পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে আমরা কার্ত্তিককে প্রধানতঃ দু’ভাবে দেখতে পাই –

ক) দুর্গা প্যানেলে দুর্গা এবং লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশের সাথে।

খ) একা।

এছাড়াও বিরল ক্ষেত্রে আমরা কার্ত্তিককে দুর্গার সঙ্গে এবং শিব-পার্বতীর সঙ্গেও দেখি–লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

বঙ্গের প্রাচীন উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম এই রাস উৎসব। কলকাতার দুর্গাপুজো যেমন বিখ্যাত, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো যেমন বিখ্যাত ঠিক তেমনই শান্তিপুরের রাস উৎসব বিখ্যাত। শুধুমাত্র শান্তিপুরই নয় ;কলকাতা সহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন মন্দিরে রাধাগোবিন্দের রাস উৎসব হয়।লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী

শ্রীধাম শান্তিপুরের ভাঙারাস

শান্তিপুরের রাস তিন দিনের।প্রথম দুই দিন গোস্বামীরা তাঁদের আরাধ্য শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তিকে নিজেদের গৃহ অঙ্গনের রাসমঞ্চে সুসজ্জিত করে খোল করতাল সহযোগে কৃষ্ণ  নামসংকীর্তনে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে।তারপর তৃতীয় দিন সেই আরাধ্য মূর্তি মোমবাতির আলোর রোসনায় সুসজ্জিত হাওদার বেহারারা কাঁধে তুলে নিয়ে বিভিন্ন রকমের সঙ্,ময়ূরপঙ্খী, রামায়ণ,মহাভারত,পুরাণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নগর পরিভ্রমণে বের হয়।তৃতীয়দিনের এই নগর পরিক্রমণার মধ্যে দিয়ে রাসযাত্রা ভেঙে যায়,সেই ভেঙে যাওয়া(সমাপ্তি ) রাসই হলো শান্তিপুরের বিখ্যাত ভাঙ্গারাস। লিখছেন–রাহুল হালদার

শান্তিপুরের রাসে রাইরাজা কেন?

শান্তিপুরে ৩৭ টি বিগ্রহবাড়ি আছে তার মধ্যে ১৭ টি বিগ্রহবাড়ি ও ৭০ এর অধিক ক্লাবকে নিয়ে শান্তিপুরের ভাঙারাস অনুষ্ঠিত হয়। চারদিনের রাসোৎসবের শেষ উৎসব কুঞ্জভগ্ন। এইদিন নগর পরিক্রমাকারী বিগ্রহ যুগলকে হাজারো ভক্তের সমাবেশে ঢাক, ঢোল, কাঁশি, কীর্তন সহযোগে কোলে তুলে নাচানো হয়…লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী।

কেতুগ্রামের নিরোলে ব্যতিক্রমী কৃষ্ণকালীর রাস উৎসব

রাধা যে কৃষ্ণের সাথে প্রেম করতে গেছেন সেটা জটিলা কুটিলা টের পায় এবং হাতে নাতে ধরবে বলে রাধার স্বামী আয়ানকে সঙ্গে করে বৃন্দাবনের মধুবনে নিয়ে যায়। আয়ান ছিল কালী ভক্ত। এদিকে অন্তর্যামী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেটা বুঝতে পেরে রাধার সামনে কালী মূর্তি ধারণ করে। একেই কৃষ্ণকালী বলে। এই মূর্তি দেখতে স্বর্গ থেকে সকল দেবতা নেমে এসেছিল সেদিন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অধিকারীদের রাস উৎসব হয়ে থাকে…লিখছেন–কৌশিক রায় চৌধুরী

নবদ্বীপের রাসের কালী

বড়শ্যামা মাতার সারা বছর ঘটে পূজা হয়.. শুধুমাত্র রাস পূর্ণিমাতেই মূর্তি নির্মাণ করে পূজা হয়। বড়শ্যামা মাতা পূজায় জনসাধারণের থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া হয়না.. ” দি ট্রাস্টিস অব বড়শ্যামা মাতা” নামক ট্রাস্টি ফান্ড থেকেই বড়শ্যামা মাতার পূজার আয়োজন করা হয়.. নবদ্বীপে বড়শ্যামা মাতা যেমন আছেন তেমনই আছেন মেজো, সেজো ও ছোট শ্যামামাতা।লিখছেন–সপ্তক দাস।

