প্রসিদ্ধ জগাতিঘাটা ও মা সেজোবিবি

Share your experience
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    32
    Shares

দীপঙ্কর নস্কর

গ্রামময় নিম্নগাঙ্গেয় অঞ্চলের প্রত্যন্ত জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। একদা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলারভূমিভাগের প্রায় মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত ছিল পুণ্যসলিলা আদিগঙ্গা। আদি গঙ্গার তীরেই গড়ে উঠেছিল অসংখ্য ‘ঘাট’। আদিগঙ্গা আজ প্রায় পুরোপুরি মজে গেলেও স্থলভাগে থেকে যাওয়া ‘হাট’, ‘তীর্থস্থান’, ‘শ্মশান ঘাট’ ‘মজা ঘাট’ ‘বাণিজ্য ঘাট’ সমূহ এখনও বিদ্যমান। তবে ‘ঘাট’ যুক্ত শব্দ মাত্রেই খেয়াঘাট, শ্মশানঘাট, বাণিজ্য ঘাটকে শুধুই ইঙ্গিত করে না। অনেক সময় ঘাটের উপাদান, নদী বা ঘাটের প্রকৃতি, কখনও বা সম্প্রদায় কিংবা ব্যক্তিনামে ‘ঘাট’ কথাটি যুক্ত হয়ে স্থান নাম তৈরি করেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, জগাতি ঘাটা, তুলসীঘাটা, কাশীপুর ঘাট, ইটল ঘাটা, বৈষ্ণবঘাটা, বারুণিঘাট, জনার্দনপুরঘাট, বাবুঘাট, নিকারিঘাট, বালিঘাট প্রভৃতি।

নিম্নগাঙ্গেয় ভূমিভাগের মধ্যে আদিগঙ্গা ও তার শাখানদীগুলির যে সব প্রাচীন ঘাটের কথা জানা যায়, ‘জগাতিঘাটা’ তার মধ্যে অন্যতম। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ডায়মন্ডহারবার লাইনে দক্ষিণ দুর্গাপুর রেলস্টেশন থেকে সোজা পশ্চিম দিকে কিছুটা গ্রামের রাস্তা দিয়ে এগোলে গন্ত্যবস্থলে পৌছনো যায়। আলোচ্য প্রত্নস্থলটি মাগুরা পরগণার অন্তর্গত ধনবেড়িয়া ও দঃ বাদদহ মৌজার অন্তর্গত স্থান বিশেষ। বর্তমানে জগাতিঘাটা বারুইপুর মহকুমার মধ্যে শিখরবালি ২নং পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একটি জনপদ। অতীতে এ অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদী সমূহ দিয়েই ফেরি পারাপার ও ব্যবসা বাণিজ্য চলত। আলোচ্য অঞ্চলটি ছিল একদা প্রত্নস্থল ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

ক্ষেত্রসমীক্ষা থেকে জ্ঞাত আদিগঙ্গার একটি শাখানদী বর্তমানে পরিলক্ষিত সংকীর্ণ খালটি পশ্চিমদিক থেকে প্রবাহিত হয়ে জগাতিঘাটায় পড়েছে। খালটি বর্তমানের ম্যাপ অনুসারে জগাতিঘাটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত বিষ্ণুপুর থানার জুলপিয়া-আঁধারমানিক গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বে মগরাহাট থানার মনিরামপুরের মধ্যে দিয়ে জগাতিঘাটায় এসেছে। এরপর এই স্রোত ধারাটি স্থানীয় তুলোর বাদায় পতিত হয়ে আদিগঙ্গার মূল ধারায় মিলিত হয়ে মুলটি, বনসুন্দারিয়া, হংসগেরিয়া, মাখালিয়া, দুলালপুর, গঙ্গাদোয়ারা, খাকুরদহ হাট হয়ে দঃ বারাসাত- বিষ্ণুপুরের উপর দিয়ে পূর্বমুখী পথে ছত্রভোগ হয়ে সাগরে পতিত হয়েছে।

