কালীঘাটের পুতুলশিল্পের লুপ্তপ্রায় ধারা–জন্মাষ্টমী ও ঝুলনের পুতুল

Share your experience
  • 1.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.4K
    Shares

কালীঘাটের পুতুলশিল্পের লুপ্তপ্রায় ধারাটি এখনও টিকে রয়েছে জন্মাষ্টমী ও ঝুলনের পুতুলের মধ্য দিয়ে।অধিকাংশ মহিলাশিল্পী।বংশানুক্রমিকভাবে মূলত মহিলাশিল্পীরা পুতুল তৈরি করে আসছেন।এই শিল্পের অতীত বর্তমান নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন বিশিষ্ট ক্ষেত্রসমীক্ষক–শুভঙ্কর মণ্ডল

কালীঘাটের পুতুল শিল্পের বৈজীবন-জীবিকা-বিষয়ক-পুতুলচিত্র্য-
কালীঘাটের পুতুল শিল্পের  বৈশিষ্ট্য জীবন-জীবিকা-বিষয়ক-পুতুল

কালীঘাট- পটচিত্র ও মাটির পুতুল

বড়িশার সাবর্ণ চৌধুরীদের আনুকূল্যে কোলকাতার নিকটস্থ আদিগঙ্গার তীরে কালীঘাট মন্দির প্রতিষ্টা হওয়ার পরেই সতীপীঠ হিসাবে মন্দিরের জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। বহু দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীরা এই মন্দিরে তীর্থ করতে আসতে থাকেন। একসময় জীবন-জীবিকার টানে অন্যান্য বৃত্তিজীবী মানুষের ন্যায় গ্রাম থেকে বহু পটুয়াও এই অঞ্চলে আসেন এবং নিজেদের বসতি গড়ে তোলেন। উদ্দেশ্য, মন্দির দর্শনার্থীদের কাছে তাঁদের তৈরি পুতুল ও পট বিক্রি করা। ক্রমেই পটুয়াদের তৈরি ত্রিমাত্রিক পুতুলের দ্বিমাত্রিক চিত্রিত সংস্করণ রূপে আত্মপ্রকাশ করল কালীঘাট পটচিত্র যা অচিরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছে গেল। তবে পট আঁকার পাশাপাশি তাঁরা পুতুল তৈরির ধারাটিকেও ধরে রেখেছিলেন। এই প্রবন্ধে কালীঘাটের পটুয়াদের পুতুল নির্মাণের বর্তমান লুপ্তপ্রায় চিত্রটিকেই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

দুই-শিল্পী-ডলি-চিত্রকর-ও-শেফালী-চিত্রকর.
দুই-শিল্পী-ডলি-চিত্রকর-ও-শেফালী-চিত্রকর.

কালীঘাটের পুতুলশিল্পের মহিলাশিল্পী

এককালে কালীঘাটের পটচিত্রকরেরা পট এঁকে তাঁদের যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তা ছাপাইচিত্রের সৌজন্যে অচিরেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তবে তথাকথিত পটুয়াপাড়াটি থেকেই যায়। কালীঘাটের পটুয়ারা বেশিরভাগই চিত্রকর পদবীধারী এবং হিন্দুধর্মাবলম্বী। আজ পটুয়াপাড়ার শিল্পীরা পটচিত্র না আঁকলেও পূজা-পার্বণের মরসুমে প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে করে থাকেন। কালীঘাট পটচিত্র ছাড়াও এখানকার শিল্পীদের সৃষ্ট নানাধরণের পুতুলেরও একসময়ে যথেষ্ট চাহিদা ছিল। তবে সময়ের প্রবাহে তাও আজ অস্তাচলে। সেই পুতুল তৈরির লুপ্তপ্রায় ধারাকে আজও টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এখানকার কয়েকজন মহিলা মৃৎশিল্পী।

