বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার আজও টিকে আছে রাঢ়ের লোকসংস্কৃতিতে

Share your experience
  • 373
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    373
    Shares

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার আজও টিকে আছে রাঢ়ের লোকসংস্কৃতিতে। রাঢ় বাংলার স্থাননামে ঠাকুর দেবতায় আর উৎসাবাদিতে আজও রয়ে গেছে তার সোনালি রেশ।মানুষের লোভের কাছে হার মেনেছে দেবদেবীরা।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার শকুন নাচ
বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার শকুন নাচ

সুজ্জিদেব কখন গেছে পাটে।মুখ-আঁধার হয়ে এলো। ঘরে ঘরে বেজে ওঠে সন্ধ্যাশঙ্খ।তুলসীতলায় জ্বলে সাঁজের প্রদীপ। মন্দিরে বাজে কাঁসর-ঘণ্টা। ওই ভেসে আসে আজানের ধ্বনি। বাবলার জঙ্গল থেকে থেমে থেমে রাতঝিঁঝিঁর ডাক। একটা হ-টি টি পাখি ডাকতে ডাকতে উড়ে যায় তেঁতুলগাছের মগ-ডালে। পুকুরপাড় থেকে জাঁকিয়ে ওঠে ব্যাঙের কলতান।দূরের মাঠে মাঠে শিয়ালের হুক্কাহুয়া। এহেন সুর কাটে একটা বিকৃত জোরালো আওয়াজে –বাপ বাপ ভুস!!

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার–মেঠো গল্প

আচমকা ভয় পাওয়ারই কথা।কিন্তু অভীজ্ঞ গ্রামবাসীর কাছে এ হলো সতর্ক বার্তা।বনগাওরা বা পাউসবেড়াল বেরিয়েছে শিকারের সন্ধানে।পুকুরপাড়ের ভোমস গর্তে তেনাদের বাস।গেরস্থের কুটিরে গরুবাছুরের পাশেই হাঁস রাখার মাচি বা মাচা। সামান্য সুযোগ পেলেই হাঁসের দফারফা করে দেবে এই খটাস বা ভাম।খুব সাবধানে থাকতে হয় এইসময়। ভয় পাওয়া নাতিকে সামলায় দাদু।জানায় আগেতো খাঁ-বাগরার মাঠে রাত বিরেতে হায়না বনশুয়োর বেরাতো।মাঝরাতে সেবার শুকুন কাঁদার ফলে গাঁয়ে আগুন লেগে ছারখার।শিয়ালমারার গাবায় কত যে বনমোরগ ধরে পুড়িয়ে খেয়েছে সেসব মেঠোগল্পে মত্ত হয় দাদু।

তার মামার বাড়ি ছিল বাঘটিকুরি গাঁয়ে।লোকে বলে এখানেই ছিল কেঁদোবাঘের আস্তানা ।রাখাল-মুনিষের ঘাড় মটকেছে। আবার কত বিলেতিসাহেব বাঘ শিকার করতে এসে নিজেই বাঘের শিকার হয়েছে তার রোমাঞ্চকর গপ্পোকথা শোনায় নাতিকে।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার মানুষের লোভের ভয়ে হাওয়া

গপ্পো ছাড়া আর কী!পঞ্চাশ বছর আগেও যেখানে বন ছিল।এখন সেখানে খাঁখাঁ তেপান্তর।পুকুরের ধারে যে জঙ্গল ছিল পুরোপুরি সাফ করে ধান খেত। নামেই জঙ্গলেশ্বর শিব।শিবধামতো টালি বসিয়ে ঝাঁচকচকে দালান।ভুতুরে আমের বাগানগুলো কবে উধাও।নদির ধারে বাঁশবাগান ফি বছর বানের সময় গিলে নেয় নদি। আর বন যদি না থাকে তাহলে বনের সন্তান পশু পাখি জীব জন্তুরা কি টিকে থাকে? বাঘমামারা কবে পালিয়েছে মোকাম ছেড়ে।শকুন নেই।চড়াই বাবুইরা বিদেয় নিয়েছে মুঠিফোনের মুষ্ঠ্যাঘাতে বনগাওরা বিলুপ্ত। বাবুদের জাগ্রতা দুর্গাপুজোর বাঁচের দিনে যতই নীলকণ্ঠ পাখির জন্য যতই হা পিত্যেশ করুক -তাদের দেখা নেই।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার–নাগরিক বিধিলিপি

এই যদি গাঁয়ের অবস্থা তাহলে শহরের অবস্থা নিশ্চয় বুঝে গেছেন।পুকুর বুজিয়ে ফ্লাট।বন কেটে বসত।বিল ভরাট করে জমি। আর গাছ কেটে উন্নয়ন! এইতো নাগরিক বিধিলিপি।পশু পাখির স্থানতো চিড়িয়াখানায়। এত পরের ব্যাপার।বর্ধমানজেলার পাণ্ডুরাজারঢিবি বা মঙ্গলকোটের প্রত্নক্ষেত্র উৎখন থেকে থেকে মিলেছে পশুর হাড়গোর জীবজন্তুর দেহাবশেষ।পুরাতাত্ব্বিকদের মতে এই অঞ্চলে ছিল অবারিত বনভূমি।বুনোমোষ শূকর, চিতল আর শিং-অলা হরিণের অবাধ বিচরণভূমি। পুকুরে নদিতে মিলতো পর্যাপ্ত নানা প্রজাতির কচ্ছপ।

কালেভদ্রে দু একটা কচ্ছপ দেখা গেলেও মোষ বুনোশূকর বা হরিণ কবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।হরিণ শুধু টিকে আছে জৈনমূর্তিতে।মঙ্গলকোট থানার প্রাচীন গ্রাম বাবলাডিহি-শঙ্করপুর।রয়েছে ফুট চারেকের লম্বা পাল আমলের জৈনপ্রস্তরমূর্তি।দিগম্বর। কায়োৎসর্গ মুদ্রায় দণ্ডায়মান ।চারপাশে আরও চারজন তীর্থঙ্কর।এই পঞ্চতীর্থক শান্তিনাথকে শনাক্ত করা গেছে শুধু মাত্র পাদপীঠে হরিণের ম্মূর্তি খোদাই দেখে।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার–রাঢ়ের লোকসংস্কৃতিতে

বনশুয়োর বিলুপ্ত হলেও রাঢ় অঞ্চলের লোকসংস্কৃতিতে শূকর নিয়ে একটি অনুষ্ঠান বেশ কয়েকবছর আগেও দেখা যেত।গোয়ালা সম্প্রদায়ের অনেকে নন্দোৎসবের দিনে তাদের গোরুরপালের একটি বরাহনন্দনকে ছেড়ে দিয়ে গোরু মোষকে চকিয়ে দেওয়া হতো।এবার যার গোরু বা মোষ ওই বাচ্ছাটিকে মেরে ফেলতো সেই ব্যক্তি মৃতদেহটি তার গোয়ালে গর্ত করে পুঁতে দিত। ভয়ংকর প্রথাটি আজ আর দেখা যায় না।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার–মৃগপুরাণ

