বারুইপুরের রথযাত্রা ও জমিদার রায়চৌধুরী পরিবারের ভূমিকা

Share your experience
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares

বারুইপুরের রথযাত্রা
বারুইপুরের রথযাত্রা

শুভঙ্কর মণ্ডল –বারুইপুর নানা কারনে একটি বিখ্যাত জনপদ।বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই জনপদের নাম। নানা লোকধর্মের  পাশাপাশি এই অঞ্চলে একদা বৈষ্ণবধর্মের প্রচার ও প্রসার হয়েছিল।তারই ফলশ্রুতি স্বরূপ বারুইপুরের রথযাত্রা একটি জনপ্রিয় লোক উৎসবে পরিণত হয়। বারুইপুরের রথযাত্রার অনেকের মধ্যে আরেক  রূপকার হলেন স্থানীয় জমিদার রায়চৌধুরীপরিবার। বারুইপুরের রথযাত্রা উপলক্ষে বর্ণময় মেলা বসে ।নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।বিস্তারিত বর্ণনায় আসার আগে বারুইপুর সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জানানো উচিৎ বলেই মনে করি।

বারুইপুর মধ্যয্যগীয় বাংলাসাহিত্যে

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুপ্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ বারুইপুর বর্তমানে বৃহত্তর কোলকাতার অন্তর্গত এবং এই জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা। এই অঞ্চলের নিকটস্থ আটঘরা, সীতাকুণ্ড ইত্যাদি গ্রামগুলি প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গবেষকের মতে বারুইপুরে এককালে বারুজীবীদের বসবাস ছিল। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পানের বরজের আধিক্য থাকায় এই অঞ্চলের নামকরণ হয় বারুইপুর। তবে এই নিয়ে মত পার্থক্য থাকতেই পারে। ১৪৯৫ খৃষ্টাব্দে রচিত বিপ্রদাস পিপিলাই-এর মনসামঙ্গলে আদিগঙ্গার পথ ধরে চাঁদ বণিকের সিংহল যাত্রাকালের বর্ণনায় বারুইপুরের নাম পাওয়া যায়। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব নীলাচলে যাত্রা করার সময় ৯১৬ বঙ্গাব্দে বারুইপুরের নিকটস্থ আটিসারা গ্রামে অনন্ত আচার্যের গৃহে একরাত্রি থাকেন। এখানের চৈতন্য-স্মৃতিধন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সদাব্রত ঘাট এবং কীর্তনখোলা গ্রাম ও মহাশ্মশান। এ প্রসঙ্গে শ্রীমদ্‌বৃন্দাবন দাস ঠাকুর শ্রীচৈতন্যভাগবতে লিখেছেন,

‘হেনমতে প্রভু তত্ত্ব কহিতে কহিতে।
উত্তরিলা আসি আটিসারা নগরেতে।।
সেই আটিসারা-গ্রামে মহাভাগ্যবান্‌।
আছেন পরম সাধু – শ্রীঅনন্ত নাম।।
রহিলেন আসি প্রভু তাঁহার আলয়।
কি কহিব আর তাঁর ভাগ্য-সমুচ্চয়।।…