মূলত ঝুলন ও জন্মাষ্টমীর সময় এখানকার শিল্পী ডলি চিত্রকর, তাঁর জা শেফালী চিত্রকর, তাঁদের খুড়শাশুড়ি মীরা চিত্রকর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নানান ধরনের মাটির পুতুল নির্মাণ করে থাকেন। ডলিদেবীর কথায় এই পুতুল তৈরির ধারা বংশানুক্রমিক ভাবে পরিবারের মহিলাদের মধ্যে দিয়েই প্রবাহিত হয়ে চলেছে। পুতুলের ছাঁচ তৈরি থেকে রঙের ফিনিশিং সবই মূলত বাড়ির মেয়ে-বৌরা করে আসছেন। তাঁদের ব্যবহৃত বেশীরভাগ ছাঁচ তাঁর দিদিশাশুড়ি স্বর্গীয় চঞ্চলা চিত্রকরের হাতে তৈরি। তবে তার থেকেও পুরাতন ছাঁচগুলি মাটির তৈরি হওয়ায় প্রায় সবই নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষ্ণলীলা-বিষয়ক-পুতুল
কৃষ্ণলীলা-বিষয়ক-পুতুল

তাই আগেকার মাটির ছাঁচগুলিকে তাঁরা বেশিরভাগই প্লাস্টার অফ প্যারিসে স্থানান্তরিত করেছেন। ডলিদেবীর শাশুড়ি স্বর্গীয় রানু চিত্রকরও এই পুতুল বানানোয় পারদর্শী ছিলেন। এমনকি তাঁর শ্বশুর স্বর্গীয় নরেন চিত্রকরও প্রতিমা নির্মাণের ফাঁকে ফাঁকে এই পুতুল তৈরির কাজ করতেন। তবে ডলিদেবীর স্বামী বংশী চিত্রকর, ভাসুর মদন চিত্রকর ও দেবর বদন চিত্রকর মাটির প্রতিমা নির্মাণেই বিশেষ মননিবেশ করেছেন।

মীরাদেবীর ছেলে মধু চিত্রকর, পুত্রবধূ শঙ্করী চিত্রকর ও কন্যা স্বপ্না চিত্রকর ঠাকুর বানানোর ফাঁকে তাঁর মাকে পুতুল তৈরির কাজে যথাসম্ভব সাহায্য করেন। মীরাদেবীর স্বামী প্রয়াত সুরেন চিত্রকরও একসময় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মীরাদেবীর পরিবার এবং ডলিদেবী ও শেফালীদেবীর পরিবার পৃথক পৃথক ভাবে কাজ করেন। তবে দুই ঘরে একই ছাঁচের ব্যবহার করা হয়। তাই উভয় ঘরের পুতুলগুলির গড়ন একই ধরনের। শুধু শিল্পীদের রঙের প্রয়োগে ও রেখার ব্যবহারে কিছু পার্থক্য লক্ষণীয়। কোনক্রমে টিকে থাকা এই পুতুল-পরিবারের স্রষ্টাদের মধ্যেও এক অদ্ভুত প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতা নিরন্তর চলতে থাকে।

কালীঘাটের পুতুলশিল্পের আকর্ষণ

একসময় বাচ্চাদের মধ্যেই এই পুতুলের আকর্ষণ সবথেকে বেশি ছিল। অনেকে ঝুলন সাজানোর জন্য দূরদূরান্ত থেকে এখানে এসে পুতুল কিনে নিয়ে যেতেন। অনেকে আবার আগাম বায়নাও করে যেতেন। তবে বর্তমানে স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা ও কিছু সংগ্রাহক এই পুতুল সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করলেও আজ আর এই পুতুলের সে বাজার নেই। ফলে এখনও এই পুতুল তৈরি করা হলেও তা সংখ্যায় যথেষ্ট কম।

