বাংলার লোকরামায়ণঃময়দানব পূজিত ময়দাকালী 

এইদেবীর মাহাত্ম্য সম্পর্কে  গ্রামে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে । দেবীর প্রতীক  ময়দানব, অর্থাৎ মহী- রাবণ পাতালের ভদ্রকালী রূপে পূজিত হতেন। মন্দিরটি দক্ষিণামুখী  আটচালা বিশিষ্ট মধ্যমাকৃতি,  মন্দিরের অভ্যন্তরে চতুষ্কোণ বাঁধানো একটি বেদীর উপর দেবীর প্রতীক স্বরূপ সম্পূর্ণ  সিঁন্দুরালিপ্ত একটি শিলাকে দক্ষিণা কালীকার ধ্যানে পুজা হয়। এই শিলাখন্ডটি মন্দিরের আশপাশে থেকে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায়।  মন্দিরের কালীকে ব্রহ্মার বর প্রাপ্ত তথা লঙ্কেশ্বর ‘রাবণের’ শ্বশুর ময়দানবের পরমারাধ্যা দেবী ময়দানবেশ্বরী ও পাতালভেদী কালী নামে পরিচিত।লিখছেন–অভিষেক নস্কর

পুরুলিয়ার করম পুজো

করম পুজো হচ্ছে প্রকৃতির উপাসনা। তাই গাছ পালা, ফল-ফুল, পশু পাখি সবার মঙ্গল কামনা করা হয়। সেজন্য এই পুজোয় কোনরকম বলি প্রথা চালু নেই। আবার চন্দ্র, সূর্য থেকে শুরু করে সমস্ত রকম লৌকিক দেবদেবীরও বন্দনা  হয়  পুজোতে। বসুন্ধরা ফলে ফুলে ভরে উঠুক, গৃহ- পরিবেশ-সমাজে শান্তি থাকুক , পরিবার সুখে শান্তিতে কাটাক- সাধারণ মানুষের তো এইটুকুই প্রার্থনা । আবার ভাই বোনের মধ্যের পবিত্র সম্পর্ক নিয়ে গান গাওয়া এই পুজোর অন্যতম অঙ্গ। তাই পুজোর মন্ত্রের মধ্যেই মেয়েরা বলে-” আমার করম, ভায়ের ধরম।্লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

নিত‍্যানন্দপুরের ভট্টাচার্য পরিবারের প্রায় ৩০০ বছর প্রাচীন দুর্গাপুজো

এ বাড়ির আদি ভিটে ছিল ত্রিবেনীর বান্দাপাড়া অঞ্চলে।জায়গাটি অতীতে টোলবাড়ি নামে পরিচিত ছিল।এখানে সংস্কৃত শিক্ষার টোল ছিল।সেখান থেকে ভট্টাচার্য বংশ চলে আসেন নিত‍্যানন্দপুর গ্ৰামে। রামশঙ্কর আগমবাগীশ এই  মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন১১৫৫ সনে।মন্দিরটি প্রথম দিকে চারচালা রীতির ছিল।পরে দালান গড়ে ওঠে। ১১৫৫ সন থেকেই এই বংশে দুর্গাপুজোর প্রচলন শুরু হয়।লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই

বলাগড় ও জিরাটের সাবেকি দুর্গাপূজা

জিরাটের পাটুলির মঠবাড়ির পুজোর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হল এখানে সন্ধিপুজোর রীতি নেই।তবে সপ্তমী তিথির রাতে অর্ধরাত্র পুজো হয়।এই অর্ধরাত্র পুজোয় একসময় স্বেচ্ছা-নরবলি দেওয়া হত।কথিত আছে যে বলির ঠিক পূর্বমুহুর্তে তান্ত্রিকেরা স্বেচ্ছায় প্রস্তুত হয়ে বলিপ্রদত্ত হতে হাজির হত এবং পরদিন সকালে সেই দেহ খুঁজে পাওয়া যেত না।কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আইন করে বলিদান প্রথা বন্ধ করে দিলে তার বিকল্প হিসেবে পিটুলির বলিদান হয়।চালের গুঁড়ো জল দিয়ে মেখে  কুলোর মধ্যে পিটুলির নর তৈরি করা হয় এবং একেই বলি দেওয়া হয়,যা এখনও বিদ্যমান…লিখছেন–শুভজিৎ দত্ত

সুরেশ্বরী সরা’য় সুরেশ্বরী লক্ষ্মী

বাংলাদেশের মাদারীপুরের অন্তর্গত সুরেশ্বর জেলায় এই রীতির সরা গড়ে উঠেছে বলে এ সরার নাম বা রীতির নাম সুরেশ্বরী সরা।সরাটির অঙ্কন প্রণালী লম্বালম্বি বিন‍্যাসে (ভার্টিক‍্যালি) আঁকা হয়ে থাকে।এ সরার পাশ্বদৃশ‍্য বা ব‍্যাকগ্ৰাউন্ড দুটি ভাগে বিভক্ত উপরে দুর্গা ও তার পরিবার।দুর্গার পরিবারের পিছনে চালচিত্রের মত প‍্যানেল আঁকা হয়।দুর্গার মাথার উপর শিব অবস্থান করেন।নীচে  লক্ষ্মী।তিনটে ঘর হয় মাঝেরটিতে পেঁচা ও  লক্ষ্মীদেবী।পাশের ঘর দুটিতে জোড়া ময়ূর দেখা যায়।আবার কখনও জয়া ও বিজয়া নামে দেবীদের দেখা যায়।সুরেশ্বরী সরার শেষ প্রতিনিধি ছিলেন সুনীল পাল।দু’বছর হল তিনিও গত হয়েছেন। পেয়েছিলেন একাধিক সন্মান।থাকতেন সোদপুরের পানিহাটী অঞ্চলে…।লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই

