শিল,শিলখোদাই : শিল কাটানোর গান

শিলে খোদাই করার কারন মশলা খুব ভালো ভাবে পেষণ করা যায়।নরুন বা ছেনির ও হাতুরির সাহায‍্যে শিলের উপরিতলে খুঁদে ছোট্ট ছোট্ট এক ধরনের রেখা মতো করা হয়,তাকে শিলাচিত্রনও বলা যায়।এই খোদাই করার সময় চ‍্যাপ্টা শিলে মূলত দুটি জায়গায় ভাগে ঘটে থাকে।কোথাও কোথাও তিনটি ভাগও দেখা যায়।একদম উপরিভাগে,মানে ত্রিকানাকৃতি বা অর্ধচন্দ্রাকৃতি জায়গাটি তে পদ্ম,অষ্টদল পদ্ম,মাছ,এক জোড়া ধানের শীষ,এক জোড়া পানপাতা ইত‍্যাদি মোটিফের ব‍্যবহার দেখা যায়।নীচের জায়গা গুলিতে আজিকাটা রেখা,উপরনীচ,সোজাসুজি রেখা,বর্গাকার খোপ তৈরি করা হয়। এ সমস্ত মোটিফ গুলির সঙ্গে আলপনার অদ্ভুত মিল দেখা যায়…লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই

অযোধ্যা পাহাড়ের সীতাকুণ্ড

সেই একই গল্প, কোথাও রাম, কোথাও বা লক্ষ্মণ। তির মেরে পাতালের জল তুলে আনছেন সীতার তৃষ্ণা মেটাবার জন্য। এই কাহিনীটি কি আদিম কৃষিজীবী সমাজের চাষের জন্য ভূগর্ভস্থ জল তোলার রূপক? কে জানে, পণ্ডিতরা বলতে পারবেন। কিন্তু একটা কথা পরিস্কার — সেই একই রাম ভারতবর্ষের সব প্রান্তে। রামময় ভারত বর্ষ।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

হারিয়ে যাওয়া পুতুল-ঝুলন,হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব

সোস্যাল মিডিয়া যেন একটি আজব রঙ্গপীঠ।ভালো, মন্দ জ্ঞান, লোভ,হিংসা, অপরাধ,মিম, নষ্ট্যালজিয়ার ভরা আজব দুনিয়া।মাঝেমধ্যেই ঘুরেফিরে আসা একটি মিমে দেখা যায় কিছু বছর আগেও বাচ্চারা খেলতে যাওয়ার পর মা হাজারও ডাকবার পর বাড়িতে না আসবার জন্য লাঠি হাতে নিয়ে কান ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে আসছে,আর বর্তমানে বিশেষ করে শহর,আধাশহর,মফঃস্বল এমনকি গ্রামবাংলাতেও বাচ্চারা ঘরে বসে মোবাইলে গেম খেলছে আর মা তাকে কান ধরে বাইরে খেলতে বার করে দিচ্ছে।্লিখছেন–রাহুল হালদার

ঝুলন ও শান্তিপুর

শান্তিপুরে একসময়ে চারধরনের ঝুলন হত..– বিগ্রহ বাড়িগুলোর রাধাকৃষ্ণের ঝুলন যা এখনও সমানতালে অনুষ্ঠিত হয় ।পুতুলঝুলন, এই ঝুলনটা এখন নেই বললেই চলে। শতাংশের হিসেবে ৯৭ ই ভাগই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একটা সময়ে এই পুতুল ঝুলনের এতই আনন্দ আর আবেগ ছিল যে তিন চারদিনের ঝুলনে বাচ্চারা পুতুল সাজাবে বলে ইসকুল ছুটি দিয়ে দিত।লিখছেন –অমিতাভ মিত্র

ঝুলনযাত্রায় শান্তিপুরের মাটির পুতুল

বর্তমান যুগে যখন অধিকাংশ মানুষ শহরকেন্দ্রিক  যন্ত্র সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে।মাটির পুতুলের জায়গায়  অধিকাংশ ছেলে-মেয়েদের ঘরে দখল নিয়েছে বার্বি ডল,ফ্রান্সি খেলনা। তখনও শান্তিপুরের মতন এমন কিছু মফস্বল অঞ্চলের  ছোট ছোট কচিকাচাদের হাতে আজও ঘোরে ফেরে মাছ বিক্রেতা পুতুল,চাষা-চাষীর পুতুলের মতন আরো কত রকমের পুতুল।ঝুলনে ওরা মেতে ওঠে পুতুল সাজানোর নেশায়। আর এদের হাত ধরেই আজও বেঁচে থাকে শান্তিপুরের চৌগাছা  অঞ্চলের মতন আরো কত অজানা জেয়গায়,অজানা পুতুল,অজানা মৃৎশিল্প ও শিল্পীরা।লিখছেন–সুমন গায়েন

