ভরতপুরের পটচিত্র- প্রচারের আলো বঞ্চিত এক শিল্পগ্রাম

Share your experience
  • 255
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    255
    Shares

"

ভরতপুরের পটচিত্র- প্রচারের আলো বঞ্চিত এক শিল্পগ্রাম।বাঁকুড়া জেলার পটের গ্রাম ভরতপুর। একটি অবহেলিত, গরিব পটশিল্পীদের গ্রাম, যার সম্মন্ধে খুব কম লোকেই অবহিত।কেবলমাত্র পটচিত্রকে পেশা করে যেসব পটুয়া সম্প্রদায় আদি পটচিত্রের অঙ্কন ধারা এখনও বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, ভরতপুর সেরকম একটি গ্রাম। এইযুগেও কেবলমাত্র পটচিত্র এঁকে, কথকথা করে বা পটের গান শুনিয়েই এনারা জীবননির্বাহ করে।–লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ।

ভরতপুরের পটচিত্র

পশ্চিম মেদিনীপুরের নয়াগ্রামের বর্তমান যুগের পটচিত্র শিল্পীদের মতন শাড়ীর আঁচলে, জামা-কাপড়ে, এমন কি হাতপাখা বা ছাতার উপরেও পটের ভাবনাকে ছড়িয়ে দেবার কথা এরা জানেও না, ভাবতেও পারে না। তাই নয়াগ্রামে যে দেশি বিদেশি পর্যটক ও ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে এবং এখানকার গুরুপদ বা আনোয়ার চিত্রকরকে যে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে, ভরতপুর গ্রামে সে খবর পৌঁছেছে কিনা জানিনা। কিন্তু ভরতপুর গ্রামের চিত্রকরেরাও আপন ক্ষেত্রে যথার্থই অনন্য। এঁদের কাছেই আপনি দেখতে পাবেন ১০০% ভেষজ রঙ ও নিজহস্তে প্রস্তুত তুলিতে আঁকা আদি, অকৃত্রিম, চিরকালীন পটচিত্র এবং পটের গান। সমকালীন রঙ-তুলি এবং ভাবনা এঁদের কাছে ব্রাত্য। এই প্রাচীন ট্রাডিশনাল পট এঁকেই এখানকার সহদেব, মহাদেব চিত্রকর এবং আরো অনেকেই পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও জেলা পুরস্কার।

পটচিত্র কথা

সাধারণত পটচিত্র বলতে বোঝায় পট অথবা পট্ট বস্ত্র বা কাপড়ের টুকরোর ওপরে আঁকা ছবি। আবার অন্য এক মতে তামিল শব্দ পডম বা ছবি থেকে এসেছে এই শব্দটি।ভারতবর্ষে পটচিত্রের ইতিহাস অতিশয় প্রাচীন। পানিনীর অষ্টাধ্যায়ী গ্রন্থে পটুয়া বা পটিদারের দেখা মেলে। ধরা হয় গ্রন্থটি খ্রীস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে লেখা।অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে এই শিল্প বেঁচে আছে।গ্রামীন ভারতীয় জনজীবনে সামাজিক নীতিশিক্ষা দান, ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনীগুলির প্রচার ও প্রসারের সঙ্গে সামাজিক আদান প্রদানের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল এই পট চিত্র এবং পটের গান গাওয়া পটুয়ারা।
সপ্তম শতাব্দীর প্রথম দিকে রচিত বানভট্টের হর্ষচরিত এবং সম্ভবত অষ্টম শতকে রচিত বিশাখদত্তের মুদ্রারাক্ষসে যমপটের উল্লেখ আছে।

"<yoastmark

ভরতপুরের পটুয়া
ভরতপুরের পটুয়া

পটুয়া বৃত্তান্ত

বাংলাদেশে পটুয়া বা পটিদারেরা বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর উপর ভিত্তি করে সামাজিক উপাখ্যানমূলক গীত সংগীত রচনা করতেন, এবং পটচিত্রের মাধ্যমে সেগুলো ( যেমন চন্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, মনসামঙ্গল ) প্রচার করতেন।এখনও এরকম বিষয় বস্তুর উপরে রচিত পৌরাণিক পটগুলি খুবই জনপ্রিয়। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমদিকের কবি, চন্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর কাব্যগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-” পট পড়িয়া বলে কেহ নগরে নগরে।”

