দক্ষিণ কাশী-অনাহত চক্রের পরম অধীশ্বর কাশী বিশ্বনাথ

Share your experience
  • 145
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    145
    Shares

দক্ষিণ কাশী-অনাহত চক্রের পরম অধীশ্বর কাশী বিশ্বনাথ ।”শিবঠাকুরের খোঁজে” শীর্ষক সিরিজটিতে আমরা এর আগে আথারা (আধার) লিঙ্গম নিয়ে আলোচনা পর্বে মূলাধার চক্রের অধিষ্ঠাতা শিব থিরুবারুরের ত্যাগরাজা শিবকে নিয়ে আলোচনা করেছি। মূলাধারের পরবর্তী দু’টি চক্র স্বাধিষ্ঠান এবং মণিপুর চক্রের অধিষ্ঠাতা শিব যথাক্রমে জম্বুকেশ্বর ও অরুণাচলেশ্বর সম্বন্ধে আমরা আগে পঞ্চভূতলিঙ্গম পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছি (জম্বুকেশ্বর হলেন ‘অপ’ অর্থাৎ জল লিঙ্গম এবং অরুণাচলেশ্বর হলেন ‘তেজ’ লিঙ্গম)। তাই আমরা এখন সরাসরি অনাহত চক্রের অধীশ্বর কাশী বিশ্বনাথে চলে যাবো। লিখছেন–আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়।

দক্ষিণকাশী শ্রীকালহস্তীশ্বর

দক্ষিণ কাশী

কাশী বলতেই আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষ বা আম জনতার মাথায় যে ছবিটি ভেসে ওঠে তা হল উত্তরপ্রদেশে উত্তরবাহিনী গঙ্গার পশ্চিম কুলে অবস্থিত বারাণসীর ছবি। জীবনে অন্ততঃ একবার কাশী যাননি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশ্বনাথের গলি, ষাঁড়, পান-জর্দার গন্ধ, বাবা বিশ্বনাথের সোনায় মোড়া চূড়োওলা মন্দির, জ্ঞান বাপি মসজিদ, অন্নপূর্ণার মন্দির, গঙ্গার সারি সারি ঘাট, ঘাটে বড় বড় ছাতার তলায় বসে থাকা পাণ্ডা আর জ্যোতিষশাস্ত্রীর দল, গঙ্গায় ব্রাউন হেডেড গাল-দের ওড়াউড়ি, গঙ্গায় নৌকাবিহার, মণিকর্ণিকা শ্মশানের কখনো-না-নেভা চিতার সারি, গঙ্গার ঘাটের জমকালো গঙ্গা আরতি, বেনারসি শাড়ি, রাবড়ি-জিলিপি-কচৌরির স্বর্গীয় স্বাদ, BHU আর সবার উপরে উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের বিভিন্ন শহর-বন্দর-গ্রাম থেকে আসা নানা ভাষা-নানা-চেহারা-নানা পরিধানের অসংখ্য ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে চলা দেশী-বিদেশী ট্যুরিস্টদের স্রোত — সব মিলিয়ে পৃথিবীর প্রাচীনতম ‘uninterrupted inhabitated’ city হল হিন্দুদের সর্বশ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান কাশী বা বারাণসী।

বিশ্বনাথ

কাশীর বিশ্বনাথ বা বিশ্বেশ্বর হলেন দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের ৯ম জ্যোতির্লিঙ্গ, এবং ‘আথারা লিঙ্গম’-য়ের অন্যতম (অনাহত চক্রের অধীশ্বর)। আথারা/আধার লিঙ্গ হল তন্ত্র এবং যোগশাস্ত্র মতে মানব শরীরে অবস্থিত ছ’টি গুরত্বপূর্ণ ‘চক্র’-য়ের (মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধাক্ষ এবং আজ্ঞা) অধীশ্বর শিবলিঙ্গ। আথারা লিঙ্গম সম্বন্ধে অন্যত্র বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু অনাহত চক্রের অধীশ্বর কাশী বিশ্বনাথ কি উত্তরপ্রদেশের কাশী বিশ্বনাথ, না “দক্ষিণ কাশী”-র কাশী বিশ্বনাথ? এই প্রশ্নটি নিয়ে আমরা আগে আলোচনা করেছি এবং সেখানে বলা হয়েছে যে অনাহত চক্রের অধীশ্বর “কাশী বিশ্বনাথ” খুব সম্ভবতঃ উত্তরপ্রদেশের কাশী বিশ্বনাথই। তবে যেহেতু “দক্ষিণ কাশী” আছে, এবং সেখানেও “কাশী বিশ্বনাথ” আছেন, তাই অনাহত চক্রের অধীশ্বর হিসাবে “দক্ষিণ কাশী”-র “কাশী বিশ্বনাথ”-য়ের দাবী একেবারে শূন্য নয়, তার চেয়ে একটু বেশি (যাকে বলে non-zero probability)। তাই আমরা “দক্ষিণ কাশী”এবং সেখানকার “কাশী বিশ্বনাথ” নিয়ে আলোচনা করবো। আজ “দক্ষিণ কাশী” নিয়ে সাধারণ ভাবে আলোচনা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কাশী : কী এবং কেন

