আজগৈবীনাথ শিব ও সুলতানগঞ্জের উত্তরবাহিনী পবিত্র গঙ্গা

Share your experience
  • 188
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    188
    Shares

আজগৈবীনাথ মন্দির
আজগৈবীনাথ মন্দির

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়ঃ হিন্দুদের সবচেয়ে প্রিয় দেবতা কে, এ নিয়ে কখনও যদি ভোট হয় তবে মনে হয় শিউজী হাসতে হাসতে জিতে যাবেন। বিষ্ণুও জনপ্রিয় দেবতা তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু শিবকে আমজনতা যেভাবে আপন করে নিয়েছে বিষ্ণু ঠিক জায়গাটি পাননি। ভারতের উত্তর-দক্ষিণ পূর্ব-পশ্চিম সবদিকেই শিবঠাকুর বসে আছেন।শুধু মন্দিরেই নন, জনসাধারণের মনে। শিবঠাকুর যেমন জনগণের দেবতা, বিষ্ণু সে তুলনায় যেন একটু এলিটিস্ট। শিবঠাকুর বা শিবলিঙ্গকে যেমন ছোঁয়া যায়, জড়িয়ে ধরা যায়, বিষ্ণুকে বা শালগ্রাম শিলাকে তেমন করা যায় না। সে কথা থাক। শিব আর বিষ্ণুর কমপারেটিভ পপুলারিটি আমাদের সাবজেক্ট নয়। আজ আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দিরের কথা শুনবো। সেই মন্দিরটি হচ্ছে আমাদের পাশের রাজ্য বিহারের বিখ্যাত শিব আজগৈবীনাথ বা গৈবীনাথের মন্দির। বিহার রাজ্যের ভাগলপুর জেলায় জেলাসদর ভাগলপুর থেকে সুলতানগঞ্জ তথা আজগৈবীনাথের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার মতো।

সাবেককালের বিহার রাজ্যের (এখনকার বিহার ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে) তিনটি বিখ্যাত শিবমন্দির হলো দেওঘরের বৈদ্যনাথ। (আর্যাবর্তীয় পণ্ডিতদের মতে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম), দুমকার কাছে অবস্থিত বাসুকিনাথ ।সুলতানগঞ্জের কাছে আজগৈবীনাথ বা গৈবীনাথ। তিনটি মন্দির নিয়েই নানা পৌরাণিক ও লৌকিক কাহিনী আছে। চলুন আজ শোনা যাক আজগৈবীনাথের গল্প।

আজগৈবীনাথের পৌরাণিক কাহিনী

একটি কাহিনী অনুসারে শিব “আজগব” নামের একটি ধনুক এখানে রেখে দিয়ে নিজে লিঙ্গরূপে এখানে রয়ে গেছেন। ঐ “আজগব” কথাটি থেকে এই শিবের নাম হয়েছে আজগৈবীনাথ।

গঙ্গার সংযোগ

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে একটি পাহাড়ে জহ্নুমুনির আশ্রম ছিল। ভগীরথের আহ্বানে যখন গঙ্গা  মর্ত্যে  এসে গঙ্গাসাগরের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন সেই পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে গঙ্গার জল ফুঁসতে থাকে। জলরাশির প্রবল কল্লোলে জহ্নুমুনির ধ্যানভঙ্গ হয়। ধ্যানভঙ্গে ক্রুদ্ধ মুনি গঙ্গাকে শব্দ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু সেইযুগে গঙ্গাকে ড্যাম দিয়ে বাঁধা হয় নি। তাই মহাতেজে বয়ে যাওয়া গঙ্গাকে শব্দ করতে বারণ করা আর সমুদ্রকে চুপ করতে বলা একই ব্যাপার। গঙ্গা জহ্নুমুনির কথা না শুনে যেমন শব্দ করে বইছিলেন, তেমনি করেই বইতে লাগলেন। এতে জহ্নুমুনি ভয়ংকর রেগে গেলেন। এক চুমুকে পুরো গঙ্গার জলকে গিলে ফেললেন।

