পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক

Share your experience
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়:কার্ত্তিক বা কার্ত্তিকেয় পশ্চিমবঙ্গে ততটা জনপ্রিয় বা গুরুত্বপূর্ণ দেবতা না হলেও ভারতের অন্যান্য জায়গায় বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে একজন মহাগুরুত্বপূর্ণ দেবতা হিসাবে পরিগণিত হন। তামিল জনসাধারণের কাছে কার্ত্তিকের জনপ্রিয়তা অপরিসীম। তামিলনাড়ুর ছ’টি সবচেয়ে ধনী মন্দিরের মধ্যে তিনটিই কার্ত্তিকের। তামিল মানুষেরা যেখানেই গেছেন, সেখানেই মুরুগান অর্থাৎ কার্ত্তিক পূজার ট্র্যাডিশন নিয়ে গেছেন এবং মন্দির বানিয়েছেন। সেইজন্য পৃথিবীর বহু দেশেই কার্ত্তিকের মন্দির ও কার্ত্তিক উপাসনার ট্র্যাডিশন বিদ্যমান। এমনকি হিন্দুধর্ম ছাড়াও বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে কার্ত্তিক ভিন্ন নামে উপস্থিত আছেন। পশ্চিমবঙ্গে কার্ত্তিক সাধারণতঃ দুর্গার সঙ্গেই পূজিত হন। আলাদা করে কার্ত্তিকের পূজা কিছু কিছু জায়গায় বিশেষ করে হুগলি জেলার চুঁচুড়া অঞ্চলে খুব জনপ্রিয় হলেও অন্যান্য জায়গায় ততটা জনপ্রিয় নয়।

বর্তমান প্রবন্ধটির মুখ্য উদ্দেশ্য পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক নিয়ে আলোচনা করা হলেও প্রথমে আমরা দেবতা হিসাবে কার্ত্তিক এবং আইকনোগ্র্যাফিতে কার্ত্তিকের রূপ নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করবো।

প্রথম পর্ব : দেবতা হিসাবে কার্ত্তিক

কার্ত্তিকের উদ্ভব

কার্ত্তিক (স্কন্দ, কুমার, মহাসেনা, বিশাখ) বৈদিক যুগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হিসাবে পূজিত হচ্ছেন। ঋগবেদে “কুমার” দেবতার উল্লেখ আছে। শতপথ ব্রাহ্মণে কুমার দেবকে ঊষা ও পুরুষের পুত্র অগ্নি দেবতা বলা হয়েছে। তৈত্তিরীয় আরণ্যকে ষন্মুখ (ষড়মুখ) দেবতার উল্লেখ আছে যাঁকে কার্ত্তিক মনে করা হয়। ছান্দোগ্য উপনিষদে স্কন্দ ও ব্রহ্মাপুত্র সনৎকুমারকে এক বলা হয়েছে। বৌধায়ণের ধর্মসূত্রে স্কন্দ ও গণেশের উল্লেখ আছে। মহাভারতের বনপর্বেও কার্ত্তিকের উল্লেখ আছে, যদিও সেখানে কার্ত্তিক শিব-পার্বতীর পুত্র নন, অগ্নি ও স্বাহার পুত্র। মহাকবি কালিদাসের কুমারসম্ভব কাব্যটি শিব-পার্বতীর পুত্র কার্ত্তিক বা কুমারের জন্মকাহিনী নিয়ে গঠিত।

অনেক পণ্ডিতের মতে খৃষ্টপূর্ব ২০০ সালে বা তারও আগেই ভারতবর্ষে কার্ত্তিক দেবতা হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন।কুষাণ আমলের মুদ্রায় কার্ত্তিকের ছবি পাওয়া গেছে।

দাক্ষিণাত্যে কার্ত্তিক

দক্ষিণ ভারতে, বিশেষতঃ তামিল কৃষ্টিতে কার্ত্তিক (মুরুগান, কুমার, সুব্রহ্ম বা সুব্রহ্মণম, অরুমুগম) বহু প্রাচীন কাল থেকেই একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবতা। অনেক তামিল পণ্ডিতের মতে কার্ত্তিকের পূজা দাক্ষিণাত্য থেকেই আর্যাবর্তে ছড়িয়ে যায়। দাক্ষিণাত্যে কার্ত্তিক প্রধানতঃ যুদ্ধের দেবতা হলেও শৈব সিদ্ধান্তের প্রবক্তা।

পুরাণে কার্ত্তিক

স্কন্দপুরাণ একটি মহাপুরাণ। কার্ত্তিক বা স্কন্দকে কেন্দ্র করে এই মহাপুরাণটি গড়ে উঠেছে।

