পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে আমরা কার্ত্তিককে প্রধানতঃ দু’ভাবে দেখতে পাই –

ক) দুর্গা প্যানেলে দুর্গা এবং লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশের সাথে।

খ) একা।

এছাড়াও বিরল ক্ষেত্রে আমরা কার্ত্তিককে দুর্গার সঙ্গে এবং শিব-পার্বতীর সঙ্গেও দেখি–লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

শ্রীধাম শান্তিপুরের ভাঙারাস

শান্তিপুরের রাস তিন দিনের।প্রথম দুই দিন গোস্বামীরা তাঁদের আরাধ্য শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তিকে নিজেদের গৃহ অঙ্গনের রাসমঞ্চে সুসজ্জিত করে খোল করতাল সহযোগে কৃষ্ণ  নামসংকীর্তনে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে।তারপর তৃতীয় দিন সেই আরাধ্য মূর্তি মোমবাতির আলোর রোসনায় সুসজ্জিত হাওদার বেহারারা কাঁধে তুলে নিয়ে বিভিন্ন রকমের সঙ্,ময়ূরপঙ্খী, রামায়ণ,মহাভারত,পুরাণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নগর পরিভ্রমণে বের হয়।তৃতীয়দিনের এই নগর পরিক্রমণার মধ্যে দিয়ে রাসযাত্রা ভেঙে যায়,সেই ভেঙে যাওয়া(সমাপ্তি ) রাসই হলো শান্তিপুরের বিখ্যাত ভাঙ্গারাস। লিখছেন–রাহুল হালদার

শান্তিপুরের রাসে রাইরাজা কেন?

শান্তিপুরে ৩৭ টি বিগ্রহবাড়ি আছে তার মধ্যে ১৭ টি বিগ্রহবাড়ি ও ৭০ এর অধিক ক্লাবকে নিয়ে শান্তিপুরের ভাঙারাস অনুষ্ঠিত হয়। চারদিনের রাসোৎসবের শেষ উৎসব কুঞ্জভগ্ন। এইদিন নগর পরিক্রমাকারী বিগ্রহ যুগলকে হাজারো ভক্তের সমাবেশে ঢাক, ঢোল, কাঁশি, কীর্তন সহযোগে কোলে তুলে নাচানো হয়…লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী।

মহাবীর কোলিয়ারীর বিপর্যয় ও দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে কলিয়ারীর শ্যাফট যখন ১২ মিটার জলের তলায়, ওপরের অফিস এবং নিচের খনি গর্ভের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম একটি মান্ধাতা আমলের টেলিফোন তখনও কাজ করছে। এই টেলিফোনেই নীচে আটকে পড়া একজনের কাছ থেকে দুটি খবর আসে।প্রথমটি অশুভ- ৬ জন শ্রমিক জলের তোড়ে কোথায় ভেসে গেছে, তাঁদের কোন খবর নেই। আর শুভ খবর হচ্ছে উনারা ৬৫ জন জলের তোড়ের মধ্যেও হাতড়ে হাতড়ে নারায়ণকুড়ি সিমের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় এসে জমা হয়েছেন।সবচেয়ে বড় কথা, উনারা কিন্তু ভয়ঙ্কর মরণ বাঁচনের মধ্যেও হিম্মত হারান নি। লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

কোচবিহারের মদনমোহনের রাসচক্র তৈরি করেন বংশ পরম্পরায় আলতাফ মিঞারা

কোচবিহারের রাসউৎসবের মূল আকর্ষণ রাসচক্র । কোচবিহারের বাসিন্দা আলতাফ মিঞা বংশপরম্পরায় এই রাসচক্র তৈরী করেন । লক্ষীপূর্ণিমার দিন থেকে আলতাফ মিঞা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একমাস ধরে নিরামিষ খেয়ে কাগজকেটে নানারকম সূক্ষ্মনকশা করে এবং তারসাথে থাকে দেবদেবীর রঙ্গিন ছবি দিয়ে রাসচক্র বানানো শুরু করেন এবং কোচবিহারবাসীরা রাসচক্র ঘুরিয়ে পুণ্য অনুভব করেন।…লিখছেন–আবির ঘোষ।

