পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৫ –কলকাতার কালীঘাট

Share your experience
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

কালীঘাটের কালীমন্দির

ধারাবাহিক–৫

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

ভূমিকা

পীঠনির্ণয় তন্ত্রের ১৯ নম্বর পীঠস্থান, যা পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থানগুলির মধ্যে ৫ নম্বর স্থানে আসে, তা হল আমাদের অতি পরিচিত কলকাতার কালীঘাট।

“কলকাতার কালীঘাট” কথাটি শুনেই অধিকাংশ মানুষ ভ্রু কুঁচকাবেন। কালীঘাট তো কলকাতাতেই, এ তো একটা বাচ্চাও জানে। তাহলে আবার আলাদা করে বলার কী আছে? কিন্তু বিশ্বাস করুন, বলার আছে। আর একটি কালীঘাট বা কালীপীঠ এই পশ্চিমবঙ্গেই আছে। সেটি আছে নদীয়া জেলার জুরানপুরে। কলকাতার কালীঘাট যেমন আদিগঙ্গা অর্থাৎ গঙ্গানদীর পুরোনো ধারার পাশে, তেমনি জুরানপুরের কালীঘাট বা কালীপীঠের অবস্থানও গঙ্গা নদীর অধুনা পরিত্যক্ত পুরোনো খাতের পাশে।

পীঠস্থানেরপ্রচলিত পীঠনির্ণয় তন্ত্রের তালিকার ৪৫ নম্বরে পীঠস্থান হিসাবে এবং শিবচরিতের তালিকায় ১২ নম্বর উপপীঠ হিসাবে আছে পশ্চিমবঙ্গের এই দ্বিতীয় কালীঘাট বা কালীপীঠ, এবং যেহেতু জুরানপুরের কালীঘাট বা কালীপীঠে সতীর মুণ্ড (প্রচলিত তালিকা অনুসারে) বা শিরাংশ (শিবচরিত অনুসারে) পড়েছিল (কলকাতার কালীঘাটে পড়েছিল সতীর ডান পদাঙ্গুলি) সেইজন্য দ্বিতীয় কালীঘাটের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব সম্ভবতঃ কলকাতার কালীঘাটের চেয়ে বেশী। তবে অবস্থানগত কারনে (মহানগরীর বুকে) কলকাতার কালীঘাটের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেশি।

কালীঘাটের কালী

জুরানপুরের কালীপীঠ নিয়ে যথাস্থানে আলোচনা করা হবে, এখানে আমরা কলকাতার কালীঘাট নিয়ে আলোচনা করবো।

কলকাতার কালীঘাট : পীঠস্থানের তালিকায় অবস্থান

ক) পীঠনির্ণয় তন্ত্রেরতালিকা (ক্রমিক সংখ্যা এই তালিকায় যেমন আছে) :-

ক্রমিকসংখ্যা – পীঠস্থান ——————— দেহাংশ ———————— দেবী ———————– ভৈরব

১৯ – কালীঘাট (কলকাতা) ——– দক্ষিণ পদাঙ্গুলি ————— কালী ——————নকুলেশ্বর বা নকুলিশ

খ) তন্ত্রচূড়ামণির তালিকা  (ক্রমিক সংখ্যা এই তালিকায় যেমন আছে) :-

২১ ——— কালীপীঠ —————- দক্ষিণ পদাঙ্গুলি ———— কালিকা —————— নকুলীশ

গ) শিবচরিত (ক্রমিক সংখ্যা এই তালিকায় যেমন আছে) :-

৪৮ ————— কালীঘাট —————- ডান পদাঙ্গুলি —————- কালিকা ———— নকুলেশ

এখানে দেখা যাচ্ছে : –

১) তিনটি প্রামান্য তালিকায় কালীঘাটের ক্রমিক সংখ্যা আলাদা।

২) দুটিতে (প্রচলিত ও শিবচরিত) পীঠস্থানের নাম কালীঘাট, এবং তন্ত্রচূড়ামণির তালিকা পীঠস্থানের নাম কালীপীঠ।

৩) সতীর দেহাংশ, অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ও ভৈরবের নাম তিনটি তালিকায় মোটামুটি একই।

এই তথ্যজ্ঞানকে হাতে নিয়ে এবার চলুন কলকাতার কালীঘাটে যাওয়া যাক।

নকুলেশ্বর শিবলিঙ্গ

কোথায়?

