বঙ্গে বর্গীহানা ও এক কালীপূজা

রাজা চিত্র সেন নাকি বর্ধমান ছেড়ে যাবার আগে, তাঁর প্রজাদের কানে দিয়ে গেছিলেন নতুন মন্ত্র। কি সেই মন্ত্র- একমনে মা কালীকে ডাকো, মায়ের স্মরণ নাও, মায়ের পুজো কর, দেখবে মা-ই সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। তখনকার গ্রামটি ছিল বর্তমান গ্রামটি থেকে ২ কিমি দূরে, নাম হচ্ছে চকরামবাটি। প্রজারা মায়ের নাম স্মরণ করে প্রস্তুতি নিচ্ছে কালী পুজোর। তারা জানতেও পারেনি, নবাব আলীবর্দী দুর্গাপুজোর সময় ১৭৪২ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর, গভীর রাতে কাটোয়ায় মারাঠা শিবির আক্রমণ করেন, প্রাণভয়ে বর্গীরা বর্ধমান ত্যাগ করে মেদিনীপুর পলায়ন করে। প্রজারা বিশ্বাস করে থাকেন মা কালীর কৃপা ছাড়া বর্গীদের এভাবে বর্ধমান ছাড়া করা যেত না।লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

কালিকাপুরের জরাজীর্ণ সাতমহলা: এখন প্রকৃতই ‘খণ্ডহর’

আয়ের একটা বিকল্প পথ খোলা আছে। অনেক ফিল্ম ইউনিট শুটিং করতে আসে এখানে। তা থেকে ভাড়া হিসাবে যা পাওয়া যায় সেটা খুব একটা খারাপ নয়। সেই অর্থে অনেকটাই ম্যানেজ করা যায়, জানালেন লাজপত বাবু। হ্যাঁ, মৃণাল সেনের খণ্ডহর, অপর্ণা সেনের গয়নার বাক্স, ঋতুপর্ণ ঘোষের নৌকাডুবি সহ বাংলা হিন্দি অনেক ছবির এবং সিরিয়ালের শুটিং হয়েছে এখানে। এখনও হয়।লিখছেন–তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়

     ফেলু কসাইয়ের মসজিদ

নবাবী আমলে  মুর্শিদাবাদ নগরীতে প্রায় ৭০০ মসজিদ ছিল।এই  জন্যই মুর্শিদাবাদকে বলা হত মসজিদ নগরী।শুধু নবাব,বেগম সহ বহু উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরাই নয়,এই নগরীতে  সাধারণ ব্যাবসায়ীর মসজিদ তৈরীর নিদর্শন ও রয়েছে।এমনই একটি মসজিদের নাম ফেলু কসাইয়ের মসজিদ বা উধড়িওয়ালা মসজিদ নামে পরিচিত।মসজিদটি মুর্শিদাবাদ শহরের নিজামত আস্তাবল ভবনের কিছুটা দূরে ঠিক উত্তর-পশ্চিম কোনে অবস্থিত। লিখছেন–ফারুক আব্দুল্লাহ

নানা রূপে লক্ষ্মী

লক্ষ্মী আদিতে লৌকিক দেবী ছিলেন। বিশিষ্ট গবেষক কল্যাণকুমার দাশগুপ্তর মতে তিনি ছিলেন আদিমাতা ও পৃথ্বীমাতার রূপভেদ।তিনি লিখেছেন—“আদিতে লক্ষ্মী লোকায়ত দেবী ছিলেন তার প্রতিধ্বনি মেলে জৈনসাহিত্যে তাঁকে গন্ধর্ব কিন্নর প্রমুখ ব্যন্তর দেবতা বা মধ্যবর্তী দেবতাদের শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করায়”…লিখছেন-স্বপনকুমার ঠাকুর

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৫ –কলকাতার কালীঘাট

“কলকাতার কালীঘাট” কথাটি শুনেই অধিকাংশ মানুষ ভ্রু কুঁচকাবেন। কালীঘাট তো কলকাতাতেই, এ তো একটা বাচ্চাও জানে। তাহলে আবার আলাদা করে বলার কী আছে? কিন্তু বিশ্বাস করুন, বলার আছে। আর একটি কালীঘাট বা কালীপীঠ এই পশ্চিমবঙ্গেই আছে। সেটি আছে নদীয়া জেলার জুরানপুরে। কলকাতার কালীঘাট যেমন আদিগঙ্গা অর্থাৎ গঙ্গানদীর পুরোনো ধারার পাশে, তেমনি জুরানপুরের কালীঘাট বা কালীপীঠের অবস্থানও গঙ্গা নদীর অধুনা পরিত্যক্ত পুরোনো খাতের পাশে,,,লিখছেন–আশিস কুমার চোট্টোপাধ্যায়

