মঙ্গলকোটের পুরাকীর্তি

প্রত্নতীর্থ মঙ্গলকোট।দেবভূমি মঙ্গলকোট।হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-সুফি-ইসলাম-লোকায়ত  ধর্মের মিলনক্ষেত্র  উজানি মঙ্গলকোট।সেই সুদূর প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে  মৌর্য-শুঙ্গ-কুষাণ-গুপ্ত-পাল-সেনপর্ব থেকে মধ্যযুগ হয়ে একেবারে হাল আমলেও মঙ্গলকোট আছে  সেই মঙ্গলকোটেই।আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে ইতিকথার বাঁধন।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

নৈহাটি তাম্রশাসনে উল্লিখিত বাল্লহিট্টা বা বালুটিয়া গ্রাম

১৯১১ সালে বল্লাল সেনের যে নৈহাটি (নবহট্ট) তাম্রশাসন আবিষ্কার হয়েছিল তাতে গ্রামটি ‘বাল্লহিট্টা’ নামে অভিহিত আছে। এই ‘বাল্লহিট্টা’র অপভ্রংশ বর্তমান বালুটিয়া। গ্রামের উত্তর-পূর্ব কোণে বৈষ্ণব গ্রাম বিরাহিমপুর, ঝামটপুর। পশ্চিমে আর এক বৈষ্ণব গ্রাম জলসূতী। আরও পশ্চিমে সোনারুন্দি। পূর্বে ৬-৭ কিমি জুড়ে বিস্তৃত ফাঁকা মাঠ এবং তার পারে নৈহাটি-সীতাহাটি গ্রাম। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রস সাহিত্যিক ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভূমি গ্রাম গঙ্গাটিকুরী এবং দক্ষিণে খাঁড়ুলিয়া ও অম্বলগ্রাম। আর কুলুকুলু বয়ে চলেছে প্রাচীন ‘সিঙ্গোটিয়া’ নদী। বর্তমান নাম ঈশানী। স্থানীয়দের কাছে কাঁদর।লিখছেন–কৌশিক রায় চৌধুরী

বাংলার লোকরামায়ণঃরাবনকাটা লোকনৃত্য

মল্লরাজাদের সমসাময়িক প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই মুখানাচ মুলত বিষ্ণুপুরের অন্তজ সম্প্রদায়ের শ্রমজীবী লোকেরা বংশপরম্পরায় অংশগ্রহণ করে থাকেন।যাদের হাত ধরেই এই লোকনৃত্যশিল্প বেঁচে রয়েছে তারা হলেন সুকুমার অধিকারী, নারায়ণ বারিক, মিঠুন লোহার, রঞ্জিত গড়াই। এদেরকে বাদ্যযন্ত্র (টিকারা,নাকারা,কাঁসি,ঝাঝ)বাজিয়ে সঙ্গ দেন সনাতন ধাড়া, শ্যামাপদ পন্ডিত,মধু দাস, ও তারাপদ ধাড়া।তাদের সঙ্গে থাকেন দলের ম্যানেজার জয়দেব দও। সারাবছর  এই ধরনের শিল্পীরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত থাকেন, যেমন কেউ আইসক্রিম বিক্রি,রাজমিস্ত্রি কাজ,সব্জি বিক্রি আবার কেউ চুন বিক্রি করে এনারা নিজেদের সংসার চালান।লিখছেন–সুমনকুমার গায়েন

কাটোয়ার প্রথম মিশনারি রেভাঃ জন চেম্বারলিন

স্বপনকুমার ঠাকুর   রেভাঃ জন চেম্বারলিন ড. কেরির মতোই এক অসামান্য প্রতিভাধর ব্যাপটিস্ট মিশনারি ছিলেন।শহর কাটোয়ার সাহেববাগানের ইতিহাস বিস্মৃত মিশনারি।কয় জন জানি তাঁর পরিচয়? গঞ্জ কাটোয়ায় তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ বর্ণময় জীবনের ইতিবৃত্ত? কাটোয়া মহকুমা-সহ বিভিন্ন জেলাজুড়ে খ্রিষ্টান ধর্মের প্রচারে ও প্রসারে তাঁর আপোষহীন সংগ্রামের কথা? চেম্বারলিনের  জন্ম ১৭৭৭ সালের ২৪ জুলাই।ইংল্যাণ্ডের ওয়েলটন শহরে।চাষার ঘরের ছেলে […]

তন্দুরি চা

সাধারণ দুধ-চিনি দিয়ে তৈরী ব্ল্যাক-টি কে তন্দুর ওভেনে প্রচণ্ড গরম করা (যাকে বলে Red hot) একটি মাটির ছোট ঘড়া বা বড় ঘড়া আকারের খুরিতে ঢেলে দিলে ঐ চা খুরির গরমে ফুটতে শুরু করে এবং তার ফলে ঐ চায়ে একটা মাটির গন্ধ চলে আসে, যা বড়ই সুন্দর। একটা পোড়া পোড়া ধোঁয়া, মাটি আর ক্ষীরের মিশ্রিত গন্ধ, যা নিজে না খেলে ঠিক বোঝানো যাবে না। ঐ চায়ের স্বাদও পরিবর্তিত হয়ে অন্য রকম হয়ে যায়।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