পৌরাণিক কাহিনীতে কার্ত্তিক

পৌরাণিক কাহিনীতে তারকাসুরকে বধ করার জন্য শিবপুত্রের প্রয়োজন হয়, কারন তারকাসুর অন্য কারোর হাতেই বধ্য ছিল না। দেবতাদের অনুরোধে পার্বতী রাজী হলেন শিবের পুত্রের জননী হতে। কিন্তু শিব তপস্যায় মগ্ন। পার্বতী তাঁর ধ্যান ভাঙাতে পারলেন না। তখন দেবতাদের অনুরোধে কামদেব তির মেরে শিবের ধ্যানভঙ্গ করলেন। ধ্যানভঙ্গ করায় ক্রুদ্ধ শিব কামদেবকে ভস্ম করে ফেললেও দেবতাদের অনুরোধে পুত্রার্থে পার্বতীর সঙ্গে মিলিত হলেন। শিবের মহাতেজময় বীর্য্য স্খলন হলে অগ্নিদেব সেই বীর্য্য গঙ্গায় নিক্ষেপ করলে গঙ্গার তীরে শরবনে কার্ত্তিকের জন্ম হয়। এই কাহিনী অনুসারে কার্ত্তিক শিবের পুত্র হলেও তাঁর জন্ম পার্বতীর গর্ভে হয় নি।

জন্মের পর নবজাত শিশুকে স্তন্যদান ও লালনপালন করেন কৃত্তিকা (Pleiades) নক্ষত্রপুঞ্জের ছ’জন নক্ষত্ররূপী দেবী (এই কৃত্তিকা থেকেই কার্ত্তিক নামটি এসেছে)। এই ছ’জন পালিকা মাতার মধ্যে যাতে শিশু কার্ত্তিককে স্তন্যপান করানো নিয়ে রেষারেষি না হয়, সেজন্য কার্ত্তিক ষড়ানন হয়ে যান।কার্ত্তিক পরে তারকাসুরকে বধ করেন।

কার্ত্তিকের রূপ

কার্ত্তিক ষড়ানন, তাঁর গায়ের রং লাল। তাঁর বাহন ময়ূর। তাঁর দু’টি হাত। তাঁর হাতে অস্ত্র। তিনি চিরযুবা ও অত্যন্ত সৌন্দর্যবান। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য, আইকনোগ্র্যাফিতে কুষাণ আমলে কার্ত্তিকের একটিমাত্র মাথা দেখানো হত। ষড়ানন কার্ত্তিককে গুপ্তযুগ বা তার পরে দেখা যায়।

কার্ত্তিক কি বিবাহিত?

উত্তর ও পশ্চিম ভারতে কার্ত্তিক চিরকুমার হলেও দক্ষিণ ভারতে কার্ত্তিক কিন্তু বিবাহিত হিসাবেই পরিগণিত। তাঁর দুই স্ত্রী। তাঁরা হলেন দেবসেনা ও বল্লী (এই তথ্যটি পরে আমাদের কাজে আসবে)।

এখানে একটি ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট আছে। কার্ত্তিককে যে “দেবসেনাপতি” বলা হয়, তা কি উনি দেবতাদের সেনাপতি বলে, নাকি দেবসেনার পতি বলে?পণ্ডিতেরা সঠিক উত্তরটি দিতে পারবেন।

দ্বিতীয় পর্ব :পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক

এবার আমরা আমাদের মূল আলোচনায় আসবো। তা হল পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক।

ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণকে অতি সহজেই একটি এনসাইক্লোপিডিয়া বলা যায়। পৌরাণিক ও মহাকাব্যিক কাহিনী থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ও সামাজিক নানা ঘটনাকে মন্দিরের গায়ে অলঙ্কৃত করে শিল্পীরা যে শুধু মন্দিরের সৌন্দর্যায়নই করেছেন তা নয়, ডকুমেন্টেশন ও লোকশিক্ষার কাজও করেছেন। এ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই। এখানে আমরা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক নিয়েই কথা বলবো।

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিকের উপস্থিতি

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে আমরা কার্ত্তিককে প্রধানতঃ দু’ভাবে দেখতে পাই –

ক) দুর্গা প্যানেলে দুর্গা এবং লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশের সাথে।

খ) একা।

এছাড়াও বিরল ক্ষেত্রে আমরা কার্ত্তিককে দুর্গার সঙ্গে এবং শিব-পার্বতীর সঙ্গেও দেখি। আমরা এবার এগুলি নিয়ে আলোচনা করবো।

ক) দুর্গা প্যানেলে দুর্গা এবং লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশের সাথে কার্ত্তিক

পশ্চিমবঙ্গের বহু মন্দিরেই দুর্গা প্যানেল দেখা যায়। এগুলির সিংহভাগই টেরাকোটা ফলকের কাজ, তবে কোনও কোনও জায়গায় পাথরের কাজও আছে (উদাহরণ বীরভূমের গণপুর)।