বারুইপুরের রথযাত্রার মেলা প্রাঙ্গন
বারুইপুরের রথযাত্রার মেলা প্রাঙ্গন

বারুইপুর নানা লোকধর্মের সহাবস্থান

’ ফলে শ্রীচৈতন্যদেবের যাত্রাপথে আদিগঙ্গার তীরস্থ এমন অনেক গ্রামেই বৈষ্ণব মতাদর্শের জোয়ার বয়ে গিয়েছিল। তবে এইসব অঞ্চলের মানুষের কাছে কৃষ্ণের পাশাপাশি অন্যান্য দেবদেবীরাও সমাদৃত হয়েছেন। এককালে সুন্দরবন নিকটস্থ জঙ্গলাকীর্ণস্থানে বাঘ ও অন্যান্য হিংস্র জীবজন্তুর ভয় ও নানান রোগব্যাধিকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকাটা, এখানকার মানুষের জীবনে এক চরম সত্যি ছিল। ফলে টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে এখানকার হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই বনবিবি, দক্ষিণরায়, শীতলা, মনসা, গাজী, পীর প্রমুখের পদতলে মাথা নত করেছিল। গড়ে উঠেছিল এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মূর্তরূপ। পাশাপাশি শাক্ত-শৈব মতাদর্শও স্বমহিমায় বিরাজমান। এই বহুত্বের প্রভাব যে শুধুমাত্র নিম্নবর্গের খেটে খাওয়া মানুষকেই প্রভাবান্বিত করেছিল তা নয়। এখানকার প্রখ্যাত জমিদার পরিবারগুলিতেও এর যথেষ্ট প্রভাব ছিল। বারুইপুরের বিখ্যাত রায়চৌধুরী পরিবার এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

বারুইপুরের রথযাত্রার আয়োজক রায়চৌধুরী বাড়ির প্রবেশপথ
বারুইপুরের রথযাত্রার আয়োজক রায়চৌধুরী বাড়ির প্রবেশপথ

  রায়চৌধুরী পরিবারের অতীতকথা

কায়স্থ রায়চৌধুরীদের আদি বাসস্থান ছিল রাজপুর গ্রামে। এই রায়চৌধুরীদের পূর্বপুরুষেরা দত্ত বংশীয় ছিলেন। এই বংশের গবেষক শক্তি রায়চৌধুরী ‘বারুইপুর ও রায়চৌধুরী পরিবার’ গ্রন্থে বলেছেন যে এই বংশের কৃষ্ণদাস দত্ত ১৫৩৩-৩৮এর মধ্যবর্তী সময়ে বাংলার গৌড়াধিপতি গিয়াসুদ্দিন মহম্মদ শাহের কাছ থেকে একটি পরগণা জায়গীর পান। ১৫৮২ সালে সম্রাট আকবরের সময় বাংলা জরিপকালে এই জায়গীরটির নাম হয় মেদনমল্ল পরগণা। এই বংশের মদন রায়ের পৌত্র দুর্গাচরণ রায় ‘চৌধুরী’ উপাধি লাভ করেন। তাঁর আমলেই বারুইপুরে একটি কাছারী বাড়ি নির্মাণ করা হয় এবং এইসময় রাজপুরে তাঁদের পারিবারিক উপাস্যা দেবী আনন্দময়ী কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। শক্তিবাবু এপ্রসঙ্গে দুর্গামঙ্গল ও হরপার্বতীমঙ্গল পুঁথির কথা বলেছেন। হরপার্বতীমঙ্গলে বারুইপুরকে রায়চৌধুরীদের সদর কাছারী রাজধানী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় রাজবল্লভ

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে সিরাজের পতনের পর মীরজাফরের হাত ধরে ইংরেজরা চব্বিশটি পরগনার অধিকার লাভ করে। ১৭৯৩ সালে চিরোস্থায়ী বন্দোবস্তের সূর্যাস্ত আইনের প্রভাবে এবং খাজনা বাকি থাকার কারণে এই দুর্গাচরণের পৌত্র রাজবল্লভ রায়চৌধুরী রাজপুর ও হরিনাভী গ্রামদুটি হারান। সেগুলি নিলাম হয়ে যায়। সম্ভবত ইনি দ্বিতীয় রাজবল্লভ। কারণ রায়চৌধুরীদের বংশলতিকা থেকে জানা যায় যে কৃষ্ণদাসের পৌত্র এবং মদন রায়ের পিতা ছিলেন প্রথম রাজবল্লভ। ইনিই মোগল নবাব শাহ সুজার দ্বারা ‘রায়’ উপাধিলাভ করেছিলেন।

