাণিক শিব বিবর্তিত হয়েছে লৌকিক শিবে। অনাদি অনন্ত দেবাদিদেব মহাদেব ঈশ্বরত্বকে আড়ালে রেখে হয়ে উঠেছেন সাধারণ, দরিদ্র, ভোগবাসনাময় জীবনের প্রতিরূপ। বীরভূমে এই শিবের বাসস্থান গড়ে ওঠার ইতিহাসটি আলোচনার দাবী রাখে। লিখছেন–ঝিলিক কর্মকার।

ন্যাংটাতলা ও ডুমনী মা

ন্যাংটাতলা ও ডুমনী মা -লোকমাহাত্ম্য ও লোকগাথায় ঊজ্জ্বল

ন্যাংটাতলা ও ডুমনী মা ।মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া রুকুনপুর গ্রামের নাগটাতলা জনৈক সাধকের সাধন স্থল।তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা লোকশ্রুতি লোকগাথা।বেলাডাঙা থানার নওপুকুরিয়া গ্রামের মা ডুমনী আদতে বৌদ্ধ তারামূর্তি হলেও নেপথ্যে আছে এক বিরহ দীর্ণ প্রেমের লোককাহিনী।লিখছেন–শুভদীপ সিনহা।

হাজার পিলার হল, একাম্বরেশ্বর

একাম্বরেশ্বর : প্রথম পঞ্চভূত লিঙ্গম — ক্ষিতি/ পৃথ্বী লিঙ্গম

পঞ্চভূতলিঙ্গমের প্রথম লিঙ্গ ক্ষিতি/ পৃথ্বী লিঙ্গম একাম্বরেশ্বর। সুপ্রাচীন এই মন্দিরটি তামিলনাড়ুর কাঞ্চীপুরম শহরে অবস্থিত। ক্লাসিকাল তামিল “সঙ্গম” সাহিত্যে খৃষ্টপূর্ব ৩০০ সালেই এই মন্দিরটির উল্লেখ আছে। বর্তমান মন্দিরটির অস্তিত্বের প্রমাণ অন্ততঃ ৬০০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে পাওয়া যায়। প্রথম মন্দিরটি বানান “পল্লব” রাজারা। পরে খ্রীষ্টীয় ৯ম শতাব্দিতে চোল রাজারা পুরোনো মন্দিরের জায়গায় নতুন মন্দির বানান। আদি শঙ্করাচার্য এই মন্দিরের নবরূপায়ণে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। ১৫শ শতাব্দিতে বিজয়নগরের রাজারা এই মন্দিরের উন্নতিকল্পে বহু অর্থ দান করেন। যদিও পরবর্তিকালে চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় একটি একাম্বরেশ্বর মন্দির নির্মিত হয়, আমরা ক্ষিতি/পৃথ্বী লিঙ্গ বলতে কাঞ্চীপুরমের প্রাচীন একাম্বরেশ্বরকেই বুঝবো। লিখছেন -আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়।

বাবলাগাছের ফাঁক দিয়ে চাঁদমামা

বাবলাগাছ- অবহেলিত গ্রাম্য বৃক্ষটি জড়িয়ে আছে প্রাচীন ধর্মসংস্কৃতিতে

বাবলাগাছ।অবহেলিত এই গাছটি সেই অর্থে নিষ্কর্মা গাছ ছাড়া কিছুই নয়।কিন্তু এই গাছটি গ্রাম্যজীবনের পাশাপাশি জড়িয়ে আছে প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতিতে।এমনকি প্রাচীন আরবদের অন্যতম বৃক্ষদেবী ছিলেন এই বাবলাগাছ।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

অরন্ধন পুজো

অরন্ধন পুজো ও মনসাসংস্কৃতির বৈচিত্র নিম্ন দক্ষিণবঙ্গে

অরন্ধন পুজো ও মনসাসংস্কৃতির বৈচিত্র নিম্ন দক্ষিণবঙ্গে যা ভাদ্রসংক্রান্তিতে পালিত হয় নিষ্ঠার সঙ্গে।বাংলার বিশিষ্ট লোকদেবী ‘মনসা’। ইনি সর্পদেবী রূপে বাংলার প্রায় প্রতিটি হিন্দু পরিবারে বিভিন্ন আচারণ বিধি সহ পূজিতা হন। মনসা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্পদেবী মনসার বিবিধ নামে, লোকাচারে ও বিশ্বাসে পুজো হয়। এই দেবীকে মনসা, পদ্মা, পদ্মাবতী, জগৎগৌরী, বিষহরি, মনসাবুড়ি, কেতকা, সিদ্ধযোগিনী, বিষহরা, ভগীবুড়ি, জগতি, বেলকুমারী, চেংমুড়ি, কানী, নাগমাত ও নাগেশ্বরী ইত্যাদি নামে স্থান বিশেষে ডাকা হয়।–লিখছেন–অভিষেক নস্কর।

ঘুড়ির বৈচিত্র্য

বিশ্বকর্মাপুজোয় ঘুড়ি ওড়ানো এবং শিল্পী সম্প্রদায়ের কথা

বিশ্বকর্মাপুজোয় ঘুড়ি ওড়ানো এবং শিল্পী সম্প্রদায়ের কথা।ভাদ্র সংক্রান্তির দিনে হয় সমস্থ রকম নির্মাণ শিল্পের দেবতা দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পুজো। এনার উৎপত্তি নিয়ে অনেক মত প্রচলিত। কেউ বলেন ব্রহ্মার নাভি পদ্ম থেকে তাঁর উৎপত্তি, আবার আরেক মত হচ্ছে অষ্ট বসুর প্রভাস হচ্ছেন তাঁর পিতা এবং মাতা হচ্ছেন দেবগুরু বৃহস্পতির বোন যোগসিদ্ধা। লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ।

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা-নলাটেশ্বরী-মন্দির

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা : শাস্ত্রে ও পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে

দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মা যন্ত্র ও যন্ত্রবিদ্যার দেবতা হিসাবেই পরিচিত। কখনও বলা হয়েছে তিনি স্বয়ম্ভূ। আবার কোথাও বলা হয়েছে তিনি অষ্টবসুর অস্টম বসু প্রভাসের ঔরসে বৃহস্পতির ভগ্নী যোগসিদ্ধার গর্ভে জন্মেছেন। তিনি বিশ্বের নির্মাতা, তাই তিনি বিশ্বকর্মা। লিখছেন– আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়