কাটোয়ার কার্তিকপুজোর যে বৈশিষ্ট্যগুলি অন্য কোথাও দেখা যায় না!

কাটোয়া মানেই কার্তিকপুজো।কার্তিকলড়াই নামে বিখ্যাত।কিন্তু খুব কি প্রাচীন? গ্রিক রোমানদের কথিত কটদুপা যদি আধুনিক কাটোয়া শহর হয়,তাহলে অন্তত এই জনপদের বয়স দুহাজার বছরের কাছাকাছি।কিন্তু শহর কাটোয়ার কার্তিকপুজো হাল আমলের।তবে কাটোয়ার কার্তিকপুজোর এমন কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিচিত্র ও বিস্ময়কর…লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

রাঢ়ের কৃষিসংস্কৃতি মুট আনা

সম্পর্ক মন্ডলঃকার্তিক মাস মানেই বাংলার রূপবৈচিত্রে শীতের আহ্বান শোনা শুরু হয়ে যায়। তিথি, রীতি, ব্রত আর পার্বণের আবহে সারাটা কার্তিক মাস যেন মেতে থাকে। কাতিক মাস হল কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো বা রাস যাত্রার মতো বিভিন্ন উৎসব ও অলক্ষী ব্রত, ভূত চতুর্দশী ব্রত বা ভাতৃদ্বিতীয়া ব্রতের সমাহার। উত্তর রাঢ় বাংলায় কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে যেমন বেলপুকুর ব্রত, সন্ধ্যামণি […]

বিশ্বের বৃহত্তম কার্তিক পূজিত হয় মালয়েশিয়ার বাটুকেভে

গুহার সামনে দাঁড়িয়ে আছে , বিশ্বের বৃহত্তম কার্তিক বা মুরুগনের মূর্তি আর ২৭২ টি খাড়াই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে পৌঁছালে পাবেন অসংখ্য হিন্দু মন্দির যার মধ্যে প্রধান মন্দিরটি হচ্ছে দ্রাবিড়িয়ান আর্কিটেকচারে নির্মিত – কার্তিক স্বামী বা মুরুগনের মন্দির।এটি হচ্ছে সেলাঙ্গর, মালয়েশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত বাটু কেভ এবং সঙ্গের ছবিটি হচ্ছে কার্তিক বা মুরুগনের মূর্তি। মুরুগনের মূর্তিটির উচ্চতা ৪২.৭ মিটার বা ১৪০ ফুট….লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

পূর্বস্থলীতে দেড়শতাধিক কার্তিক পুজো হয়

কার্তিকপুজো উপলক্ষে কাটোয়া বাঁশবেড়িয়ার মতো পূর্বস্থলী অঞ্চলেও জমজমাট উৎসব হয়। দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা পূর্বস্থলীতে আসেন। গোটা অঞ্চলে প্রায় দেড়শটিরও বেশি বারোয়ারি পুজো হয়।ইতিমধ্যেই পূর্বস্থলীর কার্তিকপুজো নিয়ে একটি গাইড ম্যাপ প্রকাশ করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাশিবির সংগঠন। পূর্বস্থলীর থানাপাড়া, হাসপাতাল পাড়া, পলাশপুলি, পুরাতনবাজার পাড়া, চৌরঙ্গী পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় কার্তিক পুজো উপলক্ষে প্রচুর দেব দেবীর পুজো হয়।লিখছেন–রিয়া দাস।

দেড়শো বছর ধরে কার্তিক দেবসেনাপতি হিসেবে পূজিত হন রামগোপালপুরের দত্তবাড়িতে

পারিবারিক সমৃদ্ধি আছে এমন বনেদি বাড়িতে দুর্গাপুজোর চল ছিল। সমৃদ্ধি যথেষ্টই ছিল। কিন্তু দুর্গা নয়, ১৫০ বছরেরও আগে কার্তিক পুজো শুরু হয় রামগোপালপুরের দত্ত পরিবারে। গ্রামটি গলসি-১ ব্লকের অন্তর্গত। দু-নম্বর জাতীয় সড়কের পারাজ মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে শিল্লাঘাটগামী রাস্তা দিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে রামগোপালপুর। রামগোপালপুর বাজারের অনতিদূরেই দত্তপরিবারের ভদ্রাসন।লিখছেন–শ্যামসুন্দর বেরা