ভেড়া বা ছাগল আজও গ্রামের জীবনে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত।মঙ্গলকোটের প্রত্নক্ষেত্র থেকে প্রায় দু ইঞ্চি লম্বা একটি মাটির সিল পাওয়া গেছে।সিলে খোদিত মূর্তিটিকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করেন জৈন নৈগমেশের মূর্তি। এটি দেবী্মূর্তি।বাম হাত কটি সংলগ্ন,মনে হচ্ছে ঘট জাতীয় কিছু কোমরে ধরে রেখেছেন।ডান হাত প্রসারিত।কলসি বা ঘট থেকে কিছু বস্তু ছড়িয়ে দিচ্ছেন ভূমিতে।পা পর্যন্ত ঢাকা কাপড়।মুখটি ছাগল বা ভেড়ার।নিচে ব্রাহ্মী লিপিতে উৎকীর্ণ প জাতীয় অক্ষর।ভেঙে চুরে যাওয়ায় ঠিক মত পড়া যায় না। অনেকে মনে করেন জৈনধর্মাশ্রিত অবাঙালী বণিকরাই তাদের বাণিজ্যদ্রব্যে এই সিল ব্যবহার করতেন।অনেকেই আবার বলেছেন সীমন্তোন্নয়ন উৎসবে জড়িত মূর্তি। স্ত্রীর গর্ভ গ্রহণের ছয় থেক আট মাসের মধ্যে গর্ভ বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।এই কারণে গর্ভগ্রহণের পর ষষ্ঠ বা অষ্টম মাসে এই গর্ভবতী স্ত্রীর সীমন্ত বা সিঁথি তুলে দেওয়া হয়।এইসময় থেকে সহবাস নিষিদ্ধ করা হয়।এই সীমন্তোন্নয়নে নৈগমেষার বিশেষ পুজো করা হতো।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার-বাঘমামা

মেমারির নবম শ্রেণীর ছাত্রী দিগন্তিকা বসুকে মনে পড়ছে? সংবাদমাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিল তার বিশেষ আবিস্কারের জন্য।সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঠুরিয়া আর মধুসংগ্রহকারীরা অনেকে সময় বাঘের পাল্লা পড়ে বেঘোরে প্রাণ হারায়। বিশেষ চশমা আর একধরনের জুতো পড়লে বাঘ্রভয় দূর হবে।একসময় বাঘ উত্তর থেকে দক্ষিণে এমনকি বর্ধমান জেলার আনাচে কানাচে ওৎ পেতে থাকতো।পণ্ডিতেরা বলেন প্রায় বারো আনা লোকদেবীর উদ্ভব হয়েছে বনের হিংস্র পশু জীবজন্তুর হাত থেকে বাঁচতে।তাই বাঘের দেবতা দক্ষিণে দক্ষিণ রায় থেকে উত্তরে মহারাজ ঠাকুর সোনা রায় ভাণ্ডারি কত বাঘ্রদেবদেবী।আদিবাসী সমাজে আবার বাঘের দেবতার নাম সীমাসাড়ে বা গেঠসীম।

বাঘনাপাড়ায় বাঘ

বর্ধমানজেলায় অনেক স্থাননামে পুজো আচ্চায় বাঘের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কালনা থানার বাঘনাপাড়ায় রয়েছে রামচন্দ্র গোস্বামীর শ্রীপাট।শ্রীচৈতন্যপরিকর বংশীবদন গোস্বামির পৌত্র ছিলেন রামচন্দ্র গোস্বামি।বাঘনাপাড়ার কানাই বলাই বিগ্রহ বিখ্যাত। বাঘনাপাড়ার নামকরণ সম্পর্কে দুটি কিংবদন্তি প্রচলি্ত।দুটিতেই রয়েছে বাঘের গল্প।একটি কাহিনি অনুসারে শাপগ্রস্থ ব্যাঘ্রপাদ মুনি বাঘের রূপ ধরে এখানে তপস্যা করেন।শেষে শাপমুক্ত হয়ে সর্গে ফিরে যান।বাঘ্রপাদের স্মৃতি বিজড়তিত স্থান বলে এটি তীর্থক্ষেত্র।অপর একটি একটি মতানুসারে আদিতে বাঘনা পাড়া নিবির জঙ্গলে ঢাকা ছিল।বাঘেদের অবাধ বিচরণ ছিল।বৈষ্ণব সাধক বাঘেদের হরনাম শুনিয়ে তাদের মুক্তি দান করেন।দুটি কাহিনির মধ্যে অমিল থাকলেও মিল হলো স্থানটি প্রাচীনকাল থেকেই বাঘের অবাধ বিচরণ ছিল।