তেলেঙ্গানার বোনালু উৎসব

প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠীর দিনে এই পুজোর শুভারম্ভ হয়। যেহেতু এই পুজো শুরু করেছিলেন হায়দরাবাদ রেজিমেন্টের তেলেগু সৈনিকেরা, তাই তাঁরা পুজোর সুবিধার্থে আষাঢ় মাসের পর পর চারটি রবিবারে এই পুজো করতেন। বিগত ২০০ বছর ধরে সেই পুজো পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে। এখন মহাকালীর পুজোর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় তেলেগু মৃত্তিকা দেবীদের ও পুজো করা হয়।অর্থাৎ আষাঢ় মাসের মাতৃপুজো মানে সেই প্রাচীন ভারতীয় শস্য উৎপাদন ও প্রজনন কাল্ট, বলা চলে। এই মাতৃকা দেবীরা হচ্ছেন ইয়ালাম্মা, পোচম্মা, মাইসম্মা,পেডাম্মা, মারেম্মা ইত্যাদি নয়জন। এরা সবাই আসলে দুর্গা, বনদুর্গা, কালীর বিভিন্ন রূপ…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

 লর্ড আমহার্স্টের মুর্শিদাবাদ আগমনের খবর এবং নবাব হুমায়ুন জাঁ’র গোসসা

নবাব এজেন্টের চিঠি পড়ে খুব রেগে যান।এবং রাগের মাথায় তিনি দিল্লি থেকে আনা তার নামাঙ্কিত একটি পাঞ্জা, দুটি সোনার মোহর ভর্তি বাক্স এবং একটি সোনার গয়না ভর্তি কাঁচের বাক্স নদীর জলে ফেলে দেন।এবং বলতে থাকেন যে,তিনি গভর্নর জেনারেলের সাথে দেখা করতে কোন ভাবেই বাধ্য নন….লিখছেন–ফারুক আব্দুল্লাহ

অনাদৃত রত্ন ২৬: বালি-দেওয়ানগঞ্জের দুর্গা মন্দির

বালি-দেওয়ানগঞ্জের দ্বিশতাধিক বছরের পুরোনো এই দুর্গা মন্দিরটি গঠনগত দিক থেকে এক কথায় অনন্য বা ইউনিক। এটি একটি মিশ্র রীতির মন্দির। এই মন্দির দিকে তাকালেই বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়। এর গঠনটি অদ্ভুত – একটি জোড়বাংলা মন্দিরের ছাদে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট নবরত্ন মন্দির। এই বিচিত্র কম্বিনেশন আর কোথাও নেই।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়।

উজানি মঙ্গলকোটের ইতিকথা

” উজানি একটি পীঠস্থান। তথায় দেবী ভগবতীর কনুই পতিত হইয়াছিল। দেবী মঙ্গলচন্ডী এবং ভৈরব কপিলাম্বরের অবস্থানের জন্য উজানি বা মঙ্গলকোট হিন্দুমাত্রেরই তীর্থস্থান।…..মন্দিরপ্রাঙ্গনে প্রবেশ করিতে হইলে পশ্চিমপার্শ্ব দিয়া পূর্বমুখে প্রবেশ করিতে হয়। বর্তমান মন্দিরটি দক্ষিণদ্বার। দীর্ঘে ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি, প্রস্থে ২১ ফুট। মন্দির মধ্যে কাঠের সিংহাসনের উপরে পিত্তলময়ী দশভুজা মহিষমর্দিনী সিংহবাহিনী চন্ডিকা দেবী বিদ্যমান রহিয়াছেন । তাঁহার সিংহাসনের পুরোভাগে একটি প্রস্তরের বৃষ। বামে প্রস্তরের পলতোলা কৃষ্ণবর্ণ লিঙ্গমূর্তি, ইহারই নাম কপিলেশ্বর….লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

বাংলার বুননশিল্প : চাদোঁয়া

সাধারণ ভাবে বললে চাদোঁয়া পাতলা কাপড়ের তৈরি শিল্পিত ছাউনি।বাংলার হিন্দু পরিবারে পুজায় ব‍্যবহৃত হয়।অনুরূপভাবে মুসলীম ধর্মের নানা উৎসবেও শামিয়ানার ব‍্যবহার হতে দেখা যায়।শামিয়ানাকেই বাংলার লোকেরা চাঁদোয়া বলে…চাঁদোয়ার ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই

error: Content is protected. Thanks and Regards, Koulal.