কালীঘাট (এখন থেকে এই প্রবন্ধে আমরা কলকাতার কথাটি বাদ দেবো) এবং তার কাছেই অবস্থিত কেওড়াতলা মহাশ্মশান এতই পরিচিত যে আলাদা করে এটি কোথায় তা লেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত কালীঘাট এই বিশাল মহানগরীর একেবারে মধ্যে থেকেও যেন নেই। সে এক আলাদা জগৎ। আর কালীঘাটের কালীর ভৈরব নকুলেশ্বর শিবের মন্দির কালীঘাট অঞ্চলে হলেও দেবীর মন্দির থেকে প্রায় তিনশো মিটার দূরে।

কালীঘাট পীঠস্থানের উপাখ্যান

কালীঘাট সম্বন্ধে কবি ভারতচন্দ্র তাঁর অন্নদামঙ্গল কাব্যে বলেছেন :

“কালীঘাটে চারিটি অঙ্গুলি ডানিপার / নকুলেশ ভৈরব কালিকা দেবী তার।”

কালীঘাটের পীঠস্থান হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া নিয়ে কয়েকটি কাহিনী প্রচলিত আছে। তার মধ্যে একটি হল এক তপস্বী এক রাতে দেখতে পান যে আদিগঙ্গার বামতীরে জঙ্গলের মধ্যে একটি তীব্র আলো জ্বলছে। ভোরবেলায় সেখানে আলোর রহস্য খোঁজ করতে এসে তিনি একখণ্ড পাথরে দেবীমূর্তির মুখ এবং সঙ্গে প্রস্তরীভূত চারটে ডান পায়ের আঙুল খুঁজে পান। একটু দূরে স্বয়ম্ভূ শিবলিঙ্গ নকুলেশ বা নকুলেশ্বরকেও তিনি খুঁজে পান। শিব-শক্তিকে এক জায়গায় পেয়ে তিনি তাঁদের পূজা শুরু করেন ও কালক্রমে জায়গাটি কালীপীঠ বা কালীঘাট নামে পরিচিতি লাভ করে।

আর একটি কাহিনীতে এই পীঠস্থানটির পরিচিতি ও খ্যাতির মূলে বড়িষার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের সন্তোষ রায় ছিলেন বলা হয়।

তৃতীয় একটি কাহিনীতে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের অন্য এক সদস্য কেশবচন্দ্র রায়চৌধুরীকে কালীঘাট প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এই কেশব রায় ছিলেন পূর্বোক্ত সন্তোষ রায়ের পিতা।

কিন্তু পূর্বা সেনগুপ্ত তাঁর একান্নপীঠ বইটিতে এই দ্বিতীয় ও তৃতীয় কাহিনী যে অবাস্তব সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, আগ্রহীরা দেখতে পারেন।

ফলে এক বা একাধিক সন্ন্যাসীই যে এই পীঠস্থানটির আবিষ্কারক, সেই ধারণাটিই অধিকাংশ পণ্ডিত মেনে নিয়েছেন। উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের লেখা কালীঘাটের ইতিবৃত্ত বইটিতে ব্রহ্মানন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামের দুই সন্ন্যাসীকে এই কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।

কালীঘাটে ভক্তবৃন্দের লাইন

দেবীর দেহাংশ রহস্য

কালীঘাটে পতিত দেহাংশ হল ডান পায়ের চারটে আঙুল এবং তা প্রস্তরীভূত। বলা হয় যে এই জিনিষটির ওজন হচ্ছে ছয় সের এবং তা থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয় বা হতো। একবার মাটিতে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ফলে এটি দু’টুকরো হয়ে যায়।বর্তমান বিগ্রহের নীচে একটি সিন্দুকের মধ্যে এটিকে রাখা হয়। প্রতিবছর স্নানযাত্রার দিন কয়েকজন বয়স্ক পুরোহিত চোখ বাঁধা অবস্থায় এই দেহাংশ বার করে স্নান করিয়ে আবার সিন্দুকে বন্ধ করে রেখে দেন। এই দেহাংশ দেখার অধিকার কারোরই নেই।

