প্রাচীন কলকাতার কথা-কালীঘাটের সেকাল একাল

কালীঘাটের মা কালী বা সতীর পদাঙ্গুল উদ্ধারের কাহিনী নিয়ে অসংখ্য গল্প কথা প্রচলিত আছে, বহু সাধক এবং বড় মানুষদের নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে আত্মারাম ও ব্রহ্মানন্দ নামক একজোড়া সাধকের কথা। ব্রহ্মানন্দ নামক এক সাধক নীলগিরি পর্বতের একটি শিলাখন্ড কে মা- কালিকা রূপে নাকি পুজো করতেন, পরে আত্মারাম নামক এক বাঙালি সাধুর পরামর্শে ইনি আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে এই মূর্তিটি কালীঘাটের মধ্যে ব্রহ্মার ঢিবি নামক জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেন।লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

জামাইষষ্ঠীতে ধামেশ্বর মহাপ্রভু

জামাই আদরে সমস্ত কিছুর আয়োজন থাকে তাদের ঘরের জামাই’এর জন্য। নবদ্বীপের সেই মন্দিরে কয়েকশো বছর ধরে চলে আসছে সেই রীতি। জামাইষষ্ঠীর দিন সকালে মঙ্গলারতি কীর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের সূচনা। তারপরই নিবেদন হয় বাল্যভোগ, নবদ্বীপের প্রবীণ মহিলারা মহাপ্রভুকে ষষ্ঠীর “বাটা” দেন বা বলা যেতে পারে ষষ্ঠীর “ষাট” দেন। তালপাতার হাতপাখায় বেঁধে আমপাতা, দূর্বা, লালসূতা ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে এবং তারা ছড়া কেটে কেটে মহাপ্রভুকে ষষ্ঠীর ষাট দেন।লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী

ভীমায়াপুরা / ফিমাই- অজানা থাইল্যাণ্ডের অচেনা পথে ভ্রমণ

ফিমাই শহরটি ব্যাঙ্কক থেকে প্রায় ৩২১/২২ কিলোমিটার দূরত্বে। বিভিন্ন উপায়ে যেখানে পৌছানো যায়। এই ফিমাই শহরটি কম্বোজের আঙ্কোরভাটের আদর্শে গড়ে তোলা অপূর্ব স্থাপত্যের ধারক।মূল আকর্ষণ এর হিন্দু স্থাপত্য। ফিমাই প্রাসাত বা প্রাসাদ ফিমাই এর বিভিন্ন লিনটেল, পিলারে রয়েছে রামায়ণ, মহাভারতের কাহিনী। এই শহরটিতে মহাদেব শিবের আরাধনা হতো প্রায় হাজার বছরেরও আগে। বহু শিবলিঙ্গ হিন্দু দেবদেবীর মূর্ত্তি সহ নানান ভাস্কর্য্যে পূর্ণ ছিল এই শহর। যারা ব্যাঙ্কক থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে ঐতিহাসিক শ্যামদেশকে দেখতে ভালোবাসবেন তাদের কাছে ফিমাই এক আশ্চর্য্য জগত।লিখছেন–অনিতা বোস

পূর্ববঙ্গে পালিত অরণ্যষষ্ঠী

দেশভাগ পরবর্তী নগর জীবনে নদী বা জলাশয় এ স্নান সম্ভব না হলেও বাড়িতে গামলায় জল দিয়ে, কৃত্রিম পুকুর তৈরী করে এই রীতি পালনের রেওয়াজ আজও সমানভাবে সক্রিয়। স্নানের পর ভিজে কাপড়ে, ফলগুলি কোঁচড়ে নিয়ে পাখা ও দূর্বার গাছাটি জলে ডুবিয়ে ধোয়া হয় ও ঘটিতে জল পূর্ণ করা হয় এর পর চন্দ্র সূর্য থেকে শুরু করে নিজের ও আত্মীয়দের সন্তান, গৃহপালিত পশু, দেবদেবী, সবার নাম করে ব্রতিনি নিজের নাভিতে দূর্বার জল ছেটায় ও ভিজে পাখার বাতাস দেয় l একে বলে “ষাট বাছা “।
এর পর বাড়ির উঠানে ছোট পুকুর কেটে তার ধারে বট অশ্বথের ডাল পুঁতে, কৃত্রিম অরণ্য তৈরী করা হয় ও ঘট স্থাপন করে পুরোহিত দিয়ে ষষ্ঠী দেবীর পূজা করা হয়। পুজোতে অন্যান্য উপকরণের সাথে লাগে “তুলার কঙ্কণ “, “পিঠালির কালো বিড়াল ” “ছয় খাই সুতা ” ইত্যাদি।

