বুড়ো বুড়ি পুজো উত্তরবঙ্গের গ্রাম গঞ্জে একদা বহুল প্রচলিত ছিল

Share your experience
  • 141
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    141
    Shares

উত্তরবঙ্গে বুড়ো বুড়ি পুজো
উত্তরবঙ্গে বুড়ো বুড়ি পুজো

বুড়ো বুড়ি পুজো উত্তরবঙ্গের গ্রাম গঞ্জে একদা বহুল প্রচলিত ছিল।আদিতে বুড়ো বুড়ি অপদেবতা ছিলেন।পরে শিশু রক্ষক দেবতায় পরিণত হন।লিখছেন–ময়ূখ ভৌমিক।

বুড়োবুড়ি পুজো উত্তরবঙ্গে

উত্তর বঙ্গের একদা বহুল পূজিত কিন্তু বর্তমান এ কিঞ্চিৎ কম পরিচিত যুগল দেবদেবী হলেন “বুড়া বুড়ি “। যদিও আদিতে এঁনারা অপদেবতা বা যক্ষ যক্ষী হিসেবে পূজিত হতেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারন আছে lসাধারণত গ্রাম বা পাড়ার এক প্রান্তে শেওড়া গাছের নিচে বা পাশাপাশি অবস্থিত দুটো মাটির ডিবিতে এনাদের পুজো হয়। তবে কোনো কোনো সময় মাটির মূর্তির ও দেখা মেলে । এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক হিসেবে দেওয়া হয় ।

 কারা এই বুড়ো বুড়ি?

বুড়া বুড়ির পূজা সাধারণত সন্তান এর মঙ্গল কামনায় করা হয় । এঁনারা শিশু রক্ষক দেব দেবী হিসেবে পরিচিত । তবে পুজো পদ্ধতি এবং বিভিন্ন জায়গায় পুজো প্রচলনের সূচনা কাহিনী গুলো লক্ষ করলে মনে হয় আদিতে শিশুর অনিষ্ট কারী অপশক্তি হিসাবে এনারা পরিচিত ছিল । পরবর্তী কালে এনারা শিশু রক্ষাকারী দেবতায় উন্নিত হন ।

বুড়ো বুড়ি পুজো  -উপকরণ

পুজোর কোনো নির্দিষ্ট তিথি নেই । প্রতি বাংলা মাসের সংক্রান্তি তে দই, চিঁড়া, দুধ, কলা, খই, বিচা কলা ইত্যাদি দিয়ে এঁনাদের পুজো হয় । কোনো কোনো জায়গায় হাঁসের ডিম, ও জোড়া কবুতর (পায়রা )বলি হিসেবে দেওয়া হয় । তবে সেটা সব সময় নয়। কোনো বিশেষ মানসিক থাকলে বা পরিবারের নিয়ম অনুসারে পুজোর প্রচলন ।এই পুজোর মানসিক বন্ধ্যা, মৃতবৎসা, বা শিশুর কোনো রোগের উপশম এর কামনা নিয়ে করা হয় । অনেকে মেয়ের বিয়ের জন্যও করে থাকে ।

পুজোয় সাধারণত কোনো পুরোহিত প্রয়োজন হয় না । সধবা মহিলাদের মিলিত বা একক পৌরোহিত্যে ই পুজো সম্পন্ন হয় । মানসিক পূজা বা মূর্তি দিয়ে পূজা হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোহিতের দেখা মেলে । সেক্ষেত্রে শিব ও বনদুর্গা রূপে এনাদের পুজো হয় । কিন্তু তা খুবই ব্যতিক্রম ।

