জাজিগ্রামের শ্রীনিবাস আচার্য ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার বিরল ব্যক্তিত্ব

মল্লরাজ বীরহাম্বীর ও রানী সুলক্ষণাকে দীক্ষাদান করলেন শ্রীনিবাস।এই প্রথম একজন বৈষ্ণব ধর্মপ্রাচরক রাজগুরুর সম্মান লাভ করলেন।শিখরভূমির রাজা হরিনারায়ণও দীক্ষা লাভের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন।কিন্তু তিনি রামভক্ত হওয়ার জন্য নিজে দিক্ষা দেন নি।তাঁর প্রভাবে  মল্লরাজ বীরহাম্বির ঘোরতর সাম্রাজ্যবাদী শাসক থেকে পরিণত হলেন বৈষ্ণব পদকর্তা চৈতন্যদাস। মল্লরাজধানী বনবিষ্ণুপুরে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে একের পর এক টেরাকোটা মন্দির।বন বিষ্ণুপুর হয়ে উঠলো দ্বিতীয় বৃন্দাবন।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

ঝামটপুরের কবি কৃষ্ণদাস কবিরাজ

বাংলাসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কয়েকটি বই’র নামের তালিকায় যে বইটির নাম নিঃসন্দেহে উঠে আসবে তা হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের লেখা শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ।বইটি পাঠকাব্য। কোন সন্দেহ নেই শ্রেষ্ঠ চৈতন্যচরিতকাব্য।গৌড়ীয় বৈষ্ণব-দর্শনের বাইবেল।এ বই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।তৈরি হয়েছে বইচুরি ও কবিরাজ গোস্বামীর অন্তিম জীবন নিয়ে নানা লোকশ্রুতি,মিথ।বাঙলাসাহিত্যের পাঠক মাত্রই সে কথা জানেন।আজ আমরা কবিরাজ গোস্বামীর জীবন ও ঝামটপুরের পাটবাড়ি নিয়ে দু চার কথা আপনাদের কাছে নিবেদন করবো—লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর ও শুভঙ্কর সিনহা

ভদ্রাবতী উপাখ্যান পুজোয় ও গানে

ভাদুর রাত জাগরণ এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ।ত্রিশ দিন ধরে ভাদুকে পুজো করার পর কাল ভাদুকে বিদায়ের দিন।তাই পাড়ায় পাড়ায় চলে নিশি জাগরণ।ভাদুর উপাসক মেয়েদের কাছে ভাদু হয়ে ওঠে কখনও মা,কখনও মেয়ে আবার কখনও দেবী।তাই গানের মাধ্যমে তাদের আদরের ভাদুর কাছে নিবেদন করে তাদের সুখ-দুঃখ,অভাব-অভিযোগ।অবিচ্ছিন্ন ভাবে সারারাত ধরে চলতে থাকে ভাদু গানের ফোয়ারা।রাত কেটে হয় ভোর,ভোর থেকে সকাল এগিয়ে আসে ভাদুকে বিদায়ের মুহূর্ত…লিখছেন–শুভজিৎ দত্ত

মানভূমের মানসকন্যা ভাদু

ভাদু– মানভূমের মানসকন্যা। মা-মেয়ের মধুর সম্পর্কের অনাবিল ও সাবলীল প্রকাশ।এটা মানভূম,এখানে মেয়ের জন্য কন্যাশ্রী রূপশ্রী বা বেটি বাঁচাও প্রকল্প নিতে হয় না।আমাদের নিজস্ব লোক উৎসবগুলিই সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছে…লিখছনে–সুশান্তকুমার মাহাতো ও সুখেন পরামাণিক

বৈষ্ণবকবি আউলিয়া মনোহর দাস

ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে বর্ধমান  জেলার কাটোয়ার নিকট বাইগনকোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মনোহর দাস।শ্রীনিবাস আচার্য্যের শ্যালক রামচন্দ্র চক্রবর্তীর শিষ্য রামশরণ চট্টরাজ।মনোহর দাস এই রামশরণের নিকট মন্ত্রগ্রহণ করেন।” মোর ঠাকুরানীর শিষ্য মনোহর দাস।/আউলিয়া বলি তাকে সর্বত্র প্রকাশ।।” মনোহর দাস ও তার বন্ধু জ্ঞানদাস উভয়েই সর্বদা  একত্রে থাকিতেন এবং উভয়েই জাহ্নবীদেবীর মন্ত্রশিষ্য ছিলেন।মনোহর দাস আউলে গোঁসাই এর গুরু দত্ত নাম।লিখছেন–দেবপ্রিয় দে

কাজী নজরুলের চুরুলিয়ার বাল্য জীবন ও লেটোগান

এ খাঁটি মাটি থেকে উঠে এসেছে।…….তাঁর কবিতায় গ্রামের ছন্দ, মাটির গন্ধ পাই। দেশে যে নূতন ভাব জন্মেছে তাঁর সুর তা-ই। তাতে পালিশ বেশি নেই, আছে লাঙ্গলের গান, কৃষকের গান।মানুষের একাত্মসাধন। এ অতি অল্প লোকেই করেছে।নজরুলের জীবন ও কাব্য নিয়ে লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

রবীন্দ্রনাথের ছেলেভুলানো ছড়া ও কাটোয়া অঞ্চল

রবীন্দ্রনাথের সংগৃহীত ছড়ার বেশ কয়েকটির পাঠান্তর পেয়েছি।যেমন লোকসাহিত্যে ধৃত “উলুকেতু ধুলুকেতু নলের বাঁশি” ছড়ার দুটি পাঠ রবীন্দ্রনাথ তাঁর সংগ্রহে স্থান দিয়েছেন…লিখছেন –স্বপনকুমার ঠাকুর

প্রথম বঙ্গীয় সাহিত্যসম্মেলনে কাশিমবাজার রাজবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৭ই কার্তিক আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানানোর জন্য বহরমপুর কোর্ট ও কাশিমবাজার স্টেশনে আগে থেকেই প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক বালক উপস্থিত ছিল। বুকে ব্যাজ আঁটা স্বেচ্ছাসেবক বালকগণ নিজেরাই ট্রেন থেকে ঘাড়ে করে ব্যাগ পত্র নামিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ সকল সাহিত্য অনুরাগীগণদের নিয়ে কাশিমবাজার রাজবাড়ীতে নিয়ে আসেন । বেলা তখন ঠিক আটটা।লিখছেন–আশুতোষ মিস্ত্রী

প্রবাদ-প্রবচনে চন্দননগরের ইতিকথা

প্রবাদ, প্রবচন , বাগধারা হলো লোকসাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এইগুলি পর্যালোচনা করলে এক অঞ্চলের ইতিহাস, জনমনন খুব সহজে বোঝা যায়। হুগলী জেলার চন্দননগর দীর্ঘ সময় ধরে ফরাসিদের অধীনে থাকার পর ১৯৫৪ সালে স্বাধীনতা পায়। এই শহরকে অনেকে ফরাসডাঙাও বলে। এই শহরের কিছু প্রবাদ,প্রবচন ও বাগধারা বাংলার অনান্য অংশ থেকে একেবারে আলাদা । এই প্রবন্ধে সামান্য কিছু প্রবাদ এবং প্রবচনকে ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।লিখছেন – সুলগ্না চক্রবর্তী

গল্প হলেও সত্যি

এই সেই মদনমোহন! কালো অঙ্গ কেউ সাজিয়ে দিয়েছে ফুলের অলঙ্কারে। মুখে ছুঁয়ে রয়েছে বাঁশি। আর চোখে অদ্ভুত হাসি। বেলা পড়ে আসছে এদিকে। ফিরে যেতে হবে এবার অর্জুনকে। ফেরার জন্য ঘুরেও আবার গর্ভগৃহের দিকে মুখ ফেরাল অর্জুন।লিখছেন -সুমন্ত ভট্টাচার্য্য