জাজিগ্রামের শ্রীনিবাস আচার্য ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার বিরল ব্যক্তিত্ব

মল্লরাজ বীরহাম্বীর ও রানী সুলক্ষণাকে দীক্ষাদান করলেন শ্রীনিবাস।এই প্রথম একজন বৈষ্ণব ধর্মপ্রাচরক রাজগুরুর সম্মান লাভ করলেন।শিখরভূমির রাজা হরিনারায়ণও দীক্ষা লাভের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন।কিন্তু তিনি রামভক্ত হওয়ার জন্য নিজে দিক্ষা দেন নি।তাঁর প্রভাবে  মল্লরাজ বীরহাম্বির ঘোরতর সাম্রাজ্যবাদী শাসক থেকে পরিণত হলেন বৈষ্ণব পদকর্তা চৈতন্যদাস। মল্লরাজধানী বনবিষ্ণুপুরে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে একের পর এক টেরাকোটা মন্দির।বন বিষ্ণুপুর হয়ে উঠলো দ্বিতীয় বৃন্দাবন।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে জগদ্ধাত্রী

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার প্রচুর উদাহরণ থাকলেও “দ্বিতীয় দুর্গা”জগদ্ধাত্রীর উপস্থিতি বিরল না হলেও খুবই কম বলা যায়। বর্তমান লেখকের অভিজ্ঞতায় কয়েকশো মন্দিরের টেরাকোটা, স্টাকো বা পাথরের অলঙ্করণে জগদ্ধাত্রীর উপস্থিতি হাতে গোনা মাত্র।টেরাকোটা মন্দির অলঙ্করণে জগদ্ধাত্রীর উপস্থিতি নিয়ে সচিত্র গবেষণাধর্মী মূল্যবান আলোচনা করেছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

বাংলার প্রথম বারোয়ারি পুজো গুপ্তিপাড়ার বিন্ধ্যবাসিনী পূজিত হয় জগদ্ধাত্রী পুজোর দিনে

গুপ্তিপাড়াকে প্রাচীন ইতিহাসের খনি বলা যেতে পারে । আধুনিক যুগের সূচনায় এই গুপ্তিপাড়ার  নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে লিখে গেছেন  এই জনপদের ১২ জন ব্রাহ্মণ । ১২ জন বন্ধু অর্থাৎ বারো ইয়ার। প্রথম বারোয়ারি পুজো গুপ্তিপাড়াতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।তবে সে পুজো দুর্গাপুজো নয়।বিন্ধ্যবাসিনী পুজো….লিখছেন–সুমন্ত বড়াল।

জগদ্ধাত্রীপুজো তিন দিনের না একদিনের?

এবছর ঘটেছে এক বিড়ম্বনা। বাংলায় প্রচলিত দুই পঞ্জিকা মতে এবছর পুজো পড়েছে দুদিন। কেউ বলে এদিন পুজো তো কেউ বলে ওদিন। এই নিয়ে জনগণ হয়রান। দৃকসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা, যা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা নামে পরিচিত, সেই অনুসারে শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রীপূজা হবার কথা আগামী ৫ই নভেম্বর, মঙ্গলবার এবং সূর্যসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা, যার পোশাকী নাম গুপ্তপ্রেস ডাইরেক্টরী পঞ্জিকা, সেইমতে ৬ই নভেম্বর, বুধবার। কেন এমনটা হল? জানাচ্ছেন–ঋত্বিক হাজরা

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৭ –কিরীট বা কিরীটকোণা

কিরীট বা কিরীটকোণার ইতিহাস খুবই প্রাচীন। গুপ্তযুগের আগে এখানে একটি বৌদ্ধ মঠ থাকার কথা জানা যায়। গুপ্তযুগে ব্রাহ্মণ্য প্রভাবে এখানে হিন্দু মন্দির স্থাপিত হয় বলে অনেকে মনে করেন। আগে এই মন্দিরটি ‘গুপ্তমঠ’ নামে পরিচিত ছিল এবং সভারামের পুত্র রঘুনাথ ১৬৮৭ শকে এখানে একটি ভৈরব মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন যা আসলে ধ্যানীবুদ্ধের মূর্তি।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়