গঙ্গাকে এভাবে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখে ভগীরথ পড়লেন ভারী বিপদে। গঙ্গাকে সাগরে না নিয়ে গেলে কপিলমুনির শাপে ভস্ম হয়ে যাওয়া সগর রাজার ৬০,০০০ পুত্রের মুক্তি হবে না। ভগীরথ জহ্নুমুনির কাছে গিয়ে অনেক কাকুতিমিনতি করার পর মুনির রাগ কমলো। তিনি নিজের জানু চিড়ে সেখান দিয়ে গঙ্গাকে বার করে দিলেন। গঙ্গা যে পাহাড়ে জহ্নুমুনি তপস্যা করতেন, তার দু’পাশ দিয়ে বয়ে গিয়ে পাহাড়টিকে নিজের বুকের মধ্যে নিয়ে নিলেন। এখনও গঙ্গা সেভাবেই বইছেন। জহ্নুমুনির জানু চিড়ে মুক্তি পেয়েছিলেন বলে গঙ্গার নাম হয় জাহ্নবী।যে পাহাড়ে জহ্নুমুনি তপস্যা করতেন তার নাম হয় জহ্নুগিরি বা জহ্নুগৃহ। বর্তমানে এর কাছেই জাহাঙ্গিরা নামের একটি গ্রাম এই জহ্নুগিরি বা জহ্নুগৃহকে স্মরণ করায়।

আজগৈবীনাথ লিঙ্গ
আজগৈবীনাথ লিঙ্গ

আজগৈবীনাথের ইতিহাস

পৌরাণিক কাহিনী ছেড়ে আসুন এবার একটু ইতিহাস ঘাঁটা যাক। এই জায়গাটি এবং এখানকার স্বয়ম্ভু শিবলিঙ্গটি সুপ্রাচীন কাল থেকেই তীর্থস্থানের মর্যাদা পেয়ে আসছে। মৌর্য ও গুপ্তযুগেও এই মন্দিরটি ছিল বলে মনে করা হয়। বলা হয় যে শিবলিঙ্গটি হারিয়ে যাওয়ার পরে খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দিতে বাংলার সম্রাট শশাঙ্ক শিবলিঙ্গটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এর পরবর্তী পালযুগে মন্দিরটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরের মর্যাদা পায়। প্রধানতঃ গুপ্ত ও পালযুগেই এই মন্দিরে পাথরের ভাস্কর্যের চরম উন্নতি ঘটে।

এর পরের ইতিহাসটি একটু ধোঁয়াটে। পাল যুগের শেষের দিকে শিবলিঙ্গটি আবার হারিয়ে যায় । খৃষ্টীয় ১৫শ শতাব্দিতে মহাত্মা হরনাথ ভারতী শিবলিঙ্গটি খুঁজে পেয়ে মন্দিরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। শিবলিঙ্গটি হারিয়ে গিয়েছিল (গায়েব) বলে লোকমুখে শিবের নাম “গায়েব হুয়ে শিউজী” বা “গায়েবনাথ” থেকে গৈবীনাথ হয়ে যায় (“গৈবীনাথ মহাদেও”)। মহাত্মা হরনাথ ভারতীই ছিলেন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত মন্দিরটির প্রথম মহান্ত। তিনি মন্দিরটি সংস্কারও করেন।বলা হয় কালাপাহাড় এই মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করেও পারেননি। কিন্তু গঙ্গার পাড়ে অপর একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত পার্বতী মন্দিরটি ধ্বংস করে সেখানে একটি মসজিদ স্থাপন করেন যেটি এখনও আছে।

আজগৈবীনাথ মন্দিরের  অবস্থান

আজগৈবীনাথের মন্দিরটি সুলতানগঞ্জ শহরের এক প্রান্তে গঙ্গার বুকের মধ্যে অবস্থিত গ্র্যানাইট পাথরের একটি ছোট পাহাড়ের উপরে। বর্তমানে গঙ্গা কিছুটা উত্তরে সরে যাওয়ায় এখন দেখা যায় যে বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময় পাহাড়টি আর জলের মধ্যে নয়, গঙ্গার পাড়েই অবস্থিত। এখন পাড় থেকে পাহাড়টিতে যাওয়ার জন্য একটা লম্বা ব্রীজ আছে। যা শুধু বর্ষাকালেই কাজে লাগে। অন্যসময় সরাসরি গঙ্গার জলহীন বেড দিয়ে হেঁটেই পাহাড়টিতে তথা মন্দিরে যাওয়া যায়। পাহাড়ের গায়ে আরও কয়েকটি মন্দির ও গুহা থাকলেও মূল মন্দিরটি পাহাড়ের টপে। পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি আছে।

