পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৮ – কাঞ্চী বা কংকালীতলা

ধারাবাহিক অষ্টম পর্বে পড়ুন বীরভূমের কঙ্কালীতলার ইতিকথা।লিখছেন আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

অহল্যাভূমি দামনকেয়ারিঃমাটিরবাড়ি যেখানে শিল্প

মুখ্যত এখানকার মেয়েরাই তাঁদের নিজের নিজের ঘর বাড়িগুলিকে- বাড়ির দেওয়াল, উঠোন এমন কি গোয়াল ঘরের দেওয়ালেও কি সুনিপুণ দক্ষতায়, অপরূপ শিল্প কর্ম ফুটিয়ে তুলেছে, না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। এবং এসবই তাঁরা করেছেন স্রেফ মাটি, গোবর, তুষ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক রঙের মিশেলে…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

রুদ্রপ্রয়াগের কালীমঠে হয়েছিল শুম্ভ-নিশুম্ভ বা রক্তবীজ বধ

শাস্ত্রমতে কালী এই জায়গাতেই রক্তবীজ অসুরকে বধ করে মাটির নীচে অন্তর্ধান করেন। তিনি যে জায়গায় মাটির নীচে অন্তর্ধান করেন, ঠিক সেই জায়গাটিতেই শ্রীযন্ত্রটির অবস্থান। পরে শ্রীযন্ত্রটিকে ঘিরে কালীমন্দির ও অন্যান্য মন্দিরগুলি গড়ে ওঠে।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৬ –জয়ন্তী বা জয়ন্তিয়া

বড় মহাকাল গুহায় ঢোকার পথটি বেশ কঠিন। প্রথমতঃ, এবড়ো-খেবড়ো পাথরের সিঁড়ি আছে ঠিকই, কিন্তু গুহার ছাদ থেকে সব সময়ই ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ছে বলে ভীষণ পিছল। দ্বিতীয়তঃ, উপর থেকে স্ট্যালাকটাইট ঝুলছে বলে কখনও কখনও পথটি খুবই নীচু হয়ে গেছে, দাঁড়ানো যায় না। তৃতীয়তঃ, গুহায় ঢোকার রাস্তার শেষ অংশটুকু খুবই সংকীর্ণ এবং বাঁকা (অনেকটা ইংরেজী L শেপের), ফলে ঢোকা এবং বেরোনো কষ্টকর…লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

করবেটের বসন্তবনে

হঠাৎ একটা ফিসফিস আওয়াজ উঠল। পুরানজি আঙ্গুল দেখালেন দূরের নদীর চরে। দু’টো লাল বিন্দু আড়াল থেকে বার হয়ে বড় হচ্ছে। দুটো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সকালের রোদে চকচক করছে সোনার মত শরীর। আগুনের তাত তাতে।নদীর পাড়ে ঘাসবন দিয়ে এগুচ্ছে…লিখছেন–সুমন্ত ভট্টাচার্য্য

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৩ – ত্রিস্রোতার ভ্রামরী

পীঠস্থানের প্রচলিত তালিকা অনুযায়ী ১৬ নম্বর স্থানে আছে ত্রিস্রোতা, এবং সেই হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আসে এই পীঠস্থানটি। দেবীর বাঁ পা এখানে পড়েছিল। এখানে দেবী হলেন ভ্রামরী ও ভৈরব ঈশ্বর। পীঠনির্ণয় তন্ত্রে বলা হয়েছে “ত্রিস্রোতায়াং বামপাদে ভ্রামরী ভৈরবেশ্বরঃ”…লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ২ — উজানী পীঠ

তন্ত্রসাহিত্যে কোথাও কোথাও উজ্জয়িন্যাং এর পরিবর্তে উর্জয়িন্যাং বলেই বিতর্কের সূত্রপাত হল। উজ্জয়িন্যাং জায়গায় উর্জয়িন্যাং লেখার সঙ্গে সঙ্গে উজ্জয়িনীর বদলে উজানী নামটি সামনে চলে এল। উজানী হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কোগ্রাম।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

রামগঞ্জ তাম্রশাসনের ঈশ্বর ঘোষই কি ইছাই ঘোষ?

১৮৩৩ সালে বর্তমানের বাংলাদেশের দিনাজপুরের, রামগঞ্জ নামক গ্রামে  ঈশ্বর ঘোষের নামাঙ্কিত একটি অতি মূল্যবান তাম্রশাসন আবিষ্কার হলে, হৈ হৈ পরে যায়। এটিই বিখ্যাত ” রামগঞ্জ তাম্রশাসন ” । পাল যুগের সমসাময়িক এত বিখ্যাত ঐতিহাসিক দলিল আর দুটি নেই। অনেকের মতে ইছাই ঘোষ আর  তাম্রোশাসনোক্ত ঈশ্বর ঘোষ একই ব্যক্তি।লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

অম্বিকা কালনার মন্দির স্থাপত্য

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী  শ্রীচৈতন্যোত্তর বাংলায় প্রথম নবজাগরণের যুগরূপে পরিচিত। সেই সময় নবাগত ইসলামিক সংস্কৃতির প্রতিরোধে দিশেহারা হিন্দু সমাজের গোঁড়ামির থেকে মুক্তিলাভের পথের সন্ধান দিয়েছিল বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলন। সাহিত্যের মতো, চৈতন্যদেবের ভক্তি আন্দোলনের জোয়ারে বাংলার মন্দির স্থাপত্য সংস্কৃতি প্রভাবিত হয়।  বাংলার পোড়ামাটি স্থাপত্য শিল্পের ইতিহাস যদিও প্রাচীন। তবে এই যুগে, পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সুদক্ষ শিল্পীরা  মন্দিরগুলিকে উৎকর্ষতার চূড়ান্ত পরিণিতির দিকে নিয়ে যান। মন্দিরগাত্রে সংযোজিত হয় বৈষ্ণব পদাবলী ও পৌরাণিক কাহিনী আশ্রিত টেরাকোটা ফলক। গঠনশৈলী স্বতন্ত্র পরিচয় লাভ করে। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল এই মন্দিরচর্চার জের…লিখছেন–সৌম্য সেনগুপ্ত

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থানের সন্ধানে

পীঠ কথাটির সাধারণ ভাবে অর্থ হল আসন। সেই হিসাবে যে কোনও মন্দিরকেই দেবতার পীঠ বলা যেতে পারে। কিন্তু পীঠস্থান বলতে বিশেষ করে সেই জায়গাগুলিই বোঝায় যেখানে শাস্ত্র-বর্ণিত কাহিনী অনুসারে দক্ষযজ্ঞে পিতা দক্ষের মুখে পতি অর্থাৎ শিবের নিন্দা শুনে সতীর দেহত্যাগের পর শোকে ক্ষোভে উন্মত্ত শিবের সতীর মৃতদেহ নিয়ে পরিভ্রমণের সময় জগৎ রক্ষার্থে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে কর্তিত সতীর দেহখণ্ড পড়েছিল। অর্থাৎ পীঠস্থানের সঙ্গে সতীর দেহখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে। অনেক সময় সতীর দেহখণ্ড ছাড়াও সতীর অলঙ্কার যেখানে পড়েছিল, সেগুলিও পীঠস্থান হিসাবে মর্যাদা পায়।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়