বিকিহাটের কানাই বলাই ঠাকুর প্রসঙ্গেও রয়েছে বাঘের স্মৃতি।বর্গিহাঙ্গামার পর বিকিহাট জনশূন্য হয়ে পড়ে।একসময় গভীর জঙ্গলে ঢেকে যায় বিকিহাটের কানাই বলাইয়ের মন্দির।সেবাইতরা বাঘের ভয়ে কানাই বলাইয়ের সঙ্গে মন্দিরে বাঘের ভোগ দিতো। বরাকরের কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে বাঘের ভয়ে দেবীর রাতের আরতি বন্ধ হয়ে যায়।আজোও তার ব্যতিক্রম নেই।

 বাঘরায়

বাঘের দেবদেবীর সন্ধান মিলেছে এরুয়ার গ্রামে।দেবতার নাম বাঘরাই।সেবাইত বাউরি সর্দাররা।গ্রামের পশ্চিম দিক এক পুকুরের পাড়ে বাঘরাইর আস্তনা।কোন মূর্তি নেই।কয়েকতা ঘোড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে রয়েছে.১লা মাঘ পুজো।পুজোয় লাগে ফলমূল মিস্টি আর একবোতল মদ।বাউরিরা পুজো করে।হাঁস মুরগি বলিদানের পর শুয়োর বলি করে বাঘের দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে হত।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার বাঘরায় চণ্ডী

বাঘ্রদেবী রয়েছেন কাটোয়ার বাঘডোনা গ্রান্মে ।দেবীর নাম বাঘরাই চণ্ডি।একসময় দেবির পাষাণমুর্তি ছিল।বাঘের পিঠে দেবী বসে আছেন।বিরল মূর্তিটী কয়েকবছুর আগে চুরি হয়ে গেছে।এই বাঘরাই চণ্ডী গ্রাম্যদেবী।বিয়ে থা শুভকর্মে দেবীর পুজো আগে হয়। বাঘ নিয়ে বর্ধমানের ইতিহাসের এক কাহিনির অনুষঙ্গ আছে।সুন্দরী মেহেরুন্নিসার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আলিকুলি খানের।একটা হিংস্র বাঘ বা শেরকে খালি হাতে হত্যা করে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন শের আফগান নামে।মেহেরকে পাওয়ার বাসনায় মত্ত হয়ে শের আফগানকে হত্যা করেছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গির।পির বাহারামের কবরের পাশে শায়িত আছেন সেই শের আফগান।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার–ভাল্লুক কাণ্ড!

প্রাচীন গোপভূমির রাজন্য স্মৃতিবিজড়িত জনপদ ভালকি।শাল-পিয়াল আর ইউক্যালিপ্টাসের জঙ্গল।ফি বছর জঙ্গল আর মাচানের টানে পর্যটকেরা ভালকিতে আসেন।ভাল্কির রাজবংশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাল্লুকপাদ বা ভল্লুপাদের কিংবদন্তি।।ইনি ছিলেন এক ঋষি।অবারিত অরণ্যে এক ভালুক মায়ের দ্বারা প্রপতিপালিত হয়েছিলেন।ভাল্কি স্থাননামটিও এসেছে ভালুক থেকে।

কথিত আছে এই সদ্গোপ বংশীয় রাজারা হাতি ঘোড়ার মতো ভালুক পুষতেন।হাতিশাল ঘোড়াশালার পাশে ভালুকশাল ও ছিল।এমনকি ভালুক মারা গেলে রাজারা অশৌচ পালন করতেন। বোঝাই যায় ভালুক এই বংশের টোটেম ছিল।বংশের উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন অমরাগড়ের মহেন্দ্র।কাটোয়া থেকে পঞ্চকোট পর্যন্ত তার রাজ্যের বিস্তার ছিল।তিনি বাহুবলে খাজুরডিহির উগ্রক্ষত্রিয় দাপুটে জমিদার জগৎসিং হের গৃহদেবী শিবাখ্যাকে হরণ করে নিয়ে যান অমরাগড়ে।যাইহোক ভালুক শুধু গোপভূমির ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে নয়;অগ্রদ্বীপের জঙ্গলেও দেখা যেত।এমন কথাই উল্লেখ করেছেন রেভাঃ জেমস লঙ তাঁর তি ব্যাঙ্ক অব দি ভাগীরথী নিবন্ধে।

বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার –মোষ আর কুমীর

কাটোয়ার উপকণ্ঠে অজয়নদের তীরে প্রাচীন গ্রাম বাঁদরা।স্থাননামটি এসেছে বন্দর থেকে।একসময় এখানেই ছিল কাটোয়ার বন্দর।অধিকাংশ গোপসম্প্রদায়ের বসবাস।গ্রামের অধীশ্বর কালুরায়।অনেকে বলেন স্থানটি একসময় জঙ্গলে ঢাকা ছিল।প্রচুর জংলী মোষ ছিল।ইনি টাঁড়বাড়র মতো মোষের দেবতা।অনেকেই আবার বলেন কুমীরের দেবতা।কাটোয়ার গঙ্গায় অজয়ে একসময় কুমীরের উপদ্রব ছিল।১লা মাঘ কালুরায়ের বাৎসরিক পুজো।ঐদিন মেলা বসে।প্রচুর পশুবলি পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ঠ।এই মেলায় স্থানীয় কুম্ভকারদের তৈরি মাটির পুতুল বিক্রি হয়।

 শকুন নাচ

শকুন বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী।মৃতপশুর মাংস খেয়ে এই শিকারী পাখি বেঁচে থাকে।সাধারণত মাঠের ধারে তালগাছে কিম্বা বটগাছে এরা বাসা বাঁধে।গ্রামে একটি নির্দিষ্ট স্থান আছে গো-ভাগার।এখানে মৃত পশু ফেলে দেওয়া হয়।কথায় আছে- ভাগাড়ে গরু পড়ে /শকুনির টনক নড়ে।বর্তমানে শকুন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী।এর অন্যতম কারণ গবাদি পশুর ব্যাথার চিকিৎসায় ডাইক্লোফেন নামক ওষুধটির ব্যবহারের জন্য।

আরও পড়ুন- মাছ ধরা মেছেল আর পুকুর পুরাণ

এর জন্য প্রায় ৩০ শতাংশ শকুন মারা যাচ্ছে।বর্তমানে এই অষুধটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শকুন শুধু শনিঠাকুরের বাহন নয়; গ্রাম্যজীবনে অমঙ্গলের প্রতীক।তবে শকুনকে নিয়ে শিব ও ধর্মরাজের গাজনে কালকেপাতা সন্যাসীরা ঐতিয্যবাহী শকুন নাচ প্রদর্শন করে।ঢাক ও কাঁসির বাজনার তালে তালে প্রতিটি চরিত্র শকুনের মত মৃতদেহ নিয়ে কাড়াকাড়ি করে জমিয়ে তোলে লোকনৃত্যটি।শকুনের মতো শকুন নাচও ক্রমশ বিলুপ্তির পথে।।

লোকদেবীর পুজো আর স্বরূপ জানতে ভিডিও তথ্যচিত্রগুলি দেখুন


Share your experience
  • 373
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    373
    Shares

Facebook Comments

Post Author: ড.স্বপনকুমার ঠাকুর

DR. SWAPAN KUMAR THAKUR
ড. স্বপনকুমার ঠাকুর। গবেষক লেখক ও ক্ষেত্রসমীক্ষক। কৌলালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

1 thought on “বিলুপ্ত প্রায় জন্তু জানোয়ার আজও টিকে আছে রাঢ়ের লোকসংস্কৃতিতে

Comments are closed.