দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা : শাস্ত্রে ও পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে

Share your experience
  • 223
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    223
    Shares

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা-নলাটেশ্বরী-মন্দির
দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা-নলাটেশ্বরী-মন্দির

দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মা যন্ত্র ও যন্ত্রবিদ্যার দেবতা হিসাবেই পরিচিত। কখনও বলা হয়েছে তিনি স্বয়ম্ভূ। আবার কোথাও বলা হয়েছে তিনি অষ্টবসুর অস্টম বসু প্রভাসের ঔরসে বৃহস্পতির ভগ্নী যোগসিদ্ধার গর্ভে জন্মেছেন। তিনি বিশ্বের নির্মাতা, তাই তিনি বিশ্বকর্মা। লিখছেন– আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বকর্মা হলেন দেবশিল্পী। তাঁকে আমরা বিভিন্ন ধরণের ইঞ্জিনীয়ারিং কাজে দেখি। তিনি শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা, রাবণের রাজধানী লঙ্কা ও বানররাজ বালির রাজধানী কিষ্কিন্ধ্যানগরী এবং পাণ্ডবদের মায়া সভা নির্মাণ করেছিলেন। অর্থাৎ এখানে তিনি সিভিল ইঞ্জিনীয়ার ও আর্কিটেক্ট। আবার তিনি দেবতাদের জন্য বহু বিখ্যাত অস্ত্র নির্মাণ করেছিলেন। তার মধ্যে আছে সূর্য কিরণ থেকে ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র. দধিচী মুনির হাড় থেকে ইন্দ্রের বজ্র, শিব ও বিষ্ণুর ধনুক পিনাক ও শারঙ্গ এবং সমস্ত দৈব অস্ত্র। অর্থাৎ সেখানে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ার।

গোপীনাথ-দশঘরা দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা
গোপীনাথ-দশঘরা দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা না ইন্দ্র?

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা : রূপ

বিশ্বকর্মাকে চতুর্ভূজ বা দ্বিভূজ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার বাহন হাঁস, যদিও হাতিকেও তাঁর বাহন হিসেবে দেখানো হয়।

দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মা : পত্নী ও সন্তান

বিশ্বকর্মার পত্নীর নাম বিরোচনা। তাঁর কন্যা হলেন সংজ্ঞা, ছায়া, মায়া। ত্রিশিরা নামের অসুরকেও বিশ্বকর্মার সন্তান বলা হয়, যদিও বিভিন্ন পুরাণে ত্রিশিরাকে প্রহলাদের পুত্র ত্বস্তের পুত্র বলা হয়েছে।

রাধাবিনোদ-মন্দির-জয়দেব-কেঁদুলি. দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা
রাধাবিনোদ-মন্দির-জয়দেব-কেঁদুলি. দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা না ইন্দ্র?

দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মা : বৈদিক সাহিত্যে

ঋগবেদে “বিশ্বকর্মণ” নামটি দশম খণ্ডে পাঁচবার উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিশ্বকর্মণ বলতে বিশ্বের স্রষ্টা একজন সুপ্রীম দেবতাকেই মনে করা হত। তাঁর অজস্র মুখ, চোখ,হাত,পা এবং ডানা। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার ধারণাটি এই বিশ্বকর্মণ থেকেই এসেছে বলে মনে করা হয়। ঋগবেদে বিশ্বকর্মণকেই আদি বা পরম দেবতার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্ম (সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা নয়) এই বিশ্বকর্মণেরই রূপান্তর বলে মনে করা হয়।
যজুর্বেদে বিশ্বকর্মণকে “প্রজাপতি” এবং অথর্ববেদে “পশুপতি” বলা হয়েছে। শ্বেতাশ্বতর উপনিষদে এঁকে “রুদ্রশিব” বলা হয়েছে। শুক্ল যজুর্বেদে পঞ্চ ঋষির এক ঋষি হিসাবে “বিশ্বকর্মা” নামটি পাওয়া যায় (পঞ্চঋষির অন্য চারজন হলেন বশিষ্ঠ, জমদগ্নি, ভরদ্বাজ ও বিশ্বামিত্র)।

হদল-নারায়ণপুর. বিশ্বকর্মা
হদল-নারায়ণপুর. বিশ্বকর্মা না ইন্দ্র?

দেবশিল্পী    বিশ্বকর্মা : বেদ-পরবর্তী পৌরাণিক যুগে

এই সময় দু’জন বিশ্বকর্মার কথা বলা হয়। একজন হলেন অঙ্গিরস/অথর্ব গোত্রীয় ঋষি বিশ্বকর্মা, যিনি একজন বৈদিক ঋষি (ঋগবেদের কয়েকটি সূক্তের দ্রষ্টা) এবং অন্যজন হলেন অষ্টবসুর অষ্টম বসু প্রভাস ও বৃহস্পতির ভগ্নী যোগসিদ্ধার পুত্র। এই প্রভাস-পুত্র বিশ্বকর্মা স্থাপত্য-বেদ (চতুর্থ উপবেদ) বা বাস্তু শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ৬৪টি যন্ত্রকলার স্রষ্টা। ইনিই পরবর্তিকালে দেবশিল্পী হিসাবে পরিগণিত হন এবং ইনিই আমাদের পরিচিত বিশ্বকর্মা।

দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা পূজা : কবে

ভাদ্র মাসের শেষ দিন ভাদ্র সংক্রান্তি বা কন্যা সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মা পূজার বিধি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেণ্ডারে এই দিনটি ১৬-১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক এবং ত্রিপুরায় এই তারিখে বিশ্বকর্মা পূজা করা হয়। আমাদের প্রতিবেশি দেশ নেপালেও ঐ তারিখেই বিশ্বকর্মা পূজা করা হয়। আবার ভারতের কিছু কিছু রাজ্যে দিওয়ালির পরের দিন গোবর্ধন পূজার সঙ্গে বিশ্বকর্মা পূজা করার রীতি।

 শ্রীধর, সোনামুখি দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা
শ্রীধর, সোনামুখি দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা না ইন্দ্র ?

বিশ্বকর্মা পূজা : কোথায়

দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মা পূজা সাধাণতঃ কল-কারখানায় করা হলেও অনেকে বাড়িতেও করেন, বিশেষ করে গাড়ির গ্যারেজে। অনেক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও “শস্ত্র পজা” হিসাবে বিশ্বকর্মার আরাধনা করা হয়। বড় বড় কল-কারখানার প্রতিটি শপ-ফ্লোরে আলাদা আলাদা বিশ্বকর্মা পূজা করা হয়, এবং এই পূজা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা ও রেষারেষি চলে।।প্রধানতঃ ইঞ্জিনীয়ারিং কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনই বিশ্বকর্মা পূজা করলেও যাঁরাই কোনরকম যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন, তাঁরাই বিশ্বকর্মা পূজা করেন।

দেবশিল্পী    বিশ্বকর্মা : পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণ এক এনসাক্লোপিডিয়া বিশেষ। কী আছে সেখানে, তা বলার চেয়ে কী নেই তা সম্ভবতঃ বলা অনেক সহজ। পৌরাণিক কাহিনী থেকে শুরু করে রামায়ণ, মহাভারত, কৃষ্ণলীলা, সামাজিক চিত্র, জিওমেট্রিক ডিজাইন, পশুপাখি, গাছপালা, ফুল ইত্যাদি সব কিছুই হাজির পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে। এই অলঙ্করণের সিংহভাগই টেরাকোটা ফলকের কাজ হলেও অন্য মাধ্যম যেমন স্টাকো, পাথরের কাজ এবং ছবি বা ম্যুরালের কাজও আছে।

একটা বিস্ময়কর ব্যপার, বিশ্বকর্মা একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হলেও পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য মন্দিরের এই বিপুল অলঙ্করণের মধ্যে বিশ্বকর্মাকে খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। এর কারন কী বলা মুশকিল। তবে কি এই মন্দিরগুলি যখন তৈরী হয়েছিল (খৃষ্টীয় ১৬শ থেকে ১৯শ শতক) তখন বিশ্বকর্মা এখানে ততটা জনপ্রিয় বা পরিচত দেবতা ছিলেন না?

  দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মা : মন্দির অলঙ্করণে চেনার উপায়

বঙ্গদেশে বিশ্বকর্মার বাহন হাতি। তাই বিশ্বকর্মাকে চিনতে গেলে প্রথমে হস্তিবাহন দেবতাকে খুঁজতে হবে। কিন্তু হস্তিবাহন দেবতা তো দেবরাজ ইন্দ্রও। তাই হস্তিবাহন দেবতাটি ইন্দ্র না বিশ্বকর্মা, এই নিয়ে কনফিউশন হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এর একটি থিওরিটিকাল উত্তর হল ইন্দ্রের হাতিটি হল ঐরাবত, এবং ইন্দ্রের হাতে বজ্র থাকবে।

ইন্দ্র, শ্যামরায়

এখন শাস্ত্রানুসারে ঐরাবতের গায়ের রং সাদা (যা টেরাকোটা বা পাথরের কাজে দেখানো সম্ভব নয়) এবং ঐরাবতের পাঁচটি শুঁড় ও দশটি গজদন্ত (যা টেরাকোটা সহ সব মাধ্যমেই দেখানো সম্ভব)। কিন্তু আমার দেখা কোনও মন্দিরেই পাঁচটি শুঁড় ও দশটি গজদন্ত-ধারী হাতি চোখে পড়েনি। প্রায় আশিটি মন্দিরের (বিভিন্ন জেলার) অলঙ্করণ তন্ন তন্ন করে খুঁজে যে ক’টি হস্তিবাহন “দেবমূর্তি” পাওয়া গেছে, তার একটি লিস্ট দেওয়া হল। মনে রাখতে হবে যে দু’-আড়াই শো বছরের পুরোনো আংশিক ক্ষয়ে যাওয়া টেরাকোটায় হস্তিবাহন মূর্তিটি কোনও ধনী ব্যক্তি/যোদ্ধা না দেবতা বোঝা বেশ কঠিন এবং অনেক সময়ই অনুমানের উপর নির্ভর করতে হয়, তাই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে নীচের তালিকাটি দেওয়া হল।

দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মা : মন্দির অলঙ্করণে

১) বিষ্ণুপুরের শ্যামরায় মন্দির থেকে পাওয়া একটি আংশিক ক্ষয়ে যাওয়া টেরাকোটা ফলকে দেখা যাচ্ছে হাতির পিঠে হাওদার মধ্যে একজন বসে আছেন। যদিও হাওদা দেবতারা ব্যবহার করতেই পারেন, তবুও এই ফলকটি কোনও ধনী ব্যক্তির হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

২) মুর্শিদাবাদের বড়নগরের চারবাংলা মন্দির থেকে পাওয়া একটি স্টাকোর ফলকে হাতির পিঠে একহাতে অস্ত্রধারী এক পুরুষ মূর্তি দেখা যাচ্ছে। ইনি কি বজ্র হাতে ইন্দ্র্র, নাকি কোন যন্ত্র হাতে বিশ্বকর্মা?

৩) বীরভূমের সুরুলের একটি মন্দির থেকে পাওয়া একটি বিবর্ণ টেরাকোটা ফলকে হাতির পিঠে একজনকে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বসার ভঙ্গিমা এবং হাতির সাইজের অনুপাত দেখে মনে হচ্ছে ইনি দেবতা। কিন্তু হাতে কোনও আয়ূধ নেই বলে ইনি ইন্দ্র না বিশ্বকর্মা বলা মুস্কিল।

৪) বাঁকুড়ার সোনামুখির শ্রীধর মন্দিরের একটি টেরাকোটা ফলকে হস্তিবাহনে একজন দেবতাকে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু হাতে কোনও আয়ূধ নেই বলে ইনি ইন্দ্র না বিশ্বকর্মা বলা মুস্কিল।

৫+৬) বাঁকুড়ার হদল নারায়ণপুর এবং বীরভূমের জয়দেব-কেঁদুলির মন্দির থেকে টেরাকোটা ফলকে হস্তিবাহন ‘দেবতা’-র দর্শন পাওয়া গেলেও তিনি কে বোঝা গেল না।

৭) হুগলির দশঘরার গোপীনাথ মন্দিরের টেরাকোটা ফলকে হস্তিবাহন একজনকে দেখা যাচ্ছে, যদিও পরিচয় বোঝা যাচ্ছে না।

৮) বীরভূমের নলহাটির নলাটেশ্বরী মন্দিরের একটি টেরাকোটা ফলকে বিশ্বকর্মাকে দেখা যায়, হাতে হাতুড়ি ও বাঁটুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, পিছনে হাতি। এটি নিঃসন্দেহে বিশ্বকর্মার ছবি, তবে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে ফলকটি নতুন।

সুরুল মন্দিরে বিশ্বকর্মা
সুরুল মন্দিরে বিশ্বকর্মা না ইন্দ্র ?

বিশ্বকর্মা : আলোচনা

১) প্রায় আশিটি মন্দির থেকে মাত্র আটটি ছবি পাওয়া গেছে  যেখানে হাতির পিঠে/সঙ্গে দেবমূর্তি (খুব সম্ভবতঃ) পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাতটিতে ‘দেবতা’-কে ঠিক চেনা যাচ্ছে না ইন্দ্র না বিশ্বকর্মা।
২) কোনও ছবিতেই শাস্ত্রকথিত পাঁচটি শুঁড় ও দশটি গজদন্ত-ধারী ঐরাবতকে দেখা যায় না।
৩) একটিমাত্র মন্দিরে (নলাটেশ্বরী) টেরাকোটা ফলকে বিশ্বকর্মাকে দেখা যায়, হাতে হাতুড়ি ও বাঁটুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, পিছনে হাতি। এটি নিঃসন্দেহে বিশ্বকর্মার ছবি, তবে দেখলেই বোঝা যায় ফলকটি নতুন।

স্টাকো. চারবাংলা বিশ্বকর্মা
স্টাকো. চারবাংলা বিশ্বকর্মা ইনা ইন্দ্র?

আরও পড়ুন- পঞ্চভূত স্থলম ও পঞ্চভূত লিঙ্গম- দেবাদিদেব শিবঠাকুরের খোঁজে

বিশ্বকর্মা : উপসংহার

বিশ্বকর্মা একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হলেও পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে তাঁর উপস্থিতি একান্তই বিরল। এর আর্থ-সামাজিক কারনটি রহস্যময়। এই মন্দিরগুলি যে সময়ের, সেই কালে কি এখানে যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ হয় তেমন শিল্প খুব বেশি ছিল না এবং সেই কারনেই কি বিশ্বকর্মার জনপ্রিয়তা ছিল না?
এই বিষয়টি নিয়ে বড় কাজ করার স্কোপ আছে।

 দেখুন কৌলালের মহালয়া


Share your experience
  • 223
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    223
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।