মুর্শিদাবাদের বন্যেশ্বর শিবমন্দির

মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী থানার বন্যেশ্বর গ্রামের বন্যেশ্বর মন্দিরের শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মহাভারতের পাণ্ডবদের নাম শোনা যায়। বন্যেশ্বর গ্রামটি আজিমগঞ্জ – নলহাটি রেলপথের মোড়গ্রাম স্টেশন থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত।  এছাড়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বেলেপুকুর বাসস্টপ থেকে মোরাম রাস্তা ধরে গ্রামে পৌঁছানো যায়। বীরভূম জেলার সীমান্তবর্তী পুরাতন বাদশাহী সড়কের অদূরেই গ্রামটি অবস্থিত…লিখছেন–আশুতোষ মিস্ত্রী

মানভূমের করম পরব

সারা সপ্তাহ ধরে এইসব রীতি-নীতি মেনে চলার পর আসে শুক্লা-একাদশী করম পুজোর দিন।এইদিন মেয়েরা সকাল থেকেই উপবাস থেকে একসাথে জঙ্গলে গিয়ে ফুল তোলে,জাওয়া গীত গাইতে গাইতে সারাদিনব্যাপী চলে নাচ-গান।
সন্ধ্যাবেলায় গ্রামের লায়া (পুরোহিত) একজায়গায় করম ডাল পুঁতে করম ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে।তৈরি হয় পুজার বেদী।গ্রামের ব্রতকারী কুমারী মেয়েরা ‘করম ডালায়’ পুজোর অর্ঘ্য রূপে ঘি,গুড়,আতপচাল,মধু,ধুপ,একগাছি ধান আর কাঁকুড় ইত্যাদি নিয়ে সমবেত হয়ে পুজো করে করম ঠাকুরের।কামনা করে সোহাগী স্বামী পাওয়ার ও সন্তানবতী হওয়া…লিখছেন–শুভজিৎ দত্ত

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ১ – বহুলা

বহুলা তীর্থপূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাছে কেতুগ্রামে অবস্থিত।কেতুগ্রাম একটি ছোট শহর এবং কেতুগ্রাম ব্লকের হেড কোয়ার্টার্স। কাটোয়া থেকে কেতুগ্রামের দূরত্ব কমবেশি ১৫ কিলোমিটার। প্রাচীনকালে এই কেতুগ্রামের নাম ছিল বহুলা বা বেহুলা। বহুলায় তিনটি প্রামান্য তালিকা মতেই দেবীর বাম বাহু পড়েছিল।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

রামগঞ্জ তাম্রশাসনের ঈশ্বর ঘোষই কি ইছাই ঘোষ?

১৮৩৩ সালে বর্তমানের বাংলাদেশের দিনাজপুরের, রামগঞ্জ নামক গ্রামে  ঈশ্বর ঘোষের নামাঙ্কিত একটি অতি মূল্যবান তাম্রশাসন আবিষ্কার হলে, হৈ হৈ পরে যায়। এটিই বিখ্যাত ” রামগঞ্জ তাম্রশাসন ” । পাল যুগের সমসাময়িক এত বিখ্যাত ঐতিহাসিক দলিল আর দুটি নেই। অনেকের মতে ইছাই ঘোষ আর  তাম্রোশাসনোক্ত ঈশ্বর ঘোষ একই ব্যক্তি।লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

জনাই অঞ্চলের সাবেকি দুর্গাপুজো

শহর ও শহরতলির রোশনাইকে পিছনে ফেলে কয়েক পা সবুজ গাঁয়ের দিকে বাড়ালেই পাওয়া যায় সাবেকিয়ানার মোড়কে এক অন্য পুজোর গন্ধ ,যেখানে হয়তো সৌখিনতার অভাব আছে কিন্তু অভাব নেই পুজোর রীতি নীতি ও আন্তরিকতার।সেখানে ভিন্ন ভিন্ন বাড়ির পুজোর ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস ,নিয়ম ও আচার ;এরকমই কিছু সাবেকিয়ানার রঙে রঙীন পুজোর সন্ধান পাওয়া যায় হুগলী জেলার জনাই রোড স্টেশনের কাছে বাকসা ও জনাই গ্রামে ,যাদের মধ্যে অন্যতম হলো বাকসা সিংহ বাড়ি ও চৌধুরী বাড়ির পুজো…লিখছেন–শুভজিৎ দত্ত

error: Content is protected. Thanks and Regards, Koulal.