গাছতলায় জলসত্র

জলসত্র- বাংলার ঘরবাড়ি ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন

জলসত্র- বা গ্রাম্যভাষায় জলচ্ছত্র।সাময়িক পানশালা। বাংলার ঘরবাড়ি স্থাপত্যের এ হলো এক অনন্য নিদর্শন। সচিত্র লিখছেন–দীপঙ্কর পাড়ুই।

মনসাতলা-গোকুলনগর-

মনসা ধন্বন্তরী  ভীমরুল-মনসাসংস্কৃতির এক অনালোচিত দিক

মনসা ধন্বন্তরী  ভীমরুল।লেখাটির নামটিই কেমন অদ্ভুত, তাই না? কোথায় মা মনসা, কোথায় বৈদ্যরাজ ধন্বন্তরীদেব আর কোথায় ভীমরুল! তার উপর আমি যে সব বিষয় নিয়ে লিখি, তার মধ্যে এ রকম অদ্ভুত কম্বিনেশন পড়ে না। তাছাড়া বিশেষ কোনও রেফারেন্স বা ব্যাকআপও নেই। একটিমাত্র জায়গায় ধন্বন্তরীর ব্যাপারে পড়লাম ধন্বন্তরী বিশেষ ভাবে সাপে কাটা রুগীদের বাঁচিয়ে তুলতেন বলে মনসা রেগে গিয়ে একঝাঁক ভীমরুল দিয়ে দংশন করিয়ে ধন্বন্তরীকে শাসন করেন। তবে বিষয়টি আমি আগে জানতাম না বা কোথাও তেমন কিছু পড়ি নি। তবে ইন্টারনেট বিশাল সমুদ্র। তার মধ্যে কোথাও না কোথাও বিষয়টি নিশ্চয়ই আছে। আমি তাই লৌকিক কাহিনী হিসেবেই এই লেখাটি লিখলাম। সেই হিসেবে পড়লেই ভালো হয়।এই ভূমিকাটির পরে এবার চলুন মূল বিষয়টিতে যাই।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়।

অর্ধ কালীদুর্গার প্রতিমা

অর্ধ কালীদুর্গা রূপের বিচিত্র পুজো হয় সুভাষগ্রামের ঘোষবাড়িতে

অর্ধ কালীদুর্গা রূপের বিচিত্র পুজো হয় সুভাষগ্রামের ঘোষবাড়িতে। বনেদি বাড়ির এই দুর্গাপুজোয় একই মূর্তিতে অর্ধেক কালী ,অপরাংশ দুর্গা।এমন বিচিত্র রূপের দুর্গা আর পুজোর কথা লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী

মহাপ্রভু--গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবক্তা

গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম-নানা তত্ত্ব সমন্বয়ে ভক্তি দর্শনের কথা

গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম-নানা তত্ত্ব সমন্বয়ে ভক্তি দর্শনের কথা রয়েছে।গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তন করেন শ্রীচৈতন্যদেব (১৪৮৬-১৫৩৩)। অদ্বৈত আচার্য, শ্রীবাস পন্ডিত প্রমুখেরা বঙ্গে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তন করেন। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ত্রিবিধ ধারা লক্ষ করা যায়ঃ ১। ওড়িশার বৈষ্ণব মতের প্রভাব ২। দক্ষিণভারতের প্রভাব ৩। বৃন্দাবনের প্রভাব। চৈতন্য পরিকর রায় রামানন্দ, রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী ও ষড় গোস্বামী রচিত নানান গ্রন্থে গৌড়ীয় বৈষ্ণরধর্মের তত্ত্বগুলি স্থান লাভ করে।লিখছেন–ঝিলিক কর্মকার।

শান্তিপুরের চিত্রশিল্পী সুকুমার সেনের ছবি

শান্তিপুরের সুকুমার সেন এক ইতিহাস বিস্মৃত গুণী চিত্রশিল্পী

তখন ভারতীয় শিল্পকলার স্বর্ণযুগ।শিল্পের পুজারীদের হতে ধরে থাকা প্রদীপের আলোকছটায় ভারতীয় ঘরানার শিল্প তথা চিত্রকলার সামগ্রিক পরিমন্ডল তখন আলোকিত হতে শুরু করেছে।কিন্তু প্রত্যেকটি প্রজ্বলিত প্রদীপের নীচেই থাকে অন্ধকার।এমন ছায়া তলের মধ্যেই সেই সময় কিছুটা ব্রাত্য থেকেছেন একজন গুণী চিত্রশিল্পী। তিনি  শান্তিপুরের  সুকুমার সেন।ভারতীয় চিত্রকলার জগৎ এই নামটির সঙ্গে হয়ত সেই ভাবে ওতটা পরিচিতি লাভ করেনি। বলা চলে, অনেকটা নীরবে থেকেই সারাজীবন শিল্পের সাধনায় সুকুমার সেন নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।লিখছেন–সুমন কুমার গাইন