এখানে কিছু কথা ভাবার আছে। যদি দেহাংশের উপাখ্যানটি সত্য হয়, তবে তা আসলে কী? দেহাংশের ওজন জানা যাচ্ছে ছয় সের বা প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোগ্রাম। কিন্তু আয়তন (volume) সম্বন্ধে কিছু বলা নেই। বলা থাকলে প্রস্তরীভূত দেহাংশটির ঘনত্ব কত বার করে পাথরটি কী ধরণের সে সম্বন্ধে একটা ধারণা করা যেত। তার চেয়েও বড় কথা, কাহিনী অনুসারে পাথরটি থেকে আলো বিচ্ছুরিত হত বা হয় যা এক ঐশ্বরীয় লীলা। তবে ঐশ্বরীয় লীলা কথাটি সরিয়ে রেখে আমরা যদি অন্য ভাবে ঐ আলোর ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করি, তবে হতে পারে কি যে ঐ প্রস্তরখণ্ডটি কোনও ধরণের Phosphor?

Phosphor(Phosphorus নয়, Phosphorus হল একটি মৌল যার নাম ঐ Phosphor কথাটি থেকে এসেছে) হচ্ছে একশ্রেণির খনিজ পদার্থ যা থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয়। এই Phosphor প্রধানতঃ দুই ধরণের হয় –Fluorescent materials এবংPhosphorescent materials, তার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর বস্তুগুলির আলোক বিচ্ছুরণের স্থায়িত্ব দীর্ঘস্থায়ী বলে এটিই আমাদের আলোচ্য, প্রথম দলের বস্তুগুলিকে আমরা এখানে বাদ দিতে পারি।

এই Phosphorescent materials দুরকমের হয় – ১) কৃত্রিম ও ২) প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। কৃত্রিম বস্তুকে বাদ দেওয়া যায়, কারন প্রস্তরীভূত পদাঙ্গুলি যে সময়ের বলে বিশ্বাস, সেই সময় কৃত্রিম Phosphorescent materials-য়ের সৃষ্টি হয়নি। কাজেই আমাদের হাতে রইলো প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। এ সম্বন্ধে খুব সংক্ষেপে এবং সরল ভাষায় বলতে গেলে বলতে বহু ধরণের প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থের এই Phosphorescence-য়ের ক্ষমতা আছে। এক ধরণের পাথরের এই ক্ষমতা আছে যাদের এক কথায় বলা হয় Glow stone। উদাহরণ হিসেবে হীরে (Diamond), চুনী (Ruby), পান্না (Emerald), টোপাজ (Topaz), গারনেট (Garnet), ল্যাপিস ল্যাজুলি (Lapis Lazuli), ব্যারাইট (Barite), ফ্লুয়োরাইট (Fluorite, এর মধ্যে একটি হলCobra stone) ইত্যাদির নাম করা যায়। এদের মধ্যে কিছু দামী রত্ন (Gemstone) এবং কিছু কমদামী পাথর (Semi-precious stone)।

Blue Goldstone Crystal নামের একধরণের পাথর থেকে অন্ধকারে একটা নীলাভ আভা বের হয়। এই পাথরটিকে ষড়চক্রের বিশুদ্ধাক্ষ চক্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মনে করা হয় এবং তান্ত্রিক ও যোগীরা এটি রত্ন হিসাবে ধারণ করেন।

তাহলে এমন কি হতে পারে যে দেবীর দেহাংশটি একটি বিশালাকার Phosphorescent পাথর (যেমন Blue Goldstone Crystal)?

জানি না কেউ কখনও এভাবে ভেবেছেন কিনা, কারন কোনও রেফারেন্স খুঁজে পাইনি। আমার এই আইডিয়াটি নিয়ে উপযুক্ত কোনও গবেষক যদি কাজ করেন, তবে সবাই উপকৃত হবেন।