কালীঘাটের পট বা পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, বীরভূমের পট যেভাবে প্রচারের আলো পেয়েছে- রাঢ় বাংলার টাঁঁরভূমি পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার পট সেভাবে প্রচারের আলোতে আসেনি বলে আমার বিশ্বাস।এর অন্যতম কারণ হয়ত এখানকার শিল্পীরা ভীষণই গরিব এবং শিক্ষার আলোক থেকে প্রায় বঞ্চিত। তাই এখানকার পটচিত্রের মধ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া পাবেন না। কিন্তু পাবেন যুগ যুগ ধরে প্রচলিত যমপট, সাঁওতাল বা আদিবাসী পট, জাদুপট বা চক্ষুদান পটের আদিম ও নিখুঁত চিত্রায়ন। শিল্পসুষমা মন্ডিত গণেশ জননী পটের বদলে ভরতপুরের পটে দেখবেন আদিম যুগের ট্রাডিশনাল পট। ভরতপুর ছাড়াও বাঁকুড়ার ছান্দার গ্রামে এবং বিষ্ণুপুরেও পটুয়া পাড়া আছে।

ইতিহাসের আলোয় পটচিত্র

প্রাচীন কালে বৌদ্ধ ও জৈন শ্রমনেরা মুখ্যত ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে একখন্ড কাপড়ের উপর চিত্র এঁকে, সেই চিত্র দেখিয়ে সুর করে গান গাইতেন বা ছড়া কাটতেন। জৈন ধর্মের বিখ্যাত গ্রন্থ কল্পসূত্র। এটি মুখ্যত মহাবীরের বাণী বা উপদেশের সংকলন। তাঁর আদর্শ প্রচারের সঙ্গী বা মাধ্যম হয়ে সেযুগেও চিত্রকর সম্প্রদায়ের উপস্থিতি চোখে পরে। জাতকের কাহিনী প্রচারেও এঁরা ছিলেন সঙ্গী। বৌদ্ধদের কাছে এনাদের পরিচয় হত মাস্করী ভিক্ষু- এঁরা মুখ্যত বুদ্ধদেবের জীবনী এবং জাতকের কাহিনীর গল্প আঁকতেন । ড: দীনেশ চন্দ্র সেনের মতে এই মাস্করী ভিক্ষুরাই পরবর্তী সময়ে পট শিল্পী বা পটিদার নামে পরিচিত হয়েছেন।

শোনা যায় সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের ইতিহাস বিখ্যাত প্রধানমন্ত্রী, অসম্ভব কূটবুদ্ধিশালী চাণক্য নাকি চিত্রকারদের নিয়োগ করতেন গুপ্ত খবর সংগ্রহ করবার জন্য।ষোড়শ শতকেও শ্রী চৈতন্যদেবের বাণী প্রচারেও পট চিত্রের সাহায্য নেওয়া হয়।অতিশয় দুঃখজনক হলেও নির্মম ভাবে সত্য যে, একসময়ের ব্রাহ্মণ‍্যবাদী হিন্দু সমাজে চিত্রাঙ্কন, নৃত্যগীত এবং নটশাস্ত্রের চর্চা করা অপরাধ বলে গণ্য করা হত। মেয়েদের এসব চর্চা তো পতিতা বৃত্তির সমান বলে ভাবা হত। পুরুষ শিল্পীদেরও অত্যন্ত নিচু চোখে গণ্য করা হত এবং তাঁদের সমাজের অত্যন্ত নিম্ন স্তরে বাস করতে বাধ্য করা হত। কোন একটি উদ্ভট ঘটনা জুড়ে দিয়ে ব্রাহ্মণ‍্যবাদী হিন্দু সমাজ, সেযুগে শিল্প কলা চর্চা করা চিত্রকর বা পটুয়াদের কিম্বা ডোকরা ধাতু শিল্পের চর্চা করা ডোকরা কামার সম্প্রদায়ের মানুষগুলোকে সমাজচুত্য এবং অন্তজ করে রেখেছিল।