আজগৈবীনাথ মন্দির

পাহাড়ের মাথায় অনেকটা জায়গা জুড়ে অনেকগুলি মন্দির নিয়ে আজগৈবীনাথ মন্দির কমপ্লেক্স। উত্তর ভারতীয় নাগারা রীতিতে তৈরী একটি সুউচ্চ চূড়াসহ মূল মন্দিরটি পাথরের তৈরী। মন্দিরের মধ্যে গর্ভগৃহে ডানদিক ঘেঁসে গৌরীপট্টের মধ্যে ইঞ্চি আটেক উঁচু প্রায় এক ফুট ব্যাসের কালো রঙের আজগৈবীনাথ শিবলিঙ্গ। মূল লিঙ্গটি ছাড়াও আরও দুটি শিবলিঙ্গ আছে।
মূল মন্দিরের পাশে আরও কয়েকটি ছোট ছোট মন্দির ও একটি সাধুনিবাস আছে। ঐ মন্দিরগুলির মধ্যে ভৈরব মন্দির, গণেশ মন্দির ও নবগ্রহ মন্দির উল্লেখযোগ্য।

এই পাহাড়ে একাধিক গুহা আছে বলা হলেও একটি ছাড়া অন্যগুলি বর্তমানে বন্ধ। ঐ খোলা গুহাটিতে পাথরে হাই রিলিফে খোদাই করা বহু হিন্দু ও কিছু জৈন দেবদেবীর মূর্তি আছে। এর মধ্যে হর-পার্বতীর মূর্তিটি খুবই সুন্দর। এছাড়া বিষ্ণু, লক্ষ্মী ও গণেশের মূর্তিগুলিও খুব সুন্দর। বলা হয় যে এই মূর্তিগুলি মূলতঃ পাল যুগের (৭৫০ – ১১৭৪ খৃষ্টাব্দ)।

গঙ্গার ঘাট
গঙ্গার ঘাট

গঙ্গা

আগেই বলা হয়েছে, বর্তমানে গঙ্গা কিছুটা উত্তরে সরে গেছে।ফলে  এখন বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময় পাহাড়টি আর জলের মধ্যে নয়, গঙ্গার পাড়েই অবস্থিত। এখানে গঙ্গা উত্তরবাহিনী। গোমুখ থেকে গঙ্গাসাগর ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রবাহপথে গঙ্গা চারটি মাত্র জায়গায় উত্তরবাহিনী – উত্তরকাশী, কঙ্খল, কাশী ও এই সুলতানগঞ্জ। এই চারটি জায়গা যে শুধুমাত্র মহাপবিত্র তাই নয়, শাস্ত্রমতে কলিকালে গঙ্গার মাহাত্ম্য খর্ব হয়েছে । কলিতে শুধু এই চারটি জায়গায় গঙ্গাস্নানের পূণ্যলাভ হয়। এই কারনে সুলতানগঞ্জে গঙ্গায় স্নান করার জন্য ভিড় লেগেই থাকে এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়, তার মধ্যে গঙ্গা দশহরা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