ঝামটপুরের কবি কৃষ্ণদাস কবিরাজ

বাংলাসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কয়েকটি বই’র নামের তালিকায় যে বইটির নাম নিঃসন্দেহে উঠে আসবে তা হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের লেখা শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ।বইটি পাঠকাব্য। কোন সন্দেহ নেই শ্রেষ্ঠ চৈতন্যচরিতকাব্য।গৌড়ীয় বৈষ্ণব-দর্শনের বাইবেল।এ বই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।তৈরি হয়েছে বইচুরি ও কবিরাজ গোস্বামীর অন্তিম জীবন নিয়ে নানা লোকশ্রুতি,মিথ।বাঙলাসাহিত্যের পাঠক মাত্রই সে কথা জানেন।আজ আমরা কবিরাজ গোস্বামীর জীবন ও ঝামটপুরের পাটবাড়ি নিয়ে দু চার কথা আপনাদের কাছে নিবেদন করবো—লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর ও শুভঙ্কর সিনহা

শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো

শোভাবাজার রাজবাড়িতে কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে হয় পূজার বোধন।সেইদিন থেকে ষষ্ঠী অবধি এই বাড়িতে চন্ডীপাঠের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। এটি হলো উত্তর কলকাতার অন্যতম এক বনেদি বাড়ির পুজো। নবকৃষ্ণ দেব ১৭৫৭ সালে এই পুজোর সূচনা করেন।ঠাকুরদালানে  উপচে পড়া আমোদের আয়োজন হতো, সেই বাড়ি পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে প্রাসাদনগরীর ‘ রাজবাড়ী ‘। আমোদিনী পুজোকে বলা হতো ‘ কোম্পানির পুজো ‘। কারণ ফিরিঙ্গিরা ছিল সেই বনেদি দূর্গোৎসবের অন্যতম মূল অংশ।লিখছেন–রিয়া দাস

বাঙালি উদ্যোগপতি  রামদুলালদের বাড়ির  দুর্গাপুজো

ছাতুবাবু ও লাটুবাবুর ঠাকুরদালানের প্রতিমার- একচালা ডাকের সাজ। দেবীর সঙ্গে ঘোটক মুখো সিংহ, এবং মায়ের দু পাশে থাকেন দুই সখী- জয়া ও বিজয়া। আরো উপস্থিত রাম এবং হনুমান সঙ্গে মহাদেব তো থাকবেনই।বেশিরভাগ সাবেকি বাড়িতেই ঘোটক মুখো সিংহের উপস্থিতি চোখে পড়বে…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

লেখক ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও গঙ্গাটিকুরির দুর্গাপূজা

এই বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপটির বেশ খ্যাতি আছে কারুকার্যময় বহিঃরঙ্গের জন্য। নির্মাণগতভাবে এই বাড়ির সঙ্গে  মিল আছে গুসকরার  চোঙদার বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপ ও অট্টালিকার,কারণ ইন্দ্রনাথ বাবুর পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানের সাথে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলে চোঙদার বাড়ির মেয়ের। কিন্তু গঙ্গাটিকুরির ‘ইন্দ্রালয়’ এর চণ্ডীমণ্ডপের কারুকলার সাথে চোঙদার বাড়ির মিল নেই। ইন্দ্রলয়ের চণ্ডীমণ্ডপ তৈরির সময় সেই কয়েক হাজার টাকা খরচা করে আগ্রার শিল্পীদের নিয়ে আসা হয় গোটা দেওয়ালকে সুন্দর রূপ দিতে। চুমকির সাথে পাথরের কাজ করা এই অংশটি এই এলাকার আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। সাবেকিয়ানার সাথে আধুনিকতা মিলেমিশে এই পূজাটি অনন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। এখানে শাক্তমতেই পূজা হয়…লিখছেন–সম্পর্ক মণ্ডল

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির সর্বমঙ্গলামাতা

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দুর্গাপুজো এ বছর ২৮৬ তম বর্ষ।  এই পরিবারের আদি রাজবাড়ি ছিল বর্ধমান জেলার পাটুলি নারায়ণপুরে।এখন সেই রাজবাড়ি গঙ্গা গহ্বরে মিলিয়ে গিয়েছে | এনাদের পাঁচটা জেলায় জমিদারি ছিল , বংশ পরম্পরায় ব্রাহ্মণদের খুব সম্মান করতেন ও প্রজাবৎসল ছিলেন। প্রতিদিন সকালে গরীব পরিবার ও ব্রাহ্মণদের জমি দান করতেন….লিখছেন–আশিস কুমার ঘোষ