হেনরি মার্টিন প্যাগোডা শ্রীরামপুরের রাধাবল্লভ জীউর প্রাচীন মন্দির

Share your experience
  • 374
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    374
    Shares

হেনরি মার্টিন প্যাগোডা আগে পরে
হেনরি মার্টিন প্যাগোডা আগে পরে

সুমন্ত বড়ালঃ  হেনরি মার্টিন প্যাগোডা   আসলে এক প্রাচীন হিন্দু মন্দির  যা শ্রীরামপুরের রাধাবল্লভ জীউর প্রাচীন মন্দির।বহুধা বৈচিত্র্যময় এক প্রাচীন সৌধ। এবং এই ঐতিহাসিক সৌধ টিকে দেখতে হলে আপনাকে আসতে হবে শহর শ্রীরামপুরে। হাওড়া ওয়াটার ওয়ার্কের প্রাঙ্গণে। যার স্থানীয় নাম জলকল। ঝোপঝাড়ে ঢাকা এই অঞ্চলে মাথা উচুঁ করে রয়েছে প্যাগোডাটি। ষোড়শ শতকের সৌধ। সরকারি হিসাবে এর নাম ” হেনরী ম্যার্টিন প্যাগোডা। আর স্থানীয়দের কাছে জলকল মাঠের ভাঙা মন্দির। যা প্রকৃতপক্ষে শ্রীরামপুর শহরের প্রাচীন রাধাবল্লভ জীউর প্রাচীন মন্দির।

রাধাবল্লভ
রাধাবল্লভ

হেনরি মার্টিন প্যাগোডার প্রকৃত ইতিহাস

সৌধের ইতিহাস জানতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ষোড়শ শতকে। তৎকালীন সময়ে জনৈক বৈষ্ণবসাধক ছিলেন রুদ্র রাম পন্ডিত। আরাধ্য দেবতার স্বপ্ন আদেশ পে্লেন এবং  গৌড়ের রাজপ্রাসাদ গেলেন। বাদশাহের হিন্দু প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় একটি শিলাখণ্ড আকনা গ্রামে নিয়ে আসেন এবং পুজা শুরু করেন। পরে এই শিলাখন্ড থেকে বৃন্দাবনের শিল্পীদের দিয়ে রাধাবল্লভ জীউর বিগ্রহ নির্মাণ করেন।১৫৭৭ খ্রীষ্টাব্দে ভক্তদের সহায়তায় একটি আটচালা মন্দির নির্মাণ করেন। সেই থেকে আকনা গ্রামের নাম হয় বল্লভপুর।স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী ১৫৭৭ সালে নির্মিত সেই আটচালাই এই সৌধটি।

হেনরি মার্টিন প্যাগোডা
হেনরি মার্টিন প্যাগোডা

ষোড়শ শতকের চালামন্দির

ষোড়শশতকে চালা স্থাপত্যের মন্দিরের দৃষ্টান্ত   হেনরি মার্টিন প্যাগোডা। পোড়ামাটির পদ্ম, কল্পলতার কাজ এই মন্দিরে শোভা পেত। কিন্তু ১৮৬৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মন্দিরের কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়ে। রাধাবল্লভ জিউ বিগ্রহকে নতুন মন্দিরে স্থানান্তরিত করা হয়। মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। অতঃপর এই বিশাল পরিত্যক্ত ভগ্ন মন্দিরটিকে রেভারেন্ড ডেভিড ব্রাউন ক্রয় করেন । এরপর স্থানীয় পাদরী হেনরী মার্টিন ১৮০৬ থেকে অবস্থান করেন এখানে । তিনি এই মন্দিরকে গির্জায় রূপান্তর করেন। দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়।প্রথমতঃ মন্দির হয়ে যায় গির্জা ।দ্বিতীয়তঃ হিন্দুধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্মের উপাসনালয়ে পরিণত হয়।

হেনরি মার্টিন প্যাগোডা থেকে প্যাগোডা রাম

পরবর্তী সময়ে শ্রীরামপুরে এবং আশে পাশে অনেক গুলি গির্জা নির্মিত হয়।  সেই কারণে  এই স্থানের গির্জা স্থানান্তরিত হয়।  সেই  জন্য  মন্দিরটি পরিত্যক্ত  অবস্থায় পড়ে থেকে। পরিত্যক্ত এই সৌধতে একসময় মদ তৈরী করা শুরু হয়েছিল ।এবং এই মদ ” প্যাগোডা রাম ” নামে খ্যাত ছিল। এই সকল ঘটনা সবই  শতাব্দী প্রাচীন।

হেনরি মার্টিন প্যাগোডা
হেনরি মার্টিন প্যাগোডা

হেনরি মার্টিন পাগোডা অবশেষে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের

একসময় মন্দিরটি  ভারতসরকারের প্রত্নতত্ত্ববিভাগ অধিগ্রহণ করে। পুরাতত্ত্ব আইনে বর্তমানে সংরক্ষিত মন্দিরটি। সেখানে লেখা আছে–” This building was occupied by the Missionary Henry Martyn , 1806 “।

আরও পড়ুন- –https://bengali.koulal.com/thailande-vishnu-aradhana/

প্যাগোডার সংস্কার

প্রায় পাঁচশো বছরের কাছাকাছি এই প্রাচীন সৌধটি  এবং বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সৌধটিকে ঘিরে ঘন জঙ্গল  ও  ঝোপঝাড় হয়েছিল। দিনের বেলায় মানুষ জন এই যায়গায় যেতে পারতো না। গঙ্গাতীরের এই সৌধটি স্থানীয় মানুষদের কাছে ভাঙা মন্দির হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই মন্দিরের রূপ সম্পুর্ণ বদলে গেছে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে মন্দির টিকে সম্পুর্ণ রূপে সংষ্কার করা হচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে মন্দিরের সংষ্কার শুরু হয়। আর ২০২০ তে সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন এটি দেখার মতো সম্পদ।

উপসংহার

প্রাচীন সৌধটি তার সমস্ত ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দর্শকের জন্য।  সৌধের প্রতিটি কোণ থেকে যেন ইতিহাস গল্প বলে চলেছে। আপনিও চলে আসুন।দেখে যান এই অনাদৃত রত্নটিকে।

হেনরি মার্টিন প্যাগোডা সংস্কারের পরে
হেনরি মার্টিন প্যাগোডা সংস্কারের পরে

ছবি–লেখক


Share your experience
  • 374
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    374
    Shares

Facebook Comments

Post Author: সুমন্ত বড়াল

সুমন্ত বড়াল
সুমন্ত বড়াল লেখক ক্ষেত্রসমীক্ষক ও সংস্কৃতিসংগঠক

1 thought on “হেনরি মার্টিন প্যাগোডা শ্রীরামপুরের রাধাবল্লভ জীউর প্রাচীন মন্দির

Comments are closed.