দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

কাদম্বিনী গাঙ্গুলী (বসু)(18 July 1861 – 3 October 1923)- দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক (বাঙালি) যিনি ইউরোপীয় চিকিৎসাবিদ্যায় প্রশিক্ষিত | চন্দ্রমুখী বসুর সাথে তিনিই সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্নাতক।তাকে তাই ঊনবিংশ শতকের সমাজজীবনে অশিক্ষা, কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে থাকা বাঙালি মেয়েদের জীবনে  আলোকবর্তিকাও বলা চলে…লিখছেন–পারমিতা চক্রবর্তী ভট্টাচার্য।

অনাদৃত রত্ন ২৫ – গুড়াপের নন্দদুলাল জিউর মন্দির

পশ্চিমবঙ্গের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমন বহু মন্দির-মসজিদ-স্থাপত্য যেগুলি নানাদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রধানতঃ উপযুক্ত প্রচারের অভাবে সাধারণ মানুষজনের কাছে অচেনা বা স্বল্প জানা। একমাত্র স্থানীয় লোকজন এবং কিছু ভাস্কর্যপ্রেমী ছাড়া এই স্থাপত্যগুলিতে সাধারণ দর্শকরা ভিড় করেন না। আমরা বর্তমান ‘অনাদৃত রত্ন’ সিরিজে এই রকম কিছু মন্দির-মসজিদ-স্থাপত্যকে সর্বসাধারণের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।আজকের বিষয় গুড়াপের নন্দদুলাল জিউ মন্দির।্লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী , উজানির উজান বেয়ে

উজানি- কো গ্রাম- মঙ্গলকোট- চম্পাইনগর- কর্জনা থেকে হুগলীর সপ্তগ্রাম অবধি, অজয়, কুনুর, গাঙ্গুর, দামোদর দিয়ে বাংলার সুবর্ণবণিক, গন্ধ বণিক, তাম্বুলী বণিক ইত্যাদি সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা নিজদেশে এবং বহির্বিশ্বে ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন। দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর ‘ বৃহৎ বঙ্গ’ নামক বইয়ে মন্তব্য করেছেন-” বণিক বধূরা সোনার কলসী লইয়া জল আনিতে যাইতেন ; অর্ণব যানগুলির মাস্তুল স্বর্ণ মন্ডিত থাকিত…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

গুপ্তিপাড়ার ভাণ্ডার লুঠ

একটি তিন মুখ দরজাওয়ালা ঘরে জগন্নাথ,বলরাম,সুভদ্রাকে ভোগ উৎসর্গ করে।ঐ ঘরটিতে মালসা বা ছোট ছোট হাঁড়ির মধ‍্যে খিচুড়ি,বিভিন্ন ভাজা,বিভিন্ন আনাজের তরকারী ও পায়েস সাজিয়ে রাখা হয়।এই ঘরটির দক্ষিণ,পূর্ব,পশ্চিম দিকে দরজা রয়েছে।এ দরজা দিয়ে বিভিন্ন জনজাতির লোকেরা রীতি মত দুপুর থেকে দাঁড়িয়ে, ঠেলাঠেলি করে দরজা খুলে লুঠ করে নিয়ে আসেন ভোগের মালসা।বিকেলে জগন্নাথ,বলরাম,সুভদ্রাকে ভোগ নিবেদনের সময় গুপ্তিপাড়ার মন্দির থেকে আনা হয় বৃন্দাবনচন্দ্র,রামচন্দ্র,সীতাদেবীকেও পাল্কিতে বসিয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগের জন‍্য।পুজো করে তাদের ভোগ নিবেদনের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।ভেতরে লোক থাকে।তিন দিক থেকে যখন প্রচন্ড চাপে দরজা ভেঙে যাওয়ার যোগার তখন ভেতরের লোক দরজা খুলে দেন।লোক হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে মালসা ভোগ নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।বস্তুত এই অনুষ্ঠানটির নাম ভাণ্ডারা লুঠ বা ভাণ্ডারা লুঠ্‌…লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই

মাজিগ্রামের শাকম্বরীদেবী

কাটোয়া মহকুমার  প্রাচীন ঐতিয্যবাহী জনপদ মঙ্গলকোট থানার মাজিগ্রাম।গ্রামের  অধিশ্বরী  দেবী শাকম্ভরী। গ্রামের সবকিছুতেই তাঁর অগ্রাধিকার। এমনিতে শাকম্ভরী গ্রাম্যদেবী।তাঁর জন্যই গ্রামে দুর্গাপুজো পর্যন্ত নিষিদ্ধ।এমনি তাঁর দোর্দণ্ড প্রতাপ।অখন্ড  বাংলাদেশে শাকম্ভরীর পুজো বলতে এই মাজিগ্রামেই। আষাঢ় নবমীতে দেবীর বাৎসরিক পুজোপলক্ষে অসংখ্য বহিরাগত দর্শানার্থীসহ আনন্দে মেতে ওঠে মাজিগ্রাম ও সন্নিহিত গোটা অঞ্চলটাই।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

