বৈদ্যবাটির এক ব্যতিক্রমী দুর্গাপূজা

Share your experience
  • 163
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    163
    Shares

সুমন্ত বড়াল

হুগলী জেলার আনাচে কানাচে ঘুরতে ঘুরতে কত কি চোখে পড়ে যায়। সেদিন এমনটাই হল চাতরা পটুয়া পাড়ায়। ছবি তুলতে গিয়ে চোখে পড়লো এক অন্যরকম দেবী মূর্তির। উপযাজক হয়ে আলাপ করলাম প্রাঞ্জল চক্রবর্তীর সাথে। জানতে পারলাম এই মূর্তির গন্তব্য বৈদ্যবাটী গোবিন্দনগর। পৌঁছে গেলাম গোবিন্দনগর। আর তারপর, এক অন্যরকম মূর্তি নয় জানতে পারলাম এক ইতিহাস এর অধ্যায়। সেই ইতিহাস এ আছে বাংলাদেশ আছে রারোভুইয়া, আবার দেশভাগ।
সেই বারোভুঁইয়া আমলের কথা সেই সময় ফরিদপুরের শিবরাম সার্বভৌম শুরু করলেন দুর্গাপূজা। সেই সময় ওড়িশার বারোভুঁইয়া বসন্ত রায় স্বপ্নাদেশ পেলেন গৃহদেবতা গোবিন্দ জিউর ।বসন্ত রায় সেই অনুযায়ী গোবিন্দ জিউকে দিয়ে এলেন ফরিদপুরের শিবরাম সার্বভৌম এর কাছে। তখন চলছে দুর্গা পুজো ।এদিকে ঘরে নতুন অতিথি। তাহলে ওনাকে কোথায় বসানো হয়, শিবরাম সেই থেকে দুর্গা চালচিত্রে স্থান দিলেন গোবিন্দ জিউকে। সেই থেকেই চৌধুরীপরিবারের মূর্তিতে দেবী সরস্বতীর বদলে এলেন গোবিন্দ জিউ। সেই ট্রাডিশান আজও চলছে। এই পরিবারের প্রবীণ তম সদস্য সদাশিববাবু গল্পের ছলে বলে গেলেন সেই কাহিনী।

কিন্তু এর সাথে এই হুগলীর যোগ কোথায়?

গল্পের প্রেক্ষাপট এর বদল ঘটল এখানে। সালটা ১৯৪৭ স্বাধীনতার সাল , সাথে সাথে দেশভাগের অভিশাপ এল। এই চৌধুরী পরিবারও চলে এলো এপার বাংলায়। তখন তারা গৃহহীন। ভিন্ন ভিন্ন শহরে তারা জমি খুঁজছেন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া চৌধুরী পরিবার অবশেষে ১৯৫১ সালে আবার এক হল শহর বৈদ্যবাটীতে। ।এই বংশের সতেরোটি পরিবার একত্রে বসবাস শুরু করলেন আর যায়গা টির নাম হল তাদের কূলদেবতার নামে- গোবিন্দনগর।

তবে এই কয়েক বছর কিন্তু গোবিন্দ জিউর পুজো বা দুর্গাপূজাতে ছেদ পড়েনি ।তখনও ততকালীন বাংলাদেশের ফরিদপুরে পালিত হচ্ছিলএই বংশের পুজো।১৯৫২ সালে চৌধুরী পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় গোবিন্দ জিঊকে এখানে নিয়ে আসার। নির্মাণ হয় গোবিন্দ মন্দির , দুর্গা মন্দির। । ১৯৬১ সালে গোবিন্দ জিউর মূর্তি চুরি হয়ে যায়। বর্তমানে গোবিন্দ মন্দিরে রয়েছে দামোদর জিউ মূর্তি আর গোবিন্দ জিউর প্রাচীন ছবি।


তবে দুর্গা পুজা একই আছে ঠিক যেমন ছিল শিবরাম সার্বভৌমর সময় ছিল। বলি প্রথা বন্ধ হয়েছে। তবে পূজার রীতি বা আচার পরিবর্তন হয়নি। চৌধুরী পরিবার এর পুজোর একটা বড় দিক হল , এই পুজো হয় শিবরামপুরাণ মতে। স্বয়ং শিবরাম সার্বভৌম সকল পুরাণের সার নিয়ে যা লিখেছিলেন সেই গ্রন্থে। এই বংশের পুজোতে বোধন হয়না । অন্নভোগ হয়। তবে একটি ভোগ নয় পরিবারের বিভিন্ন জ্ঞাতিদের ঘর থেকে আলাদা আলাদা করে ভোগ দেওয়া য় সময় নির্ঘণ্ট মেনে।

সন্ধ্যে নামার মুখে গোবিন্দ নগর এর দুর্গা মন্দির ও গোবিন্দ জিউ এর মন্দির চত্বরে যখন পৌছাই তখন গোধূলী। , সদাশিব বাবুর অমায়িক ব্যবহার আতিথেয়তার মুগ্ধ হয়ে বাইরে বের হয়ে শুনি ঢাক বাজাচ্ছে মন্দিরের। আলো ছুঁয়ে যাচ্ছে গোবিন্দ নগরকে আর সেই অন্য রকম মূর্তি যাকে কেন্দ্র করে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস।

ছবি-লেখক

 

 


Share your experience
  • 163
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    163
    Shares

Facebook Comments

Post Author: সুমন্ত বড়াল

সুমন্ত বড়াল
সুমন্ত বড়াল লেখক ক্ষেত্রসমীক্ষক ও সংস্কৃতিসংগঠক