গরুড় প্রসঙ্গঃ দেবতা,গঙ্গা, গরুড় মন্দিরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

Share your experience
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

 

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়ঃ গরুড় বিষ্ণুর বাহন ।আমাদের কাছে অপরিচিত না হলেও তাঁর ব্যাপারে আম জনতা সাধারণ বাঙালির ধারণাটা ভাসা ভাসা। এই লেখাটি মূলতঃ তাঁদের জন্যই। বদরিনাথ যাননি এমন বাঙালি বিরল না হলেও তাঁদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। যারাই সড়কপথে বদরিনাথ গেছেন, তাঁরাই পিপলকোটি ছাড়িয়ে পাঁচ কিলোমিটার এগিয়ে পাখি গ্রাম। গরুড়গঙ্গা ব্রীজ ক্রস করে যোশীমঠের দিকে গেছেন। ঐ পাখি গ্রামে  নদীর পাড়েই আছে প্রাচীন গরুড় মন্দির। অনেকেই হয়ত গেছেন। আবার অনেকেই হয়ত মিস করে গেছেন।

এখানে গরুড় গঙ্গা নদীর পাড়ে প্রাচীন গরুড় মন্দির ছাড়াও পাশেই আছে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির। চলুন আজ বিষ্ণুবাহনের মন্দির   ও গরুড়গঙ্গা দর্শনের জন্য ভার্চ্যুয়াল ট্যুর করে আসি।

খগেন্দ্ররূপে বিষ্ণু, উচকরণ
খগেন্দ্ররূপে বিষ্ণু, উচকরণ

গরুড় 

মন্দিরে যখন যাচ্ছি, তখন প্রথমে গরুড়ের ব্যাপারে একটু খোঁজখবর নেওয়া যাক।
শুধু হিন্দুধর্মেই নয়, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মেও খগপতির  একটি বিশিষ্ট স্থান আছে। খগেন্দ্রর সাধারণতঃ পাখি আর মানুষের যুগ্ম রূপ হিসাবে দেখানো হলেও অনেক সময় পাখি হিসাবেও দেখানো হয়। হিন্দু ধর্মে গরুড় হচ্ছেন বিষ্ণুর বাহন। তাঁর পিতা কশ্যপমুনি এবং মা বিনতা। তাঁর দাদার নাম অরুণ। বিষ্ণুপুরাণের একবিংশতি অধ্যায়ে খগাধিপ  সম্পর্কে বলা হয়েছে –
বিনতায়াস্তু দ্বৌ পুত্রৌ বিখ্যাতৌ গরুড়ারুণৌ।
সুপর্ণঃ পততাং শ্রেষ্ঠো দারুণঃ পন্নগাশনঃ।।
অর্থাৎ, বিনতার দুই বিখ্যাত পুত্র হলেন গরুড় ও অরুণ। গরুড় পক্ষিকুলের শ্রেষ্ঠ সুপর্ণ, অত্যন্ত ভয়ংকর এবং সর্পখাদক ছিলেন।
তার মানে পতগকে  সাপের শত্রু আর পাখিদের রাজা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বৌদ্ধমতে সর্পাসন হচ্ছেন ধর্মরক্ষক এবং তাঁর নাম ‘ধর্মপাল’ বা ‘অষ্টসেনা’। আর জৈনধর্মে সর্পাসন হলেন জৈন তীর্থংকর শান্তিনাথের যক্ষ।