পটুয়া নিয়ে মিথ

পটুয়াদের সমাজচুত্যের পিছনে যে কারণটি আছে সেটি হচ্ছে তাঁদের কোন এক পূর্ব পুরুষ নাকি তন্ময় হয়ে মহাদেবের ছবি এঁকেছিলেন মহাদেবকে না জানিয়ে।ছবি আঁকা শেষ হলে পটুয়া দেখেন যে, সামনে স্বয়ং মহাদেব দাঁড়িয়ে আছেন। ভয়ের চোটে শিল্পী আঁকার তুলির দিকটা মুখে পুরে লুকিয়ে ফেলেন। এতে নাকি ক্রুদ্ধ হয়ে মহাদেব অভিশাপ দেন – পটুয়ারা না হিন্দু না মুসলমান হয়ে থাকবে, মুসলমানের রীত আর হিন্দুর কর্ম করে খাবে। বুঝুন ঠ্যালা- সাত পাঁচে না থাকা ভোলে বাবা তো হিরণ্যকশিপু, রাবণ এরকম সব অসুরদের অবধি বরদান করেন। আর স্রেফ না বলে উনার ছবি আঁকার জন্য আর ভয় পেয়ে আঁকার তুলি মুখের মধ্যে লুকোবার চেষ্টা করার জন্য পুরো শিল্পী সম্প্রদায়ের জাত মেরে দিয়ে আধা মুসলমান হবার অভিশাপ দিয়ে দিলেন, একথা কি মানা যায় !

সত্যি কথা বললে, শিব ঠাকুর তো আদিতে অনার্যদের পূজিত দেবতা ছিলেন।ব্রাহ্মণ‍্যবাদী হিন্দু সমাজ অনেক পরে ওনাকে বৈদিক দেবতার স্তরে উন্নীত করে। সেই শিব ঠাকুর কয়েকটি গরিব শিল্পী মানুষকে অভিশাপ দিচ্ছেন- তোরা আদ্ধেক মুসলমান হবি, এটা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য ? আর হিন্দু দেব দেবীদের নিয়ে ছবি আঁকা, গান গাওয়ার জন্য মৌলবাদী মুসলিমরাও এঁদের সু নজরে দেখে না। তাহলে কোথায় যাবে এই শিল্পী মানুষগুলো ? আসল কথাটি হচ্ছে এই জাত শিল্পীদের, ভালো করে বললে, এঁদের হাতের রংতুলি দিয়ে আঁকা ছবিগুলোকে ব্রাহ্মনবাদী সমাজ ভয় পেত, বলা তো যায়না, এই নিজেদের চালে চলা গরিব মানুষগুলি কোনদিন ছবি এঁকে সমাজের নচ্ছামিকে টেনে রাস্তায় নামিয়ে দেবেনা, তার কি মানে আছে। তাই দাও সমস্ত শিল্পী জাতটিকেই পতিত করে-
“ব্যাতিক্রমেণ চিত্রণাং সদ্যশিচত্রকরস্তথা ।
পতিত ব্রহ্মশাপেন ব্রাহ্মণানাঞ্চ কোপত: ।”

শিল্পীদের কথা ও কাহিনি

আজকে ভারতবর্ষের বিজ্ঞানীরা চাঁদ ছাড়িয়ে মঙ্গলগ্রহে অভিযান করছে। কিন্তু এই গরীব মানুষগুলির উপরে শিব ঠাকুরের অভিশাপ এখনও বলবৎ। সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানের দশম অধ্যায়ে দেখা যায় যে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা কোন দেবীকে বিবাহ না করে অপ্সরা ঘৃতাচীকে বিবাহ করেন এবং তাঁর নয়টি পুত্র সন্তান হয়। এখানে বলা হচ্ছে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং তাঁর অভিশাপে স্বর্গের অপ্সরা ঘৃতাচী মর্ত্যলোকে মন্মথ নামক গোয়ালার কন্যা হয়ে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর নাম হয় প্রভাতী। এবং বিশ্বকর্মা এঁকেই বিবাহ করেন। এঁদের বিবাহজাত অষ্টম সন্তান হচ্ছে চিত্রকর। নয়টি শিল্পী সম্প্রদায়ের নামগুলি হচ্ছে এরূপ-মালাকার, কর্মকার, শাঁখারি বা শঙ্খকার,তন্তুবায় , কুম্ভকার ,কাংশকার, সূত্রধর, , চিত্রকর এবং স্বর্ণকার। তাই এই নয়টি শ্রেণীর বিভিন্ন শিল্পকর্মের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তির মতোই চিত্রকরদের কাছেও বিশ্বকর্মা পুজো হচ্ছে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান।

