অক্রূরের ব্যতিক্রমী রথযাত্রা হতো মৌখালী ও কাশিবাটিতে

Share your experience
  • 410
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    410
    Shares

ভাঙাচোরা রথ
ভাঙাচোরা রথ
গড়ুর মূর্তি
গড়ুর মূর্তি
ভাঙাচোরা রথ
ভাঙাচোরা রথ

অক্রূরের ব্যতিক্রমী রথযাত্রা হতো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মৌখালী ও কাশিবাটি জনপদে।মৌখালী গ্রামে সেই ব্যতিক্রমী রথযাত্রা বিলুপ্ত হলেও আজও টিকে রয়েছে কাশিবাটি গ্রামে সেই রথযাত্রার বিলুপ্তপ্রায় স্মৃতি।লিখছেন–তীর্থ তনয় মণ্ডল।

"<yoastmark

অক্রূরের ব্যতিক্রমী রথযাত্রার সন্ধানে

আমি একবার এক আঞ্চলিক ইতিহাস এর সভায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ব্যতিক্রমী অক্রূরের রথ এর কথা শুনেছিলাম | অনেক খোঁজ করেও কেউ আমাকে এই রথের উপযুক্ত সন্ধান দিতে পারেনি | আমার অফিসের পিয়ন আমাকে একবার গল্প সূত্রে বলেছিলো যে সে অক্রূরের রথের কথা শুনেছে তার মামার বাড়ি আমতলা তে যা কিনা আষাঢ় মাসে জগন্নাথের রথের সময় হয় না | অর্থাৎ এটি একটি ব্যতিক্রমী রথ আর খুব সম্ভবত হয় বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথিতে অথবা অক্ষয় তৃতীয়া তিথি তে আর নয়তো বিজয় দশমীর দিনে |

এই সূত্র ধরে আর কিছুটা অনুমানের উপর ভরসা করে আমি বৈশাখী পূর্ণিমার দিন বেরিয়ে পড়ি এই অদ্ভুত রথের সন্ধানে | আমতলা পৌঁছে স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে যা সব রথের খবর পেলাম তা সবই আষাঢ় মাসের জগন্নাথ দেবের রথ | ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় স্থানীয় রিকশাচালক আমাকে এক পুরোনো ভাঙা রথের গল্প শোনায় | তার কথা অনুযায়ী এখন থেকে ২৫ বছর পূর্বে জাঁক জমক করে একটি রথের মেলা হতো যা এখনকার প্রজন্ম কখনো চোখেও দেখে নি| সেই রথের মেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল পাশের গ্রামের বিখ্যাত তেলেভাজা ও পাঁপড় | রাতের বেলা সামিয়ানার উপর বসেই সবাই দেখতো পুতুল নাচ |

 

অক্রূরের ব্যতিক্রমী রথযাত্রা-মৌখালী গ্রামে

তআশার আলো দেখে আমি ওনাকে বললাম আমাকে ওই ভাঙা রথের সামনে নিয়ে যেতে | ১০-১৫ মিনিট খোঁজা খুঁজি আর গ্রামের বৃদ্ধ জনদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আমাকে কাজ্ঞানবেরিয়া নিকটস্থ মৌখালী গ্রামে একটি কালী মন্দিরের সামনে মাঠের ধারে এক কোনায় পরে থাকা একটি ভগ্ন রথের কাছে নামিয়ে দিলেন রিকশাচালক | ওনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি ওই ভাঙা রথ টি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম | আমাকে দেখে কৌতূহলী হয়ে পাশের বাড়ি থেকে একজন ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে আমার সাথে আলাপ করলেন | বাড়িতে ডেকে অনেক গল্প শোনালেন ওই ঐতিহ্যশালী অক্রূরের রথের | রথটি তাদের পারিবারিক এবং শুরু করেছিলেন জনৈক প্রদ্যুৎ গোস্বামী |