পীর মোবারক

যাইহোক, দ্বিতীয় রাজবল্লভ বারুইপুরের পুরাতন বাজারের কাছে এক সুবিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। বয়সের ভারে জীর্ণ এই প্রাসাদটি কালের মহিমাকে উপেক্ষা করে আজও রায়চৌধুরীদের গৌরবান্বিত ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে। রাজবল্লভ আনন্দময়ী কালীকে রাজপুর থেকে এখানে স্থানান্তরিত করেন। এই পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে ঘুটিয়ারী শরিফের পীর মোবারক গাজীর কিংবদন্তী। এই পরিবারের অমিয়কৃষ্ণ রায়চৌধুরীর কথানুসারে ঘুটিয়ারী শরিফের গাজীসাহেবের দরগা এবং ধপধপির দক্ষিণরায়ের বিখ্যাত মন্দিরস্থিত জমিজমার ন্যায় বহু স্থানই রায়চৌধুরীদেরই পীরোত্তর, দেবোত্তর ও ব্রহ্মোত্তর সম্পত্তি। আজও ঘুটিয়ারী শরিফে গাজীসাহেবের প্রতিবছর ১৭ই শ্রাবণে বাৎসরিক উৎসব উপলক্ষে এই পরিবার থেকে শিরনি প্রেরণ করা হয় এবং সেটাই প্রথম হাজত দেওয়া হয়।

বারুইপুরের রথযাত্রা ও রায়চৌধুরী পরিবার

জমিদার রাজবল্লভ রায়চৌধুরীর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্গাদালান, শিবমন্দির, রাধাকৃষ্ণের মন্দির, জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরামের মূর্তি, রথ ও রাসোৎসব। একসময় বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের সঙ্গে এই বারুইপুরের রায়চৌধুরীদের মধ্যে বিবাদের ফলে সাবর্ণদের প্রেরিত এক দুর্ধর্ষ লাঠিয়াল ভৃগুরামের মুন্ডচ্ছেদ করা হয়। পারিবারিক তথ্যানুসারে সেই কিংবদন্তী ভৃগুরামের কেশ আজও সংরক্ষিত আছে। প্রতিবছর গাজনের দিন সেই কেশগুচ্ছকে নাকি উৎসবপ্রাঙ্গণে আনার পরেই গাজনোৎসব শুরু হয়। ফলে সবমিলিয়ে নানা দেবদেবীর ও নানা কিংবদন্তীর একত্রে একক্ষেত্রে সহবস্থান এই ঐতিহ্যবাহী পরিবার তথা এই অঞ্চলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট।

বারুইপুরের রথযাত্রা উৎসব

দ্বিতীয় রাজবল্লভের সময় থেকেই প্রতিবছর কার্ত্তিক পূর্ণিমায় রায়চৌধুরী বাড়ির নিকটস্থ, প্রায় ৮ বিঘা পরিমাপবিশিষ্ট মাঠে সারম্বরে রাসোৎসবের আয়োজন করা হয়। এই রাসোৎসবের কারণে স্থানীয় ভাবে এই মাঠ ‘রাসমাঠ’ নামেও পরিচিত। তাঁর পৃষ্টপোষকতাতেই বারুইপুরের রথযাত্রার সূত্রপাত হয়। রাসমাঠে প্রতিবছর আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে একপক্ষকাল ধরে মেলা বসে। এটি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার রথের মেলাগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাচীন মেলা। রায়চৌধুরীদের সুবিশাল রথটি নবরত্ন শৈলীতে নির্মিত। বয়স ২০০ বছরের কিছু বেশি হতে পারে। বর্তমানে রত্নগুলির উপরিভাগের শিখরগুলি নেই। তার বদলে রথযাত্রা উপলক্ষে প্রতিটি রত্নের কুলুঙ্গিগুলির উপর কাপড়ের অস্থায়ী শিখর তৈরি করা হয়। তবে রথটি বহুবার সংস্কারের ফলে এর প্রাচীন রূপ-মাধুর্য অনেকখানি হারিয়ে গেছে।