বিশ্বকর্মা

এখানে প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখি যে ভারতবর্ষের এক বিরাট দলিত সম্প্রদায়ের নাম বিশ্বকর্মা। এই সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্ত পদে থাকে বিশ্বকর্মা নাম এবং এঁরা মনে করেন বিশ্বকর্মা পিছিয়ে পড়া দলিতদের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আদিম পুরুষ, যিনি নিজ কর্মফল ও অসাধারণ প্রতিভার দ্বারা স্বর্গের দেবসভা, কুবেরের বাসস্থান, রাবনের সোনার লঙ্কা, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা, শিবের হরধনু, ইন্দ্রপ্রস্ত, হস্তিনাপুর ইত্যাদি নির্মাণ করেছেন। এবং আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে বিশ্বকর্মা আদতে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ছাড়া আর কিছু হতে পারেন না। বিশ্বকর্মা যদি ব্রাহ্মণ হতেন, তাহলে কি তাঁর অষ্টম শিল্পী পুত্রকে ব্রাহ্মণরা এভাবে জাতি চুত্য করতে পারেন ? অন্য শিল্পী পুত্রদেরও, ব্রাহ্মণ বলে গ্রহণ করা তো দূরের কথা, সমাজের উচ্চস্তরেও স্থান দেওয়া হয়নি।

সাঁওতাল পটুয়া

বিশ্বকর্মা পুজো ছাড়াও ভরতপুরের চিত্রকরেরা স্থানীয় বাঙালিদের সমস্ত পুজো পার্বনেই যোগদান করেন। এখানকার পটুয়ারা সম্ভবত জাতিতে সাঁওতাল কিন্তু ১০০% হিন্দু রীতিনিতিতেই জীবন যাপন করেন।চলেছি ছাতনা- রানীগঞ্জ রোড ধরে, এসে পৌঁছেছি ভরতপুর পটচিত্রের গ্রামে।দশ বারোটি ঘরে শুনলাম সর্বমোট ১৮ টি চিত্রকর পরিবারের বাস এখানে। ভরতপুর গ্রামে আদিবাসী সাঁওতাল অধিবাসীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। চিত্রকরদের পূর্বপুরুষেরা আদিবাসী এবং চক্ষুদান পট আঁকার পুরস্কার হিসেবে, আদিবাসীদের দান করা একখন্ড জমিতেই এখানকার বসতি গড়ে তোলেন। কতদিন ধরে উনারা এখানে আছেন জানতে চাইলে সহদেব বাবু জানালেন যে উনি উনার উর্দ্ধতন চতুর্থ পুরুষ অবধি স্বরণ করতে পারেন। তার আগের ব্যাপারে উনার জানা নেই।

ভরতপুরের পটচিত্র কথা

গ্রামে প্রবেশের মুখেই বাঁহাতে পড়ল একটি বাঁধানো মন্দির। মন্দিরের মধ্যে রয়েছে শ্মশান কালী মাতার মূর্তি। এখান থেকে শীর্ণ গলিপথ যোগ করেছে দুই দিকের একচালার ঘর গুলিকে। গলিপথের উপরেই আছে একটি অদ্ভুত আকৃতির মাটির ঢিবি। ঢিবির উপরে ৭ টি টাকার সাইজের তেল সিঁদুরের গোল ফোঁটা। পাশেই আরেকটি ছোট ঢিবিতে ২ টি তেল সিঁদুরের ফোঁটা। দেখতে অনেকটা বৈষ্ণব সমাধির মতন, আবার এরকম ঢিবির উপরে বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে তেল সিঁদুরের ফোঁটা দিতেও কোন কোন জায়গায় দেখেছি।কিন্তু প্রশ্ন করে জানলাম এটি দেবতার থান। আবার কেউ একজন বললেন তুলসী মঞ্চ, যদিও তুলসী গাছ নজরে পড়ল না, সলিড ঢিবি, গাছ পোঁতার কোন জায়গাই নেই।

ভরতপুরের পটচিত্রকার

ঘর বাড়ির চেহারা দেখে বোঝা যায় ইনাদের আর্থিক দুরাবস্থার কথা। দারিদ্রের অনুষঙ্গে শিক্ষার অভাব বেশ প্রকট, তাই বিশ্বাস ও ভক্তির স্থান নিয়েও ঠিকমতন জানা নেই।দুই দিকেই রয়েছ টানা মাটির দেওয়াল , খালি পার্টিশন ওয়াল দিয়ে আলাদা আলাদা বাড়ি । মাথার উপরে আছে যেমনি তেমনি করে তৈরি খড় বা টালির ছাদ। মন্দির বাদে মাত্র দুটি পাকা বাড়ি- শুনলাম পঞ্চায়েতের আনুকূল্যে নির্মিত। আক্ষরিক অর্থেই বারো ঘর এক উঠান। গলিতে একদঙ্গল কুকুর ও মুরগি চড়ে বেড়াচ্ছে। দুজন বয়স্ক শিল্পী শ্রী সহদেব চিত্রকর এবং শ্রী বাসুদেব চিত্রকরের সঙ্গে মেঠো আলাপের পরে বিস্তারিত কথোপকথন শুরু হল।আরো অনেক শিল্পীও এই বস্তিতে আছেন যেমন শম্ভুনাথ চিত্রকর, বরেন চিত্রকর, অনিল চিত্রকর ইত্যাদি।

