পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৮ – কাঞ্চী বা কংকালীতলা

ধারাবাহিক অষ্টম পর্বে পড়ুন বীরভূমের কঙ্কালীতলার ইতিকথা।লিখছেন আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

ব্ল্যাক ডোকরাশিল্প আজও টিকে আছে উড়িষ্যার বারাখামায়

ডোকরা শিল্প তৈরিতে যেমন শুধু পুরানো পিতল ব্যাবহার করা হয়, ব্ল্যাক ঢোকরা মূর্তি তৈরিতে কিন্তু পিতল ছাড়াও পুরানো কাঁসা ব্যবহৃত হয়। ব্ল্যাক ঢোকরা মূর্তি কখনও ফাঁপা  হয় না, সলিড ধাতুর তৈরি, তাই এর ওজন ও বেশি হয়।এগুলিকে হাতের ব্রাশ বা বাফিং মেশিন দ্বারা পালিশ করা হয়না। তাই এই মূর্তিগুলির রঙ কালো বা কালচে হয়ে।কন্ধমাল জেলার উপজাতিরা মুখ্যত কন্ধমাল হলেও এখানকার ঢোকরা শিল্পীরা কিন্তু ঘাসি উপজাতির।লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রীপুজো

১৭৭২ সালে রাজবাড়ির দেখাদেখি কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়ায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজারা জগদ্ধাত্রী পূজা শুরু করেন। বুড়িমার পূজা নামে পরিচিত এই পূজা শুরু হয়েছিল ঘটে ও পটে। প্রথম দিকে স্থানীয় গোয়ালারা দুধ বিক্রি করে এই পূজার আয়োজন করতেন। ১৭৯০ সাল নাগাদ গোবিন্দ ঘোষ ঘটপটের পরিবর্তে প্রতিমায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন। এখানকার প্রতিমার বৈশিষ্ট্য হল প্রায় সাড়ে সাতশো ভরি সোনায় গয়নায় দেবীপ্রতিমার অলংকারসজ্জা…লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী।

 জগদ্ধাত্রী কি আদি সিংহবাহিনী মূর্তি?

মহিষমর্দিনী বা মহিষাসুরমর্দিনী নয়;প্রাচীন সিংহবাহিনীর দেবীর সঙ্গেই আধুনিক জগদ্ধাত্রীর প্রভূত মিল রয়েছে।‘  জগদ্ধাত্রীকে মহিষমর্দিনী বা মহিষাসুরমর্দিনীর সংগে একাত্ম করার জন্যই পরবর্তীকালে  মহিষাসুরের সাদৃশ্যে করিন্দ্রাসুরের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে…লিখছেন–

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে জগদ্ধাত্রী

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার প্রচুর উদাহরণ থাকলেও “দ্বিতীয় দুর্গা”জগদ্ধাত্রীর উপস্থিতি বিরল না হলেও খুবই কম বলা যায়। বর্তমান লেখকের অভিজ্ঞতায় কয়েকশো মন্দিরের টেরাকোটা, স্টাকো বা পাথরের অলঙ্করণে জগদ্ধাত্রীর উপস্থিতি হাতে গোনা মাত্র।টেরাকোটা মন্দির অলঙ্করণে জগদ্ধাত্রীর উপস্থিতি নিয়ে সচিত্র গবেষণাধর্মী মূল্যবান আলোচনা করেছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

বাংলার প্রথম বারোয়ারি পুজো গুপ্তিপাড়ার বিন্ধ্যবাসিনী পূজিত হয় জগদ্ধাত্রী পুজোর দিনে

গুপ্তিপাড়াকে প্রাচীন ইতিহাসের খনি বলা যেতে পারে । আধুনিক যুগের সূচনায় এই গুপ্তিপাড়ার  নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে লিখে গেছেন  এই জনপদের ১২ জন ব্রাহ্মণ । ১২ জন বন্ধু অর্থাৎ বারো ইয়ার। প্রথম বারোয়ারি পুজো গুপ্তিপাড়াতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।তবে সে পুজো দুর্গাপুজো নয়।বিন্ধ্যবাসিনী পুজো….লিখছেন–সুমন্ত বড়াল।

জগদ্ধাত্রীপুজো তিন দিনের না একদিনের?

এবছর ঘটেছে এক বিড়ম্বনা। বাংলায় প্রচলিত দুই পঞ্জিকা মতে এবছর পুজো পড়েছে দুদিন। কেউ বলে এদিন পুজো তো কেউ বলে ওদিন। এই নিয়ে জনগণ হয়রান। দৃকসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা, যা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা নামে পরিচিত, সেই অনুসারে শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রীপূজা হবার কথা আগামী ৫ই নভেম্বর, মঙ্গলবার এবং সূর্যসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা, যার পোশাকী নাম গুপ্তপ্রেস ডাইরেক্টরী পঞ্জিকা, সেইমতে ৬ই নভেম্বর, বুধবার। কেন এমনটা হল? জানাচ্ছেন–ঋত্বিক হাজরা

অহল্যাভূমি দামনকেয়ারিঃমাটিরবাড়ি যেখানে শিল্প

মুখ্যত এখানকার মেয়েরাই তাঁদের নিজের নিজের ঘর বাড়িগুলিকে- বাড়ির দেওয়াল, উঠোন এমন কি গোয়াল ঘরের দেওয়ালেও কি সুনিপুণ দক্ষতায়, অপরূপ শিল্প কর্ম ফুটিয়ে তুলেছে, না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। এবং এসবই তাঁরা করেছেন স্রেফ মাটি, গোবর, তুষ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক রঙের মিশেলে…লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৭ –কিরীট বা কিরীটকোণা

কিরীট বা কিরীটকোণার ইতিহাস খুবই প্রাচীন। গুপ্তযুগের আগে এখানে একটি বৌদ্ধ মঠ থাকার কথা জানা যায়। গুপ্তযুগে ব্রাহ্মণ্য প্রভাবে এখানে হিন্দু মন্দির স্থাপিত হয় বলে অনেকে মনে করেন। আগে এই মন্দিরটি ‘গুপ্তমঠ’ নামে পরিচিত ছিল এবং সভারামের পুত্র রঘুনাথ ১৬৮৭ শকে এখানে একটি ভৈরব মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন যা আসলে ধ্যানীবুদ্ধের মূর্তি।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

ছটপুজোর ইতিকথা

ছট পূজা আসলে  সূর্য্য ও তার পত্নী ঊষার (ছটী মাঈ) প্রতি সমর্পিত হয়, যেখানে পৃথিবীতে জীবনের স্রোত বহাল রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও তাঁদের আশীর্বাদ কামনা করা হয়। ছটে কোনও মূর্তি পূজা করা হয় না।ছট বা ছঠ ষষ্ঠী নামের অপভ্রংশ। মূলত সূর্য ষষ্ঠী ব্রত হওয়ার দরুন একে ছট বলা হয়। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপাবলি পালনের পর এই চার দিনের ব্রত  অর্থাৎ কার্তিক শুক্লা চতুর্থী থেকে কার্তিক শুক্লা সপ্তমী পর্যন্ত। বিশেষকরে কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে এই ব্রত উদযাপিত হওয়ার কারণে এর নাম ছট রাখা হয়েছে।লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী