১৫ই আগস্ট ১৮৫৪- বাংলায় প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়েছিল

Share your experience
  • 407
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    407
    Shares

১৫ই আগস্ট- মানেই ভারতের স্বাধীনতা দিবস। প্রত্যেক ভারতীয় কাছে এ এক আবেগের দিন স্মরণীয় দিন .. আমরা যারা হুগলী জেলার বাসিন্দা তারও ব্যতিক্রম নই .. তবে এই ১৫আগস্ট হুগলী জেলার জন্য আরও এক ঘটনার জন্যও চিরস্মরণীয় .. তবে সেই ঘটনা ১৯৪৭ সালের ১৫আগষ্টের নয় তার থেকে ৯৩ বছর আগের কথা .. অর্থাৎ আজ থেকে ১৬৬ বছর আগের ১৫ই আগষ্ট ১৮৫৪ সাল।লিখছেন–সুমন্ত বড়াল

"<yoastmark

১৫ আগস্ট ভারতে চিরস্মরণীয় দিন

আজ থেকে ১৬৬ বছর আগে ১৮৫৪ সালের ১৫ই আগষ্ট বাংলার মানুষ সাক্ষী ছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনার , যে ঘটনা বাংলার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ভাবনা টাকেই বদলে দিয়েছিল । সেদিন বাংলার মানুষ প্রথম দেখল একটি যান। যার গতিবেগ এর জন্য মানুষ তাকে ” পাগলা হাতি ” আর আদর করে যাকে ডাকত ” কলের গাড়ি ” হ্যাঁ রেলগাড়ি । বাংলার বুকে প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে রেল চলাচল শুরু আজকের দিনেই অর্থাৎ ১৫আগষ্ট । আর এর সাথে হুগলীর কি সম্পর্ক? প্রথম রেল চলেছিল বাংলার হাওড়া থেকে হুগলী স্টেশন এর মধ্যে । আরো গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় বাংলার প্রথম ট্রেনটি যে চারটি স্টেশনে এ থেমেছিল তার মধ্যে তিনটি হুগলী জেলার অন্তর্গত .. শ্রীরামপুর . চন্দননগর ও হুগলী ।

১৫ই আগস্ট ১৮৫৪ সাল বাংলায় রেলচলাচল শুরু

১৮৫৪ এর ১৫ই আগষ্টের সেই ট্রেন এ সফর করার জন্য প্রায় তিন হাজার মানুষ আবেদন করেন কিন্তু সুযোগ পেয়েছিল মাত্র কয়েকশো জন . ১৫ই আগষ্ট. ১৮৫৪ দিনটি ছিল মঙ্গলবার । প্রথম যে ট্রেন চলবে সেই ট্রেনে চ গার্ডের কামরা ছাড়া ছিল তিনটি প্রথম শ্রেণী , দুটি দ্বিতীয় শ্রেণী ও তিনটি তৃতীয় শ্রেণীর কামরা । সকাল সাড়ে আটটায় ট্রেনটির শুভ সূচনা হয় । যাত্রা শুরু করে নয়টা চল্লিশ নাগাদ ট্রেন টি হুগলী স্টেশন পৌঁছায় । ততকালীন সময় হাওড়া থেকে হুগলীর ভাড়া ছিল ,
প্রথম শ্রেণী ৩টাকা ,
দ্বিতীয় শ্রেণী ১টাকা ২আনা ,
তৃতীয় শ্রেণী ৭ আনা ..

ট্রেন চলাচল
ট্রেন চলাচল

প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুরের ভুমিকা

তবে এদেশে রেলের সূচনা পর্ব আরও পুরানো ।ইংরেজ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৪৯ থেকে এদেশে রেলওয়ে কোম্পানির সাথে চুক্তি বদ্ধ হয় . তারপর শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ ও রেললাইন পাতার কাজ . কোম্পানীর এই মহৎ উদ্যোগে প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুরের     এক বড় ভুমিকা ছিল , তিনি বাংলায় রেলপথ এর কাজের জন্য মূল ধনের এক তৃতীয়াংশ জোগাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে কাজে গতি আসে .. তবে লাইন পাতার কাজে বিলম্ব হয় । কারণ রেল লাইন এর কিছুটা অংশ চন্দননগর এর উপর দিয়ে যাচ্ছিল , আর চন্দননগর ছিল সেই সময় ফরাসী উপনিবেশ । ইংরেজ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ও ফারাসী সরকারের মধ্যে এই টালবাহানা না হলে হয়ত ভারতের প্রথম ট্রেন এই বাংলায় চলত।

ভোরের স্টেশন
ভোরের স্টেশন

সংবাদপত্রে খবর

পরবর্তী তে ফরাসি সরকারের অনুমোদন পেলে হাওড়া থেকে পান্ডুয়া পর্যন্ত রেল লাইন পাতা হয়। ১৮৫৪ এর ৬ জুলাই পান্ডুয়া পর্যন্ত পরীক্ষা মূলক ট্রেন চালানো হয়। তৎকালীন “বেঙ্গল হরকরা” কাগজে পরদিন ইংরেজি তে খবর ছাপা হয় যার তর্জমা করলে এইরকম দাঁড়ায় – “ গতকাল সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে হাওড়ায় এক বিশাল সমাবেশ হয়েছিল। প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রিপে যাত্রীবাহী ট্রেনের সাথে এটি লোকোমোটিভ এর চলাচল শুরু দেখতে..” কিন্তু ১৫ আগস্ট প্রথম যাত্রায় ট্রেন চলল হাওড়া থেকে হুগলী পর্যন্ত ।

আরও পড়ুন  এবার্ডিন বাজারের যুদ্ধ ও এক বিশ্বাসঘাতক দেশপ্রেমীর কাহিনী

সেই শুরু যা আজও চলছে .. সেই রেলপথ যা আজ সারাভারতের লাইফ লাইন .. হুগলীর মানুষের কাছে তাই ১৫ই আগস্ট এক চিরস্মরণীয় দিন .. এযেমন স্বাধীনতা দিবস .. তেমন আমাদের আদরের কলের গাড়ির এই বাংলায় পথ চলা শুরুর দিন ও বটে ।

 

দেখুন কৌলালের তথ্যচিত্র


Share your experience
  • 407
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    407
    Shares

Facebook Comments

Post Author: সুমন্ত বড়াল

সুমন্ত বড়াল
সুমন্ত বড়াল লেখক ক্ষেত্রসমীক্ষক ও সংস্কৃতিসংগঠক