জগাতিঘাটার নামকরণ প্রসঙ্গে অনেক রূপময় কাহিনী শোনা যায়। সমীক্ষা থেকে লোকশ্রুতি অনুসারে জানা যায়, অতীতে এই শাখানদীটি সুবিস্তৃত ছিল আর এখানে নদী-নৌকা পারাপারের একটি বিখ্যাত খেয়াঘাট ছিল। সম্ভবত এই খেয়াঘাটের তৎকালীন সরকারী স্বীকৃতি ছিল ‘কুঁদঘাট’ হিসাবে। মধ্যযুগীয় মঙ্গলকাব্যের যুগে এই ঘাটের যাত্রী ও পণ্য কর আদায় করতেন ‘জগাতি’ নামের এক মধ্যযুগীয় ঐতিহাসিক ব্যক্তি বিশেষ। তিনি যে এতদ অঞ্চল বা এই ঘাটের প্রধান ছিলেন তার প্রমান লোককথাতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। অনুমান পরবর্তীকালেতাঁর নামানুসারে এই প্রসিদ্ধ খেয়াঘাটের নাম হয় ‘জগাতিঘাটা’। এর স্বপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ আমরা ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের আশ্রয় নিতে পারি। ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের অতি প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ (১৬৩৮ বা ১৬৩৯খ্রি.) তাঁর লেখনীর মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচ্য জগাতিঘাটা বা জগাতিঘাটের উল্লেখ করেছেন। এর থেকে অনুমিত ঘাটের নাম সহ স্থানটি জগাতি বা জগাদি অবশ্যই।

গবেষক কৃষ্ণকালি মণ্ডলের মতে, কবি ক্ষেমানন্দ জগাতি কথার অর্থ বলতে সমগ্র জগতের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর কথা উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ মা জগাতি অন্য অর্থে মা মনসার নামানুসারে এই ঘাটের নাম। আলোচ্য প্রত্নস্থলে বর্তমানে মা মনসার সাথে বেহুলা লক্ষ্মীন্দর ও জগাতি একই মন্দিরে পূজিত হয়ে আসছে। এক্ষণে ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের বিশেষ অংশ উল্লেখ অবশ্যই প্রয়োজনীয় সুত্র। কবি বলেছেন, সর্পাঘাতে বাসরঘরে সদ্য মৃত স্বামী লখিন্দরকে নিয়ে সতী বেহুলা কলার ভেলা বা মান্দাসে করে ভাসতে ভাসতে গঙ্গা নদীর স্রোতে যখন বাংলার দক্ষিণ দিকে এগিয়ে চলেছেন, তখন কবি তাঁর কাব্যের বর্ণনায় কুকুরঘাটা নামে কোন এক নদীঘাট থেকে বেহুলার এই জগাতিঘাটায় উপস্থিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। যথা;-“হাসিয়া কুকুরঘাটা ভাসিল যুবতী।

সেই ঘাটে দান সাধে ঘাট্যাল জগাতি।।

সেই ঘাটে ভাস্যা আইল কলার মান্দাস।

জগাতি যুবতী দেখি করে উপহাস।।

রাখহ মান্দাসখানি শুনহ সীমন্তিনি।

কলার মান্দাসে চাপি জলে ভাসি কেনি।।

কুলটা চরিত্র তোর বুঝি অনুমানে।

জগাতি ঘাটায় আজি বিকাইবে দানে”।।

কাব্যের পরবর্তী ভাগে কবি বেহুলার স্বর্গ থেকে ফিরে আসার বর্ণনা প্রসঙ্গে জগাতি ঘাটের আবার উল্লেখ করেছেন। যথা;- “জলেতে ভাসিয়া যাহ নাহি লব দান।