কালীঘাটের মন্দির

কালীঘাট পীঠস্থান বিতর্ক

অন্যান্য অনেক পীঠস্থানের মত কালীঘাট নিয়েও বিতর্ক আছে। বৃহন্নীলতন্ত্র অনুসারে কালীঘাটের দেবী হলেন কলাত্মিকা। ১৬শ শতকে রচিত কবিরামের ‘দিগ্বিজয় প্রকাশ’ গ্রন্থ অনুসারে এখানে দেবীর বাঁ হাতের আঙুল পড়েছিল। পীঠমালা গ্রন্থ অনুসারে এখানে দেবীর ডান পায়ের আঙুল এবং মস্তক পড়েছিল। কিন্তু পীঠনির্ণয়তন্ত্র (প্রচলিত তালিকা), তন্ত্রচূড়ামণি ও শিবচরিত এই তিনটি প্রামাণ্য গ্রন্থেই বলা হয়েছে কালীঘাটে দেবীর দক্ষিণ পদাঙ্গুলি পড়েছিল। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের বাঙ্গালা ভাষার অভিধানেও এই দক্ষিণ পদাঙ্গুলি সমর্থন করা হয়েছে।

দেবী দর্শন

কালীঘাট মন্দিরে একবারও যাননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে ভিড় এবং পাণ্ডাদের উগ্র ব্যবহারের ফলে অধিকাংশ দর্শকের দেবী দর্শনের অভিজ্ঞতাই সুখের নয়। গর্ভগৃহের ভিতরে দেবীমূর্তির কাছে অতি অল্প সময়ই থাকা যায়। কষ্টিপাথরের দেবীমূর্তির শরীরের অধোভাগ দৃশ্যমান নয়, তাই ইনি দক্ষিণাকালী না বামাকালী বলা সম্ভব নয়, যদিও যে বেদীর উপর দেবীমূর্তি স্থাপিত, তার নীচের দিকে শায়িত মহাদেবকে দেখা যায়। দেবীর ঘোর কালো রঙের বিশাল মুখে বড় বড় তিনটি চোখ এবং বিশাল প্রলম্বিত জিহ্বা। চোখ, জিহ্বা, দন্তপংক্তি, হাত, মুণ্ডমালা ও মুকুট সোনার তৈরী। দেবী চতুর্ভূজা। উর্ধবামহাতে খড়্গ, নিম্নবামহাতে অসুর শুম্ভের কর্তিত মুণ্ড। ডানদিকের দুটি হাতে অভয় ও বরদা মুদ্রা।

দেবীর মন্দির

কালীঘাটের বর্তমান মন্দিরটি সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের আর্থিক সহায়তায় ১৮০৯ খ্রীষ্টাব্দে নির্মিত। মূল মন্দিরটি আটচালা। মন্দির চত্ত্বরে কালী মন্দির ছাড়াও আরও কতকগুলি মন্দির আছে, তার মধ্যে ষষ্ঠীতলা ও রাধাকৃষ্ণ মন্দির উল্লেখযোগ্য। চারটি ছোট ছোট শিব মন্দিরও আছে, তবে এগুলির কোনটাই কালীর ভৈরব নকুলেশ্বরের মন্দির নয়। বর্তমানে মন্দিরটির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে।

ভৈরব নকুলেশ্বর মন্দির

এই দালান রীতির মন্দিরটি কালীমন্দিরের উলটোদিকে কালীঘাট পুলিশ স্টেশনের পিছনে হালদারপাড়া লেনে অবস্থিত। মন্দিরের গর্ভগৃহের মাঝখানে একটি বড় গর্তের মধ্যে নকুলেশ্বর শিবলিঙ্গ। আশ্চর্যের কথা, কালীমন্দিরে দমবন্ধকরা ভয়ংকর ভিড় হলেও নকুলেশ্বর মন্দিরে সাধারণতঃ সেরকম ভিড় হয় না। খুব সম্ভবতঃ সাধারণ ভক্ত দর্শনার্থীরা এই মন্দিরটির কথা বিশেষ জানেন না।

উপসংহার

“কালী কলকত্তাওয়ালী” কথাটিই এসেছে কলকাতার অসংখ্য ছোট বড় কালীমন্দির বিশেষ করে কালীঘাটের অবস্থিতি এবং কলকাতার অধিবাসীদের কালীভক্তির জন্য। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় পীঠস্থান হল কালীঘাট। সেই কালীঘাটের কালীকে প্রণাম জানিয়ে এই লেখাটি এখানেই শেষ করছি।

নকুলেশ্বর-মন্দির.

 

 


Share your experience
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।