শান্তিপুরের ঐতিহ্যের জামাইষষ্ঠী

জামাইষষ্ঠীর দিন শ্রীশ্রীরাধারমণ জীউ’র বিশেষ পূজা হয়, বলা যেতে পারে জামাইষষ্ঠীর আদর খেতে প্রস্তুত থাকেন শান্তিপুরের ঐতিহ্য- শ্রীশ্রীরাধারমণ জীউ। অতীতে রাধারমণ জীউ শ্বশুরবাড়ির এক মন্দিরে যেতেন জামাইষষ্ঠীর দিন, দুপুরবেলা ভোগ নিবেদনও হত সেই মন্দিরেই কিন্তু বর্তমানে সেই মন্দিরের ভগ্নদশার কারণে সেই মন্দিরে উৎসব পালিত হয় না। তবে রীতিনীতি আজও বর্তমান, আজও শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর জন্য নতুন ধুতি, নতুন বস্ত্র আসে। পাখার বাতাস করা হয় এই দিন তাঁকে তারপর নৈবেদ্যভোগ নিবেদন হবে। দুপুরবেলা অন্নভোগ নিবেদন করা হয়, ভোগে থাকে- সাদাভাত, শাক, শুক্তনি, ভাজা, মোচার ঘন্ট, ডাল, এঁচড়ের তরকারি, ছানার ডালনা, পোলাও, চাটনি, পায়েস, দই এবং নানান রকমের মিষ্টান্ন ইত্যাদি। রাত্রে ভোগে থাকে চিঁড়ে মাখা, মিষ্টি ইত্যাদি। একেবারে বলা যেতে পারে জামাইষষ্ঠীর দিনে শ্রীশ্রীরাধারমণের বিশেষ যত্নআত্তি করা হয় রাজকীয় ভাবে।লিখছেন শুভদীপ রায় চৌধুরী

জয়নগর-মজিলপুরের অতীতকথা : ঐতিহাসিক বেশের মেলা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার শতাব্দী প্রাচীন মেলা-পার্বণগুলির মধ্যে জয়নগর-মজিলপুর অঞ্চলের ‘বেশের মেলা’ অন্যতম। স্থানবিশেষে জয়নগর-মজিলপুর একত্রে সম্বোধিত হলেও জয়নগর এবং মজিলপুর পাশাপাশি অবস্থানকারী পৃথক দুটি গ্রাম। এই দুটি গ্রামে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ানুযায়ী দুটি বেশের মেলা অনুষ্টিত হয়। একটি জয়নগরের জয়চণ্ডীর পূজা উপলক্ষে এবং অপরটি মজিলপুরের ধন্বন্তরী কালীর বাৎসরিক পূজাকে কেন্দ্র করে। এই পর্বে মজিলপুরের ধন্বন্তরী কালীমন্দির সংলগ্ন বেশের মেলা ও এই দেবীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জয়নগর-মজিলপুরের প্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দিকে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে।–লিখছেন–শুভঙ্কর মণ্ডল

মুর্শিদাবাদ শহরের রমজান পালনের সেকাল একাল

নবাবী আমলে রমজান পালিত হত অত্যন্ত আড়ম্বরের সাথে।কেল্লা নিজামতের বড়,বড় প্রাসাদের ছাদে ওঠা হত রমজানের চাঁদ দেখার জন্য।সন্ধ্যার আকাশে রমজানের পবিত্র চাঁদ দেখা গেলে শুরু হয়ে যেত আনন্দ উদযাপন।সমগ্র নগরবাসীকে সেই খবর জানাতে সর্বমোট পাঁচটি তোপ দাগা হত।তোপের সেই হৃদয় বিদারক আওয়াজ মুর্শিদাবাদ নগরী পার করে ছড়িয়ে পড়ত দুর দূরান্তে। এই তোপ ধ্বনি শুনেই রাজধানী এলাকার আপামর জনসাধারণ রমজান আগমনের খবরে নিশ্চিত হতেন।তোপ দেগে রমজান আগমনের খবর জানান দেওয়ার পর শুরু হত রমজান আগমনের খুশি উদযাপনের পর্ব।লিখছেন–ফারুখ আবদুল্লা

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

গ্রীষ্মকালীন প্রবল দাবদাহের মধ্যেও তাঁরা এই প্রবল কৃচ্ছসাধনের মধ্য দিয়ে অন্তরকে পবিত্র করেন। চিত্তশুদ্ধিই এই কৃচ্ছ্রসাধন বা রোজা আদায়ের মূল হেতু। অন্তরের লোভ,কাম, ক্রোধকে বিসর্জন দিয়ে ভালোবাসা ও স্নেহের আবির্ভাব ঘটান। তাঁরা এই সময় ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন বা আদায় করেন। নামাজের অর্থহলো আহ্বান করা। তাঁরা পবিত্র চিত্তে সারা মাস ব্যাপী এটা করেন।–লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী

নরসিংহ মন্দির, নরসিংপুর, মধ্যপ্রদেশ

মধ্যপ্রদেশের নরসিংপুরে নরসিংহদেবের একটি মন্দির আছে। ১৮শ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি খুবই বিখ্যাত এবং এর গুরুত্ব কতটা তা এ দেখেই বোঝা যাবে যে এই মন্দিরটি যেখানে আছে, সেই শহর এবং জেলার নাম নরসিংহদেবের নামানুসারেই নরসিংপুর।তাছাড়া মধ্যপ্রদেশ সরকার এই মন্দিরটিকে “সংরক্ষিত স্মারক” বা Protected monument ঘোষণা করেছেন এবং মন্দিরটি বর্তমানে জেলা প্রশাসনের অধীনে। এও এই মন্দিরটির গুরুত্ব নির্দেশ করে।–লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

মধ্যযুগে মহানাদ

পাণ্ডুয়ার মিনার যে আসলে একটি প্রাচীন বিষ্ণুমন্দিরের ধ্বংসস্তুপের ওপর তৈরী একথা অনেক ঐতিহাসিকই বলেছেন। ত্রিবেণীর জাফর খাঁর সমাধি সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। কিন্তু মহানাদে মুসলমান আক্রমণের সময় জটেশ্বরনাথের মন্দির রক্ষা পেল কি করে? এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।–লিখছেন–মানব মণ্ডল