আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য

সালটা তখন ১৯৫২ সাল ২১ ফেব্রুয়ারী বাংলা মাতৃভাষাকে ধর্ম ও রাষ্ট্রের উর্ধ্বে স্থান দিয়ে পূর্ব পাকিস্থানের রাজধানী ঢাকার রাজপথে ৪ জন যুবক রফিক, সালম, জব্বর ও বরকত আমাদের গর্বের ভাষা, প্রাণের টানে বাংলা ভাষার মান ও সম্মান বাঁচানোর জন্য যে আত্মত্যাগ ও শহীদ হয়েছিলেন তা সারা বিশ্বের বাঙালীর জাতির অন্তরের আবেগের সঙ্গে গেঁথে থাকিবে। এই ভাষা আন্দোলন অগ্নি থেকে আগ্নেয়গিরি রূপ ধারন করে…লিখছেন–অভিষেক নস্কর

রাঢ়ের কৃষিসংস্কৃতি মুট আনা

সম্পর্ক মন্ডলঃকার্তিক মাস মানেই বাংলার রূপবৈচিত্রে শীতের আহ্বান শোনা শুরু হয়ে যায়। তিথি, রীতি, ব্রত আর পার্বণের আবহে সারাটা কার্তিক মাস যেন মেতে থাকে। কাতিক মাস হল কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো বা রাস যাত্রার মতো বিভিন্ন উৎসব ও অলক্ষী ব্রত, ভূত চতুর্দশী ব্রত বা ভাতৃদ্বিতীয়া ব্রতের সমাহার। উত্তর রাঢ় বাংলায় কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে যেমন বেলপুকুর ব্রত, সন্ধ্যামণি […]

নবদ্বীপের রাসের কালী

বড়শ্যামা মাতার সারা বছর ঘটে পূজা হয়.. শুধুমাত্র রাস পূর্ণিমাতেই মূর্তি নির্মাণ করে পূজা হয়। বড়শ্যামা মাতা পূজায় জনসাধারণের থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া হয়না.. ” দি ট্রাস্টিস অব বড়শ্যামা মাতা” নামক ট্রাস্টি ফান্ড থেকেই বড়শ্যামা মাতার পূজার আয়োজন করা হয়.. নবদ্বীপে বড়শ্যামা মাতা যেমন আছেন তেমনই আছেন মেজো, সেজো ও ছোট শ্যামামাতা।লিখছেন–সপ্তক দাস।

ব্ল্যাক ডোকরাশিল্প আজও টিকে আছে উড়িষ্যার বারাখামায়

ডোকরা শিল্প তৈরিতে যেমন শুধু পুরানো পিতল ব্যাবহার করা হয়, ব্ল্যাক ঢোকরা মূর্তি তৈরিতে কিন্তু পিতল ছাড়াও পুরানো কাঁসা ব্যবহৃত হয়। ব্ল্যাক ঢোকরা মূর্তি কখনও ফাঁপা  হয় না, সলিড ধাতুর তৈরি, তাই এর ওজন ও বেশি হয়।এগুলিকে হাতের ব্রাশ বা বাফিং মেশিন দ্বারা পালিশ করা হয়না। তাই এই মূর্তিগুলির রঙ কালো বা কালচে হয়ে।কন্ধমাল জেলার উপজাতিরা মুখ্যত কন্ধমাল হলেও এখানকার ঢোকরা শিল্পীরা কিন্তু ঘাসি উপজাতির।লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

করবেটের বসন্তবনে

হঠাৎ একটা ফিসফিস আওয়াজ উঠল। পুরানজি আঙ্গুল দেখালেন দূরের নদীর চরে। দু’টো লাল বিন্দু আড়াল থেকে বার হয়ে বড় হচ্ছে। দুটো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সকালের রোদে চকচক করছে সোনার মত শরীর। আগুনের তাত তাতে।নদীর পাড়ে ঘাসবন দিয়ে এগুচ্ছে…লিখছেন–সুমন্ত ভট্টাচার্য্য

ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির বহুত্ববাদ হল ভারতের প্রজাতন্ত্রের শক্তি