ধর্মে গরুড়

ঋকবেদে ডানা-যুক্ত দেবতা গরুৎমানের উল্লেখ আছে। তাঁকেই হিন্দুধর্মে গরুড়ের প্রথম বর্ণনা বলে মনে করা হয়। যজুর্বেদের শতপথ ব্রাহ্মণেও গরুড়ের উল্লেখ দেখা যায়। অনেক পণ্ডিতের মতে গরুৎমান কথাটি এসেছে ‘গৃ’ ক্রিয়াপদ থেকে, যার অর্থ কথা বলা। এঁদের মতে বৈদিক সাহিত্যে গরুৎমানকে ঋক বা ছন্দ, সাম বা শব্দ, যজ্ঞ আর আত্মার প্রতীক ধরা হয়। মহাভারতে গরুৎমান ও গরুড়কে সমার্থক বলা হয়েছে। পুরাণে বর্ণিত পতগ ও বিষ্ণুর সম্পর্ককে আত্মা ও পরমাত্মার সম্পর্ক বলেই মনে করা হয়। বৈষ্ণবধর্মে সর্পভূক ও  নারায়ণকে প্রায় অচ্ছেদ্য ভাবেই দেখানো হয়েছে। শৈব তন্ত্রেও উল্লেখ আছে এবং সেখানে তাঁকে  আত্মার প্রতীক বলা হয়েছে।

হিন্দু আইকনোগ্রাফিতে গরুড়কে হয় উড়তে যাচ্ছে এমন একটি ঈগল জাতীয় পাখি হিসেবে নয়তো পাখি ও মানুষের যুগ্ম রূপে ঈগলের মত বাঁকানো ঠোঁট, বড় বড় চোখ ও দু’টি ডানা সহ দেখানো হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কামায়ুর হাত দু’টি, তবে বিরল ক্ষেত্রে চতুর্ভূজ গরুড়ও দেখা যায়। অনেক সময় গরুড়ের হাতে অমৃতের কুম্ভ দেখা যায়। গরুড়কে সাধারণতঃ একা নারায়ণকে পিঠে নিতে দেখা গেলে কখনও কখনও গরুড়ের পিঠে নারায়ণের সঙ্গে লক্ষ্মীকে বা ভূদেবী ও শ্রীদেবীকেও দেখা যায়।

বৌদ্ধধর্মে গরুড়কে অনেক সময় ‘গরুলা’ বলা হয়েছে এবং ঈগলের মত পাখি এবং মানুষ-পাখির যুগ্ম রূপ এই দুই ভাবেই দেখানো হয়েছে। বৌদ্ধ গরুড়ও নাগ বা সর্প জাতির শত্রু।
জৈন ধর্মে গরুড়কে ডানাযুক্ত মানুষের রূপেই দেখানো হয়েছে। আগেই বলা হয়েছে জৈনধর্মে গরুড় হলেন জৈন তীর্থংকর শান্তিনাথের যক্ষ।

প্রসঙ্গতঃ, পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে প্রচুর গরুড়ের চিত্র আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল খগেন্দ্র-রূপী নারায়ণকে পিঠে নেওয়া অবস্থা পাখি-মানুষ গরুড়।

 

বহির্ভারতে গরুড় 

ভারতের বাইরে নেপাল (ধর্মীয় দিক থেকে নেপালেও হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচলিত) ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (মায়ানমার, থাইল্যাণ্ড, কাম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া), মঙ্গোলিয়ায়, জাপানে এবং চীনে গরুড়ের উপস্থিতি আছে। ইন্দোনেশিয়ার অফিসিয়াল সিলে গরুড় আছেন এবং ঐ দেশের ন্যাশনাল এমব্লেমকে বলা হয় ‘গরুড় পঞ্চশিল’। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ক্যারিয়ারের নাম গরুড় এয়ারওয়েজ। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল আর্মড ফোরসের শান্তি রক্ষক বাহিনীর নাম গরুড়ের নামে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে ‘দি গরুড় টীম’ বলা হয়।
জাপানে গরুড়ের নাম ‘করুরা’, মঙ্গোলিয়ায় ‘খান গারিড’, মায়ানমারে ‘গ্যালোন’, থাইল্যাণ্ডে ‘খ্রুট’, কাম্বোডিয়ায় ‘ক্রুড’ এবং চীনে ‘পেং’ (গ্রেট পেং)।

ভারতীয় সৈন্যবাহিনীতে গরুড় 

ভারতীয় বিমানবাহিনীর অফিসিয়াল ছাপে গরুড় আছেন এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের নাম ‘গরুড় কম্যাণ্ডো ফোর্স’। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গার্ডদের ব্রিগেডের চিহ্ন গরুড়।
সত্যিকারের গরুড় (পাখি রূপী) কি আছে?