দক্ষিণ কাশী কী? এই প্রশ্নের উত্তর হল দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি জায়গাকে কাশীর সমতুল্য মর্যাদা দিয়ে তাদের ‘দক্ষিণ কাশী’ বলা হয়েছে। এর শাস্ত্রীয় মূল্য কতটা, তা আমার জানা নেই। কিন্তু এর যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক মূল্য আছে, সেকথা অস্বীকার করা যায় না। দাক্ষিণাত্য থেকে কাশী অনেক দূরে, এবং প্রাচীন কালে যাতায়াত করা অত্যন্ত কঠিন ও বিপদসংকুল ছিল। তার উপর ভাষা, সামাজিক রীতিনীতি এবং খাদ্য সমস্যাও প্রকট (আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্যের এই পার্থক্যগুলি এখনও কম-বেশি বিদ্যমান)। আর সবার উপরে আছে অর্থের ব্যাপারটা। সব মিলিয়ে একজন সাধারণ দক্ষিণ ভারতীয় তীর্থযাত্রী বা পর্যটকের পক্ষে সুদূর কাশীতে যাওয়াটা প্রাচীন কালে মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু তাহলে দক্ষিণ ভারতের সাধারণ মানুষজনের কাশী বিশ্বনাথ দর্শন হবে কী করে?

খুব সম্ভবতঃ এই সমস্যা সমাধানের জন্যই এই ‘দক্ষিণ কাশী’ কনসেপ্টের অবতারণা। দাক্ষিণাত্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দিরের গায়ে ‘দক্ষিণ কাশী’ তকমা লাগিয়ে দেওয়া হল যাতে দক্ষিণী শিবভক্তরা ঐ মন্দিরগুলিতে এসে সেখানকার “কাশী বিশ্বনাথ”-কে দর্শন করে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারেন। এইরকম তিনটি ‘দক্ষিণ কাশী’ (এবং সেখানে অধিষ্ঠিত কাশী বিশ্বনাথ শিব) হল তামিলনাড়ুর তেনকাশী ও শিবকাশী এবং মহারাষ্ট্রের প্রকাশা। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার শ্রীকালহস্তিতে অবস্থিত শ্রীকালহস্তীশ্বর মন্দিরকেও অনেক জায়গায় ‘দক্ষিণ কাশী’ বলা হয়েছে, যদিও সেখানে অধিষ্ঠিত শিব পঞ্চভূতলিঙ্গের বায়ু লিঙ্গ শ্রীকালহস্তীশ্বরকে কাশী বিশ্বনাথ বলা হয় না।

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী এবং গুপ্তকাশীর নামের পিছনেও এই রকম আর্থ-সামাজিক কারন থাকতে পারে। এই প্রসঙ্গে বলি, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের বক্রেশ্বরকেও কিন্তু “গুপ্ত কাশী” বলা হয় (যদিও সেখানে অধিষ্ঠিত বক্রনাথ শিবকে কাশী বিশ্বনাথ বলতে শুনিনি)।

দক্ষিণ কাশী : কোথায়

আমার কাছে চারটি দক্ষিণ কাশীর খোঁজ আছে, সেগুলি হল :

১) তামিলনাড়ুর তেনকাশী জেলার সদর শহর তেনকাশী এবং সেখানকার শ্রীকাশী বিশ্বনাথ মন্দির ।

২) তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলায় অবস্থিত শিবকাশী এবং সেখানকার কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ।

৩) মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলার সাহাদা তালুকে অবস্থিত প্রকাশা এবং সেখানকার কাশী বিশ্বেশ্বর মন্দির ।

৪) অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলায় অবস্থিত শ্রীকালহস্তিতে অবস্থিত শ্রীকালহস্তীশ্বর মন্দির, যাকে ‘দক্ষিণ কাশী’ ছাড়াও ‘দক্ষিণ কৈলাস’-ও বলা হয়।

