এড়োয়ালি মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী- প্রতিষ্ঠাতা ঢেকার রাজবংশ

Share your experience
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী- প্রতিষ্ঠাতা ঢেকার রাজবংশ।মাজিয়ারাতে যে বিগ্রহ আছে সেটা ১৬৫৬ সালের বিগ্রহ এবং এড়োয়ালিতে যে বিগ্রহ আছে সেটি ১৭৪৫ সালের বিগ্রহ। অষ্টধাতুর নির্মিত দুই সিংহবাহিনীর বিগ্রহ আজ বঙ্গের ঐতিহ্যে অন্যতম। লিখছেন--শুভদীপ রায় চৌধুরী।

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী মন্দির
এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী মন্দির

 

ঢেকার রাজবংশ

বাংলার সুপ্রাচীন ইতিহাসে বহু জমিদার এবং রাজবংশের ঐতিহ্য এবং সেই বংশের বংশধরদের কৃতিত্ব অপরিসীম, যা বাংলার সুমহান গৌরবকে আরও গৌরবান্বিত করে। তেমনই এক রাজপরিবার বীরভূমের ঢেকা অঞ্চলে, তাদের বংশধরের স্থাপিত মন্দির এবং পুজোপার্বণের সূচনা যা আজ এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে বহন করে নিয়ে আসছে।

পূর্বপরিচয় 

এই পরিবারের আদিপুরুষ এসেছিলেন বঙ্গে, মহারাজা আদিশূরের সময়ে (আনুমানিক ৯৮০খ্রীঃ)। সেই সময় কান্যকুব্জ থেকে পাঁচজন ব্রাহ্মণ এসেছিলেন বঙ্গে, তাঁদের মধ্যে কাশ্যপ গোত্রীয় ছিলেন খীতরাগ। এনার জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন রাঢ়ী অঞ্চলের চট্টোপাধ্যায় ব্রাহ্মণ দক্ষ ছিলেন অন্যতম। এই দক্ষের পঞ্চদশ পুরুষ হলেন শ্রী নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় কাশ্যপ গোত্রীয় কুলীন ব্রাহ্মণ। চাটুতি নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ১৫২০ সালে পাটুলি গ্রাম থেকে বসবাস স্থানান্তরিত করে বীরভূমের ঢেকা গ্রামে চলে আসেন। নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের চতুর্থপুরুষ হলেন চিরঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় তিনিও পিতার মতন কুলীন ব্রাহ্মণের মতন দিন কাটাচ্ছিলেন। চিরঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র হলেন ভবানী চট্টোপাধ্যায়, তাঁর সময়েই চট্টোপাধ্যায় পরিবারের প্রাচুর্য এবং বৈভব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

সম্রাট জাহাঙ্গীর ও ঢেকার রাজবংশ

সেই সময় দিল্লীর মসনদে বসে আছেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর, তিনি ঢেকার স্থানীয় জমিদারের খাজনা না পাওয়ায় লোক পাঠিয়েছিলেন। তখন ঢেকার স্থানীয় জমিদার প্রদত্ত খাজনা দিতে না পারায় ভবানী চট্টোপাধ্যায় বাড়ির গহনা দিয়ে খাজনার কিছু অংশ মিটিয়ে জমিদারকে শাস্তির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। তারপরদিন চট্টোপাধ্যায় বাড়ির সামনে হাজির হলেন লোকজন নবাবের ফরমান নিয়ে, এবং সেই দিন থেকে ঘোষিত হল ভবানী চট্টোপাধ্যায় আজ থেকে স্থানীয় জমিদার এবং সম্রাট তাঁকে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

সেই ১৬২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হল ঢেকার “রায় রাজবংশ” ভবানী চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। রায় ভবানী প্রতিষ্ঠা করেন কুলদেব গোবিন্দরাই জীউ, কুলদেব মা সিংহবাহিনী সহ দুর্গা, কালী ও শিবের মন্দির। রায় ভবানীর মৃত্যুর পর তাঁর একমাত্র পুত্র মহেশদাস রায় বাহাদুর রাজবংশের গৌরবকে তরান্বিত করেন। মহেশদাস রায় বাহাদুরের পাঁচজন পুত্র সন্তানের মধ্যে তাঁর অবর্তমানে জমিদারি পেয়েছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র রামজীবন রায় বাহাদুর।