ভরতপুরের পটচিত্র বৈশিষ্ট্য

এবার দেখে নি ভরতপুরের পটুয়াদের কিছু বিশেষত্ব।রঙ তুলি এঁরা সম্পূর্ণত প্রাকৃতিক বা ভেষজ জিনিষ যথা গাছের পাতা, শিকড়, পাথরের গুঁড়ো, মাটি ইত্যাদি দিয়ে নিজেরাই তৈরি করেন। বাজারে কেনা রঙ তুলির চলন নেই। গেরুয়া মাটি থেকে তৈরি হয় গেরুয়া রঙ, খড়ি মাটি থেকে হয় সাদা রঙ, আবার এক রকম মাটি পোড়ালে নাকি সাদা রং পাওয়া যায়, সিম এবং গাছের সবুজ পাতা বেটে তৈরি হয় সবুজ রঙ, খয়ের ও চুন থেকে মেলে খয়েরি রঙ, ভূষকালি এবং নারকেলের খোল পুড়িয়ে তৈরি হয় কালো রঙ ইত্যাদি। রঙের সঙ্গে মেশান হয় বেল, শিরীষ, বাবলার আঠা।কখনও কখনও যোগ করা হয় তেঁতুল বিচি সেদ্ধ করে পাওয়া ঘন কাই। আর তুলি তৈরি হয় ছাগলের লোম দিয়ে।

সহদেব বাবু স্বীকার করলেন যে, উনারা হিন্দু হলেও, বর্তমানে বাঙালি হিন্দু প্রধান গ্রামে পটচিত্রের প্রদর্শন ও গান করতে প্রায় একরকম যানই না। এর কারণ জানতে চাইলে উনি বলেন যে, বর্তমানে বাঙালি হিন্দু গ্রামে বা সমাজে টাকা পয়সা কিছুই তেমন পাওয়া যায়না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে- শিল্পীর মর্যাদা বা সন্মান মেলে না। পটুয়াদের ভিক্ষাজীবির সম গোত্রীয় বলে গণ্য করা হয়। একেবারে চাঁচা ছোলা ভাষায় সত্যি কথা বলেছেন সহদেববাবু। সত্যি তো আজকের দিনে অধিকাংশ গাঁঁ ঘরের শিল্পীদের যেখানে লক্ষ্য কোন রকমে দু মুঠো ভাতের জোগাড় করা, সেখানে বর্তমানের পশ্চিমি ভাবধারার সমাজ আর শিল্পীকে কি মর্যাদা দেবে ? ধর্ম ও নীতিজ্ঞানশূন্য আধুনিক সমাজ, অবহেলা ও উন্নাসিকতা দিয়ে প্রায় সবরকম লোকশিল্পকেই ক্রমাগত অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

চক্ষুদান পট

সে তুলনায় আদিবাসী গ্রামের গরীব ও সরল লোকগুলিই ইনাদের কাছে লক্ষ্মী।এখানকার আদিবাসী লোকগুলির জন্যই ভরতপুর গ্রামের আদিবাসী পট এবং জাদুপট বা চক্ষুদান পটশিল্প এখনও বেঁচে আছে। চাল,দাল, তরিতরকারি ইত্যাদির সঙ্গে যথাসাধ্য টাকা পয়সাও ওঁরা দেন। সবচেয়ে ভালো লাগে উনাদের, আদিবাসীদের কাছে পান শিল্পর মর্যাদা, শিল্পীর সন্মান, যা বাঙালিদের মধ্যে প্রায় হারিয়ে গেছে।আদিবাসীরা বাদ দিলে, পট চিত্রের বাজার এখনও আছে দুর্গাপুর, রানীগঞ্জ, আসানসোলের মতন বড় শহরগুলোতে, শিল্পবোদ্ধাদের ড্রইং রুমে। তাই মাঝে মধ্যেই পটের সামগ্রী নিয়ে উনারা এই তিনটি বড় শহরে আসেন। এভাবেই চলেছে এঁদের জীবন সংগ্রামের সঙ্গে শিল্প গড়ার সাধনা।