এদের মধ্যে শ্রীকালহস্তীশ্বরের কথা পঞ্চভূতলিঙ্গম পর্যায়ে বলা হয়েছে বলে এখানে তার পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে না। বাকি তিনটি (তেনকাশী, শিবকাশী ও প্রকাশা) আমরা এখানে ছুঁয়ে যাচ্ছি, পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

দক্ষিণ কাশী ১ : তেনকাশী

তামিলনাড়ুর তেনকাশী জেলার সদর শহর হল তেনকাশী। তেনকাশী ‘থিরিকুদা মালাই’ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। ‘থিরিকুদা মালাই’ পর্বতের দিক থেকে সব সময় একটা খুব সুন্দর বাতাস বয়, তার নাম ‘পদিগাই’। এই পদিগাই বাতাসের সঙ্গে তেনকাশীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একটি সুন্দর (রহস্যময়?) সম্পর্ক আছে, সে সম্বন্ধে পরে বলছি। তেনকাশীর ভৌগোলিক কো-অর্ডিনেট হল ৮.৯ ডিগ্রী নর্থ, ৭৭.৩ ডিগ্রী ইস্ট।

তেনকাশীর শ্রীকাশী বিশ্বনাথ মন্দিরটি পাণ্ড্য রাজা পরাক্রম পাণ্ডিয়ানের (১৪২৮ – ১৪৬০ খৃঃ) প্রতিষ্ঠিত।

দ্রাবিড় শৈলীর এই মন্দিরটির চারদিকে উঁচু গ্র্যানাইটের প্রাচীর। এর সাততলা ১৮০ ফিট উঁচু গোপুরমটি ভারতের ৮ম সর্বোচ্চ গোপুরম। এই গোপুরমটি ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত। মন্দিরের গর্ভগৃহটি পূর্বমুখী। ভিতরে কাশী বিশ্বনাথ শিবলিঙ্গ অধিষ্ঠিত। এখানে পার্বতী ‘উলগাম্মান’ নামে পরিচিত। তাঁর মন্দির (সন্নিথি) কাশী বিশ্বনাথের মন্দিরের পাশে এবং পূর্বমুখী। শিব-পার্বতী ছাড়াও গর্ভগৃহের দু’পাশে বিনায়ক (গণেশ) ও মুরুগান অর্থাৎ কার্তিকের মন্দির। তেনকাশী সম্বন্ধে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

দক্ষিণ কাশী ২ : প্রকাশা

মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলার শাহাদা তালুকে তাপ্তী নদীর পাড়ে অবস্থিত প্রকাশাকেও ‘দক্ষিণ কাশী’বলা হয়। এখানে ১০৮টি শিবমন্দির আছে, যার মধ্যে শ্রীপুষ্পদন্তেশ্বর, শ্রীকেদারেশ্বর ও শ্রীকাশী বিশ্বেশ্বর মন্দির বিখ্যাত। প্রকাশার ভৌগোলিক কো-অর্ডিনেট হল ২১.৩ ডিগ্রী নর্থ, ৭৪.১ ডিগ্রী ইস্ট।

প্রকাশার খুব কাছেই তাপ্তী ও গোমাই নদীর সঙ্গম, যদিও স্থানীয় লোকেরা বলেন তৃতীয় একটি নদীও (পুলোন্দা) ঐ সঙ্গমে মিলে সঙ্গমটিকে একটি ত্রিবেণী সঙ্গমে পরিনত করেছে। গোমাই নদীকে স্থানীয় লোকেরা অনেক সময় গোমতী বলে উল্লেখ করেন।

তাপ্তী নদীর পাড়ে একটি টিলার উপর পাশাপাশি দু’টি শিবমন্দির – শ্রীকেদারেশ্বর ও শ্রীকাশীবিশ্বেশ্বর। দু’টি মন্দিরের সামনেই পাথরের হাঁটুগেঁড়ে বসা নন্দীমূর্তি। পাশে অন্নপূর্ণা মন্দিরও আছে। মূল মন্দিরের দিকে মুখ করলে বাঁদিকে একধাপ নীচে পিত্রুশ্বর মন্দির যার মধ্যে পারলৌকিক কাজ করা হয়।

এই টিলাটির পিছনে আরও প্রায় ১৫০ মিটার দূরে তাপ্তী নদীর পাড়ে দ্বিতীয় একটি অনুচ্চ টিলার উপর পুষ্পদন্তেশ্বর শিবমন্দিরটি অবস্থিত। এই মন্দিরটি সম্বন্ধে বলা হয় এখানে একবার পূজা দেওয়া কাশীতে এক হাজারবার পূজা দেওয়ার সমান। একথাও বলা হয় যে প্রকাশা দর্শন না করলে কারুর কাশী দর্শন পূর্ণ হয় না।