 ঢেকার রাজবংশের ইতিহাস

মহেশদাসের মৃত্যুর পর রামজীবন রায় চন্ডিপুর(বর্তমানে তারাপীঠ) এর জমিদারি লাভ করেছিলেন। সেই সময় রামজীবন রায় উপলব্ধি করেছিলেন এই সময় তাঁকে রাজত্ব বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রজাদের মধ্যে ঈশ্বরভক্তি আরও বৃদ্ধি করতে হবে। সেই মতন তিনি পশ্চিম মুর্শিদাবাদ এর একাংশ, পূর্ব বীরভূম ও বর্ধমানের একঅংশ জয় করেছিলেন এবং তৈরি করেছিলেন এক বিশাল সাম্রাজ্য যা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে রচিত। এই প্রভাব ও প্রতিপত্তির জন্য তৎকালীন নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ তাঁকে “মহারাজা” উপাধিতে ভূষিত করেন এবং মহারাজা রামজীবন রায় বাহাদুর ঢেকায় স্থাপন করলেন তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং পরিচিত হলেন ঢেকার রাজবংশ হিসাবে।

মহারাজা রামজীবন রায়ের প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের মধ্যে তারাপীঠের মা তাঁরার মন্দির নির্মাণ করেছিলেন তিনি। মায়ের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন তিনি এবং তার সাথে বাবা চন্দ্রচূড় এর মন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন মহারাজা রামজীবন রায় বাহাদুর। সেখানে নিত্য সেবার জন্য পায়েস ভোগের প্রচলন ও মায়ের সেবার জন্য পাণ্ডা ও তাঁর রাজত্বের কিছু জমিও দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি আরও বেশ কয়েকটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন তারমধ্যে অন্যতম কলেশ্বরে বাবা কলেশনাথের মন্দির।

সিং হবাহিনী
সিং হবাহিনী

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী কথা

রামজীবন রায়ের চারপুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠের অকালপ্রয়াণে দ্বিতীয়পুত্র সংসারের প্রতি উদাসীন হওয়ায় এবং তৃতীয়পুত্রের ইচ্ছা না থাকায় ১৭০৮সালে কনিষ্ঠপুত্র মহারাজা রামচন্দ্র ঢেকার সিংহাসনে বসেন। কিন্তু ১৭২৫ সালে নবাবের সেনাপতির সাথে যুদ্ধে মহারাজা রামচন্দ্র ও তাঁর প্রধান সেনাপতির মৃত্যু হয়। তারপর সিংহাসনের বসেন রাজা ভগবতীচরণের পুত্র রাজা জয়সিংহ রায় বাহাদুর। তৎকালীন সময়ে অর্থাৎ ১৭৪২ সালে বর্গীহানার কারণে ঢেকার রায় রাজবংশ বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পরেন। রাজা ভগবতীচরণের বংশ মুর্শিদাবাদের এড়োয়ালি যান গোবিন্দরাই ও মা সিংহবাহিনীকে নিয়ে, দ্বিতীয় পুত্র রামভদ্রের বংশ যান বীরভূমের নপাড়া লক্ষ্মীনারায়ণ এবং আর তাঁরই এক বংশ মা সিংহবাহিনী নিয়ে যান মুর্শিদাবাদের মাজিয়ারা গ্রামে।

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনীর ইতিহাস

বর্গী হামলার পর নবাব ঢেকার সমতুল্য রাজত্ব ফিরিয়ে দেন মহারাজা জয়সিংহকে এবং রাজধানী স্থাপিত হয় এড়োয়ালিতে। বাকি দুইভাইয়ের নতুন করে জমিদারি দেন নবাব। রায় থেকে “রায় চৌধুরী” হয় ঢেকার রাজবংশ। রাজা জয়সিংহের রাজত্বের দশ আনা নিয়ে দশানি রাজবংশ এবং তাঁর ভাই রঘুনাথ ছয় আনা রাজবংশে পরিনত হন। রাজা রঘুনাথ রায় মা সিংহবাহিনীর দায়িত্ব নেন এবং রাজবাড়ির উত্তরে গোবিন্দরাই জীউের মন্দির ও দক্ষিণে মা সিংহবাহিনীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৪৫ সালে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন রাজা শ্যামসুন্দর রায় চৌধুরী।