 নানা অলৌকিক ঘটনা

কোনো কোনো অঞ্চলে এই দেব দেবীর” পাট “(থান ) প্ৰতিষ্ঠা সম্মন্ধে নানা অলৌকিক ঘটনা র বিবরণ শোনা যায় । যেমন, কোথাও কোনো শ্যাওড়া গাছ কাটতে গিয়ে গাছের গায়ে কুঠারাঘাতে রক্ত পাত ও দেবীর স্বপ্নাদেশ এর কথা শোনা যায় । কোথাও আবার যে গাছ কাটতে গিয়েছিলো তার প্রবল জ্বর ও শেষে স্বপ্নে দেবীর পুজর নির্দেশ পেয়ে পুজো দিয়ে রোগমুক্তি র কথা শোনা যায় ।

গ্রামের কোনো বাড়ির সীমানার প্রান্তে অবস্থিত শ্যাওড়া গাছকে বেড়া দিয়ে ঘেরার চেষ্টা ও শেষে গৃহকর্তাকে দেবী কর্তৃক বংশনাশের ভয় দেখানো ও পরিণতিতে উক্ত স্থানে দেবীর পাট প্ৰতিষ্ঠা, ইত্যাদি ।তবে এই ব্যাপারে লেখকের ঠাকুমার মুখে ছোট বেলায় শোনা একটি একটি কাহিনী খুব অভিনব বলে এখানে বিবৃত করা হলো । কোনো সময় একটি নব্য যুবক অধিক রাত্রে যাত্রা শুনে বাড়ি ফিরছিলো । সেকালের কোচবিহার, রাত নটার মধ্যে নিশুতি হয়ে যেতl পাড়ার মোড়ে একটা বিশাল ঝাঁকড়া শ্যাওড়া গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ দেখে, পথের বাঁকে দুজন বৃদ্ধ বৃদ্ধা লাল পাড় ধুতি শাড়ি পরে বসে আছে ।

 বুড়ো বুড়ি পুজো-   লোককাহিনী

এতো রাতে এই জঙ্গলে দুজন অপিচিত বয়স্ক মানুষ দেখে যুবকের কৌতূহল হয় ।হাতের লন্ঠনটি উঁচু করে জোর গলায় বার বার ডেকেও সারা না পাওয়ায়, বৃদ্ধ কে হাত দিয়ে স্পর্শ করতেই হঠাৎ তাঁরা অদৃশ্য হয়ে যায় । ভীত যুবক কোনো রকমে বাড়িতে ফিরে প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয় l কিছুতেই সেই জ্বর ভালো হয় না । শেষে যুবকের অভিভাবকরা স্বপ্নে দেখেন বুড়া ঠাকুর বুড়ি ঠাকরুন বলছেন, আমাদের হাওয়া খাওয়ার সময় স্পর্শ করে তোর ছেলে মহা অপরাধ করেছে, শিগগির পুজো দে । তাহলেই ছেলে ভালো হবে । তারপর থেকে উক্ত স্থানে বুড়া বুড়ির পাট স্থাপন ও পুজো শুরু হয় ।

উত্তরবঙ্গে বুড়ো বুড়ি পুজো

আরও পড়ুন- –ভাদ্রমাসের নষ্টচন্দ্র -পুরাণ লোক-আলেখ্য আর ঐতিহ্যে

প্রসঙ্গত, পূর্ব বঙ্গের পূর্ব ও উত্তরের জেলা গুলিতে কোনো কোনো পরিবারে বুড়ি ঠাকরুন বা বুড়ি মা বলে এক বনদেবীর পুজো হয় । ইনিও সন্তান দাত্রী রূপে কল্পিত। পুজোর উপকরণ ও পদ্ধতিতে বুড়া বুড়ি পূজার সাথে সাদৃশ্য দেখা যায় ।

লোক দেবদেবী অপদেবী নিয়ে কৌলালের একগুচ্ছ ভিডিও তথ্যচিত্র দেখুন-


Share your experience
  • 141
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    141
    Shares

Facebook Comments

Post Author: ময়ুখ ভৌমিক

ময়ুখ ভৌমিক
ময়ূখ ভৌমিক।কোচবিহারে থাকেন।হোমিওপাথি চিকিৎসক।নেশা ক্ষেত্রগবেষণা।