বাঁশবেড়িয়ায় কার্তিকপুজোর ‘তুলোট’প্রথা

Share your experience
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares

দীপঙ্কর পাড়ুইঃহুগলীজেলার বাঁশবেড়িয়ায় উল্লেযোগ‍্য একটি পুজো নারায়ণ পুজো।এলাকায় কার্তিক মানে যে শুধু কার্তিকের পুজো হয় তা নয়।বাঁশবেড়িয়ার বহু স্থানেই নারায়ণের পুজো হয়ে থাকে।বহু জায়গায় অতীতে ‘তুলোট’ প্রথা ছিল।বর্তমান কার্তিক পুজোয় নারায়ণতলায় এই তুলোট প্রথার ব‍্যবহার দেখা যায়।এটি একপ্রকার মানতের অনুষ্ঠান।অভিধান অনুযায়ীয় দেখলে মানৎ শব্দের অর্থ [মনঃস্থ>]বিন,’দেবানুগ্ৰহ লাভ করিতে মনে মনে সঙ্কল্প।’আমরা বলে থাকি মানৎ করা।অন‍্যদিকে তুলা>তুলোন>তুলোট এভাবে শব্দটি এসেছে বলে মনে হয়।

এখানে বহু পুরনো এই প্রথাটি চলে আসছে।মণ্ডপের সামনে এক বৃহৎ তুলা যন্ত্র টাঙানো হয়।সাধারনত সব্জীবাজারের আড়ৎগুলিতে যে তুলা বা দাঁড়ি-পাল্লা থাকে সেই রকম।মূলত সন্তান বিষয়ক মানতের এ অনুষ্ঠান।সন্তানের বয়স ও ওজন অনুযায়ী মানত করা হয়।সন্তানের স্বাস্থ‍্য সংক্রান্ত,রোগ মুক্তি নানা সমস‍্যায় এই মানত করা হয়ে থাকে।তুলার একদিকে যিনি মানত করছেন। তার পুত্রসন্তান,ছেলে অথবা মেয়েকে বসানো হয়।অন‍্যদিকের পাল্লায় সেই ওজনের ফল,মিষ্টান্ন দ্রব‍্যাদি সহ ওজন করা হয়।এই প্রথা’ই তুলোট নামে পরিচিত।তবে বেশ পুরনো একটি প্রথা। অনান‍্য জায়গায় এই প্রথার অবলুপ্তি ঘটলেও বর্তমানে বাঁশবেড়িয়ার অন‍্যত্রও এই প্রথার দেখা মেলে।
এলাকায় কার্তিক পুজোর দুপুরে এই মানতের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।মূলত তিথি অনুযায়ী হয়।একদিকে ব্রাহ্মণে পুজো করে আর অন‍্যদিকে ক্লাব বা বারোয়ারীগুলির লোকেরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।মণ্ডপের সামনে বেশ বড়ো পরিমাপের তুলা টাঙানো হয়।তারপর এ অনুষ্ঠানের শুরু। মানতের  উক্ত অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে।যারা মানত করেন তারা পুত্র সন্তানসহ ফল বা মিষ্টান্ন নিয়ে ভিড় জমান।দেবতার কাছে প্রার্থনা জানান তার পুত্রসন্তান নিরোগ থাকে,সুস্থ থাকে।


ইশ্বরী পাটনীর কাছে যেমন বাঙালী চেয়ে ছিল ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’এখানে সেরকম সন্তানের পিতা-মাতা,পরিবার মানত করেন যেন তার সন্তান নিরোগ থাকে।এই নানা কামনা,এই কামনা আদিম ভাবনাজাত।আমরা ব্রতকথাতেও এই নানা কামনার প্রতিফলন দেখেছি।বিশেষ ভাবে উল্লেখ‍্য বেশ কিছু জায়গায় কার্তিক কিন্তু ব্রতকথা প্রচলিত রয়েছে।সেই ব্রত উপলক্ষ‍্য কি এই অনুষ্ঠান তা জানা যায় না।কিন্ত যেহেতু নারায়ণ পুজো হচ্ছে সেহেতু এখানে হয়তো কোনো বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের হাতে নারায়ণ পুজিত হতেন।সাধারণত গোস্বামীরা কার্তিকের ব্রতকথা পালন করে থাকেন।যাইহোক তবে বাঁশবেড়িয়ার কার্তিক পুজোয় এরকম নানা সংস্কার,প্রথা ও মানতের অনুষ্ঠান দেখা যায়।

গ্ৰন্থঋণ
১.দাস,জ্ঞানেন্দ্রমোহন-বাঙ্গালা ভাষার অভিধান,সাহিত‍্য স‌ংসদ,জুলাই ১৯৯৪
২.সুর,ড.অতুল-হিন্দু সভ‍্যতার নৃতাত্ত্বিক ভাষ‍্য,সাহিত‍্যলোক৩.কৃতজ্ঞতা-সার্বজনীন নারায়ণতলাপুজো কমেটি,বাঁশবেড়িয়া।

ছবি-লেখক


Share your experience
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares

Facebook Comments

Post Author: দীপঙ্কর পাড়ুই

দীপঙ্কর পাড়ুই
দীপঙ্কর পাড়ুই--বর্ধমান বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে চিত্রকলায় স্নাতক।কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে চিত্রকলায় স্নাতকোত্তর।লোকশিল্প নিয়ে গ্ৰাম ঘোরাঘুরিও লিখতে ভালোবাসি।আচমন,রাঢ়কথা ইত‍্যাদি পত্রিকায় ও বঙ্গদর্শন ও দুনিয়াদারি পোর্টালে কতগুলি লোকশিল্পের প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।