এখানে গঙ্গার ঘাটে বহু পূজা-সামগ্রী ও খাবার জিনিষের দোকান। অনেক ঘাটপাণ্ডাও ঘুরে বেড়াচ্ছেন পূণ্যার্থীদের গঙ্গাপূজা ও অন্যান্য শাস্ত্রীয় কর্ম করিয়ে দেবার জন্য, তবে তাঁরা খুবই ভদ্র এবং তাঁদের ডিমাণ্ডও বেশি নয়।
প্রতিবছর বিশেষ করে শ্রাবণ মাসে সুলতানগঞ্জের গঙ্গায় স্নান করে এখানকার গঙ্গাজল ঘড়ায় নিয়ে সেই ঘড়া বাঁকে করে কাঁধে নিয়ে হাজার হাজার নানা বয়সের শিবভক্ত মহিলা ও পুরুষ পায়ে হেঁটে ১১০ কিলোমিটার দূরের বাবাধাম অর্থাৎ দেওঘরের বৈদ্যনাথের মাথায় সেই জল ঢালতে যান। প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমা, মহাশিবরাত্রি, রামনবমী এবং ভাদ্র পূর্ণিমাতেও আজগৈবীনাথে বিশাল মেলা বসে এবং লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড় হয়।

ভৈরব
ভৈরব

 আজগৈবীনাথ মন্দিরে কী ভাবে যাবেন

আজগৈবীনাথ যেতে হলে ভাগলপুর হয়ে যাওয়াই ভালো। ভাগলপুর বড় শহর এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে ভাগলপুরের ভালো রেল সংযোগ এবং নানা মানের হোটেল ও ভাগলপুর স্টেশনে রেলের রিটায়ারিং রুম আছে। ভাগলপুর থেকে সুলতানগঞ্জ তথা আজগৈবীনাথের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার মতো। গাড়ি পাওয়া যায়।

কলকাতা থেকে ভাগলপুর যাওয়ার অনেকগুলি ট্রেন আছে। তাদের মধ্যে ১৩০২৩ হাওড়া-গয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১৯.৫০-য়ে হাওড়া ছেড়ে ভোর ০৪.১০-য়ে ভাগলপুর পৌঁছায়। ১৩০৭১ হাওড়া-জামালপুর সুপার এক্সপ্রেস রাত ২১.৩৫-য়ে হাওড়া ছেড়ে ভোর ০৫.৪০-য়ে ভাগলপুর পৌঁছায় । ১৩১৩৩ শিয়ালদহ-বারাণসী আপার ইণ্ডিয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ২১.১৫-তে শিয়ালদহ ছেড়ে সকাল ০৬.৪০-য়ে ভাগলপুর পৌঁছায়। এদের মধ্যে হাওড়া-জামালপুর ট্রেনটিই সবচেয়ে ভালো। এই ট্রেনগুলির প্রতিটিই ভাগলপুর থেকে কমবেশি পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে সুলতানগঞ্জ পৌঁছায়। তাই সরাসরি সুলতানগঞ্জ যেতে চাইলে এই ট্রেনগুলিতেই যাওয়া যেতে পারে।

আজগৈবীনাথ -হর পার্বতী
আজগৈবীনাথ -হর পার্বতী

তবে ভাগলপুর ও ভাগলপুরের আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান (পৌরাণিক সমুদ্রমন্থনের মন্দার পর্বত এবং দ্বাদশতম জৈন তীর্থঙ্কর বাসুপূজের সঙ্গে জড়িত অনেকগুলি স্থান) আছে বলে ভাগলপুরে একদিন থেকে গেলেই ভালো।
আবার দুর্গাপুর-আসানসোল ও সন্নিহিত অঞ্চলের লোকজনদের ভাগলপুর যাওয়ার জন্য ১৩৪০৩ রাঁচি-ভাগলপুর বনাঞ্চল এক্সপ্রেস ট্রেনটি সুবিধাজনক। এই ট্রেনটি আসানসোলে রাত ২০.০২-তে এবং অণ্ডাল জংশনে রাত ২০.৩৫-য়ে ছেড়ে ভোর ০৫.১৫-তে ভাগলপুর পৌঁছায়। ফেরার সময় ট্রেনটি (১৩৪০৪) ভাগলপুর থেকে বিকেল ১৫.৪০-য়ে ছেড়ে অণ্ডাল আসে রাত ২২.৪২-য়ে এবং আসানসোল পৌঁছায় রাত ২৩.৩৫-য়ে।

 

 

ছবি–লেখক

আরও পড়ুন    কর্কট নাগ উপাসনার অন্যতম প্রাচীন পীঠস্থান কাঁকোড়া গ্রাম

 


Share your experience
  • 188
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    188
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।