নানাধরনের পুতুলের সমাবেশ.j
নানাধরনের পুতুলের সমাবেশ.j

কালীঘাটের পুতুলশিল্পের কারিগরি নৈপুণ্য

পুতুলগুলি বেশিরভাগই একখোলের ছাঁচে নির্মিত, কাঁচামাটির। সাধারণত প্রতিমা তৈরির বারতি মাটি দিয়েই এই পুতুল গড়া হয়। পুতুল তৈরির পর তা শুকিয়ে নিয়ে তাতে কখনও খড়িমাটির আবার কখনও সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়। ঠাকুর রঙ করার উজ্জ্বল গুঁড়ো রঙেই পুতুলগুলিকে শিল্পীরা রাঙিয়ে তোলেন নিজের মতো করে। রঙের বন্ধক হিসাবে ব্যবহৃত হয় তেঁতুলবীচির আঠা বা তেঁতুলের কাঁই। বার্নিশ করা হয়না। এখানকার শিল্পীদের রঙের নামকরণেও বিশেষ বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। যেমন, লালচে বাদামী রঙকে ‘ভিমসেন’, গাঢ় হলুদ বা এলামাটির বর্ণকে ‘অ্যায়লা রঙ’ বলে থাকেন। ‘এলা’ থেকে ‘অ্যা্যলা’ শব্দ হলেও ‘ভিমসেন’এর উৎস সন্ধানে বিশেষ বেগ পেতে হয়। হয়তো ‘ক্রিমসন্‌’ থেকেই এই ভিমসেনের আগমন।

আমার সহ-ক্ষেত্রসমীক্ষক মুনমুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতানুযায়ী, আলোচ্য পুতুলগুলির এই বর্ণোজ্জ্বল উপস্থাপনা যেন শ্রীকৃষ্ণের ঝুলনোৎসব ও জন্মোৎসবের আনন্দঘন শুভ দিকটিকে বিশেষভাবে সূচিত করে। পাশাপাশি উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার এই পুতুলগুলিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। তাঁর মতে, সংসারের সমস্ত দায়দায়িত্ব সামলে শুধুমাত্র আর্থিক তাগিদেই নয়, বরং অন্তরের ভাল লাগার তাগিদেও এই মহিলা শিল্পীরা তাঁদের পুতুল তৈরির ধারাকে অব্যহত রেখেছেন। পুতুল তৈরি করে তাঁরা যে কতটা আনন্দিত হন তার প্রমাণ তাঁদের চোখেমুখেই ফুটে ওঠে।

কালীঘাটের পুতুলশিল্পের শ্রেণিবিভাজন

কালীঘাটের এই পুতুলের পরিবারকে বিষয়গত দিক থেকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়া যায়।
প্রথমত, কৃষ্ণলীলা বিষয়ক পুতুল। যেহেতু ঝুলন ও জন্মাষ্টমী মূলত কৃষ্ণকেন্দ্রীক সেহেতু কৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন কাহিনীই এই পুতুলের সিংহভাগ জুড়ে অবস্থান করছে। যেমন, কৃষ্ণকোলে বাসুদেব, কংসবধ, কৃষ্ণের মাখনচুরি, পূতনাবধ, ননীগোপাল, কৃষ্ণবধের চেষ্টায় কংস, বকাসুরবধ, কালীয়দমন, কৃষ্ণ-যশোদা, অর্ধচন্দ্রে রাধাকৃষ্ণ, কারাগাররক্ষী ইত্যাদি। প্রতিটি চরিত্রের রূপায়নে শিল্পীর শৈল্পিক দক্ষতা, বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার উজ্জ্বল প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষত কৃষ্ণের মাখনচুরি বিষয়ে একজনের উপরে অপরজন উঠে শিকেয় রাখা মাখন পারার যে আপ্রাণ চেষ্টা এবং পাশাপাশি শিশুদের দুষ্টুমিষ্টি কৌতুকময় চরিত্রকে শিল্পী অতি সহজ সরল তুলির টানে তুলে ধরেছেন।

আবার পূতনার চরিত্রে আছে এক সারল্যময় বীভৎসতা। কংসের গাত্রবর্ণে ও মুখাবয়বের অভিব্যক্তি চিত্রণে সার্থক আসুরীরূপ ফুটে ওঠে। শেফালীদেবীর কথায় এরকম কৃষ্ণলীলা বিষয়ক বর্ণনামূলক পুতুলগুলিকে একত্র করে একটি সেট তৈরি হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দু’খোলের ছাঁচের মাধ্যমে একটু বড় আকারের বাসুদেব মূর্তিও বানানো হয় যার পিছনে কাঠির সাহায্যে একটি রঙচঙে পঞ্চনাগের ফনা যুক্ত করা হয়।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ জীবন-জীবিকাকেন্দ্রীক পুতুলের তালিকায় আছে আইসক্রীমওয়ালা, ফুচকাওয়ালা, বেলুনওয়ালা, বাঁদরওয়ালা, তালের বড়া ভাজতে থাকা বৌ, সাইকেল আরোহী, জোকার, হুঁকো হাতে বাবু, বাঁক কাঁধে পুরুষ ও মহিলা, কলার কাঁদি ও কাঁঠাল মাথায় বৌ, মাটির কুঁড়েঘর, ইত্যাদি। এগুলি শুধুমাত্র যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জীবন-জীবিকাকে মূর্ত করে তোলে তাই নয়, বরং বর্তমান সময়ের দৈনন্দিন জীবনের নানা দিককেও তুলে ধরে।

কালীঘাটের পুতুলশিল্পে বাজার দর

তৃতীয়ত, পশুপাখি বিষয়ক পুতুলের মধ্যে আছে বাঘ, সিংহ, শিয়াল, গোরু, বাঁদর, মাছ, হাঁস প্রভৃতি।
কালীঘাটের এই শিল্পীরা মূলত ঝুলন ও জন্মাষ্টমীর কয়েকদিন আগে থেকে তাঁদের বাড়ির সামনেই পসার সাজিয়ে বসেন কিছু রোজগারের আশায়। কোন মেলাতেও দোকান দেননা। বছরের বাকি সময় প্রতিমা তৈরির কাজেই নিযুক্ত থাকেন। মোটামুটি ছোট থেকে মাঝারি পুতুলগুলোর দাম দশ থেকে কুড়ি টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। তবে বড় আঁকারের বাসুদেবমূর্তিগুলো তিরিশ-চল্লিশ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি জন্মাষ্টমীর সময়ে এই এলাকায় প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই শিশুকৃষ্ণ মাথায় বাসুদেবের নানাধরনের বৈচিত্র্যময় মূর্তি কাঠামো বেঁধে তৈরি করতে দেখা যায়।

কালীঘাটের পুতুলশিল্পে্র উপর পটচিত্রের প্রভাব

কালীঘাট পটচিত্রের রেখার প্রয়োগ, বর্তুলতা ও সংরচনার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই পুতুলগুলির মধ্যে লতায়-পাতায় চোখে পরে। তবে পুতুলগুলির মধ্যে এক অদ্ভুত গ্রাম্যতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কালীঘাট পটের চরিত্রগুলির মধ্যে তৎকালীন বাবু সমাজের যে প্রতিচ্ছবি ধরা পড়েছিল তা কিন্তু এই পুতুলের ক্ষেত্রে বিশেষ ঘটেনি। হয়তো সময় পথে চলতে চলতে শিল্পীর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পশৈলীরও খানিক হলেও পরিবর্তন ঘটেছে। এখানের হুঁকো হাতে বাবু ও অন্যান্য চরিত্রের রূপায়নে যে পটের রেখার প্রতিফলন ফুটে উঠেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সবুজবরণ কংসের পরনে কালো পাড়ের ধূতি পটের বাবুর ধুতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। অথচ গায়ের জামা ও পায়ের কালো জুতোয় অবাঙালীর ছাপ।