আজ থেকে ২০-২৫ বছর পূর্বে খুব সমারোহের সাথে আসে পাশের গ্রামের বাসিন্দারা মিলে ২-৩ দিন ব্যাপী এই রথের মেলায় অংশগ্রহণ করতেন | তারপর অর্থের এভাবে সেই রথের মেলা বন্ধ হয়ে যায় আর হারিয়ে যায় ইতিহাসের পাতায় |সেই মেলাতে কুলো ধামা থেকে শুরু করে ম্যাজিক শো নাগরদোলা সবই থাকতো| ওনার বাড়িতে গুড় চিড়ে খেয়ে আর অক্রূরের রথের গল্প শুনে আমি বিদায় নিলাম|

অক্রূরের রথযাত্রার ক্ষীণ স্মৃতি
অক্রূর রথযাত্রার ক্ষীণ স্মৃতি

অক্রূরের ব্যতিক্রমী রথযাত্রা–কাশিবাটি গ্রামে

কিন্তু আমার জন্য আরও কিছু অপেক্ষা করছিলো | হঠাৎ ভদ্রলোক আমাকে ডেকে বললেন যে পাশেই কাশিবাটি গ্রামেও একটি অক্রূরের রথ হতো জনৈক সর্দার পরিবারের | আমি চাইলে একবার খোঁজ নিয়ে দেখতে পারি | কথা মতো রাস্তা জেনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমি হাজির হলাম কাশিবাটি গ্রামের রাধা বল্লভ মন্দিরের সামনে | দেখি কি রথ তো আর নেই কিন্তু ঠাকুর মশাই আজ ও বৈশাখী পূর্ণিমা উপলক্ষে সেই পুরোনো রীতি মেনে পূজার জন্য প্রস্তুত | ভাড়া করে ঢাকি ও আনা হয়েছে |জানতে পারলাম রাধা বল্লভ মন্দির ১৩৮৬ সালে স্থাপিত এবং ১৪১২ সালে মন্দিরের পুনর্নির্মাণ হয়েছে | মন্দিরের সামনে একটি বিচিত্র গরুড়ের মূর্তি |

 

আরও পড়ুন অন্নপূর্ণার রথযাত্রা ভদ্রেশ্বর তেলেনিপাড়ার অক্ষয়তৃতীয়ার মূল আকর্ষণ 

 ব্যতিক্রমী রথযাত্রার কথা

পুজোর পর ঠাকুর মশাই প্রসাদ দিলেন জিলিপি আর নারকেলের নাড়ু | তারপর তার পূর্ব পুরুষের কাছে শোনা কাশিবাটি গ্রামের অক্রূরের রথের গল্প শোনালেন | আসে পাশের গ্রাম থেকে ফেরিওয়ালারা আসতো | আজকের দিনের মতো তাদের কাছ থেকে কোনো দান বা তোলা আদায় করা হতো না | তারপর ঠাকুর মশাই আমাকে সেই ভাঙা অক্রূরের রথ দেখাতে নিয়ে চললেন | জঙ্গলের মধ্যে ঝোপের পাশেই পড়ে আছে সেই সর্দারের অক্রূরের রথ | রথটি ১৪১৩ সালে ডাঃ শ্রীহরি গোপাল সামন্ত মহাশয় পুনর্নির্মাণ করান | তাও শেষ মেশ এই ঐতিহ্যশালী কাঠের রথটির শেষ রক্ষে হয়নি |পক্ষীরাজ গরুড় এর গল্প শুনে আর গ্রামের দিদিমার আশীর্বাদ নিয়ে আমি সেইদিন বিদায় নিলাম সন্ধের ঠিক আগেই |

দেখুন   

 


Share your experience
  • 410
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    410
    Shares

Facebook Comments

Post Author: tirthatanaykoulal

তীর্থ তনয় মণ্ডল
তীর্থ তনয় মণ্ডল-যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ও আই আই এম কলকাতা থেকে ম্যানেজমেন্ট বিষয় স্নাতকোত্তর। চাকরি সূত্রে ভারতের উত্তর প্রান্তে গুরুগ্রামে কর্মরত ।আঞ্চলিক ইতিহাস ও স্থাপত্য এতিহ্য নিয়ে সখের গবেষণা , ভ্রমণ ও চিত্রগ্রহণ তাঁর নেশা।