ভরতপুরের পটচিত্র কথন

বিনয় ঘোষের লেখা থেকে জানা যায় যে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্ত অবধি, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং মেদিনীপুরের পটিদারেরা সাধারণত কাপড়ের উপরেই পট চিত্র আঁকতেন। কাপড়ের উপর কালো মাটি আর গোবরের মিশ্রণ লেপে, মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে তার উপরে পাতলা করে গালার আস্তরণ দিয়ে শুকিয়ে নিয়ে তবেই তার উপরে শিল্পকর্ম করা হত। অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ অবধি পটুয়াদের কাজের কদর ছিল, তাই তাঁরা টেকসই কাপড়ের উপর পট আঁকতে পারতেন। এখন তো পশ্চিমি সভ্যতা ও সিনেমা, টি ভি ইত্যাদি টেকনোলজি তার চটকদারিত্ব দিয়ে, বাংলা সংস্কৃতির মূলেই আঘাত করছে, এবং লোককলা শিল্পীরা বাধ্য হয়ে তাঁদের বাপ ঠাকুরদার আমলের শিল্প সংস্কৃতির পথে আর থাকছেন না। শিল্পী সম্প্রদায়ের গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষ তাঁদের পেশা বদলে ফেলে বিভিন্ন শ্রমজীবী কর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। বাংলার লোক সংস্কৃতি এভাবেই বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে।

আজকের যুগের বাঙালি সমাজ, সকাল থেকে রাত অবধি কি বাংলা, কি হিন্দির সোপ অপেরার বিকৃত কাম ও রুচির গল্প দেখে দেখে বাংলার সত্যিকারের শিল্প/সংস্কৃতি বিষয়ক ধারণা বা ভালোবাসা থেকে একেবারে শত হস্ত দূরে সরে গেছে। বাংলার শিল্প কলা বাঁচিয়ে রাখার বিষয়ে বৃহৎ সংখ্যক জেন এক্স একেবারে নির্লিপ্ত।
একই চিত্রের নির্মম ছবি ভরতপুরেও বিদ্যমান।

ভরতপুর গ্রামের পটুয়ারা অত্যন্ত গরিব।পট্ট বা কাপড় কিনে তার উপরে ছবি আঁকা এঁদের ক্ষমতার বাইরে। ইনারা সাধারণত সাধারণ কাগজ বা তুলট কাগজের উপরে( সাধারণত জড়ান পটের ক্ষেত্রে) রঙ তুলি দিয়ে পটের ছবি আঁকেন। এখানে মুখ্যত যেসব চিত্র দেখতে পাচ্ছি সেগুলিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়- চৌকো( সাধারণত আয়তাকার) পট এবং জড়ান পট। চৌকো পট তৈরিতে প্রথমে তুলি দিয়ে চতুর্দিকে একটা বর্ডার এঁকে , তুলি দিয়ে সরাসরি এক বা একাধিক চিত্রের মাধ্যমে একটি কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হয়।

  ভরতপুরের পটচিত্র  –জাদুপট

আসছি জাদুপট বা চক্ষুদান পটের কথায়।এটি একটি চৌকো পট। দক্ষিণ বঙ্গে এর প্রচলন মুখ্যত সাঁওতাল সমাজে। যেসব সাঁওতাল পটিদার এই পটের ছবি আঁকেন তাঁদের সাধারণত পদবি হয় জাদুপটিয়া এবং এই শ্রেণীর লোকেদের জাদুপটিয়া সম্প্রদায় বলে ডাকা হয়। কোন ব্যক্তি মারা গেলে আদিবাসী পটিদার সেই মৃত ব্যক্তির একটি কাল্পনিক ছবি ভূষ কালি বা কাজল কালিতে এঁকে মৃতের বাড়িতে চলে যেতেন। সেটি হত মার্জিন ছাড়া, আয়তাকার মৃত মানুষের মতন একটি ছবি। ছবিতে চক্ষু বিহীন সম্পূর্ণ একটি মানুষের ছবি আঁকা থাকত, খালি চোখের জায়গায় শূন্য গর্ত থাকত।একপাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় মৃত মানুষের ছবিটি আঁকা হত।

গ্রামীন লোকেদের বিশ্বাস যে, যতক্ষন না চোঁখ একে ছবি সম্পূর্ণ করা হচ্ছে, ততক্ষণ অবধি মৃতের আত্মা শান্তি পায়না, এবং ঘরের চারিধারে ছটফট করে ঘুরে বেড়ায়।যৎকিঞ্চিৎ দক্ষিণার পরিবর্তে কাজল দিয়ে চক্ষুদান পর্ব সমাপ্ত হত। এরপর ধান দূর্বা দিয়ে মৃতের আত্মীয় স্বজন পটটি নিজেদের কাছে রেখে দিতেন এবং মৃতের অন্তিম কাজের শেষে জলে ভাসিয়ে দিতেন। এই বিশেষ পটগুলিকে জাদুপট বা চক্ষুদান পট এবং সেই সাঁওতাল পটিদারদের জাদুপটুয়া বলা হত।

