জীতাষ্টমী ব্রত পালন ও শিয়াল শকুনির পুজো বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর গ্রামে

Share your experience
  • 463
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    463
    Shares

"<yoastmark

জীতাষ্টমী ব্রত  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রত পার্বণ।কোথাও ষষ্ঠী রূপে পূজিত হয়।কোথাও আবার জীমূতবাহনের পুজো হয় ঘটা করে।লিখছেন–সোনাই চ্যাটার্জি।

জীতাষ্টমী ব্রত

কথায় আছে ‘বাঙালির বার মাসে তেরো পার্বণ’ , রাঢ় বাংলায় (বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, বর্ধমান) এই কথাটা আরও বেশি সত্য। রাঢ বাংলায় বাঙালির লোকাচারের শেষ নেই। বাঙালি তার আদি লগ্ন থেকে শুরু করে আজ (বর্তমান কাল) পর্যন্ত বিভিন্ন পুজার ক্রিয়াকর্মে লিপ্ত । আজ আমরা বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর গ্রামের জিতাষ্টমী পূজা (ব্রত কথা) ও শিয়াল শকুনির লোককথা সম্পর্কে কিছু বলার চেষ্টা করবো।

বড়ষষ্ঠী -জীতাষ্টমী ব্রত

জিতাষ্টমী পূজাকে অনেকে জীমূতবাহনের পূজো, বড়ষষ্ঠী বলে জানে। প্রবাদে বলা হয় ‘ জিতার ডালায় বোধন আসে ‘ অর্থাৎ জিতাষ্টমীর পরদিন কৃষ্ণানবমী থেকেই দুর্গার বোধন শুরু হয় । বাঁকুড়ার বিভিন্ন গ্রামে এই পূজা পালন করা হয়। আমাদের এক্তেশ্বর গ্রামের জিতাষ্টমী পূজা পূর্বপুরুষ ধরে চলে আসছে । পুরোহিত ভট্টচাজ মশাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছিএই পুজো ২৫০ বছরে পুরানো।

জিতিয়া

কুড়মালি ‘ জিতিয়া ‘শব্দের ,অর্থে জননী। নিরন্ন উপবাস দিয়ে মায়েরা আদিমাতা ষষ্ঠীর পূজা (জিতা ষাইঠ) করেন ঐ দিন। শশাফল কে কাঁধ (কোল ) হড় (মানুষ /সন্তান ) হিসাবে  ব্যবহার  করা হয়। এই পুজা মাতৃত্ব অর্জনের বা সন্তানের শুভ কামনার্থে করা হয়ে থাকে । অনেকে এই দেবীকে প্রসূতি ও শিশুর রক্ষায়িত্রী বলে মনে করেন। যৌথ পরিবারের যাতে ভাঙন না ধরে, ছেলে মেয়েরা যাতে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারে – এর জন্যও এই পুজা করা হয়। পুজার সংকল্পতে উঠে আসে অন্নদামঙ্গলের পাটনীর সেই উক্তি – “ আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”।

 জীতাষ্টমী ব্রতের উপকরণ

পুজার উপকরণ হিসাবে বটগাছের ডাল , ধানগাছ , আখ, হরিদ্রা, প্রভৃতি গাছকে পুজো করা হয় জীমূতবাহন রূপে। পরানো হয় শালুক ফুলের মালা, অপরাজিতা ফুলের মালা। মাটি দিয়ে গড়া  হয় শিয়াল শকুনীর মূর্তি । দুর্গাপূজার সূচনা এই পূজার মধ্য দিয়েই।

 এক্তেশ্বর গ্রামে জীতাষ্টমী ব্রত পালন

বাঁকুড়া এক্তেশ্বর গ্রামের চ্যাটার্জ্জী বাড়ির এই পুজোতে একরাত বিরাট ধুম হয়। আশেপাশের ভিনগ্রাম থেকে লোক আসে পুজো দিতে । অনেকে পুজোর আগের দিন ঘটিতে করে শুকনো কলাই , ঝিঙে, শশা, আতা ও পেয়ারা দিয়ে যায়। আবার পুজোর দিন অনেকে নিয়ে আসে । কেউ কেউ বাটিতে করে চাল আলু দিয়ে যায়। ৪ প্রহরে ৪ বার পুজা হয়, যদিও সময়ের সঙ্গে এই রীতির কিছুটা বদল এসেছে । এখন একেবারেই ৪ প্রহরের পূজা করে দেওয়া হয়। পুজোতে যে যা মানসিক শোধ করে । বটতলার কলাই কাপড়ের খুঁটে বেঁধে নিয়ে যায় পরিবারের কর্তার নাম করে । সংকল্প শুরু হয় গৃহকর্তা, তার স্ত্রী, তার পুত্র-কন্যা- এইভাবে ক্রমান্বয়ে । পরদিন সকালে ভেজানো কলাই যে যার বাড়িতে নিয়ে যায়। আর প্রণাম করে তারস্বরে বলে ওঠে– আসছে বৎসর আবার এসো মা। কচিকাচারা বলে ওঠে আসছে বছর আবার হবে।

আরও পড়ুন– চাপড়া ষষ্ঠী বা চাপড় ষষ্ঠী ব্রত কৃত্যাদিতে ইতিহাসের সংকেত

শিয়াল শকুন পুজো

জিতাষ্টমী পুজার একটি বড় অঙ্গ হল শিয়াল-শকুনী লোককথা। অনেকে শিয়াল শকুনির পুজোও বলে। পূজার পরদিন খুব ভোরে উঠে মাটির শিয়াল –শকুনী গড়ে; হলুদ-সিদুর মাখিয়ে নদীতে নিয়ে যাওয়া হয় । সুর করে ছড়া কাটা হয়-

“ শিয়াল গেল খালে /শকুনি গেলো ডালে
আর বৎসর দেখা হবে ভালু কামারের শালে”
ভালুকামার বলে আদিতে কেউ ছিল বলে জানা যায়। বউ মেয়েরা শিয়াল-শকুনী ভাসিয়ে স্নান করে ঘর থেকে নিয়ে আসা কলাই, মুড়ি, শশা , দিয়ে আহারর পর্ব সেরে বাড়ির পথ ধরে।

 জীমূতবাহন পুজোর ভিডিও দেখুন-


Share your experience
  • 463
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    463
    Shares

Facebook Comments

Post Author: সোনাই চ্যাটার্জি

সোনাই চ্যাটার্জি
সোনাই চ্যাটার্জি-বাঁকুড়ার তরুণ ক্ষেত্রসমীক্ষক।লোকসংস্কৃতি লোকসাহিত্য অনুরাগী।