কোচবিহারের বড়দেবী দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা শ্রাবণ শুক্লাষ্টমীতে

Share your experience
  • 722
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    722
    Shares

কোচবিহারের বড়দেবী দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় শ্রাবণ মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে।এই দিন হয় যূপচ্ছেদন ।কোচ রাজবংশের পাঁচ শতাধিক বছরের প্রাচীন দুর্গোৎসব।যা এই অঞ্চলে বড়দেবীর পূজা বলে খ্যাত ।লিখছেন–ময়ূখ ভৌমিক।

 

"<yoastmark

 

কোচবিহারের বড়দেবীদুর্গা–ময়না গাছ

কথিত আছে, কোচ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজ বিশ্ব সিংহ ছোটবেলায় খেলার ছলে জঙ্গলে একটি ময়না গাছ (এই অঞ্চলে প্রাপ্ত বিশেষ ধরনের কাঁটা যুক্ত গাছ ) এর শুকনো ডালকে দেবী দুর্গা রূপে আরাধনা করেন । এই সময় বিশ্ব সিংহ বা বিশুর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা শিষ্য সিংহ বা শিশু একটি বালক কে খেলার ছলে পাঁঠার মতো করে ধরেন ও বিশু একটি কুশ দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করতেই দেবীর অলৌকিক কৃপায় বালক টির মস্তক ছিন্ন হয়ে যায় । এই অভাবনীয় ঘটনায় সমস্ত খেলুড়েরা ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় । বিশু ওই মস্তকটি দেবীকে অর্পণ করেন ।

কোচবিহারের বড়দেবী লোককাহিনী

এদিকে অন্যান্য বালকরা লোকালয়ে এসে বলে বিশু ও শিশু জঙ্গলে বালক হত্যা করেছে । প্রসঙ্গত, বিশু ও শিশুর বাবা ছিলেন স্থানীয় ভূইঞা হারিয়া মন্ডল ও মায়েরা যথাক্রমে হীরা ও জিরা । হীরা ও জিরা ছোটবেলা থেকে মহাদেব ও পার্বতীর উপাসনা করতেন এবং মহাদেবের বরেই বিশু ও শিশুকে পুত্র রূপে লাভ করেন ।

বিশু ও শিশুর নর হত্যার খবর প্রচারিত হতেই স্থানীয় প্রশাসক তুর্কা কোতোয়াল তাঁদের ধরতে সৈন্য পাঠায় । বিশু ও শিশু তাঁদের আরেক ভাই মদন এর সাথে জঙ্গলে আত্মগোপন করেন । সেখানে বিশু স্বপ্ন দেখেন দেবী দুর্গা তাঁকে যুদ্ধে যেতে নির্দেশ দিছেন ও তার পূজায় প্রসন্ন হয়েছেন জানাচ্ছেন । ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁর পূজা করা ময়না গাছের শুকনো ডালে পাতা বেরিয়েছে । ওই জঙ্গলেই একটি চণ্ডী পাথর ও তিনি কুড়িয়ে পান, যা “পাট পার্বতী “নামে এখনো নিত্যপূজিত । কথিত আছে দেবী স্বশরীরে দেখা দিয়ে বিশুকে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র (ভবানী খঞ্জর )ও নিজের হাতের কঙ্কণ আশীর্বাদ স্বরূপ দেন ।

কোচবিহারের বড়দেবী যূপচ্ছেদন পুজো
কোচবিহারের বড়দেবী যূপচ্ছেদন পুজো

এরপরই বিশু যুদ্ধে তুর্কা কোতোয়ালকে পরাস্ত করেন ও বিশ্ব সিংহ নাম নিয়ে রাজ্য- আরোহণ করেন । সেই থেকে কোচ রাজবংশে ময়না কাঠকে দেবীর মূল কাঠামো রূপে পুজো করা হয় ।

 

আরও পড়ুন  মহামারী শুধু মারণ রোগ নয়,মল্লভূমের এক প্রাচীন লৌকিক দেবী

 

কোচবিহারের বড়দেবী–শ্রাবণ শুক্লাষ্টমীতে আনুষ্ঠানিক সূচনার

শ্রাবণ মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথি তে একটি ১০-১২ ফুট লম্বা ময়না ডালকে ছেদন করে বাজনা বাদ্যি সহ ডাঙ্গর আই (ডাঙ্গর =বড়, আই =রানী ) মন্দিরে আনা হয় । এরপর সেটিকে বিশেষ শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে স্নান করানো হয় । সাদা মার্কিন কাপড়ে পুরো ডালটিকে মোড়ানো হয় ও মাথায় দেবীর রুপার মুখোশ পরিয়ে ষোড়শ উপচারে পুজো করা হয় । পুজো শেষে পারমান্ন ভোগ ও জোড়া কবুতর বলি দেওয়া হয় । এরপর সন্ধ্যায় আবার বাজনা সহযোগে উক্ত ডাল (দেবীর প্রতীক ) টি পালকি করে রাজাদের কুলদেবতা মদনমোহন এর মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে কাঠামিয়া মন্দিরে (ঠাকুর দালান ) এক মাস এটি রাখা থাকে ও নিত্য পুজো হয় । এই একমাস ধরে প্রতি এক দিন অন্তর কবুতর বলি দেওয়া হয় । এখানে উল্লেখ্য, বড় দেবীর পূজার উপচারে রক্ত একটি প্রধান বস্তু । এমনকি নর রক্ত ও এই পূজায় আবশ্যক ।

"<yoastmark

 রাধাষ্টমী

একমাস বাদে, ভাদ্র মাসের শুক্লা অষ্টমী (রাধা অষ্টমী )তে আবার দেবীকে মহাস্নান করে ষোড়শ উপচারে পুজো করা হয় ।
এই দিন আবার বাজনা সহ শোভাযাত্রা করে এই গাছের ডাল রূপী দেবীকে পালকি করে বড়দেবীর মন্দিরে (দেবী বাড়ি) তে আনা হয় । সেখানে তিন দিন “হাওয়া খাওয়া “র পর এই ময়না ডালকে “শক্তি গোজ ” (মেরুদন্ড ) করে দেবীর মৃন্ময়ী প্রতিমা গড়া হয় ।

দেখুন বোলপুর সুরুলের জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজো

 


Share your experience
  • 722
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    722
    Shares

Facebook Comments

Post Author: ময়ুখ ভৌমিক

ময়ুখ ভৌমিক
ময়ূখ ভৌমিক।কোচবিহারে থাকেন।হোমিওপাথি চিকিৎসক।নেশা ক্ষেত্রগবেষণা।