কিন্তু ভরতপুর গ্রামে দেখলাম- এখানকার হিন্দু চিত্রকরেরা একাধিক চিত্রের মাধ্যমেও চক্ষুদান পটের কথা ফুটিয়ে তোলেন এবং জড়ান পটের রীতিতে গান গেয়ে বা কথকথার মাধ্যমে তা বর্ণনা করেন। এরকম চক্ষুদান পটের চাহিদা উত্তরোত্তর শহুরে বাবুদের ড্রইং রুমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এরকম চক্ষুদান পটের কয়েকটি ছবি ইনারা কাঁচ এবং ফটো ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছেন শহুরে বাবুদের জন্য। এই চক্ষুদান পটের ছবি শহরে নিয়ে গিয়েও প্রদর্শন করেন। আমার অনুরোধে এরকম একটি চক্ষুদান পটের সঙ্গে সহদেববাবু কথকথা করে শোনান। এই পট ও কথকথার ভিডিওটি দেখুন।

তবে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কেউ মারা গেলে, ইনারা সাঁওতাল জাদুপটিয়া সম্প্রদায়ের পটুয়াদের আঁকা ছবির মতনই মৃত ব্যক্তির হুবহু একই রকমের ভূষকালি দিয়ে চক্ষুবিহীন ছবি আঁকেন। পরে টাকা পয়সা পেলে সেই ছবিতে চক্ষুদান করে এঁরাই মৃত ব্যক্তির পরিবারের তরফে সেই ছবিটিকে জলে ভাসিয়ে দেন।

 চৌকোপট ভরতপুরের পটচিত্র

চক্ষুদান পট ছাড়াও এরা চৌকো পটে মুখ্যত পৌরাণিক কাহিনী আশ্রিত ছবি আঁকেন। সমসাময়িক ইতিহাস আশ্রিত ছবি এঁরা আঁকেন না।এরপর আসছি এখানকার জড়ান পট বা দীঘল পটের কথায়।দীঘল পট তৈরি হয় টুকরো টুকরো তুলট কাগজে আঁকা গুটি কয়েক ধারাবাহিক ছবি নিয়ে, একটির সঙ্গে অন্যটিকে পাতলা প্লাস্টিক বা কাগজ দিয়ে জুড়ে( আঠা দিয়ে নয়, সুতো দিয়ে সেলাই করে), একটি লম্বা ছবির মালা তৈরি করা হয়। প্রথম ও শেষ ছবির সঙ্গে একই ভাবে দুটি কাপড়ের টুকরো জুড়ে দিয়ে, পটের শেষ প্রান্ত দুটিতে দুটি বাঁশের সরু কঞ্চি রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। এরপর উপরের কঞ্চিটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো পটটিকে মুড়িয়ে রাখা হয়। জড়ান পটের প্রদর্শন করতে উপরের কঞ্চিটি বাঁ হাতে ধরে আস্তে আস্তে গোটানো হয় এবং নিচের কঞ্চিটি ডানহাতে ধরে সন্তর্পণে খোলা হয়। সঙ্গে চলে পটিদারের গান।

ভরতপুরের পটচিত্র ও আদিবাসী

আগেই লিখেছি যে আদিবাসী সম্প্রদায়ই যেহেতু ভরতপুর পটের মুখ্য পৃষ্টপোষকতা করেন, তাই ইনাদের জড়ান পটের কাহিনী প্রধানত আদিবাসী পট এবং যমপটের উপরেই হয়। সাবলীল ভাবে ইনারা বাঙালি অধ্যুষিত গ্রামে বাংলায় এবং আদিবাসী গ্রামে সাঁওতালিতে পটের গান করেন।সাঁওতালি পট বা আদিবাসী পট হচ্ছে সমস্ত রকম জড়ান পটের মধ্যে দীর্ঘতম যার মধ্যে দিয়ে সাঁওতাল জাতির উদ্ভব, তাদের জীবন যাত্রা – জীবন থেকে মৃত্যু অবধি পারিবারিক ও সাংসারিক জীবন কথা হয়ে পারলৌকিক ক্রিয়া কর্মের বর্ণনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ কাহিনী বর্ণনা করা হয় এই পট চিত্র কথায় ।সাঁওতালি পটের চিত্র কাহিনী খুব আকর্ষক, নানা রকম রঙ দিয়ে আঁকা মানুষ, পশু পক্ষীর ছবি ইত্যাদির সমন্বয়ে অত্যন্ত মনোহর লাগে দেখতে।