বারুইপুরের রথযাত্রার বৈশিষ্ট্য

রথের দিন, শালকাঠের বারোটি চাকাযুক্ত এই রথের রশিতে দিনে তিনবার টান পড়ে। সকাল ১০টায়, দুপুর ৩টেয় এবং সন্ধ্যা ছয়টায়। প্রথমত মাঠের উপর রথ চালনার সুবিধার্থে এবং দ্বিতীয়ত পুরীর রথের অনুকরণেই হয়তো এই কাঠের চাকার ব্যবহার। মাঠের একপ্রান্ত থেকে আর একপ্রান্তে এই রথ দেবতাদের নিয়ে যাত্রা করে। অমিয়কৃষ্ণবাবুর কথায় মাঠের শেষপ্রান্তকেই জগন্নাথের মাসির বাড়ি হিসাবে ধরা হয়। রথের একদম উপরের মধ্যবর্তী রত্নে নিমকাঠে নির্মিত জগন্নাথকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর নিচে থাকেন বলরাম এবং সুভদ্রা। যেহেতু রথযাত্রার কেন্দ্রীয় চরিত্র জগন্নাথদেব, তাই তাঁর সম্মানার্থে তাঁর মূর্তিটি উপরের রত্নে রাখা হয়। রায়চৌধুরীদের রাধাকৃষ্ণমন্দিরের ভিতরে একটি অতিরিক্ত গর্ভগৃহে সারাবছর জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরাম অবস্থান করেন। এই মূর্তিগুলি ছাড়াও রথের নিচের তলার একপাশের রত্নে বিষ্ণুবাহন গরুড়ের একটি কাষ্ঠনির্মিত মূর্তিকে রাখা হয়। দুইদিকে ডানাবিস্তৃত, করজোড়ে একপা মুড়ে ও একপায়ে ভর দিয়ে বসা গরুড় মূর্তিটি এই অঞ্চলের দারুশিল্পের একটি অভিনিবেশযোগ্য নিদর্শন।

বারুইপুরের রথযাত্রা উপলক্ষে মেলায় মাটির পুতুলের পসার
বারুইপুরের রথযাত্রা উপলক্ষে মেলায় মাটির পুতুলের পসার

বারুইপুরের রথযাত্রার মেলা

রথের দিন সকাল থেকেই মেলার মাঠ জমজমাট হয়ে ওঠে। নানারকম মনোহারী দ্রব্যাদি, গৃহস্থালির সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্রের দোকান, মাটির পুতুল, বেতের ঝুড়ি, ফলমূল ইত্যাদি হরেকরকমের পসারে মাঠ গমগম করে। তবে রাসমাঠের রথের মেলার একটি বিশেষ আকর্ষণ হল নানাবিধ গাছের পসার। বহু দূরদূরান্ত থেকে এইসময় গাছের ব্যবসায়ীরা আসেন এবং এখানে দোকান দেন। অগণিত মানুষের জনসমাবেশ মেলায় এক অন্যমাত্রা যোগ করে।

 বারুইপুরের রথযাত্রা উপলক্ষে মেলায় মাটির পুতুল

এককালে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে থাকার জন্য জমিদানের পাশাপাশি কৃষ্ণনগর থেকে বেশকিছু মৃৎশিল্পীকে এই রায়চৌধুরীরা নিজেদের বাড়ির দুর্গাপূজার প্রতিমা নির্মাণের জন্য আনিয়ে ছিলেন। এখনও সেই শিল্পীদের বংশধর বিশ্বনাথ পাল ও তাঁর পুত্র প্রবীর পাল রায়চৌধুরীদের দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের কাজ করে আসছেন। ঠাকুর তৈরির সঙ্গে সঙ্গে মেলা-পার্বণ উপলক্ষে তাঁরা বিভিন্ন ধরণের মাটির পুতুলও গড়ে থাকেন। বিশ্বনাথবাবুরা ছাড়াও বহু দূরদুরান্ত থেকেও মৃৎশিল্পীরা এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন। রাসমাঠের অনতিদূরের চক্রবর্তীপাড়ার রেবা পাল, উকিলপাড়ার গীতা পাল প্রমুখ মৃৎশিল্পীদের তৈরি নানাধরনের জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরামের পুতুলে মেলার মাঠ ভরে যায়। বর্তমানে বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে কাঠের নাগরদোলার পাশাপাশি বিভিন্ন জয়রাইডসের ব্যবস্থা করা হয়।