নানাধরনের-পুতুলের-সমাবেশ
নানাধরনের-পুতুলের-সমাবেশ

মিশ্রসংস্কৃতি

সবমিলিয়ে এক মিশ্র সংস্কৃতির ছবি ফুটে ওঠে। তালের বড়া ভাজতে থাকা মহিলাটির বসার ভঙ্গিমা ও সামগ্রিক রূপের মধ্যে এক গ্রাম্য সরলতা বিদ্যমান। অথচ সাইকেল আরোহী পুরোদস্তুর শহুরে মেজাজের। মাথায় ক্যাপ, চোখে সানগ্লাস, পরনে টিশার্ট ও হাফপ্যান্ট। তবে রঙের ব্যবহারে সেই সারল্য। বর্তমান কালীঘাটের ন্যায় শহরের বুকে বসবাস করেও তাঁরা তাঁদের মধ্যে থেকে নিজেদের গ্রাম্য সরলতাকে একেবারে হারিয়ে যেতে দেননি। এক্ষেত্রে বলে রাখা দরকার যে ডলিদেবীর বাপেরবাড়ি মেদিনীপুরের চৈতন্যপুরে। তিনিও ছোটবেলা থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজের সঙ্গে পারিবারিক ভাবেই যুক্ত ছিলেন। ফলে তাঁর হাত ধরে মেদিনীপুরের পুতুল চিত্রণের ধারাও এই পুতুলের সঙ্গে এসে মিশেছে। ফলে তাঁর পুতুলের চিত্রণে এক মিশ্র প্রভাব থাকাটা স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন- কাঠের খেলনা আজও তৈরি করেন শুকদেবপুরের শ্রবণ দাস

জন্মাষ্টমীর পুতুল

শেফালী চিত্রকরের কথায় দুই দশক আগেও পটুয়াপাড়ার প্রায় ঘরে ঘরেই এই পুতুল তৈরির চল ছিল। জন্মাষ্টমীর সময় অনেকেই এখান থেকে বাসুদেব পুতুল সংগ্রহ করতেন। তবে একসময় ঝুলনের মাটির পুতুলের বাজারকেও প্লাস্টিকের হরেকরকমের খেলনা এসে নষ্ট করে দিল। এখন অনেক শিশুকিশোর ঝুলন সাজানো তো দুরের কথা, ‘ঝুলন’ শব্দটির সঙ্গেও পরিচিত নয়। মজার ব্যাপার, কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় বসবাসকারী অনেকেই জানেন না যে সেখানে এখনও মাটির পুতুল বানানো হয়। ফলে মানুষের এসম্পর্কে উদাসীনতা ও চাহিদার নিম্নমুখী প্রবাহে কালীঘাটের এই ঐতিহ্যবাহী পুতুলদের প্রাণ আজ ওষ্ঠাগত। এমনকি বর্তমান শিল্পীরা তাঁদের পুতুলদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। তাঁদের পরবর্তীতে এই পুতুলের অবলুপ্তির পথ যে আরও প্রশস্ত হয়ে যাবে, সে বিষয়ে আশঙ্কা থেকেই যায়।

অশেষ কৃতজ্ঞতা– ডলি চিত্রকর, শেফালী চিত্রকর ও মীরা চিত্রকর (কালীঘাট), মুনমুন বন্দ্যোপাধ্যায় (কসবা)।
তথ্যসূত্র
ঘোষ, বিনয়, পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি তৃতীয় খণ্ড, কোলকাতা : প্রকাশ ভবন, ২০১৩, পুনঃমুদ্রিত।
মণ্ডল, শুভঙ্কর, ‘কালীঘাটের লুপ্তপ্রায় মাটির পুতুল’, দুর্গায় দুর্গা বনেদির – বনেদিয়ানা, ই-ম্যাগাজিন, সভাপতি শুভদীপ রায় চৌধুরী, কোলকাতা, কৌলাল, ২০১৯।
Archer, W.G., Bazaar Paintings of Calcutta The Style of Kalighat, London, Her Majesty’s Stationary Office, 1953.

দেখুন-কৌলালের একগুচ্ছ লোকশিল্পের তথ্যচিত্র

 

 


Share your experience
  • 1.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.4K
    Shares

Facebook Comments

Post Author: shuvankar1koulal

শুভঙ্কর মণ্ডল
শুভঙ্কর মণ্ডল গবেষক, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (ইউজিসি নেট) শিল্পের ইতিহাস বিভাগ, দৃশ্যকলা অনুষদ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কোলকাতা নিবাস- নোয়াপাড়া, সোনারপুর, ডাকঘর + থানা- সোনারপুর

2 thoughts on “কালীঘাটের পুতুলশিল্পের লুপ্তপ্রায় ধারা–জন্মাষ্টমী ও ঝুলনের পুতুল

Comments are closed.