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনীর মূর্তি

দেবী এখানে চতুর্ভূজা এবং নিত্য অন্নভোগ সেবা হয় মায়ের। মা সিংহবাহিনীর সাথে মা অন্নপূর্ণা ও মা নিস্তারিণীর সেবাও করা হয়। একই সিংহাসনে সিংহবাহিনী ও নারায়ণের পুজো সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন মা সিংহবাহিনীর জন্য মাছভাজা, ডিম(হাঁসের)ভাজা ও কারণ দিয়ে পুজো করা হয়। দুর্গাপুজোর সময় একই সঙ্গে মা দুর্গা ও মা সিংহবাহিনীর পুজো করা হয় এবং দুই মন্দিরই পাশাপাশি। বোধন থেকে দুই দেবীর পুজো শুরু হয় এবং দশমী অবধি বলিদান চলে।

দুর্গাপুজোর মহানবমীর দিন ছাগ, মেষ ও মহিষ বলিদান হয় দুই দেবীর সামনেই। এছাড়া সাতটি ভোগ নিবেদন করা হয় নিত্য সেবার জন্যে। অতীতে পুজো শুরুর আগে ও শেষের সময় তিনটি করে বন্দুকের গুলি ছোড়া হত শূণ্য তবে বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ। রাজা রঘুনাথের বংশধরেরা আজও মা সিংহবাহিনীর নিত্যসেবা করে আসছেন নিষ্ঠার সাথে।

ঠিক এই একই রীতি মেনে মহারাজা রামজীবন রায় বাহাদুরের দ্বিতীয়পুত্র রাজা রামভদ্রের কনিষ্ঠপুত্র রাজা হরিশংকর রায়ের বংশ মুর্শিদাবাদের মাজিয়ারা গ্রামে বসবাস করেন ও তারাও একই ভাবে ঢেকার রাজবংশের গৌরকে আরও গৌরবান্বিত করে চলেছেন ও সেই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে আজও ধরে রেখেছেন। তবে এই বংশ “রায় বংশ” নামেই পরিচিত কারণ জমিদারি বৃদ্ধি করতে না পারায় “রায়”ই থেকে যান।

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনীর আরেক ইতিহাস

প্রসঙ্গত ঢেকার রাজবংশের বর্তমানে রাজা ভগবতীচরণের বংশ এড়োয়ালিতে, রাজা রামভদ্রের এক বংশ নপাড়া ও এক বংশধরেরা মাজিয়ারাতে এবং নিঃসন্তান রাজা কেশব রায় ও তাঁর চার ভ্রাতুষ্পুত্র অর্থাৎ মহারাজা রামচন্দ্রের চারপুত্র হাতিয়ায় বসবাস করেন। মূলত রাজা রামভদ্রের এক বংশধরেরা মা সিংহবাহিনীর সেবায়েত। কুলপুরোহিতের মাধ্যমে মায়ের সেবা হয়। সারাবছর শরিকের পালা করে নিত্য সেবা হয় মা সিংহবাহিনীর। রাজা শ্যামসুন্দর রায় চৌধুরী ওই মুকুটের অংশ নিয়ে নতুন করে মায়ের বিগ্রহ আনেন ও প্রতিষ্ঠা করেন মা সিংহবাহিনীকে।