নবদ্বীপের বৈষ্ণব রাস

জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে, চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন নবদ্বীপে। এ কথা যদি সত্যি হয় তাহলে স্বীকার করে নিতে হয় যে, ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভেই রাসের সূচনা হয়েছিল। আর চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পর নবদ্বীপের বৈষ্ণব আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। গৌরাঙ্গ পরিজনেরা বাধ্য হয়ে নবদ্বীপ ত্যাগ করে স্থানান্তরে গমন করেন। ফলে বৈষ্ণবীয় উৎসব অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে।দ্বিতীয় পর্যায়ে নবদ্বীপের রাস উৎসবের সূচনা হয় অভিনব এবং বাংলার ধর্মীয় ইতিহাসে তা অদ্বিতীয়। লিখছেন–রিয়া দাস।

মহাবীর কোলিয়ারীর বিপর্যয় ও দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে কলিয়ারীর শ্যাফট যখন ১২ মিটার জলের তলায়, ওপরের অফিস এবং নিচের খনি গর্ভের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম একটি মান্ধাতা আমলের টেলিফোন তখনও কাজ করছে। এই টেলিফোনেই নীচে আটকে পড়া একজনের কাছ থেকে দুটি খবর আসে।প্রথমটি অশুভ- ৬ জন শ্রমিক জলের তোড়ে কোথায় ভেসে গেছে, তাঁদের কোন খবর নেই। আর শুভ খবর হচ্ছে উনারা ৬৫ জন জলের তোড়ের মধ্যেও হাতড়ে হাতড়ে নারায়ণকুড়ি সিমের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় এসে জমা হয়েছেন।সবচেয়ে বড় কথা, উনারা কিন্তু ভয়ঙ্কর মরণ বাঁচনের মধ্যেও হিম্মত হারান নি। লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

নবদ্বীপের শাক্তরাস

নবদ্বীপের রাসের মূল আলোচনা যে দেবীকে কেন্দ্রকরে গড়ে উঠেছে, তা হলো গৌরাঙগিনী মাতা। গৌরাঙ্গিনী মাতা হলেন পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপের বাঙালিদের শাক্তরাস উৎসবের শক্তি আরাধনার পৌরাণিক দেবী। তিনি প্রধানত নবদ্বীপের দেবী। তার আরাধনা বাংলার হাজার হাজার বছরের শক্তি আরাধনার ঐতিহ্য বহন করছে…লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী

দাঁইহাটের পটপূর্ণিমার রাস

দাঁইহাটের রাসের মূলকেন্দ্রবিন্দু বর্মনদের শবশিবাকে নিয়ে।বর্মনরা মুলত কোচবিহারের ক্ষত্রিয় রাজবংশী সম্প্রদায়।শ্রীচৈতন্যদেবের আমল থেকে এরা নবদ্বীপে ভিড় করেছিল জীবন জীবিকার প্রয়োজনে।শিবশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায় রচিত “শবশিব মাতার ইতিকথা” থেকে জানা যায়–নবদ্বীপের রাজবংশীদের  এক গোষ্ঠী দাঁইহাটে চলে আসে এবং পিতল কাঁসার কাজে যুক্ত হয়। নবদ্বীপে ব্যাদরাপাড়ায় রাজবংশীরা পুজো করতেন পটে আঁকা শবশিবামাতাকে।এই বংশের তান্ত্রিকসাধক ভগীরথ সিংহ স্ত্রীপুত্র নিয়ে একসময় চলে আসেন দাঁইহাটে।শ্মশানকালীর  আরাধনায় মগ্ন হন।পরে তিনি ঐ শ্মশানকালীর স্থলে প্রতিষ্ঠা করেন  শবশিবামাতাকে।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর