ল্যান্সডাউন – হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট নিস্তরঙ্গ জনপদ

Share your experience
  • 289
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    289
    Shares

ল্যান্সডাউন- হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট নিস্তরঙ্গ জনপদ।উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে লুকোনো অগুনতি জনপদের মধ্যে একটি হল ল্যান্সডাউন, শান্ত, নিঝুম এক হিল স্টেশন।  ১৮৮৭  সালে আলমোড়া থেকে এখানে সরে আসে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটা অংশ, জঙ্গল কেটে তৈরি করে এই হিল স্টেশন। স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও এখানে বেশ তৎপর ছিলেন। তৎকালীন ভাইসরয় ল্যান্সডাউনের নামে এর নাম রাখা হয় ল্যান্সডাউন।–লিখছেন–শীর্ষা ব্যানার্জী

হিমালয়ের উদ্দেশ্যে

হিমালয়ে আসা আমার প্রয়োজন, একান্তই প্রয়োজন। কে যেন আমার জন্মের আগেই আমার একটা অংশ কেটে নিয়ে এসে এখানে লুকিয়ে রেখেছে কোথাও, কোন গভীর খাদের নিচে বা কোন ঝর্ণার পাশে। এখানে পা রাখলেই আমার নিজেকে সম্পূর্ণ মনে হয়। সুযোগ এবং সামর্থ্য, দুটোই যখন ভাগ্যের অনুকূলে থাকে, আমি দৌড় লাগাই। সেখানে আমার বাড়ির কথা মনে পড়ে না, আমার শহরের কথাও নয়। প্রফেসরের খিটখিটানি, প্রজেক্ট জমা দেওয়ার ডেডলাইন, শ্যামবাজারের জ্যাম, লোকাল ট্রেনের ভিড়, বাসের চাকার নীচে গলে যাওয়া পিচ, কফি হাউসের গুঞ্জন, সিগারেটের ধোঁয়া, উচ্চশিক্ষার চিন্তা, কিছুই মাথায় ধাক্কা মারে না। সব উবে গিয়ে সামনে দু হাত বাড়িয়ে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকেন গিরিরাজ, মুচকি হাসেন আমার  দিকে।

 

ল্যান্সডাউন যখন গন্তব্য

গন্তব্যের নাম ল্যান্সডাউন। হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট, নিস্তরঙ্গ। নির্জন একটি জনপদ।উপাসনা এক্সপ্রেসে হরিদ্বার নামলাম সন্ধ্যা সাতটার কাছাকাছি। ট্রেন লেট করল বেশ। ধর্মশালায় রুকস্যাক রেখে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে বেরলাম। একেবারে রাতের খাবার খেয়ে ঢুকব। গাড়ি খোঁজাখুঁজিতে বেশ সময় গেল। আমি যেখানে যাব, কোন শেয়ার জিপ ডাইরেক্ট যাবে না ওখানে। সুতরাং হরিদ্বার থেকে পৌরি অবধি একটা জিপ ঠিক করলাম আপাতত, তারপর ওখানে গিয়ে দেখা যাবে।

জিপ ছাড়বে ভোর পাঁচটায়। হরিদ্বার শহর আড়মোড়া ভাঙছে তখন। অতো সকালে ধর্মশালার বিশাল দরজাও খোলেনি। এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে লোক ডেকে দরজা খোলাতে হল। রাস্তা প্রায় ফাঁকা, কয়েকজন অতো সকালে ঐ ঠাণ্ডায় গঙ্গায় স্নান করে কাঁপতে কাঁপতে ভেজা শরীরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। জিপ ছাড়তেই জানলার কাঁচ নামিয়ে দিলাম। হু হু করে ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝাপটায় চোখ থেকে ঘুম কাটতে থাকে আস্তে আস্তে। রাস্তা বেশ ফাঁকা দেখে সারথিমশাই তো তার রথে একেবারে মুক্তিবেগ তুলেছেন। যে স্পিডে গাড়ি ছুটছে কোথাও না ধাক্কা টাক্কা লাগিয়ে দেয়। হৃষীকেশ এসে গাড়ি থামল। সকালে প্রায় সবাই না খেয়েই বেরিয়েছে, এখন এখানে ব্রেকফাস্ট সারা হবে। খাওয়ার পর গাড়িতে উঠতে গিয়ে ড্রাইভার সাহেবকে আলতো করে বলে এলাম, “দাদা, আমার কোন তাড়াহুড়ো নেই, আপনি প্লিজ একটু আস্তে চালান।“

পথে প্রান্তরে

আবার চলল গাড়ি, পাহাড়ের গা বেয়ে, স্রোতস্বিনী গঙ্গাকে পাশে নিয়ে, ঝর্ণার জলধারার ওপর দিয়ে। ঝর্ণাগুলো পাথর বেয়ে লাফিয়ে নামে, গাড়ি চলার রাস্তা ধুয়ে দিয়ে আবার খাদে লাফিয়ে পড়ে, হয়তো গঙ্গার স্রোতের সাথে বন্ধুত্ব করতেই। দেবপ্রয়াগ আসতে আসতে চড়া রোদ উঠে গেল। দেবপ্রয়াগ পঞ্চপ্রয়াগের মধ্যে অন্যতম। অলকানন্দা এবং ভাগীরথীর মিলিত প্রবাহ এখান থেকে  গঙ্গা নামে প্রবাহিত। অলকানন্দার জল নীলচে সবুজ আর ভাগীরথীর জল ঘোলা। সঙ্গমে এসে এই দুটি ধারা মিলিত হয় ঠিকই  কিন্তু তৎক্ষণাৎ মিশ্রিত হয় না, দুটি ধারাকে পৃথক করে চিহ্নিত করা যায় সহজেই। দেবপ্রয়াগ বেশ বড় শহর। সবার আবার খিদে পেয়ে গেছে, তাই এখানেও আবার গাড়ি থামানো হল।

দেবপ্রয়াগ থেকে আমরা ভাগীরথীকে টা টা বললাম। এবার যাচ্ছি পৌরির দিকে। আস্তে আস্তে শহরাঞ্চল কমছে, সবুজ বাড়ছে। পৌরি পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা একটা শহর। দূর থেকে দেখলে হাতে আঁকা ক্যানভাস মনে হয়। সেখানে পৌঁছে আমার প্রথম কাজ হল ল্যান্সডাউন যাবে কোনো জিপ বা বাস বা ট্রাক যা হোক একটা কিছু খুঁজে বের করা। কিছু একটা হলেই হল, আমার ল্যান্সডাউন যাওয়া নিয়ে কথা।

গাড়ি পেতে একটু দেরি হলেও একটা শেয়ার জিপ পেয়ে গেলাম। আমাকে নিয়ে চারজন ট্যুরিস্ট আর  বাকি দুজন ওখানকারই লোকাল লোক। আমিসহ পর্যটক চারজনই খাস কলকাতাবাসী, সুবিধেই হল। ল্যান্সডাউন যাওয়ার পথ এরপর মসৃণ, সবুজ বিছোনো, পথের ধারে পাইন, দেওদারের আধিক্য বাড়ে আস্তে আস্তে। টানা চওড়া, খানাখন্দহীন রাস্তা, কালেভদ্রে একটা দুটো গাড়ি চোখে পড়ে। পাইনের জাফরি ফুঁড়ে পড়ন্ত সূর্যের আলো কালো রাস্তার ওপরে আলপনা তৈরি করে, গাড়ির শব্দ ছাপিয়ে ঠাণ্ডা ভেজা হাওয়ায় পাতার সরসরানি কানে আসে। দুদিকে ঘন পাইনবন, গাড়ি ছুটছে সাবলীল গতিতে, রাস্তার পাশে পাথরের গা জুড়ে ফুটে রয়েছে অজস্র বুনোফুল। আস্তে আস্তে সামনের আকাশে ছড়িয়ে পড়ল সূর্যের শেষ অস্তরাগ। আগুনরঙা মেঘের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল সূর্য, সেদিনের মত। গাড়ির হেডলাইট জ্বলে উঠে চারদিক ভূতুড়ে করে তুলল।

ল্যান্সডাউন

উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে লুকোনো অগুনতি জনপদের মধ্যে একটি হল ল্যান্সডাউন, শান্ত, নিঝুম এক হিল স্টেশন। স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশদের মিলিটারি রেজিমেন্ট ছিল, এখন ভারতের সেনাবাহিনীর রাজত্ব। ১৮৮৭  সালে আলমোড়া থেকে এখানে সরে আসে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটা অংশ, জঙ্গল কেটে তৈরি করে এই হিল স্টেশন। স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও এখানে বেশ তৎপর ছিলেন। তৎকালীন ভাইসরয় ল্যান্সডাউনের নামে এর নাম রাখা হয় ল্যান্সডাউন।

ল্যান্সডাউন পৌঁছতে অন্ধকার গাঢ় হয়ে গেল। এখানে আমি থাকার জায়গা ভাগ্যিস ঠিক করে এসেছি। পুরনো বনবাংলো, টিমটিম করে টিউব জ্বলছে। চৌকিদার ঘর খুলে দিল। আমার ঘরটা দেখি বিশাল, তাতে কাঠের বিছানা, আরামকেদারা, একটা লাগোয়া বারান্দাও আছে, সেটা তারের জালি দিয়ে ঘেরা। পুরো বাংলো থমথম করছে। খেয়েছে! আমি ছাড়া আর কেউ নেই নাকি? এই বিশাল বাংলোয় শুধু আমি আর চৌকিদার? যে পুরনো বাড়ি তাতে এক আধটা ভূত টুত থাকতেই পারে। রুকস্যাকটা খুলে জিনিশপত্র বের করছিলাম এমন সময় দরজায় নক শুনে আরেকটু হলেই চেঁচিয়ে ফেলেছিলাম আর কি। দেখি চৌকিদার। বলল, রাতের খাবার কী করবে। বললাম কিচ্ছু করতে হবে না, আমার কাছে খাবার আছে, রাতে হয়ে যাবে। আসল কথা আমি এখন দরজা টাইট করে আটকে ঘরেই বসে থাকব, এই ভূতুড়ে বাংলোয় আমি কোথাও যাচ্ছি না, ভাগ্যিস আমার কাছে খাবারটুকু আছে!

ভাল করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম, সেই কোন ভোর থেকে জার্নি শুরু করেছি। বাইরে হিম পড়ছে টুপটাপ, বেশ ঠাণ্ডা। আমি একা ভূতের মতই বসে আছি যখন, কি আর করব, একটা গান চালাই।

ভ্রমণ

পরদিন সকালে হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়ালাম। পুরনো দিনের দার্জিলিং শহর যেন। এক একটা বাংলো দেখলে অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস পড়ে যায়। গেটের পাশে শ্বেতপাথরের ফলকে লেখা মালিকের নাম, কোনো আদালতের জাজ। একদিকে একটা ছোট্ট বাজার, তার পরে মিলিটারি রেজিমেন্ট। ছোট ছোট ক্যাফে, একটা ছোট পাব, একটা বেকারী।  তার থেকে ফ্রেশ কেক বেকিং-এর  কী-ঈ-ঈ সুন্দর গন্ধ আসছে রে বাবা! সামনে দাঁড়ালেই খিদে পেয়ে যায়। সাহেবদের চোখের মণি ছিল এই হিল স্টেশন, কেন ছিল এখন বুঝলাম। জমিদার বাড়ির দেওয়ালে টাঙানো পুরোনো পেন্টিং-এর মত একটা জনপদ। অন্য পথ ধরে হাঁটলে একটা ছোট লেক, হাঁস খেলে বেড়াচ্ছে জলে, খরগোস দৌড়ে বেড়াচ্ছে ঘাসে, লেকের পাশে ছোট ছোট বেঞ্চ। সেনাবাহিনী থাকলে সেই জায়গা কিছু সুন্দর হয় বটে। কী রোম্যান্টিক জায়গা!

সূর্যাস্তের সময় এখানে একটা ব্যাপার হয়। হিলটপে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখা যায় টোয়াইলাইট রিম। আমি নিজেও না দেখলে বিশ্বাস করতুম না যে গোধূলি এমন হতে পারে। আকাশের এক কোনায় নয়, পুরো দিগন্ত জুড়ে এখানে গোধূলি নামে। সেই সাজানো গোছানো পুঁচকে হিল স্টেশনের একদম হিলটপে একটা ছোট্ট চার্চ আছে। হাঁটতে হাঁটতে যখন সেখানে পৌঁছলাম, তখন পশ্চিম আকাশে আবছা চাঁদ। সমস্ত  গ্রামের ওপর সন্ধ্যা নামছে, আর পাহাড়ের চূড়ায়, চার্চের মাথার ক্রসটা সূর্যের শেষ ছোঁয়ায় সোনালী হয়ে আছে। চার্চের ভেতরে পাথরের যীশুর ওপর নীল একটা আলো। নরম নীল আলোয় ডুবে রয়েছে চার্চের ঘরটা। কাঁচের আলমারিতে বাঁধানো বাইবেল, নথিপত্র, হলুদ হয়ে যাওয়া একটা ফটোগ্রাফ। ফ্যাকাশে হয়ে গেলেও বোঝা যায় ওয়েডিং গাউন পরিহিতা এক ইংরেজ তরুণী, আর তার পাশে হাত ধরে এক ইংরেজ তরুণ। তাদের নামও লেখা ছিল তবে ভুলে গেছি। তরুণটি ইংরেজ সেনাবাহিনীর কর্নেল। ঐ চার্চে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

 ল্যান্সডাউন–   শান্তি ! শান্তি!!

কী নিঝুম শান্তি সেখানে, আহা! বাংলোয় ফিরতে নামতে হবে অনেকটা উৎরাই, অন্ধকার জঙ্গলের ভিতর দিয়ে। তবু বসে রইলাম। সেই নীল আলোয় ডুবে বসে রইলাম। পাথরের যীশু আমার দিকে অনেকক্ষণ  তাকিয়ে রইল।

ল্যান্সডাউন নিসর্গ

বেরলাম যখন, তখন আকাশে উজ্জ্বল চাঁদ। টর্চ জ্বালিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাংলোয় ফিরলাম। দেখি বাংলোয় হইচই। একটি বাঙালি পরিবার এসে উঠেছে বাংলোয়। তাদের দলে দুটি বাচ্চা, তারা বাংলোর লন জুড়ে দৌড়োদৌড়ি করছে। তাদের সাথে আলাপ হলো বেশ, রাতের খাবারও খেলাম একসাথে। রাতের খাবার খেয়ে ঘরের দিকে যাচ্ছি যখন, দেখি তারা লনের ঘাসে চেয়ার পেতে গানের আসর বসিয়েছে। করিডোরে দাঁড়িয়ে তাদের গান শুনলাম খানিকক্ষণ, তারপর ঘরে ঢুকে দরজা আটকালাম। দূরের পাইনবন স্তব্ধ, কুয়াশাজড়ানো। তাদের গানের কলি অন্ধকারে আমার ঘরে ঢুকছে খুব মৃদু লয়ে, ভালোই সুরেলা গাইছে। কুয়াশায় আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে জানলার শার্সি। কম্বল জড়িয়ে ঘুম দিলাম সেদিনের মতো।

ভোর না হতেই উঠে দেখলাম কুয়াশা কাটেনি তখনও, রোদ ওঠেনি যে। জ্যাকেট গায়ে দিয়ে আর ব্যাকপ্যাকটা কাঁধে ঝুলিয়ে বেরলাম। মাকড়শার জালের মতো কুয়াশা চোখের পাতা জড়িয়ে ধরে। আঙুলের ডগা, গাল, ঠোঁট বিন্দু বিন্দু হিমে ভিজে যায়। পথের ধারে দিব্য একটা বাগান, তাতে একটা ছোট ক্যাফে। লতানে ফুলের ডাল নেমেছে তার গা বেয়ে। সেই ক্যাফেতে জানলার পাশে একটা টেবিল দখল করে বসলাম। আলো ফুটল অল্প পরেই। কাঁচের জানলা দিয়ে দেখি পাইনের পাতার আগায়, বাষ্প হয়ে যাওয়ার আগে শেষ হিমের কণাটি দুর্লভ দ্যুতি ছড়াচ্ছে। আরেকটু পরেই সে ধোঁয়া হয়ে যাবে, আগামী রাত্রে আবার ঝরে পড়বে শিশির হয়ে।

আরও পড়ুন- কোক্কেরাবেল্লুর – এক প্রকৃতিতীর্থ যেখানে পরিযায়ী পাখিরা গ্রামের মেয়ে

শেষকথা

এক ফর্সা তরুণী কাউন্টারে বসে। তাকে কফির কথা বলে ডায়েরি  আর কলম নিয়ে বসলাম। যতবার কফির মাগটা খালি হয়ে যায়, আমি অনুচ্চ স্বরে বলি, “রিপিট”, আর তরুণীটি হাসিমুখে মাথা নাড়েন। এই এখন মুখ তুলে দেখছি তিনটে খালি কফিমাগ সামনে পরে আছে। আমি যখন ঢুকেছিলাম তখন আর কেউই ছিল না, এখন আরও চার পাঁচ জনকে দেখছি। লেখাটা শেষ করতে দু’ ঘণ্টা কোথা দিয়ে কেটে গেল!

দেখুন– 

 

 


Share your experience
  • 289
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    289
    Shares

Facebook Comments

Post Author: শীর্ষা ব্যানার্জী

শীর্ষা ব্যানার্জী
রামমোহন কলেজের জীববিজ্ঞানের ছাত্রী, তবে জীবনের নেশা নতুনকে খোঁজা, অজানাকে জানাতে চাওয়া। কলকাতা নিবাসী, তবে হিমালয়কে সব থেকে কাছের মনে করেন। ট্র্যাভেল ব্লগার ও ফটোগ্রাফার।