ভারতীয় অনুচিত্রে ব্রতিনী ও ব্রতকথা

ব্রত হল পালুনী বা সংযম।আবার ব্রতে কামনার কথাও বর্ণিত থাকে।কৌতূহলের বিষয় অনেকদিন ধরে ভারতীয় মিনিয়েচার বা অনুচিত্র দেখার সুবাদে হঠাৎ করে ব্রতকথা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে চোখে পড়ে এই সমস্ত ব্রতের ছবিগুলি।লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই

কোচবিহারের  মদনমোহন মন্দিরঃইতিহাস ও সংস্কৃতি

মদনমোহন মন্দির বাংলার চারচালা ও দালান মন্দিরের অনুকরণে দক্ষিণ মুখী চারকোনা ঘরের বাঁধানো কার্নিশের ওপর গম্বুজ বসিয়ে নির্মিত। দূর থেকে মন্দিরের চূড়া  শ্বেতপদ্মের মত লাগে। মন্দিরের পাশাপাশি চারটি কক্ষের মধ্যে মূল কেন্দ্রের কক্ষে ঠাকুর মদনমোহন অধিষ্ঠিত। রৌপ্য সিংহাসনে  অতি উজ্জ্বল স্বর্ণ বর্ণ  বংশিধারী  মনোহর ‘মদনমোহন’। মদনমোহন মন্দিরের মূল আকর্ষণ কিন্তু  মদনমোহনই।লিখছেন–আশুতোষ মিস্ত্রী

বাংলার কৃষি উৎসব ইতুপুজো

কার্তিক সংক্রান্তির দিন একটি বড় পরিস্কার নুতন মাটির সরায় গঙ্গামাটি দিয়ে তাতে ধান, মান, কচু ,হলুদ , শুশনিশাক কলমীশাক , সর্ষে ইত্যাদি গাছ শিকড় শুদ্ধ বসিয়ে চারদিকে পাঁচটি বটের ডাল পুঁতে মাঝে দুটি জল পূর্ণ ঘট বসিয়ে তাতে সিঁদুর দিয়ে পুতুল এঁকে ঘটের মাথায় দূর্বা দিয়ে পূর্ণ করে দিতে হয় ও দুটিঘটের সামনে মাটিতে একটি করে দুটি হরিতকী অথবা সুপারি পুঁতে দিতে হয়। তারপর পুরো সরায় মাটির ওপর ছোলা মটর সহ পাঁচ কলাই ছড়িয়ে হাতে তিল নিয়ে সঙ্কল্প করতে হয়…লিখছেন–শুভজিত সাহা।

শতদল পদ্ম-আলপনা

গ্রাম বাংলার আলপনায় আমরা দেখে থাকি, উঠোনের মাঝ বরাবর প্রথমে গোলাকার, চর্তুকোনাকার, ষড়কোনাকৃতি নকশা আঁকা হয়।এইগুলোকে বলা হয় মন্ডল।এই মন্ডলের ভিতরে আটটি পাপড়ি বিশিষ্ট একটি ফুল দেখা যায়। এটি আঞ্চলিক ভেদে অষ্টদল পদ্ম, পানপদ্ম, সোনালপদ্ম,ইত্যাদি নামে পরিচিত…লিখছেন–সুমনকুমার গায়েন।

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৯ – বিভাস তমলুকের বর্গভীমা

বর্গভীমা নামটি এল কোথা থেকে, অর্থাৎ ভীমা-র সঙ্গে বর্গ কথাটি যুক্ত হল কেন?

এ সম্বন্ধে নানা রকম মত আছে। কেউ বলেন একই বেদির উপর তিনটি মূর্তি থাকার জন্য ভীমা-র সঙ্গে বর্গ কথাটি যুক্ত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন স্থানীয় কোনও লৌকিক দেবী বর্গ-য়ের সঙ্গে ভীমা নামটা যুক্ত হয় বর্গভীমা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন ভীমা দেবী ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ এই চতুর্বর্গ দান করেন বলে তাঁর নাম হয়েছে বর্গভীমা। আবার অন্য এক মতে বঙ্গদেশ আক্রমণকারী মারাঠা বর্গীরা এই ভীমা দেবীকে দেখে ভয় পেয়ে এই অঞ্চলে কোনও অত্যাচার করেনি। সেই থেকে ভীমা দেবী বর্গভীমা নামে পরিচিত হন…লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়।