 

শঙ্খচিল

ভারতে শঙ্খচিল বা ব্রাহ্মিনী কাইট (Haliastur indus) ও হাড়গিলে বা গ্রেটার অ্যাডজুট্যান্ট স্টর্ক (Leptoptilos dubius) এই দুটি পাখিকে অনেক সময় গরুড় পাখি বলা হয়। এর মধ্যে গ্রেটার অ্যাডজুট্যান্ট স্টর্ক তার বিশাল আকারের জন্য গরুড় হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক দাবীদার। বিহারের ভাগলপুরের কাছে এই গ্রেটার অ্যাডজুট্যান্ট স্টর্ক পাখিদের জন্য একটি প্রজনন কেন্দ্র ও স্যাংকচুয়ারি তৈরী করা হয়েছে যেখানে এখন গরুড় পাখির সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। আসামেও এদের একটি ব্রিডিং জোন আছে।

এখানে একটি কথা ভাবার আছে। সাপমার ঈগল (Crested Serpent Eagle) স্বভাবতঃই সাপ খায়। এমন কি হতে পারে যে ভারতে সর্পখাদক পক্ষি হিসাবে গরুড়ের ধারণাটি এই ঈগল থেকেই এসেছে?

 

গরুড় পাখি

আবার অন্যদিকে চিন্তা করলে ভারতে যে দুটি পাখিকে গরুড় পাখি মনে করা হয়, তার মধ্যে সাপমার ঈগল নেই। অথচ শঙ্খচিল বা ব্রাহ্মিণী কাইট স্বভাবতঃ স্ক্যাভেঞ্জার এবং প্রধানতঃ মরা মাছ ও মরা কাঁকড়া খায়। সাপ এদের খাদ্য নয়। হারগিলে বা গ্রেটার অ্যাডজুট্যান্টও প্রধানতঃ মরা জন্তুই খায়। তাহলে এদের কেন গরুড় পাখি বলা হয়? আসল রহস্যটা কী কে বলবে?
ভারতের বাইরে ইন্দোনেশিয়ায় জাভান হক-ঈগলকে (Nisaetus bartelsi) গরুড় পাখি বলে মনে করা হয়। প্রসঙ্গতঃ, এই পাখিটি ইন্দোনেশিয়ার স্টেট বার্ড।

যাই হোক, গরুড় (garur) সম্বন্ধে তো অনেক কিছু জানলাম। এখন চলুন গরুড় মন্দিরে।

 

গরুড় মন্দির 

বড় রাস্তার পাশেই একটি গেট। সেই গেট দিয়ে ঢুকে একটা পায়ে চলা রাস্তা দিয়ে কিছুটা নীচুতে নামলে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির। সেখান থেকে সিঁড়ি দিয়ে আরও কিছুটা নীচে নামলে বাঁদিকে প্রাচীন গরুড় মন্দির, ভিতরে গরুড়ের বিগ্রহ। আর সামনে ছলছল শব্দে বয়ে যাচ্ছে একটি পাহাড়ি নদী। এই নদীটিই গরুড় গঙ্গা, এবং এটি গিয়ে অলকনন্দায় পড়েছে। স্বচ্ছ জলের মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে নদীর বেডে নানা রং, আকার ও আকৃতির অজস্র নুড়ি। এখানে এই পাথরগুলিই গরুড়দেবতার প্রসাদ হিসেবে গণ্য হয়। ভক্তরা নদীর জল থেকে নুড়ি সংগ্রহ করে পুরোহিতের হাতে দেন। পুরোহিত সেই পাথরগুলিতে মন্ত্র পড়ে বিগ্রহের পায়ে ছুঁইয়ে ভক্তদের ফেরত দেন বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য।
বলা হয় যে এখানে গরুড় তপস্যা করেছিলেন