ভরতপুরের পটচিত্র  – যমপট

শেষ করছি যমপটের কাহিনী দিয়ে।যমপট যুগ যুগ ধরে ব্যবর্হিত হয়ে আসছে মুখ্যত নীতি শিক্ষার বাহন হিসাবে। আগেই লিখছি বানভট্টের হর্ষচরিত এবং বিশাখদত্তের মুদ্রারাক্ষসে যমপটের উল্লেখ আছে। তাহলেই বুজতে পারবেন যমপটের ইতিহাস কত প্রাচীন। যমপট একক ভাবেও আঁকা এবং বর্ণনা করা হয় একটি জড়ান পটে, আবার আলাদাভাবেও যে কোন দীঘল পটের শেষেও নীতি শিক্ষার বাহন হিসাবে যমপট কে জুড়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন- দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা : শাস্ত্রে ও পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে

ভরতপুরের পটচিত্র–উপসংহার

মৃত্যুর পরে আমাদের সবার বিচার হয় যমরাজের দরবারে। পাপী লোকের নরক যন্ত্রনা ভোগ এবং পুণ্যবানের স্বর্গ গমন এবং স্বর্গসুখের বর্ণনা করে যমপটের দৃশ্যাবলী আঁকা হয়। ধর্মের জয় এবং অধর্মের পরাজয় হচ্ছে যমপটের মূলকথা।
যমরাজ দেখতে অতিশয় ভয়ঙ্কর- সহদেব বাবুর কথায়” কালো কালো যমরাজার পুঞ্জবরণ আঁখি”, তবুও শেষ বিচারের ভার তাঁরই সুযোগ্য হস্তে অর্পিত। তাঁর সম্মন্ধে বলা হয়-” রবিপুত্র যমরাজ যম নাম ধরে।

বিনা দোষে কারো বিচার না করে।’
আমার অনুরোধে, পটিদার সহদেব চিত্রকর যমপট পাঠ ও গান শুরু করেন

” বলরাম, সুন্দরী সুভদ্রা বহিন” দিয়ে। শেষ করলেন জগন্নাথ প্রভুর আশীর্বাদ চেয়ে-
” সবাই মিলে বল একবার ,বল হরি বল।”
উপস্থিত আমরাও গলা মেলালাম-বল হরি বল।

 তথ্যসূত্র
১) পুরুলিয়ার পটশিল্প ও পটের গান- মধুসূদন মাজী, রাঢ় প্রকাশন, রবীন্দ্র পল্লী, সিউড়ি।
২) পটচিত্র কথা- Mrinal & Udvas. google.com/amp/S/nandimrinal.wordpress
৩) ব্যক্তিগতকৃত সাক্ষাৎকারে সহদেব চিত্রকর এবং বাসুদেব চিত্রকর। ভরতপুর, বাঁকুড়া।
৪)পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, চতুর্থ খন্ড, বিনয় ঘোষ। প্রকাশ ভবন, কলকাতা।
৫) বাংলার সংস্কৃতি : লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায়( গুপ্তযুগ, পালযুগ, সেনযুগ থেকে অদ্যাবধি) নারায়ণ সামাট। দেশ প্রকাশন। রিষরা, হুগলী।
৬)পটচিত্রের অকপট চিত্রগুলি, বটুক মহারাজ।তবুও প্রয়াস, বাংলার কুটির শিল্প।]

পটচিত্র নিয়ে কৌলালের একগুচ্ছ ভিডিও তথ্যচিত্র দেখুন–


Share your experience
  • 255
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    255
    Shares

Facebook Comments

Post Author: ডা. তিলক পুরকায়স্থ

Tilak Purakayastha
2/3, CENTRAL HOSPITAL KALLA, ASANSOL 713340. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের MBBS, MD, মুখ্যত চিকিৎসক| কেন্দ্রীয় সংস্থার উৎকৃষ্ট চিকিৎসা সেবা পদক, লাইফ টাইম আচিভমেন্ট আওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কারে পুরস্কৃত। নেশায় ভ্রামনিক , ফটোগ্রাফার এবং শখের লেখক।