শ্রীখণ্ডের নরহরি সরকার ও বড়ডাঙার মেলা

ষোড়শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে নরহরি সরকারের জীবনাবসান হয় কার্তিক মাসের কৃষ্ণা একাদশী তিথিতে। কিন্তু ভক্তিরত্নাকরে অগ্রহায়ণ মাস  উল্লেখিত আছে। ঠাকুর রঘুনন্দন ও শ্রীনিবাস আচার্যের নেতৃত্বে প্রথম বাৎসরিক মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঠাকুরবাড়ির প্রাঙ্গণে। নরহরি চক্রবর্তীর ভক্তিরত্নাকরের নবম তরঙ্গে এ বিষয়ে বিশদ বর্ণনা রয়েছে।মহোৎসবে এসেছিলেন নিত্যানন্দ তনয় বীরভদ্র পুরূষত্তোম আচার্য ,রামদাস , কবিচন্দ্র, কবি কর্ণপু্‌র, কবি বলরাম দাস্‌,জ্ঞানদাস গোপাল আচার্য লোকনাথ পন্ডিত প্রমুখ বৈষ্ণব কবি মহান্তরা…লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর।

বাঁশবেড়িয়ার ধুমো ও জ্যাঙড়া কার্তিক

কার্তিকের দুই পাশে যে দুজন দাঁড়িয়ে থাকেন,খয়রি বর্ণের ,দেখে মনে হয় কোনো দেহাতী জনজাতিদের হয়ে এনারা দুইপাশে অধিষ্ঠান করছেন।উত্তর ভারতের যৌধেয় টোটেম ময়ূর।প্রতিমার উচ্চতা  প্রায় ১৩-১৫ ফুট।সাহাগঞ্জের ধর্মরাজতলায় জ‍্যাংড়াকার্তিকের পুজো প্রায় ২৯১ বছর ধরে চলে আসছে।এলাকার লোকেরা আবার বলে জিলিপি কার্তিক।বাহন ময়ূরের মুখে বড় আকৃতির জিলিপি ঝোলানো থাকে এখানে।পুজোয় প্রসাদের মধ‍্যে জিলিপিও দেওয়া হয়। লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই।

বাঁশবেড়িয়ার ঐতিহ‍্যবাহী কার্তিক তৃতীয় পর্ব

বংশবাটী রাজবাড়ি,হংসেশ্বরী মন্দির,অনন্ত বাসদেব মন্দির,উদয় রায়,রাঘব রায়,রামেশ্বর,রাজা রঘুদেব রায়,কুমার মুনীন্দ্রদেব রায়,চতুস্পাঠীসহ নানা ঐতিহ‍্যের শিকড় আজও রয়েছে।এককালে সারস্বত সমাজ গড়ে ওঠে এখানে।সে ঐতিহ্যের ছাপ এখনও রয়েছে ‘টোলবাড়ি’ তার প্রমাণ।বাঁশবেড়িয়া রাজবাড়ির সভাপণ্ডিত ছিলেন মহেন্দ্রনাথ তর্কপঞ্চানন, কথকতার সম্রাট শ্রীধর কথকের বাড়ি বংশবাটিতেই ছিল।তাঁর লেখা ‘সংগীত রত্নাবলী’একটি উল্লেখযোগ‍্য গ্ৰন্থ।লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই।

বাঁশবেড়িয়ায় কার্তিকপুজোর ‘তুলোট’প্রথা

হুগলীজেলার বাঁশবেড়িয়ায় উল্লেযোগ‍্য একটি পুজো নারায়ণ পুজো।এলাকায় কার্তিক মানে যে শুধু কার্তিকের পুজো হয় তা নয়।বাঁশবেড়িয়ার বহু স্থানেই নারায়ণের পুজো হয়ে থাকে।বহু জায়গায় অতীতে ‘তুলোট’ প্রথা ছিল।বর্তমান কার্তিক পুজোয় নারায়ণতলায় এই তুলোট প্রথার ব‍্যবহার দেখা যায়।এটি একপ্রকার মানতের অনুষ্ঠান…লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই।

বাঁশবেড়িয়ার ঐতিহ‍্যবাহী কার্তিক প্রথম পর্ব

বাঁশবেড়িয়ার কার্তিকের দুইপাশে প্রহরীর ন‍্যায় দুজন দাঁড়িয়ে থাকেন তাকে এলাকার লোকেরা বলেন-সিপাহী,যা এই কার্তিক ঠাকুরের দুইপাশে থাকে।পুলিশের মত পোষাক-পরিচ্ছদ এই দুইজনার।এই পুতুলদ্বয়ের মধ‍্যে উপনিবেশিক প্রভাব লক্ষ‍্য করা যায়।প্রায় ৩৭৫ বছর যাবৎ পুজিত হচ্ছেন রাজা কার্তিক।এলাকার লোকেরা মহারাজ নন্দকুমার বা রাজা রামমোহন রায়ের সাথে এই কার্তিকের তুলনা করে থাকেন।।লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই