অরন্ধন পুজো ও মনসাসংস্কৃতির বৈচিত্র নিম্ন দক্ষিণবঙ্গে

Share your experience
  • 445
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    445
    Shares

 মা-মনসার-দুইপাশে-নেতা-আর-ঘা

মা-মনসার-দুইপাশে-নেতা-আর-ঘামু

অরন্ধন পুজো ও মনসাসংস্কৃতির বৈচিত্র নিম্ন দক্ষিণবঙ্গে যা ভাদ্রসংক্রান্তিতে পালিত হয় নিষ্ঠার সঙ্গে।বাংলার বিশিষ্ট লোকদেবী ‘মনসা’। ইনি সর্পদেবী রূপে বাংলার প্রায় প্রতিটি হিন্দু পরিবারে বিভিন্ন আচারণ বিধি সহ পূজিতা হন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্পদেবী মনসার বিবিধ নামে, লোকাচারে ও বিশ্বাসে পুজো হয়। এই দেবীকে মনসা, পদ্মা, পদ্মাবতী, জগৎগৌরী, বিষহরি, মনসাবুড়ি, কেতকা, সিদ্ধযোগিনী, বিষহরা, ভগীবুড়ি, জগতি, বেলকুমারী, চেংমুড়ি, কানী, নাগমাত ও নাগেশ্বরী ইত্যাদি নামে স্থান বিশেষে ডাকা হয়।–লিখছেন–অভিষেক নস্কর।

আবার মনসা পুজো ও সংস্কৃতি দক্ষিণ ভারতেও বহুল প্রচলিত। সাধারণত এখানে নানা স্থানে বিভিন্ন নামে পুজো হয়। যেমন – দেবীমানচা, আম্নান, মারিআম্নান, এল্লাইআম্নান ইত্যাদি নামে মুন্ডু বা পূর্ণমূর্তিতে পুজো হয়। গ্রীকদেশের আদিবাসীরা সাপ বা সর্পকে ‘সার্পো’ (SERPO) বলে অভিহিত করেন। আফ্রিকা দেশে ‘ মামি ওয়াট’ সর্পদেবতার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। ইজিপ্টে দেবতার সাথে কেউটে সাপের কথা মিলছে।

 মনসা

মনসার মূতিতত্ত্ব বাংলার দেবী মনসা বিচিত্র এক রূপ। বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের মূর্তির প্রতিরূপ দেখা যায়। দেবী সাধারণত চতুর্ভুজা, সালংকারা, একক বা যুগ্ম ভাবে হংস বা সর্প বাহন থাকে। অনেক থানে দেখা যায় মনসার দুই দিকে ‘ ‘নেতা’ ও ‘ঘামু’,নামে দুই সখী। এই দুইজনে শিবের থেকে জন্ম। শিবের নেত্র থেকে নেতা র জন্ম, ঘাম থেকে ঘামুর জন্ম। দেবীর কাঠামোতে একক ভাবে সর্পবাহন পদ্মবাসনা, চতুর্ভুজা, সর্পালংকার, মস্তকের পিছনে সর্পফনা যুক্ত বিস্তৃত মূতি লক্ষ্যে করা যায়। দেবীর হাতে সর্প ও পদ্ম থাকে। এ এক বিচিত্র রূপ।

নিম্নদক্ষিণবঙ্গে মনসার বিচিত্র সংস্কৃতি

সুন্দরবনের এক বিচিত্র লোকদেবী মনসা, সমগ্র সুন্দরবন জুড়ে, মনসার পুজোর বহুল প্রচলিত। প্রাচীনকাল থেকে মা মনসার আরাধনা হয়ে আসছে। এখানে আলোচনা করা প্রয়োজন যে, মনসা পুজো এলো কিভাবে? সুন্দরবনে তথা দক্ষিন চব্বিশ পরগনায় নিম্নশ্রেণীর হিন্দু বর্ণের লোকেরা মনসা পুজোকে কৃষি উৎসব হিসাবে পালনকরেন। এখানকার সমাজে মনসাদেবীকে শস্যবৃদ্ধি কামনার উদ্দেশ্য এই পুজোর প্রচলন আছে। কিন্তু আদিতে মনসা কৃষি, ঊর্বরতা ও প্রজননের দেবী ছিলেন।অর্থাৎ জন্মের দেবী বা শস্য উৎপাদনের দেবী । বলা বাহুল্য যে, ভাদ্র সংক্রান্তিতে অরন্ধন উৎসব (রান্নাপুজো লোককথায়) এটি কিন্তু কৃষি পুজো।

 সর্পপুজো

প্রাচীনকালে মানুষ সাপ বা সর্পকে খুব ভয় পেত। আর এই ভয় থেকে রক্ষার তাগিদে সর্প পুজোর প্রচলন। যেহেতু মনসা জন্মের বা উৎপাদনের দেবী, মা কখনই কারও প্রাণ নিতে পারে না। এই জন্য সর্পের সাথে মনসার যোগসূত্র। তবে, সুন্দরবনের জলা – জঙ্গল পূর্ণ এলাকা, এখানে মনুষ্য সমাজে সাপের উপদ্রব সবথেকে বেশী। সাপ সাধারণত মাটির গর্ত বা খোপের মধ্যে বসবাস করে। সুন্দরবনে বর্ষাকালে যখন নদীর জল জমে গিয়ে এইসব গর্ত গুলো জলে পরিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন সাপ গুলি না থাকতে পেরে তারা বাঁচার তাগিদে মুনষ্য বসতিপূর্ণ অঞ্চলে চলে আসে।  শুকনো জায়গায় ঘাঁপটি মেরে থাকে। এদের গায়ে পা পড়লে, এরা দংশন করে। এরফলে অকালে প্রাণ চলে যায়।

এক্ষেত্রে বলা যায় প্রাচীনকালে সাপে কাটা মানুষের সুচিকিৎসা উন্নত পরিষেবা অভাবেই হোক বা ভয় থেকে হোক এই ভাবে মনসা সর্পদেবী রূপে স্বীকৃতি পান। এটি একটি মনসার বিবর্তনের রূপ। অথাৎ কৃষিদেবী থেকে মানুষ সর্প ভীত হয়ে সর্পের দেবী রূপে প্রতিষ্ঠিত হলেন। এককথায় ভয় থেকে ভক্তি, ভক্তি বিশ্বাস, আর বিশ্বাস থেকে পুজার্চনা।

অরন্ধন পুজো ও উনুন পুজো

 ভাদ্রসংক্রান্তিতে অরন্ধন পুজো যেটি উনুন পুজা বলা হয়। এই অরন্ধন পুজোতে উনুন পুজা হয় ঠিকি। কিন্তু অরন্ধন পুজোতে উনুনের সাথে সর্পের যোগসূত্র কোথায়? একটা জিনিস লক্ষণীয় সুন্দরবনের সাপের উৎপাত বেশী থাকায় বর্ষাকালে গ্রামবাংলা জল জমে যায়, বাস্তুসাপ, অর্থাৎ লোকবিশ্বাস। মনসাকে বাস্তুদেবী বলে পরিচিত এই বাস্তুদেবী বা দেবতা হলেন ‘বাস্তুসাপ’ । যে বাস্তুতে গর্তে মধ্যে সাপ থাকে সেই সাপকে বলছে ‘ বাস্তুসাপ’, এই সাপকে মারা সম্পন্ন ভাবে নিষিদ্ধ। এরফলে কি হচ্ছে, বর্ষাকালে জমা জলের হাত থেকে বাস্তসাপ বাঁচতে মাটির গরম উনুনের মধ্যে থাকা গর্তে একটু গরমের মধ্যে থাকতে ভালোবাসত। এইজন্যে অরন্ধন বা উনুন পুজায় সাপের একটা যোগসূত্র তৈরী হয়েছে।

মনসার সিজবৃক্ষ রূপে পুজার করার প্রচলন ও অরন্ধন পুজো

বাংলায় ‘স্নূহীবৃক্ষ’কে বলা হয় মনসাগাছ। মনসার বৃক্ষপুজার প্রচলন রয়েছে। মনসাগাছ বা সিজবৃক্ষকে মনসার প্রতীকি বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে মনসাগাছ বলেই খুবই পরিচিত। তবে সিজগাছের সঙ্গে সর্পদেবী মনসার সংযোগ কারণ প্রাচীনকালে কোন একসময় মানুষকে সাপে কাটলে, এই সিজগাছের আটা প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার হত। এইগাছের ডাল, পাতা, শিকড় মানুষের বাতের বেদনা উপশমের খুবই উপকারী ছিল। সেইসুত্র ধরেই মনসাদেবীর সঙ্গে সিজবৃক্ষের সংযোগ সাধন হয়েছে।

ক্ষেত্রসমীক্ষায় দেখা যায় যে, সুন্দরবনের মনসার যতগুলি থান আছে কিছু কিছু থানে দেখা যায় মনসার মূতি বা মনসাগাছের( সিজগাছ) সঙ্গে ‘বারাঠাকুর’ (কাটমুন্ডু) পুজো হতে দেখা যায়। কারণটা কি? বিশিষ্ট ক্ষেত্রগবেষক ‘সঞ্জয় ঘোষ’ কাছ থেকে জানা যায় যে, সুন্দরবনের ‘ভূমিজ’ নামে একটি সম্প্রদায় আছে, তারা কি করে, একটি মনসাগাছের (সিজ) তলায় মাটির ঢিপি করা থাকে, সেখানে একটি সাদা মুরগী বলি দেয়, এটি করে সূর্যের উদ্দেশ্য। এই মাটির ঢিপিটি সূর্যর প্রতীক।এরপরে কিছুটা দূরে আরাকটি স্থানে ‘বাঘুৎ’ নামে দেবতা অথাৎ ‘বাঘভুত’ এনার উদ্দেশ্য একটি তিনরঙা(লাল,সাদা,কালো) ছিট মুরগী বলি দেয়। এই দুটি জিনিস থেকে বোঝা যায়, ভূমিজরা সূর্যের উদ্দেশ্য বলি দিচ্ছে, সূর্যকে বলছে ধর্ম, পরে এটি ধর্মরাজ। এই ধর্মরাজ হলেন মনসার ক্যামিল্যা(স্ত্রী)।

অরন্ধন পুজো
অরন্ধন পুজো

মনসাসংস্কৃতিতে বারা মূর্তি

 বারামূর্তি হল তিনটি উপাদানের সংমিশ্রণের রূপ। এরমধ্যে ‘ধর্ম’ হল একটি, আরাকটি হল ‘বাঘ বা পশু পুজো’, আরাকটা হল ‘পূর্বপুরুষপুজো’। আর পূর্বপুরুষপুজোর প্রতীক ‘ খুলি, যেটি হল মুন্ড মূর্তি। আর পশু পুজা যে মানুষটি বাঘের হাতে মৃত হয়েছেন যিনি তিনি বাঘভুতে পরিণত হন, তার খুলি। আর এখানে ধর্ম মানে ‘সূর্য’। আর এই ধর্ম আছে বলেই মনসা সিজবৃক্ষ সাথে বারামূর্তি পুজো হয়।

সুন্দরবনের মনসা পুজো আদিবাসী সমাজের মধ্যে বেশী হয়। তবে নিম্নশ্রেণী হিন্দু তথা বাগদী ও সাঁওতাল দের মধ্যে এই পুজোর প্রবণতা বেশী। কিন্তু একটি প্রশ্ন হয় যে, সরস্বতীর বাহন হাঁস, আর মনসার বাহনও হাঁস, তাহলে সুন্দরবনের সাঁওতালরা মনসা পুজোয় হাস বা হাসা বলি দেয় কেন? সাঁওতালদের জন্মের শ্রুতি অনুযায়ী আদিতে সাতটি গোত্র ছিল। তাদের আদি পিতামাতার সাতটি ছেলে বা গোত্র। এবং তাদের জন্ম হাঁস থেকে। আদিতে সাতটি গোত্রের মধ্যে সবার বড় ও প্রথম ছিল ‘হাঁসদা ‘, তবে হাঁসও হাঁসিলেপাড়া দুটি ডিম থেকে। যাদের সাঁওতালরা ‘পিলচু হাড়াম ‘( বুড়ো) ও পিলচু বুড়ি, অর্থাৎ আদি পিতা মাতা হিসাবে পুজা করে। এথেকে বোঝা যায় হাঁস হল তাদের ‘টোটেম’। তাদের বিশ্বাস হাঁস হল বলি দিলে তাদের আদি মাতা পিতা আশীর্বাদ ও আত্মার শান্তির কামনা পাবে।।

ভাদ্রসংক্রান্তিতে অরন্ধন পুজো

তবে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে, দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে জেলায় ভাদ্র সংক্রান্তি ও তার আগের দিনে প্রতিপরিবারের রান্নাপুজো বা অরন্ধন পুজো বেশ ঘটা করে পালন হয়ে থাকে। অরন্ধন কথাটির মানে হল রান্না না করা। এই সংক্রান্তিতে রান্না করা নিষিদ্ধ। ওইদিনকে মনসার পুজো। তাই রান্নার আগের দিনে ব্যবহৃত করা জিনিস ভালো করে ধুয়ে মুছে নেওয়া হয়। শিল নোড়া, কৌটো, বঁটি কোন কিছু বাদ পড়ে না। এইসময় রান্না করার জন্যে নতুন মাটির পাত্র কিনে না হয়ত তুলে রাখার পাত্রে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া হয়। এই পুজোয় পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নতাই হল মূল অঙ্গ। রান্নার দিনে কোন বাড়িতে উনুন জালানো নিষিদ্ধ।

