ঝুলনে নৌকাখণ্ড মূর্ত হয়ে ওঠে শ্রীরামপুরের তিন মন্দিরে

Share your experience
  • 820
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    820
    Shares

ঝুলনে নৌকাখণ্ড মূর্ত হয়ে ওঠে মন্দির শহর হুগলির শ্রীরামপুরে। বিশেষ করে রাধাবল্লভ জিউ,মদনমোহন জিউ আর দ্বারকানাথ জিউ মন্দিরে।ঝুলনের সেই বিচিত্র আলেখ্য লিখেছেন সুমন্ত বড়াল

"<yoastmark

ঝুলনে নৌকাখণ্ড শ্রীরামপুর শহরে

হুগলি জেলার আধুনিকতায় ভরা ইতিহাস ঐতিহ্য আর চাকচিক্যে মোড়া মহকুমা শহর শ্রীরামপুর। এই শহরের গল্প শুরু করলে থামাই মুশকিল। এই শহরকে মন্দিরের শহর বললেও ভুল হবেনা। শহর জুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি মন্দির।যে মন্দির গুলিকে বাদ দিলে হুগলী জেলার ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এমনই তিন শতাব্দী প্রাচীন মন্দির-রাধাবল্লভ জিউ , মদনমোহন জিউ আর দ্বারকানাথ জিউর মন্দির।

ঝুলনে নৌকাখণ্ড তিন মন্দিরে

শ্রাবণ মাসের পাঁচদিন এই তিন মন্দির তার আশপাশের অঞ্চল মেতে ওঠে ঝুলন উৎসবের আনন্দে। আলোর মালায় সেজে ওঠে মন্দির গুলি ।পাঁচদিনে পাঁচ রকম সাজ। এবড় মজার উৎসব । রাধাবল্লভ মন্দিরে যখন রাধাবল্লভ জিউ রাজবেশে সেজেছেন , মদনমোহন জিউ তখন রাখাল বেশে সজ্জিত। দ্বারকানাথ তখন হয়ত কৃষ্ণকালীর সাজে।এই তিন মন্দিরে প্রাচীনকাল থেকে এই একই নিয়েমে রীতি মেনে পালিত হচ্ছে ঝুলন উৎসব । তবে বর্তমানে উৎসবের বহর এবং চাকচিক্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে । ঝুলন উৎসবের শেষদিন অর্থাৎ রাখী পূর্ণিমার দিন– তিন মন্দিরেই এক বিশেষ উত্সব পালিত হয় । স্থানীয়দের কথায় নৌকাখন্ড।সখী পরিবেষ্টিত হয়ে ভগবানের নৌকা বিলাস।

"<yoastmark

নৌকাবিলাস তত্ত্বকথা

নৌকা বিলাস কৃষ্ণ লীলার এক মনোমুগ্ধ লীলা। ঝুলন উত্সবের বাকি চারদিনে গোবিন্দ কখনো রাখাল আবার কখন রাজা। কিনা নৌকা বিলাসের দিন তিনি মাঝির বেশে।গোবিন্দসকে ঘিরে শ্রীরাধিকা আর অষ্ট সখীগণ। ষোল আনা পারানির কড়ি না দিলে এই মাঝি নদী পা্র করবেনা। এখন প্রশ্ন ষোলো আনা কেন? লীলা বিশ্লেষণে তাত্ত্বিক দিকের দিকে একটু চোখ ফেরাতেই হয় ।

আসলে এই ভবনদের মাঝি শ্রীকৃষ্ণ। জীবনের ষোল আনা অর্থাৎ জীবনের সবটুকু গোবিন্দের শ্রীচরণে নিবদন করলে পার হওয়া যায়। কিন্তু কিভাবে এই ষোল সংখ্যা? লীলার পদকর্তা রা বলছেন ছয় আর দশে মিলে ষোল। অর্থাৎ ষড় রিপু আর দশ দিকের সবকিছুই শ্রীকৃষ্ণ এর কাছে নিবেদন করো তাহলেই মুক্তি পাবে।

এই কঠিন তত্ত্ব কথা মাঝি আর গোয়ালীনি সখীদের নদী পারাপারের দরকষাকষিতে কি সহজেই বোঝানো হয়েছে এই নৌকাবিলাস লীলায়। এই সবকিছু নিয়ে শ্রীরামপুর শহরের এই তিন মন্দির ঝুলন উৎসবের শেষ দিনে মেতে ওঠে। তবে রাধাবল্লভ মন্দির ও মদনমোহন মন্দিরের উত্সব এর জাঁকজমক অনেকটা বেশী।