১৯৪৭ সালের দেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথেই এই সুরের তাল কেটে যায়, পূর্বে প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার কংগ্রেস ভুলে যায় স্বাধীনতা লাভের তাড়াহুড়োতে এবং ভারতবর্ষের অঙ্গ থেকে পাকিস্থানকে আলাদা করে দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে অনেক নেতাও ভেবেছিল পাকিস্থান ভাগের সাথে সাথে এই ভারত বুঝি ভেঙে খণ্ড খণ্ড হয়ে যাবে!  কিন্তু ভারতের বহুত্ববাদে সচেতন কোটি কোটি মানুষ সেই ভাঙনকে বুক দিয়ে রুখেছে।লিখছেন–সম্পর্ক মণ্ডল

ধর্মরাজের রথ

সিংহাসন এ উপবিষ্ট বাবা স্বরূপনারায়ণ।সঙ্গী দুই পত্নী একজন কামিখ্যে ও অপরজন ধামাস কন্যা। সিংহাসন এর নীচে তাকালেই চোখে পড়বে অসংখ্য নানা ধরনের ঘোড়া। কোনটা পোড়া মাটির আবার কোনটা শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী। কচ্ছপের মুর্তি রূপী স্বরূপনারায়ণ।  পুরাণগাথা অনুযায়ী সারা বছর যারা ভগবান এর কাছে আসেন না স্বয়ং করুণাময় আসেন ভক্তবৃন্দের কাছে করুণা ধারার আশীষ নিয়ে দর্শন দিতে। ঠিক বাবা স্বরূপনারায়ণও আসেন ভক্তদের জন্য ভক্তদের কাছে এই বিশেষ দিনে…লিখছেন–ইন্দ্রানী সেন

নবকলেবরে জগন্নাথ ও রথযাত্রা

এবার জগন্নাথকে আনা হচ্ছে। নবকলেবরে ফার্স্ট পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স লর্ডের।জয় প্রভু। জনতা একদম পাগল হয়ে গেল। ‘জয় জগরনাথঅ’ গর্জনে আকাশ বাতাস ভরে গেল। একবার টেলিফটো লেন্সের মধ্য দিয়ে দেখছি, একবার ঘাড় ঘুরিয়ে টিভিতে দেখছি। জগন্নাথের দারুমূর্তি কাপড়ে মোড়া, যাতে চোট না লাগে। শুধু বিশাল পলকহীন চোখদুটো দেখা যাচ্ছে। দইতারি ও অন্যান্য পাণ্ডা পুরোহিতের দল ওঁকে বয়ে আনছে, মাথায় চামর দোলাচ্ছে আর বিশাল বিশাল চিত্রবিচিত্র হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করছে।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

দুর্যোধনের মন্দির

দুর্যোধনের মন্দির !একটু অবাক লাগছে না শুনে?মহাভারতের এই চিরনিন্দিত চরিত্রটি তো খলনায়ক হিসেবেই পরিচিত। তার আবার মন্দির ! এ আবার হয় নাকি?হয়। বিচিত্র এই ভারতবর্ষ — এর বিশাল বুকের কোনায় কোনায় কত কিছু যে হয় বা আছে, সে ব্যাপারে আমরা কতটুকুই বা জানি?এইরকম একটি জিনিস হল দুর্যোধনের মন্দির…লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

অম্বলগ্রামের সরস্বতী মন্দির

টোটো থেকে নেমে পড়লাম। একটু এগোতেই বাঁদিকে গাছের ফাঁক দিয়ে চোখে পড়লো একটা সাদা চূড়াওলা মন্দির। ঐটিই সরস্বতী মন্দির। রাস্তাটা সোজা গিয়ে একটা Y-করে দু’ভাগ হয়েছে। ডানদিকেরটি চলে গেছে গ্রামের ভিতর দিয়ে দূরের দিকে। বাঁদিকের পথটি দিয়ে গেলেই রাস্তার বাঁদিকে ঝকঝকে সাদা রং করা বেশ বড় মন্দিরটি। আমি সেইদিকে এগোলাম।লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়