হরধনু ভঙ্গ, চারবাংলা, বড়নগর ১

হরধনু ভঙ্গ – রামায়ণে, উপকথায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে

হরধনু ভঙ্গ রামায়ণের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় ঘটনা। শিবের দেওয়া যে বিশাল ধনুকটি কারোর পক্ষেই জ্যা রোপণ করে তির ছোঁড়া দূরে থাক মাটি থেকে তোলাই সম্ভব ছিল না (নেপালের জনকপুরে প্রচলিত লৌকিক কাহিনী অনুসারে সাত বছর বয়সে সীতা অবলীলাক্রমে এক হাতে হরধনুটি তুলেছিলেন), শ্রীরাম অনায়াসে সেটি তুলে শুধু গুণই পড়ান নি, ধনুকটিকে ভেঙেও ফেলেছিলেন।লিখছেন-আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

অভয়া দুর্গা-শিবপুরের পালবাড়ির

অভয়া দুর্গা-বাংলার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য

দুর্গতিনাশিনী দুর্গা। তিনি কোথাও দশভূজা আবার কোথাও দ্বিভূজা। কখনও তিনি মহিষাসুরদলনী আবার কখনও তিনি অভয়দায়িনী। এই অভয়দুর্গার প্রচলনও বহুদিনের। অভয়া দুর্গা বাংলার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী

খেদাই ঠাকুরের মন্দির

চাকদহের খেদাই ঠাকুর সুপ্রাচীন এক বিচিত্র নাগদেবতা

চাকদহের খেদাই ঠাকুর সুপ্রাচীন এক বিচিত্র নাগদেবতা।বাংলার আনাচে কানাচে কত যে মণিমুক্তো লুকিয়ে আছে তাঁর প্রায় কিচ্ছুই আমরা জানি না। কিন্তু জানার যেমন কোন শেষ হয় না, শেখারও কোন বয়স হয়না। নিত্য নূতন জিনিস আমরা প্রতিদিন শিখছি এবং শিখে চলেছি। সেরকমই একটি অজানা এক লৌকিক দেবতার সন্ধান পেয়ে হাজির হলাম চাক্দহ স্টেশনে। শিয়ালদহ মেইন শাখার চাকদহ স্টেশনে নেমে ডাউন ২ নং প্ল্যাটফর্মের দিকে এসে এক শীতের সকালে হাজির হলাম। গন্তব্য খেদাইতলার খেদাই ঠাকুর।লিখছেন–শুভদীপ সিনহা

সিং হবাহিনী

এড়োয়ালি মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী- প্রতিষ্ঠাতা ঢেকার রাজবংশ

এড়োয়ালি ও মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী- প্রতিষ্ঠাতা ঢেকার রাজবংশ।মাজিয়ারাতে যে বিগ্রহ আছে সেটা ১৬৫৬ সালের বিগ্রহ এবং এড়োয়ালিতে যে বিগ্রহ আছে সেটি ১৭৪৫ সালের বিগ্রহ। অষ্টধাতুর নির্মিত দুই সিংহবাহিনীর বিগ্রহ আজ বঙ্গের ঐতিহ্যে অন্যতম। লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী।

গঙ্গাদিত্য মন্দির

গঙ্গাদিত্য পুজো-মুর্শিদাবাদের অমরকুণ্ড গ্রামে প্রাচীন সূর্যোপাসনা

গঙ্গাদিত্য পুজো-মুর্শিদাবাদের অমরকুণ্ড গ্রামে প্রাচীন সূর্যোপাসনার দৃষ্টান্ত। এক সহকর্মীর কাছে নবগ্রাম ব্লকের অন্তর্গত অমরকুন্ড বা অমৃতকুন্ড গ্রামে গঙ্গাদিত্য মন্দিরের কথা শুনেছিলাম। গঙ্গাদিত্য অর্থাৎ সূর্য মন্দির যেখানে পূজা হয় এরকম মন্দির বাঙলা তো বটেই ভারতেও বিরল। সেই মতই একদিন বেরিয়ে পড়া শীতের সকালে আমার সহকর্মী সন্তুকে নিয়ে। বহরমপুর রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ব্রীজ পার করে সোজা এগিয়ে চলে উপস্থিত হলাম রাধারঘাট মোড়ে। এখান থেকে বাঁদিকে একটি রাস্তা চলে গেছে কান্দীর দিকে। লিখছেন–শুভদীপ সিনহা।