বেহুলা কহিল তোমা সবার কল্যাণ।।

হরিষে জগাতিঘাটা ভাসিল যুবতী।

ক্ষেমানন্দ বলে দোষ ক্ষমহ জগাতি”।।

লোকশ্রুতি এবং ক্ষেমানন্দের কাব্য থেকে জগাতি ঘাটার নামের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ মিলেছে। এই ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের রচনাকাল আনুমানিক ১৬৩৮ বা ১৬৩৯ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ অর্থাৎ মুঘল বাদশাহ আকবর উত্তরকালে। কিন্তু আলোচ্য জনপদের থেকে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তু গুলির প্রাচীনত্বের নিরিখে অনুমান করা যায় আলোচ্য অঞ্চলটি পাল-সেন আমলের সমসাময়িক। একদা এই প্রাচীন প্রসিদ্ধ ঘাটসহ জনপদটি ছিল বেশ জনবহুল ও সমৃদ্ধ। অনুমিত আলোচ্য ঘাট ও জনপদ বহু প্রাচীন। কবির কাব্যে লিখিত জগাতিঘাটার নাম স্থানটির প্রাচীনত্বের ধারক ও বাহক। কারন গাঙ্গেয় নদীপথে ঘাটটির জনপ্রিয়তা বা সুপরিচিতি ছিল ও একদা মাঝি-মাল্লা সাধারণ মানুষ এই জলপথ ব্যবহার করত, এমনকি কবি এই ঘাট সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ছিলেন।

আলোচ্য জনপদের লোকসংস্কৃতির বেশ কিছু প্রাচীন স্মৃতিবহুল চিত্র তুলে ধরব। বর্তমানে সমীক্ষা থেকে জ্ঞাত, সময়ের নিরিখে কতকগুলি লৌকিক দেবদেবীর মন্দির আজ এখানে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও তাদের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সন্দেহ আছে। স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকদের মতে বেশীরভাগ মন্দির নতুন, এগুলির বয়স ৭০ বা ৮০ বছর এর অধিক নয়। এগুলি হল দেবী শীতলা ও জ্বরাসুরের মন্দির, মহাকাল ও মহাকালীর মন্দির, গৌর-নিতাই এর মন্দির। পাশাপাশি পঞ্চানন্দের মন্দির এবং মা মনসা, লক্ষ্মীন্দর-বেহুলা ও জগাতির মন্দির অবস্থিত।তবে প্রাচীন বট-অশ্বত্থ বৃক্ষের নীচে অবস্থিত প্রধান থান বা মন্দিরটি অতি প্রাচীন। এটি একটি বিবি মাতার (সেজোবিবি)মন্দির, এর আনুমানিক বয়স ২০০-৩০০ বছরের অধিক। এই সুপ্রাচীন মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলা অনুষ্ঠিত হয় জগাতিঘাটায়। মেলাটি হয়ে আসছে চিরায়ত কাল থেকে বাংলা চৈত্র মাসের ১৬ বা ১৭ তারিখে। এইসব লৌকিক দেবদেবীকে ঘিরে এতদ অঞ্চলের মানুষের প্রাণোচ্ছল আনন্দ-উদ্দীপনার অন্ত নেই। নিম্নগাঙ্গেয় ভূমিভাগে সাধারণত এই প্রাচীন প্রসিদ্ধ জনপদের লোকউৎসব ‘জগাতিঘাটার মেলা’ নামে পরিচিত।

জগাতিঘাটার বিবিমা- ধর্মসমন্বয়ের পরিচিত দেবী। তিনি পরিচিত ও পূজিত লোকায়ত সাতবিবির মধ্যে ‘সেজোবিবি’ রূপে। তিনি নিম্নগাঙ্গেয় এতদ অঞ্চলের এক বিরল কল্যাণময়ী দেবী। ক্ষেত্রসমীক্ষা থেকে জ্ঞাত এই সাতবিবির অবস্থান, আলিদায় বড়বিবি, চণ্ডীপুরে মেজোবিবি, জগাতিঘাটায় সেজোবিবি, কালিকাপুরে চতুর্থবিবি, হেরিয়াতে পঞ্চমবিবি, তসরলাতে ষষ্টবিবি এবং উস্তিতে ছোটবিবি পূজিত হয়ে আসছেন। আলোচ্য বিবিমায়ের ‘থান’টি স্থাপত্যে মন্দিরের রীতি নেই। তবে গ্রামের চারচালা বিশিষ্ট ঘর বলা যেতে পারে, এর মধ্যে দেবীমায়ের অধিষ্ঠান। এই পূজার দায়িত্ব পালন করে আসছেন হেরিয়া থেকে আগত মুসলিম ফকির সাহেব। এই দেবীমাকে কেন্দ্র করে তিন-চারদিন উৎসবে মুখরিত হয় এই অঞ্চল। বহু প্রাচীনকাল থেকে মেজোবিবিকে কেন্দ্র করে এই মেলা, লোক অনুষ্ঠান ও আশ্চর্য এক সমন্বয়মূলক পুজাচার প্রবর্তিত রয়েছে।