নৌকাখণ্ড
নৌকাখণ্ড

রাখিপূর্ণিমায় নৌকাবিলাস

রাখী পূর্ণিমার দিন বলে সকাল থেকে ভক্তদের ঢল নামে। এদিন বিগ্রহগুলিকে সিংহাসনে বসিয়ে বাইরের চাতালে নিয়ে আসা হয়। ভক্তরা রাধাবল্লভ জীউ এর হাতে রাখি পড়িয়ে দেন।একটা বিষয় উল্লেখ করতেই হয় এই রাখি উত্সবকে কেন্দ্র করে শ্রীরামপুর শহরের ফুলের রাখি খুব জনপ্রিয়।

 

উৎসবের নানা রঙ

সকাল গড়িয়ে দুপুর নামে। মূল উতসবের প্রস্তুতি শুরু হয়। মন্দিরের দালানগুলি তখন কাল্পনিক নৌকার চেহারা নেয়। আলোর মালায় সাজানো হয় সেই নৌকা আর গোধূলি বেলায় সেই নৌকার মাঝি হয়ে নৌকা সামালাতে আসেন গোবিন্দ। যিনি শ্রীরামপুর শহরের মন্দিরগুলিতে কোথাও রাধাবল্লভ, কোথাও মদনমোহন আর কোথাও দ্বার কানাথ হিসাবে পরিচিত। ফুল মালা আলো রোশনাই এ অষ্ট সখী পরিবেষ্টিত নৌকা বিলাস উত্সবের সেই ক্ষণের সাক্ষী হতে শয়ে শয়ে ভক্তগণ ভিড় জমান। জমজমাট পরিমমণ্ডলে এই ঝুলন উত্সবের সমাপ্তি হয়।

কিছু বছর আগেও শ্রীরামপুরে এই ঝুলন উত্সব সার্বজনীন চেহারা নিত। শহরের প্রায় প্রত্যেক পাড়ার কচিকাঁচারা ঝুলন এর সাজ সাজাত। ঘরে ঘরে চলত ঝুলন সাজানো। আর শেষ দিন ছোট বড় নানান আকারের নৌকাতে ভরে যেত শহর। তবে বর্তমান এ এই চল দেখা না গেলেও শহরের চাতারার পটি পাড়া অঞ্চলে বারোয়ারি ঝুলন উত্সব বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালিত হয়।

আরও পড়ুন  অক্রূরের ব্যতিক্রমী রথযাত্রা হতো মৌখালী ও কাশিবাটিতে

তবে একথা বলতেই হয়, নবদ্বীপ , মায়াপুরের মত শ্রীরামপুর বৈষ্ণব পীঠ না হলেও ভক্তি , ভক্ত , মেলা , সবকিছু মিলে শ্রীকৃষ্ণের বর্ষা লীলা সত্যিই এই শ্রীরামপুর শহরে লীলাময় তত্ত্বের কথায় ঝুলন অর্থাৎ হিন্দোল আক্ষরিক অর্থেই সার্থক। এই তিনমন্দিরের ঝুলন উৎসব শহরটাকে আন্দোলিত করে বটে।

প্রাচীন বিগ্রহের সজ্জা
প্রাচীন বিগ্রহের সজ্জা

 ঝুলন -করোনায় ফিকে

হাওড়া বর্ধমান মেন শাখার জনপ্রিয় স্টেশন শ্রীরামপুর .. ট্রেনে এসে সহজে অটো বা টোটো তে করে চলে আসতে পারেন এই তিন মন্দিরে .. রাখী পূর্ণিমার দিন রাধাবল্লভ মন্দির এ ভীড় চোখে পড়ার মতো .. ঝুলন কে কেন্দ্র করে এই মন্দির চত্বরে জমজমাট মেলাও বসে যদিও এবছর করোনা পরিস্থিতির জন্য উৎসবের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে।

দেখুন মানুষ ঝুলন নদিয়ার শান্তিপুরে

 


Share your experience
  • 820
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    820
    Shares

Facebook Comments

Post Author: সুমন্ত বড়াল

সুমন্ত বড়াল
সুমন্ত বড়াল লেখক ক্ষেত্রসমীক্ষক ও সংস্কৃতিসংগঠক