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে আমরা কার্ত্তিককে প্রধানতঃ দু’ভাবে দেখতে পাই –

ক) দুর্গা প্যানেলে দুর্গা এবং লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশের সাথে।

খ) একা।

এছাড়াও বিরল ক্ষেত্রে আমরা কার্ত্তিককে দুর্গার সঙ্গে এবং শিব-পার্বতীর সঙ্গেও দেখি–লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

বঙ্গের প্রাচীন উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম এই রাস উৎসব। কলকাতার দুর্গাপুজো যেমন বিখ্যাত, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো যেমন বিখ্যাত ঠিক তেমনই শান্তিপুরের রাস উৎসব বিখ্যাত। শুধুমাত্র শান্তিপুরই নয় ;কলকাতা সহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন মন্দিরে রাধাগোবিন্দের রাস উৎসব হয়।লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী

শ্রীধাম শান্তিপুরের ভাঙারাস

শান্তিপুরের রাস তিন দিনের।প্রথম দুই দিন গোস্বামীরা তাঁদের আরাধ্য শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তিকে নিজেদের গৃহ অঙ্গনের রাসমঞ্চে সুসজ্জিত করে খোল করতাল সহযোগে কৃষ্ণ  নামসংকীর্তনে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে।তারপর তৃতীয় দিন সেই আরাধ্য মূর্তি মোমবাতির আলোর রোসনায় সুসজ্জিত হাওদার বেহারারা কাঁধে তুলে নিয়ে বিভিন্ন রকমের সঙ্,ময়ূরপঙ্খী, রামায়ণ,মহাভারত,পুরাণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নগর পরিভ্রমণে বের হয়।তৃতীয়দিনের এই নগর পরিক্রমণার মধ্যে দিয়ে রাসযাত্রা ভেঙে যায়,সেই ভেঙে যাওয়া(সমাপ্তি ) রাসই হলো শান্তিপুরের বিখ্যাত ভাঙ্গারাস। লিখছেন–রাহুল হালদার

শান্তিপুরের রাসে রাইরাজা কেন?

শান্তিপুরে ৩৭ টি বিগ্রহবাড়ি আছে তার মধ্যে ১৭ টি বিগ্রহবাড়ি ও ৭০ এর অধিক ক্লাবকে নিয়ে শান্তিপুরের ভাঙারাস অনুষ্ঠিত হয়। চারদিনের রাসোৎসবের শেষ উৎসব কুঞ্জভগ্ন। এইদিন নগর পরিক্রমাকারী বিগ্রহ যুগলকে হাজারো ভক্তের সমাবেশে ঢাক, ঢোল, কাঁশি, কীর্তন সহযোগে কোলে তুলে নাচানো হয়…লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী।

কেতুগ্রামের নিরোলে ব্যতিক্রমী কৃষ্ণকালীর রাস উৎসব

রাধা যে কৃষ্ণের সাথে প্রেম করতে গেছেন সেটা জটিলা কুটিলা টের পায় এবং হাতে নাতে ধরবে বলে রাধার স্বামী আয়ানকে সঙ্গে করে বৃন্দাবনের মধুবনে নিয়ে যায়। আয়ান ছিল কালী ভক্ত। এদিকে অন্তর্যামী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেটা বুঝতে পেরে রাধার সামনে কালী মূর্তি ধারণ করে। একেই কৃষ্ণকালী বলে। এই মূর্তি দেখতে স্বর্গ থেকে সকল দেবতা নেমে এসেছিল সেদিন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অধিকারীদের রাস উৎসব হয়ে থাকে…লিখছেন–কৌশিক রায় চৌধুরী