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী্র কাহিনী

বর্তমানে মাজিয়ারাতে যে বিগ্রহ আছে সেটা ১৬৫৬ সালের বিগ্রহ এবং এড়োয়ালিতে যে বিগ্রহ আছে সেটি ১৭৪৫ সালের বিগ্রহ। অষ্টধাতুর নির্মিত দুই সিংহবাহিনীর বিগ্রহ আজ বঙ্গের ঐতিহ্যে অন্যতম। প্রতিদিন সকালে জমিদারির সময়কাল থেকে বাজনা বাজিয়ে মাকে জাগানো হয় ও স্নান করিয়ে মিষ্টিজল দেওয়া হয়। তারপর নারায়ণের পায়েসভোগ হয়। তারপর দেবীর উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করা হয় প্রতিদিন নিষ্ঠার সাথে। যতক্ষণ না মা সিংহবাহিনীর ভোগ সেবা হয় ততক্ষণ ছয়আনি রাজবংশের সদস্যরা এবং মাজিয়ারা রায় বংশের সদস্যরা অন্নগ্রহণ করেন না।

এড়োয়ালি  মাজিয়ারা গ্রামের সিংহবাহিনী–দেবীর ভোগে বৈচিত্র্য

দুপুরের অন্নভোগে দেবীকে ডিমভাজা, মাছভাজা ও মাংস দেওয়া হয় ও সঙ্গে তিনপাত্রে কারণ দেওয়া হয়। জমিদারির রীতি মেনেই দেবীঘট কারণ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং কোন তুলসীপাতা ব্যবহার করেন না এই রাজবংশের সদস্যরা। কারণ মহারাজা রামচন্দ্রকে যখন আলী লোকি খাঁ হত্যা করেছিলেন তখন সেই রক্ত তুলসীমঞ্চে গিয়ে পড়ে তাই সেই থেকে এই রাজবংশে তুলসী ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই নারায়ণের জন্য তুলসীপাতা নিবেদনের জন্য বংশপরম্পরায় লোক নিয়োগ করা রয়েছে। সন্ধ্যের আরতির আগে দেবীকে আবার বাজনা বাজিয়ে জাগানো হয় ও মিষ্টিজল দিয়ে আরতির পর মন্দির বন্ধ হয়।

আরও পড়ুন- কলকাতার প্রাচীনতম দুর্গাপুজো-বড়িশার সাবর্ণদের দুর্গোৎসব

নিয়ম মেনে দোলের দিন এড়োয়ালির দশানি রায় চৌধুরী পরিবারের গৃহদেবতার মন্দিরে মা সিংহবাহিনীকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দুই দেব-দেবীকে পাশের বিশাল মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে নেড়াপোড়া হয়। তারপর আবার মন্দিরে ফিরিয়ে এনে মা সিংহবাহিনীর প্রসাদ বিতরণের পর মাকে পুনরায় আবার নিজ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয় এই নিয়মই চলে আসছে ১৭৪৫ সাল থেকে।

 শেষকথা

শুধুমাত্র এড়োয়ালিতেই নয় মাজিয়ারাতেও মা সিংহবাহিনী ও নারায়ণ একসাথে যান সেইদিন। তবে দুর্গাপুজোর সময় দুর্গা ও সিংহবাহিনীর একসাথে পুজো হলেও দশমীর দিন মা সিংহবাহিনীকে অন্নঘরে রেখে আসা হয় তারপর দুর্গার দশমীপুজো করা হয়। এমনই প্রাচীন রীতি মেনে আজও পুজো করে আসছেন ঢেকার রাজবংশের দুই সিংহবাহিনীর সেবায়েতগণ।

বনেদিবাড়ির দুর্গাপুজো নিয়ে কৌলালের তথ্যচিত্র

 

 


Share your experience
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

Facebook Comments

Post Author: শুভদীপ রায় চৌধুরী

শুভদীপ রায় চৌধুরী
শুভদীপ রায় চৌধুরী, ১২বছর দক্ষিণ কলকাতার স্বনামখ্যাত বিদ্যালয় "বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়" থেকে পড়ার পর উত্তর কলকাতার স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে স্নাতক এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর, বিশেষ বিষয় ছিল-ভারতের আধুনিক ইতিহাস। তাছাড়া ২০১৬সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে স্বতন্ত্র গবেষণায় যুক্ত। বর্তমানে বহু পত্রিকায় যুক্ত স্বতন্ত্র লেখায়, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখার কাজেও যুক্ত। বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের ৩৬তম বংশধর