উক্ত মেলাকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক আদান-প্রদানের মধ্যে দিয়ে এক বিশ্বাসময় সমপ্রাণতার, হৃদ্যতার সম্পর্ক নির্মাণ করে। স্বাভাবিক ও সহজাতভাবে এই মিলন ঘটে থাকে। মেলাতে এসে বোঝা যায় হৃদয়ের টানে, বিশ্বাসে ও ভরসায় অমোঘ এক মেলবন্ধন তৈরি হয় দেবী মায়ের আশ্রয়ে।মেলার দিনগুলিতে সারা রাত্রিব্যাপী ঘাট সংলগ্ন প্রাঙ্গনে চলে পাঁচালগান, যাত্রাপালা, গাজন, পুতুলনাচ, দেবী মায়ের পালাগান প্রভৃতি। বিশাল বড় মাঠে সারি সারি দোকান। দোকানগুলির বৈচিত্র, বিভিন্ন ্মনাকর্ষণ খেলা ও নানাধরনের নাগরদোলার বৈভব চোখে পড়ার মত। এছাড়া বিভিন্ন খেলনার দোকান, মনোহরি তৈজসপত্র, মাটির জিনিস, তেলেভাজা, মিষ্টি ও বিভিন্ন লোভনীয় খাবারের দোকানে গমগম করে স্থানটি। বাইরের এই আনন্দ বিনোদনের অন্তরালে চলে বিভিন্ন দেবদেবীর আরাধনা। বহুধর্মের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সহাবস্থানে মেলা প্রাঙ্গণটি প্রীতির সৌরভে মুখরিত হয়। বিবি মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকেন মুসলিম খাদেম(তিনি মৌলবি নন, পারিবারিক অধিকার সুত্রেই দায়িত্বপ্রাপ্ত)।

জগাতিঘাটার মেলার প্রথমদিন দুপুরের পর থেকে শুরু হয় লোকাচার। এই লোকাচারের মধ্যে জেগে ওঠে সমন্বয়ের অখণ্ড প্রতিচ্ছবি। এখানকার মানুষ যেন নিজেদের ‘আচরণ ও বিশ্বাস’ দিয়ে সহজাতভাবে শিখিয়ে দেন বাংলার ধর্মীয় বিভেদ থাকলেও তাদের শিকড় একই সংস্কৃতিতে প্রোথিত। গ্রাম-গ্রামান্তরের মানুষ দেবীর উদ্দেশ্যে পূজার উপাচার তুলে দেন মুসলিম ফকির সাহেবের হাতে। যারা আসেন সবাই জগাতিঘাটার দেবত্ব সম্বন্ধে এক অলৌকিক ধারনা পোষণ করেন। তাঁদের মতে এখানে পূজা ও মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। বাদ্যসহকারে ভক্তবৃন্দ(নারী, পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে) দেবীর ‘ছলম’ নিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণে বের হয়। প্রায় শতাধিক দেবী মূর্তি সারি সারি ভাবে স্থানীয় পটুয়া বা পোটোদের (যতিন মিস্ত্রি, কার্তিক মিস্ত্রি, বর্তমানে স্বপন চক্রবর্তী) বাড়ি থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে ভক্তরা কিনে নিয়ে পূজা ও মানত পূরণ করতে আসেন। দেবীর ‘ছলমে’ গর্ভগৃহ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বসন্তের পড়ন্ত বিকালে জগাতিঘাটা প্রাঙ্গনে শুরু হয় ‘গণ্ডী’ দেওয়ার অনুষ্ঠান। সারাদিন নির্জলা উপোস করে হিন্দু নারী ও পুরুষ ইতিহাস প্রসিদ্ধ ঘাট সংলগ্ন পুকুর থেকে স্নান করে গণ্ডী দিতে দিতে দেবী মায়ের থান বা মন্দিরকে কেন্দ্র করে সাত বা পাঁচ পাক প্রদক্ষিণ দিয়ে শেষ করেন। এরপর শুরু হয় বিশেষ লোকাচার ধূনা পোড়ানো অনুষ্ঠান। এই দৃশ্য দেখার জন্য মানুষ কাতারে কাতারে হাজির হয় মেলা প্রাঙ্গনে। বহু মানুষের সমাগমে এক অপরূপ দৃশ্য প্রত্যক্ষ হয়। যে সকল ভক্ত গণ্ডী দেন তাঁরা সারিবদ্ধ ভাবে মন্দির সম্মুখে বসেন। তাঁদের মাথায় গামছার আলটা, হাতে কাদার মণ্ড দিয়ে তার উপর মালসা বা সরা করে জ্বলন্ত আগুনের পাত্রটি রাখা হয় এবং সেই প্রজ্বলিত মালসা বা সরা কুণ্ডে ধূনা দিয়ে বিভিন্ন আদব কায়দায় আগুনের শিখার খেলা দেখান। এই কাজে স্থানীয় আচার্য, ফকির সাহেব, ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। সম্পূর্ণ আচার শেষ হওয়ার পর ভক্তবৃন্দ খুশি মতো মন্দিরে দক্ষিণা প্রদান করেন ও নিজ মনস্কামনা পুরনের জন্য দেবীর পায়ে নিজেকে সঁপে দেন। এরপর শুরু হয় বাতাসা ছড়ানো বা ‘হরিলুট’। মন্দির প্রাঙ্গনে ঐ প্রসাদ বাতাসা সংগ্রহের জন্য মানুষের ঢল নামে। এই অনুষ্ঠান ক্রিয়ার মধ্যে আছে সমন্বয়ের সুপ্ত চেতনা। মায়ের দীপ্ত মুখের স্নিগ্ধ ছটায় জাতি, ধর্ম, গোঁড়ামি, বিদ্বেষ নির্বিশেষে সবাই মহামিলনের প্রসিদ্ধ ঘাটে একই ভাবনায় লীন হয়।

