বাংলাদেশের পুঠিয়া রাজবাড়ির পাঞ্চজন্য মন্দির

Share your experience
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    44
    Shares

image001 (2)

 

ইমরান হাসান

পোড়ামাটির মন্দির আমাদের দেশের এক অতি প্রাচীন লোক-ঐতিহ্য ,  পাঞ্চজন্য , নবরত্ন , আটচালা এসব বহু ধরনের মন্দিরের নিবাস আমাদের দেশে , ঘোড়াপীর নাম খ্যাত বখতিয়ার খিলজি , যার কারণে এখনও  গ্রামের মানুষেরা মাটিতে শুয়ে ঘুমায় , সেই বখতিয়ারের বাংলা জয়ের  পরেই আমাদের বাংলাতে এক অভূতপূর্ব হিন্দু আন্দোলন দেখা যায় , যা  বৈষ্ণব আন্দোলন নামে সুপরিচিত , এই বৈষ্ণব আন্দোলন বা শ্রীচৈতন্যদেবের কারণেই বাংলাতে  প্রসারিত হয় এক শিল্প , আর সেটি হচ্ছে টেরাকোটা শিল্প ।

এই পোড়ামাটি যেন একটি ক্যানভাস এর ন্যায় , এর আগেও টেরাকোটা বা মৃৎ ফলক এর প্রচলন দেখা গিয়েছে বাংলাতে তবে , তা এত ব্যাপক আকারে না ।এই মৃৎফলক গুলি শোভিত হয়  পাঞ্চজন্য আকৃতি , আটচালা আকৃতি , কুঁড়েঘর আকৃতি , চারচালা আকৃতি   মন্দিরের মধ্যে। এগুলি আদি বাংলার শিল্পরীতি ।

image003 (1)

বাংলাদেশের  রাজশাহীতেও আছে এরকমই একটি পাঞ্চজন্য মন্দির । রাজশাহী এর উপকণ্ঠ পুঠিয়া রাজবাড়িতে । এই পুঠিয়া রাজবাড়ি নাটোরের রানির অধীনে ছিল অষ্টাদশ শতক এর দিকে , সেই সময়েই এই পাঞ্চজন্য মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল ।এই মন্দিরটি ১৮.৮২ মিটার উঁচু এবং এর প্রতি অংশের দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ১৪.৪৭ মিটার । প্রথম তলার প্রতি পাশে তিনটি করে প্রবেশ-দুয়ার আছে আর সেই দুয়ার এর সাথে আছে খিলান ।

এই রকম আটচালা এবং পাঞ্চজন্য মন্দিরসমূহ আমাদের দেশের সবথেকে প্রচলিত আর্কিটেকচার এর মধ্যে অন্যতম।এখানে চারটি স্তম্ভ এর উপরে একটি বড় আকারের পাটাতনের মত জায়গাতে , ছাদ তৈরি করা হয়ে থাকে। এই স্তম্ভগুলি এর দুই তলা এর সমান উচ্চতা থাকে , আর এদের প্রতিটা স্তম্ভ বা মিনার হয়ে থাকে চার চালা আকারের , এদের মাঝে একটি স্তম্ভ অবস্থান করে এদেরকে ধরে রাখার জন্য , আর চারটি চার দিকে অবস্থান করে।

image009

এই মন্দিটি সবথেকে বেশী বিখ্যাত হয়েছে তার খোদাই কার্য এর জন্য , বা মাটির ফলকে অলংকরণ এর জন্য ।এই মন্দির এর চার দেয়ালেই , লোকজ শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রামায়ণ এবং মহাভারত এর বিভিন্ন অংশের কাহিনীকে । বিশেষ করে এর পশ্চিমাংশর দেয়ালের মাঝে লঙ্কাকান্ডকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অত্যন্ত সুচারু ভাবে । এছাড়াও রাধা এবং কৃষ্ণ , কংস আর নিচের কার্নিশ এর মাঝে দশজন অবতারকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।

image005 (1)

এই মন্দির এর সাথে নবরত্ন মন্দির কান্তজীর অসাধারণ মিল আছে , যখন অষ্টাদশ শতক এর মাঝামাঝি সময়ে এই মন্দিরটি তৈরি করা হচ্ছিল তখন এটিকে নবরত্ন এর রূপ দেওয়া হয় ,একশত বছর পরে এই পাঞ্চজন্য মন্দিরটিকে এরূপ রূপ দেওয়া হয় ।যদিওবা আমরা একদম নিশ্চিত ভাবে জানিনা যে এই মন্দিরটি ঠিক কবে তৈরি করা হয়েছিল । তবে ধারণা করা হয় যে ১৮২৩ থেকে ১৮৯৫ সাল এর মাঝামাঝি সময়ে এটি নির্মিত ।image007 (1)

লোকসংস্কৃতি এবং বৈষ্ণব মতের এক অপূর্ব সম্মিলন এই মন্দিরটি , এবং পুঠিয়া রাজবাড়ি এর ঘাট থেকে যখন একে দেখা হয় তখন একে যমুনার তীরের কোন তীর্থ বলেই যেন মনে হয় । পুঠিয়ার এই মন্দিরটি গোবিন্দ বা কৃষ্ণ কে উৎসর্গীকৃত , আর এর মাঝেই যেন যুগ যুগ ধরে শ্রীচৈতন্য , নবদ্বীপ এবং আমাদের প্রাচীন বৈষ্ণবগণ কথা বলে চলেছেন আজও ।

ছবিঃলেখক

Digiprove sealCopyright secured by Digiprove © 2019 Koulal Koulal


Share your experience
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    44
    Shares

Facebook Comments

Post Author: imran hasan

imran hasan
থাকি রাজশাহীতে, শখ ইতিহাস সংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে কাজ করা, ব্যক্তিগত জীবনে কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট।
error: Content is protected. Thanks and Regards, Koulal.