বাংলাদেশের পুঠিয়া রাজবাড়ির পাঞ্চজন্য মন্দির

বাংলাদেশের  রাজশাহীতেও আছে এরকমই একটি পাঞ্চজন্য মন্দির । রাজশাহী এর উপকণ্ঠ পুঠিয়া রাজবাড়িতে । এই পুঠিয়া রাজবাড়ি নাটোরের রানির অধীনে ছিল অষ্টাদশ শতক এর দিকে , সেই সময়েই এই পাঞ্চজন্য মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল ।এই মন্দিরটি ১৮.৮২ মিটার উঁচু এবং এর প্রতি অংশের দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ১৪.৪৭ মিটার । প্রথম তলার প্রতি পাশে তিনটি করে প্রবেশ-দুয়ার আছে আর সেই দুয়ার এর সাথে আছে খিলান । লিখছেন–ইমরান হাসান

মেধসাশ্রম গড়চণ্ডীধাম তথা শ্যামরূপার লোক- ইতিহাস

শাল, শিরীষ, অর্জুন আরো কত নাম না জানা গাছগাছালিতে ঢাকা , লাল মোরামের চমৎকার এই পথ দিয়ে চলেছি গড় জঙ্গল।ঝাঁকে ঝাঁকে ফিঙে, বুলবুলি আর গাছের কোটরে উঁকি দিচ্ছে টিয়ার টুকটুকে সবুজ ছানা।কোনো কোনো জায়গায় ভর দুপুরেও সূর্যরশ্মির প্রবেশ নিষেধ।বেশ একটা রোমাঞ্চকর আলো আঁধারির পরিবেশে পৌঁছলাম মেধা মুনির পৌরাণিক কাহিনী আশ্রিত আশ্রমে…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

নৈহাটি তাম্রশাসনে উল্লিখিত বাল্লহিট্টা বা বালুটিয়া গ্রাম

১৯১১ সালে বল্লাল সেনের যে নৈহাটি (নবহট্ট) তাম্রশাসন আবিষ্কার হয়েছিল তাতে গ্রামটি ‘বাল্লহিট্টা’ নামে অভিহিত আছে। এই ‘বাল্লহিট্টা’র অপভ্রংশ বর্তমান বালুটিয়া। গ্রামের উত্তর-পূর্ব কোণে বৈষ্ণব গ্রাম বিরাহিমপুর, ঝামটপুর। পশ্চিমে আর এক বৈষ্ণব গ্রাম জলসূতী। আরও পশ্চিমে সোনারুন্দি। পূর্বে ৬-৭ কিমি জুড়ে বিস্তৃত ফাঁকা মাঠ এবং তার পারে নৈহাটি-সীতাহাটি গ্রাম। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রস সাহিত্যিক ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভূমি গ্রাম গঙ্গাটিকুরী এবং দক্ষিণে খাঁড়ুলিয়া ও অম্বলগ্রাম। আর কুলুকুলু বয়ে চলেছে প্রাচীন ‘সিঙ্গোটিয়া’ নদী। বর্তমান নাম ঈশানী। স্থানীয়দের কাছে কাঁদর।লিখছেন–কৌশিক রায় চৌধুরী

বাংলার লোকরামায়ণঃরাবনকাটা লোকনৃত্য

মল্লরাজাদের সমসাময়িক প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই মুখানাচ মুলত বিষ্ণুপুরের অন্তজ সম্প্রদায়ের শ্রমজীবী লোকেরা বংশপরম্পরায় অংশগ্রহণ করে থাকেন।যাদের হাত ধরেই এই লোকনৃত্যশিল্প বেঁচে রয়েছে তারা হলেন সুকুমার অধিকারী, নারায়ণ বারিক, মিঠুন লোহার, রঞ্জিত গড়াই। এদেরকে বাদ্যযন্ত্র (টিকারা,নাকারা,কাঁসি,ঝাঝ)বাজিয়ে সঙ্গ দেন সনাতন ধাড়া, শ্যামাপদ পন্ডিত,মধু দাস, ও তারাপদ ধাড়া।তাদের সঙ্গে থাকেন দলের ম্যানেজার জয়দেব দও। সারাবছর  এই ধরনের শিল্পীরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত থাকেন, যেমন কেউ আইসক্রিম বিক্রি,রাজমিস্ত্রি কাজ,সব্জি বিক্রি আবার কেউ চুন বিক্রি করে এনারা নিজেদের সংসার চালান।লিখছেন–সুমনকুমার গায়েন

তেলেঙ্গানার বোনালু উৎসব

প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠীর দিনে এই পুজোর শুভারম্ভ হয়। যেহেতু এই পুজো শুরু করেছিলেন হায়দরাবাদ রেজিমেন্টের তেলেগু সৈনিকেরা, তাই তাঁরা পুজোর সুবিধার্থে আষাঢ় মাসের পর পর চারটি রবিবারে এই পুজো করতেন। বিগত ২০০ বছর ধরে সেই পুজো পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে। এখন মহাকালীর পুজোর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় তেলেগু মৃত্তিকা দেবীদের ও পুজো করা হয়।অর্থাৎ আষাঢ় মাসের মাতৃপুজো মানে সেই প্রাচীন ভারতীয় শস্য উৎপাদন ও প্রজনন কাল্ট, বলা চলে। এই মাতৃকা দেবীরা হচ্ছেন ইয়ালাম্মা, পোচম্মা, মাইসম্মা,পেডাম্মা, মারেম্মা ইত্যাদি নয়জন। এরা সবাই আসলে দুর্গা, বনদুর্গা, কালীর বিভিন্ন রূপ…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

error: Content is protected. Thanks and Regards, Koulal.