 

তথ্যসুত্র

সুকুমারসেন–বাংলারস্থাননাম, কোলকাতা, আনন্দপাবলিশার্সপ্রাইভেটলিমিটেড, ১৯৮০, পৃষ্ঠা২১

KrishnapadaGoswami – Place names of Bengal, Jana prakasan, Kolkata, 1984, p.125

যোগেশচন্দ্ররায়বিদ্যানিধি–গ্রামেরনাম, প্রবাসী, আশ্বিন, ১৩১৭, ১০ভাগ, ষষ্ঠসংখ্যা, পৃষ্ঠা৫৮৭

কৃষ্ণকালী মণ্ডল – সুন্দরবনের সংস্কৃতি ও প্রত্ন ভাবনা, নব চলন্তিকা, কোলকাতা, মে ২০১০, পৃষ্ঠা ৭৫

সুখেন্দু নস্কর(সম্পা) – আলোকপাত এক আন্দোলনমুখী সাহিত্যপত্র, উৎসব সংখ্যা, অক্টোবর-মার্চ ২০০৬-২০০৭, পৃষ্ঠা ৮

 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

স্বপন চক্রবর্তী, বয়স ৬৯, দঃ বাগদহ।

অঞ্জন লস্কর, বয়স ৮৫, হেরিয়া।

ভূধর নস্কর, বয়স ৭৫, চন্দনপুকুর।

জয়দেব মণ্ডল, বয়স ৭০, ধান্যবেড়িয়া্যন।

 

আলোক চিত্র – লেখক স্বয়ং।

 

 

Digiprove sealCopyright secured by Digiprove © 2019 Koulal Koulal


Share your experience
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    32
    Shares

Facebook Comments

Post Author: দীপঙ্কর নস্কর

Dipankar Naskar
The author Prof. DipankarNaskar was born in Dulalpur village, South 24 Parganas in 1982. At present he is teaching UG students at Bidhan Chandra College, Asansol (KaziNazrul University) and is Guest faculty PG at RabindraBharati University (DDE), Department of History (DakshinBarasat, D.C.H College). The chief interest of the author is in Modern Indian Economic History, Women’s Studies,Regional Historiography, Search of Ancient Architecture, Folk culture of South BengalandSanskritization of Marginal Society. Some of his papers published in different national and Inter-national journals and Books