নারদ মুনি ও মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্ক

সত্যিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের রেইনিয়ার আগ্নেয়গিরিকে ঘিরে গড়ে ওঠা মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্কে আমাদের নারদমুনি জলজ্যান্ত হাজির…লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

খোয়াবগাঁ: একটি স্বপ্নের ইতিকথা

ঝাড়গ্রাম শহরের অদূরে অবস্থিত লালজল পাহাড়ে আছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের অপূর্ব কিছু গুহাচিত্র, সময় যেখানে আজো থমকে আছে নিঃসঙ্গতার দোলাচলে। অখণ্ড বাংলার মাটিতে আদিম গুহাচিত্রের এটি একমাত্র আবিষ্কৃত উদাহরণ যা ১৯৮১ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসে। স্যাঁতসেঁতে পাথরের দেওয়ালে তিনরঙা সেই প্রস্তরযুগের দলিল আজ হাজার হাজার বছর পার করে যেন হয়েছে বিস্মৃতির অবকাশ। সভ্যতার পূর্বরাগ। ইতিহাসের পূর্বজন্মে শিল্প ও প্রকৃতির অভিসার। খোয়াবগাঁয়ের জীবন্ত ক্যানভাসের দল যেন তারই উত্তরসূরি।লিখছেন–শুভঙ্কর দাস।

কল্যাণেশ্বর শিবমন্দির, বালি

“ওরে হিদে, শিবের মাথাটা নড়ছে রে …”

যাঁরাই শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পড়েছেন, তাঁরাই ঠাকুর রামকৃষ্ণের এই কথাগুলো পড়েছেন। ঠাকুর বালির কল্যাণেশ্বর শিবমন্দিরে পূজো দিতে এসে কল্যাণেশ্বর শিব সম্বন্ধে এই মন্তব্য করেছিলেন। বলাই বাহুল্য, ঠাকুরের কাছে যা ছিল ‘জ্যান্ত শিব’, সেই কল্যাণেশ্বর শিব ও শিবমন্দির নিঃসন্দেহে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্দির। কিন্তু রামকৃষ্ণ ভক্তমণ্ডলী ও স্থানীয় লোকজন ছাড়া খুব বেশি মানুষ এই মন্দিরটি সম্বন্ধে জানেন না বা জানলেও খুব বেশি বাইরের মানুষ এই মন্দিরটি দেখতে আসেন না।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

হেতমপুর ও এক বাদশাহী প্রেমকাহিনি

হেতমপুর গ্রামের একেবারে দক্ষিণ সীমানায় এক বিশাল মাঠ বর্তমান। স্থানীয়রা অনেক বলেন গড়ের মাঠ। এখানেই, বন বিভাগের ডাক- বাংলোর কাছেই আছে বীরাঙ্গনা ” শেরিনা বিবির সমাধি”। এর কাছেই দেখতে পাবেন প্রজানুরঞ্জনের জন্য হাফেজ খাঁ র নির্মিত হাফেজ খাঁঁর বাঁধ। এখানেই কোথাও ছিল প্রাচীন হেতমপুর গড়।…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

পুরীর রথযাত্রা

স্নান যাত্রার পর আসে গুন্ডিচা যাত্রা , অর্থাৎ রথযাত্রা। স্নান যাত্রায় স্নান করার ফলে প্রভু জগন্নাথদেব , বলরাম ও সুভদ্রাদেবীর জ্বর আসে , তাই কিছুদিন বিশ্রাম নেবার পর সুস্থ্ হয়ে উঠলে গুন্ডিচা মাসীর বাড়ি যাবার উদ্দেশে রথে ওঠেন। তাই প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়ায় শুরু হয় রথযাত্রা । পুরীর মন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ২ কিমি। সেই জন্য সেই শুরু থেকে পুরীতে তিনটি আলাদা আলাদা রথ বানানো হয়। পুরীর রথ তিনটি সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি হয়। তবে যে সে কাঠ হলে চলবে না । ফাঁসি ও ধাউসা গাছের কাঠ দিয়েই নির্মাণ করা হয় এই রথগুলি।্লিখছেন–আশুতোষ মিস্ত্রী

error: Content is protected. Thanks and Regards, Koulal.