এই গরুড় মন্দির এবং গরুড় গঙ্গাকে নিয়ে অনেকগুলি ইন্টারেস্টিং গল্প ও ঘটনা আছে। চলুন সেগুলি একে একে শোনা যাক

গরুড়শিলা

গরুড় গঙ্গা নদীতে যে নুড়ি পাথরগুলি পাওয়া যায়, সেগুলিকে স্থানীয় মানুষেরা গরুড় শিলা বলেন (নারায়ণ শিলার কথা মনে পড়ছে?)। ভক্তদের বিশ্বাস এই যে এই পাথরগুলিকে গরুড় মন্দিরে পূজা করিয়ে বাড়িতে রেখে দিলে বাড়িতে সাপ আসবে না।
২) গরুড় মন্দিরে পূজা দিলে কালসর্প দোষ কাটে।

 

 

গরুড় গঙ্গার জল পান

৩) এবং এইটিই সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গরুড় গঙ্গার জল পান করলে বা গরুড় শিলা জলে ঘষে সেই জল খেলে নাকি প্রেগন্যান্ট মহিলাদের সিজারিয়ান সেকশন না হয়ে নর্মাল ডেলিভারি হয়। রিসেন্টলি স্থানীয় সাংসদ লোকসভায় এই মর্মে বিবৃতি দিয়ে একটি বিশাল বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তবে একটা কথা, মাননীয় সাংসদ বাগেশ্বরের গরুড় গঙ্গার কথা বলেছেন, না এই পাখি গ্রামের গরুড় গঙ্গার কথা বলেছেন, সেটা ঠিক স্পষ্ট নয়। আর বাগেশ্বরের গরুড় গঙ্গা ও পাখি গ্রামের গরুড় গঙ্গার একই নদী কিনা তা আমার ঠিক জানা নেই।

 

কিন্তু প্রশ্নটা কোন গরুড় গঙ্গা তা নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হল গরুড় গঙ্গার জলের সিজারিয়ান-নিরোধক ক্ষমতা নিয়ে।
আমি নিজে গাইনিকোলজিস্ট, সারা জীবন ঐ সিজারিয়ান সেকশন আর নর্মাল ডেলিভারি নিয়ে কেটে গেল। কাজেই এই ব্যাপারে আমার ভীষণ ইন্টারেস্ট আছে। খবরে দেখলাম সাংসদ মশাই দাবী করেছেন গরুড় গঙ্গার জল এবং পাথর নিয়ে গবেষণা করে দেখতে হবে ওদের মধ্যে কী রহস্য লুকিয়ে আছে। এর উপরে আবার Uttarakhand State Council for Science & Technology-র ডিরেক্টর জেনারেল সাংসদের দাবীকে সমর্থন করে ব্যাপারটিকে আরও ঘেঁটে দিয়েছেন।
যাই হোক, এর শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

আরও পড়ুন https://bengali.koulal.com/thailande-vishnu-aradhana/

উপসংহার

পরের বার গাড়িতে বদরিনাথ গেলে পাখি গ্রামে নামুন।  গরুড়ের মন্দিরটি দেখে নিন। আর বিশ্বাস থাকলে দুয়েকটি গরুড়শিলা নিয়ে এসে বাড়িতে রাখতে পারেন। লাভ না থাক, ক্ষতি তো নেই।

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, পাখি গ্রাম
লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, পাখি গ্রাম

ছবি–লেখক


Share your experience
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।

1 thought on “গরুড় প্রসঙ্গঃ দেবতা,গঙ্গা, গরুড় মন্দিরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

Comments are closed.