অরন্ধন পুজোর লোকাচার

তাই আগে থেকে তৈরী করা রান্নার পদ প্রথমে দেবী মনসাকে নিবেদন করা হয়। শেষে সকলকে খেতে দেওয়া হয়। রান্না পুজোয় সন্ধ্যায় বিশেষ করে বাড়ির গিন্নিরা পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়। নতুন কাপড় পড়ে উননের বা মাটি দিয়ে নিকানো পুরানো উনোন সামনে বসে শাঁক বাজিয়ে উনোনকে নিবেদন করতে হয়। রান্নাপুজোয় ভাজার নানা রকমের হয়, আলুভাজা, বেগুনভাজা, পটলভাজা, উচ্ছে বা করলা ভাজা, বরবটি ভাজা, নারকেলছাঁই, কুমড়োভাজা, ঢেঁড়শভাজা, চিচিঙ্গা ভাজা, কাঁচকলা ভাজা আর কত কি! এছাড়া ডালচচ্চড়ি, কচুরঘন্ট, চালতা, ইলিশমাছ ভাজা, চিংড়িভাজা ও কলার পিঠে, ইত্যাদি।

অরন্ধন পুজোর বৈচিত্র্য

আবার কোন কোন পরিবারে রান্নাপুজোয় ইলিশ ভাজা নিষিদ্ধ। অনেক পরিবারে নিরামিষ রান্নাপুজো হয়। রান্নাপুজো ভাজার এতো হওয়ার মূল কারণ, পরের পান্নার বা অরন্ধন দিনকে পান্তার সঙ্গে যে ভাজা খাওয়া হয় তা সহজে নষ্ট হয় না। এটারই ভাজার বৈশিষ্ট্য। রান্না শেষ হলে ফের শাঁক বাজানো হয়। কোন কোন বাড়িতে রান্না করতে করতে রাত শেষ হয়ে আসে। রান্না শেষ হলে বাড়ির গিন্নি বা মেয়েরা ওই রান্না কিছুটা পরিমাণ পরিবারের সকলকে ও আত্মীয় পরিজনদের খাওয়ানো হয়। বাকী রান্নার করার পদ খুব সাবধানে রান্নাঘরে ঢাকা দিয়ে সাজিয়ে রাখেন।

আরও পড়ুন –মনসা ধন্বন্তরী  ভীমরুল-মনসাসংস্কৃতির এক অনালোচিত দিক

তবে বিশেষ করে ওই দিনের রান্না করা ভাত পান্নার দিনকে যাতে নষ্ট না হয়, সেইজন্য ভাতে জল দিয়ে পান্তা করে রাখা হয়। এর কারণ অরন্ধন দিনে ওইসব খাদ্যে মা মনসা কে অর্ঘ্য দিয়ে পুজো করার আগে যদি, কোনো সাপ বা কীটপতঙ্গ রান্নাঘরে ঢুকলে তা অনাচারে লক্ষণ। লোকবিশ্বাস যে মা মনসা রুষ্ট হয়েছেন। এরফলে ওই পরিবারের রান্নাপুজো বা অরন্ধন পুজো বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসুত্র
চব্বিশ পরগনার লৌকিক দেবদেবী : পালাগান ও লোকসংস্কৃতি, ড. দেবব্রত নস্কর
বাংলার লোকদেবতা ও সমাজসংস্কৃতি, দেবব্রত নস্কর।
আঞ্চলিক দেবতা ও লোকসংস্কৃতি, মিহিরচৌধুরী কামিল্যা।
পশ্চিমবঙ্গের লোকদেবদেবী ও লোকবিশ্বাস, বীরেশ্বর বন্দোপাধ্যায়।
ধমবিশ্বাস ও বৃক্ষপুজা ও দেবদেবী, সহৃদকুমার ভৌমিক সম্পাদিত।
সুচেতনা বিষহরী মনসা সংখ্যা, সম্পাদক গৌতম মন্ডল,
পশ্চিমবঙ্গ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সংখ্যা।
সুখবরে সংবাদপত্রে ‘রবিবারীয়’ ড. কালীচরণ কর্মকার নিবন্ধ।
সঞ্জয় ঘোষের সাক্ষাৎকার।

 দেখুন কৌলালের মহালয়া ভিডিও


Share your experience
  • 445
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    445
    Shares

Facebook Comments

Post Author: অভিষেক নস্কর

Avisek Naskar
অভিষেক নস্কর।তরুণ ক্ষেত্রসমীক্ষক।টিম কৌলালের অন্যতম সদস্য।