বারুইপুরের রথযাত্র উপলক্ষে মেলায় মাটির পুতুল
বারুইপুরের রথযাত্র উপলক্ষে মেলায় মাটির পুতুল

 বারুইপুরের রথযাত্রায় মানুষের মিলনমেলা

মুখরোচক খাবারদাবার ছাড়া যেকোনো মেলাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই রথের মেলায় ঢোকার মুখে নানাবিধ তেলেভাজা, জিলিপি, গজা, মিষ্টি, কাঠ-বাদাম ভাজা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের মুখরোচক খাবারের দোকান বসে। তবে এবছর কোরোনার প্রকট উপস্থিতি সমস্ত উৎসবের ন্যায় রথযাত্রাকেও স্থগিত রাখতে বাধ্য করেছে। রথের মেলার ন্যায় ঐতিহ্যবাহী এমন বহু মেলা আজ বন্ধ যা সমাজের বেশকিছু মানুষের রুজি-রোজগারের এক অন্যতম ক্ষেত্র ছিল। ‘দাদা, জিলিপির মাপ ঠিক হচ্ছেনা’, ‘একটা ফুচকা ফাউ দাও’, ‘আমায় ওটা কিনে দিতেই হবে’ -মেলায় এসে চলতে থাকা এমন নানান পরিচিত কথাগুলোও এবছরের জন্য বন্ধ। ফলে আবার কবে মেলা-পার্বণের সেই আনন্দঘন রঙিন পরিবেশ ফিরে আসবে, প্রকৃতি বিপর্যয়মুক্ত হবে, তা জগন্নাথই জানেন।

আরও পড়ুন –জগন্নাথ মদনমোহন-নীলাচলের ধর্মীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে

অশেষ কৃতজ্ঞতা- অলোক কুমার শর্মা (রাজপুর), অমিয়কৃষ্ণ রায়চৌধুরী (বারুইপুর), শক্তি রায়চৌধুরী (বারুইপুর)।

 

দেখুন

 

গ্রন্থঋণ
রায়চৌধুরী, শক্তি, বারুইপুর ও রায়চৌধুরী পরিবার, বারুইপুর, শ্রীসত্যানন্দ মহাপীঠ, ২০১৫।
ঠাকুর, শ্রীমদ্‌বৃন্দাবন দাস, শ্রীচৈতন্যভাগবত, শ্রী অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী সম্পাদিত, কোলকাতা, শ্রীশ্রীগৌড়ায় বৈষ্ণব সম্মিলন, ১৯৩৫, পুঃমুঃ।
ঘোষ, বিনয়, পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ৩য় খণ্ড, কোলকাতা, প্রকাশ ভবন, ২০১৩, পুঃমুঃ।
চৌধুরী, কমল, চব্বিশ পরগণা উত্তর দক্ষিণ সুন্দরবন, কোলকাতা, দে’জ পাবলিশিং, ২০১৬, পুঃমুঃ।
মিত্র, অশোক সম্পাদিত, পশ্চিমবঙ্গের পূজা-পার্বণ ও মেলা, ৩য় খণ্ড, দিল্লী, দি ম্যানেজার অব্‌ পাবলিকেশনস্‌, সিভিল লাইনস্‌, ১৯৭১, পুঃমুঃ।


Share your experience
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares

Facebook Comments

Post Author: shuvankar1koulal

শুভঙ্কর মণ্ডল
শুভঙ্কর মণ্ডল গবেষক, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (ইউজিসি নেট) শিল্পের ইতিহাস বিভাগ, দৃশ্যকলা অনুষদ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কোলকাতা নিবাস- নোয়াপাড়া, সোনারপুর, ডাকঘর + থানা- সোনারপুর