কোচবিহারের মদনমোহন ঠাকুরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা

Share your experience
  • 344
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    344
    Shares

কোচবিহারের মদনমোহন রথযাত্রায়
কোচবিহারের মদনমোহন রথযাত্রায়

আবির ঘোষ- জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা নয়। রথের আরোহী কোচবিহারের ” কোচ ” রাজবংশের কুলদেবতা সোনার বংশীধারী মদনমোহন ঠাকুর । কোচবিহার জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্য মণ্ডিত উৎসবগুলি হয়ে আসছে, তার সিংহভাগই কোচবিহার রাজবাড়ির কুলদেবতা শ্রীশ্রী মদনমোহনকে কেন্দ্র করেই।

 কোচবিহারের মদনমোহন ঠাকুর
কোচবিহারের মদনমোহন ঠাকুর

কোচ রাজবংশের কুলদেবতা মদনমোহন

কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে মদনমোহন ঠাকুরবাড়ি তৈরি হয় কোচবিহার রাজবংশের ২০ তম মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বাহাদুরের উদ্যোগেই ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ; পুরোনো কোচবিহার রাজপ্রাসাদ থেকে রাজবংশের কুলদেবতা সোনার বংশীধারী শ্রীশ্রী মদনমোহন ঠাকুরকে এই নবনির্মিত মন্দিরেই স্থাপন করা হয় সেই সময়। মদনমোহন ঠাকুরবাড়ি সূত্রে জানা যায় যে , ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয় শ্রীশ্রী মদনমোহন ঠাকুরের এই রথযাত্রা।

  কোচবিহারের মদনমোহন ঠাকুরের অধিবাস

” কোচ ” রাজবংশের রীতি মেনে আজও রথযাত্রার আগের দিন হয় মদনমোহন ঠাকুরের অধিবাস। সুগন্ধী তেল মাখিয়ে চলে মদনমোহনের অঙ্গরাগ পর্ব। পরদিন থাকে শ্রীশ্রী মদনমোহনের মহাস্নান। রথযাত্রার দিন মূল মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে পশ্চিম দিকে কাঠামিয়া নামক অন্য একটি নাট মন্দিরে স্থানান্তরিত করা হয় শ্রী শ্রী মদনমোহন ঠাকুরকে । চলে রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ পুজোপাঠ ও যজ্ঞ। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দেই তৈরি হয়েছে মদনমোহন ঠাকুরের রথ। এই রথের ছ’টি চাকা, উচ্চতা ২২ ফুট। সামনে থাকে দু’টি রুপোর ঘোড়া। সারথিরা কাঠের। মন্দিরেই ফি বছর ৪০ কেজি পাট দিয়ে তৈরি হয় রথের রশি।

 কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির
কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির
কোচবিহারের মদনমোহন রথযাত্রায়
কোচবিহারের মদনমোহন রথযাত্রায়

কোচবিহারের মদনমোহনের রথযাত্রা

রথযাত্রার দিনে বিকেলে শ্রীশ্রী মদনমোহন ঠাকুরকে নানা স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিত করে রথে আরোহণ করানো হয়। কোচবিহার শহরের প্রবীণ বাসিন্দা ও রাজার অনুপস্থিতিতে ধর্মীয় কাজ করার প্রতিনিধি দুয়ারবক্সি পরিবারের প্রবীণ একজন সদস্য রথের রশি প্রথম স্পর্শ করেন ( সম্পর্কে এই পরিবার অসমের বিখ্যাত বৈষ্ণবধর্মের মহাপুরুষ শ্রীশ্রী শঙ্করদেবের বংশধর ) ।এরপর মদনমোহন ঠাকুরবাড়ি থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সুসজ্জিত মদনমোহন ঠাকুরকে নিয়ে গুঞ্জবাড়ি নামক জায়গায় মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রথ। ভক্তদের মধ্যে রথের দড়ি ধরার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

কোচবিহারের মদনমোহন ঠাকুরের রথের মেলা

ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন ঠাকুরের রথের মেলা দেখতে কোচবিহার জেলা তো বটেই সংলগ্ন আসাম থেকেও প্রচুর মানুষ এখানে ভিড় করে। মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির সামনে বৈরাগী দীঘির পাড় দিয়ে বসে রথের মেলা , তবে শহরের গুঞ্জবাড়ির ওখানে সাতদিন ঠাকুরের অবস্থানের জন্য সেই মেলাটি জমে ওঠে বেশি। আর রথের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হলো লটকা ফল ও চিনি কলা ।

আরও পড়ুন হেনরি মার্টিন প্যাগোডা শ্রীরামপুরের রাধাবল্লভ জীউর প্রাচীন মন্দির

মাসির বাড়িতে কোচবিহারের  মদনমোহন

মাসির বাড়িতে মদনমোহনকে সাত দিনের জন্য পেয়ে সেখানে হাজার হাজার ভক্তের ভিড় হয় । নিয়ম মতো এখানে তাঁর নিত্য পুজো চলে। তবে এখানে ভক্তদের দেওয়া ডাব আর দুধ দিয়েই মূলত স্নান সারেন মদনমোহন। মাসির বাড়িতে সাত দিন তাঁর ভোগ হয় খিচুড়ি , লাবড়া , মিষ্টান্ন , দই ও মিষ্টি দিয়ে । ভোগ নিবেদনের পর ভক্তদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়।
সাত দিন মাসির বাড়ি কাটিয়ে উল্টোরথে নিজ মন্দিরে ফিরে আসেন মদনমোহন ।

ছোট মদনমোহন

বড় মদনমোহন মাসির বাড়ি বেড়াতে গেলে মূল মন্দিরে গর্ভগৃহে পুজো পান ছোটো মদনমোহন ঠাকুর , বড় মদনমোহন ঠাকুর মূল মন্দিরে ফিরে এলে ছোটো মদনমোহন ঠাকুর শয়ন একাদশীতে ঘুমোতে যান সে আরেক লীলা ।

 

দেখুন–

 

ছবি লেখক


Share your experience
  • 344
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    344
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আবির ঘোষ

আবির ঘোষ
আবির ঘোষ।থাকেন কোচবিহারের জেলার সদর শহরে।নেতাজি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় M.A করছেন। ভালো লাগে কোচবিহারের ঐতিহ্য নিয়ে লেখালিখি করতে এবং কোচবিহারের স্থানীয় কিছু পত্র - পত্রিকায় লেখালিখি প্রকাশিত হয়েছে।