বলা হয় যে শিবভক্ত গন্ধর্ব পুষ্পদন্ত এই মন্দিরে বসেই তাঁর বিখ্যাত শিবমহিম্নস্তোত্র লেখেন। প্রকাশা সম্বন্ধে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

শিবকাশী

তিনটি ‘দক্ষিণ কাশী’-র মধ্যে তেনকাশী এবং প্রকাশা আমি গিয়েছি এবং ঈশ্বরকৃপায় ঐ দু’জায়গার কাশী বিশ্বনাথকে দর্শন করেছি। কিন্তু তৃতীয় ‘দক্ষিণ কাশী’ শিবকাশী-দর্শন এখন পর্যন্ত আমার কপালে হয় নি, তার মূল কারন শিবকাশী সম্বন্ধে আমার অজ্ঞতা। জানি না কবে শিবকাশী দর্শন করে ‘দক্ষিণ কাশী’-দর্শন পূর্ণ করতে পারব।

আমি নিজে না গিয়ে এবং ফটো না তুলে কোনও জায়গা সম্বন্ধে লিখি না, তাই শিবকাশী সম্বন্ধে কিছু লেখার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু তৃতীয় ‘দক্ষিণ কাশী’ শিবকাশী সম্বন্ধে কিছু না লিখলে এই  ‘দক্ষিণ কাশী’ লেখাটি পূর্ণতা পায় না। তাই খুব সংক্ষেপে একটু লিখছি।

আরও পড়ুন –ত্যাগরাজা স্বামী শিব -তামিলনাড়ুর থিরুবারুরে বর্ণময় মন্দির

তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলায় অবস্থিত “কুট্টি জাপান (Little Japan)” নামে পরিচিত শিবকাশী শহর বাজি ও দিয়াশলাই তৈরীর কারখানা এবং প্রিন্টিং ইণ্ডাস্ট্রির জন্য বিখ্যাত হলেও এখানেই আছে পাণ্ড্য বংশীয় রাজা হরিকেশর পরাক্রম পাণ্ডিয়ানের রাজত্বকালে (১৪২৮ – ১৪৬০ খৃঃ) প্রতিষ্ঠিত কাশী বিশ্বনাথ মন্দির, যা শিবকাশীকে তার ‘শিবকাশী’ নাম এবং তৃতীয় ‘দক্ষিণ কাশী’-র মর্যাদা দিয়েছে। শিবকাশীর প্রধান ধর্মীয় আকর্ষণ কাশী বিশ্বনাথ মন্দির এবং ১১০ ফিট উঁচু গোপুরম যুক্ত ভদ্রকালী মন্দির।

শিবকাশী মাদুরাই থেকে ৭৪ এবং চেন্নাই থেকে ৫৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং দু’টি শহরের সঙ্গেই রেল ও সড়ক পথে যুক্ত। শিবকাশীর ভৌগোলিক কো-অর্ডিনেট হল ৯.৪ ডিগ্রী নর্থ, ৭৭.৮ ডিগ্রী ইস্ট।

 উপসংহার

ভারতবর্ষ এক বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশ। ভারতের এক এক প্রান্তে এক এক রকম ভৌগোলিক, নৃতাত্ত্বিক এবং সামাজিক বৈচিত্র্য। এই বিভিন্নতার মধ্যে প্রধানতম যোগসূত্র হল হিন্দুধর্ম, আর তার প্রধান স্তম্ভ হলেন শিবঠাকুর। এই শ্মশানবাসী ব্যাঘ্রচর্ম পরিহিত দেবতাটি প্রকৃত অর্থেই গণদেবতা, এবং কাশী হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ শৈবতীর্থ। উত্তরের কাশী তাই দক্ষিণে ‘দক্ষিণকাশী’ রূপে স্থাপিত হয়েছে। এর আর্থ-সামাজিক দিক নিয়ে উপরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।

তাই আমরা যারা শিবঠাকুরের খোঁজে বেরিয়েছি, তাদের কাছে ‘দক্ষিণকাশী’-র একটি বিশেষ স্থান আছে।

ওঁ নমঃ শিবায়।

ঋণ স্বীকার -উইকিপিডিয়া সহ বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইট।

ফটো : লেখক


Share your experience
  • 145
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    145
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।

1 thought on “দক্ষিণ কাশী-অনাহত চক্রের পরম অধীশ্বর কাশী বিশ্বনাথ

Comments are closed.