টেরাকোটা প্যানেলের মধ্যে বৃহত্তমটি আছে হুগলি জেলার বালি-দেওয়ানগঞ্জের দুর্গা মন্দিরে। দুর্গা প্যানেলে দুর্গা এবং লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশের সাথে কার্ত্তিককে দেখা যায় দুর্গার বাঁ পাশে সরস্বতীর পরে।

এই প্যানেলগুলি সাধারণতঃ দু’ রকমের হয় –

১) দুর্গা এবং লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্ত্তিক-গণেশ একই সঙ্গে।

২) দুর্গা এবং লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্ত্তিক-গণেশ আলাদা আলাদা।

প্রথমটির উদাহরণ হিসাবে নাম করা যায় হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়ার রামচন্দ্র মন্দির ও ইলছোবার শিবমন্দির (এই প্যানেলটি ক্ষতিগ্রস্ত), বাঁকুড়ার জেলার সোনামুখীর শ্রীধর ও হদল-নারায়ণপুরের বড়তরফের রাসমঞ্চ, বীরভূম জেলার ইলামবাজারের মহাপ্রভু ও লক্ষ্মীজনার্দন মন্দির, মুর্শিদাবাদের ভট্টবাটির রত্নেশ্বর মন্দির, বর্ধমান শহরের সর্বমঙ্গলা মন্দির ইত্যাদি। প্রসঙ্গতঃ, এইগুলি সবই টেরাকোটা ফলকের কাজ।

দ্বিতীয় দলের উদাহরণ হল বীরভূমের সুপুর ও সুরুলের শিবমন্দির, বাঁকুড়ার কোতুলপুরের শ্রীধর মন্দির, মেদিনীপুরের মালঞ্চ-সাহাচকের দক্ষিণাকালী মন্দির, হুগলি জেলার দশঘরার গোপীনাথ মন্দির এবং বালি-দেওয়ানগঞ্জের দুর্গা মন্দির ইত্যাদি। এগুলিও সবই টেরাকোটা ফলকের কাজ। প্রসঙ্গতঃ, আগেই বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের টেরাকোটা দুর্গা প্যানেলের মধ্যে বৃহত্তমটি আছে হুগলি জেলার বালি-দেওয়ানগঞ্জের দুর্গা মন্দিরে।

খ) একা কার্ত্তিক

মন্দির অলঙ্করণে, বিশেষতঃ দু-তিনশো বছরের পুরোনো টেরাকোটা প্যানেলে একা কার্ত্তিক চেনার প্রধান অসুবিধা হল ময়ূর-বাহন কার্ত্তিক ও হংসবাহন ব্রহ্মাকে আলাদা করে চেনা। অনেক সময়তেই আংশিক ক্ষয়প্রাপ্ত খোদাই কাজের ছবিগুলিতে কে ব্রহ্মা আর কে কার্ত্তিক ঠিক বোঝা যায় না। চতুরানন ব্রহ্মার চারটি মাথা অনেক সময় ষড়ানন কার্ত্তিকের ছ’টি মাথার সঙ্গে গুলিয়ে যায় (কারন পার্সপেক্টিভের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনটির বেশি মাথা দেখানো যায় না)।

আবার টেরাকোটায় কোনটি হাঁস আর কোনটি ময়ূর বোঝা বেশ কঠিন, বিশেষতঃ ক্ষয়ে যাওয়া ফলকে। এর একটি ব্যতিক্রম হল বাঁকুড়ার সোনামুখীর শ্রীধর মন্দিরে দেখা টেরাকোটার ফলকের একটি ছবি। সেখানে দেবতার বাহন ময়ূরটি এত জীবন্ত যে তার উপর বসা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত দেবতাটি যে কার্ত্তিক তা চিনতে একবিন্দু অসুবিধা হয় না।

এই দু’টি কারনেই একা কার্ত্তিককে চিনতে একটু অসুবিধা হয় (দুর্গা প্যানেলে এই সমস্যাটি নেই)।

একা ব্রহ্মা ও একা কার্ত্তিককে চেনার দু’টি চটজলদি উপায় হল –

১) হাতে কমণ্ডলু থাকলে তিনি ব্রহ্মা, আর

২) হাতে অস্ত্র থাকলে তিনি কার্ত্তিক।

কার্ত্তিকের অস্ত্র

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিকের হাতে দু ধরণের অস্ত্র দেখা যায় –

১) তির-ধনুক ও ২) ঢাল-তরোয়াল (বা খড়্গ)।

প্রথমটির উদাহরণ হিসাবে নাম করা যায় বীরভূম জেলার নানুরে চণ্ডীদাসের ভিটের একটি শিবমন্দির এবং মুর্শিদাবাদ জেলার পাঁচথুপীর নবরত্ন শিবমন্দির।দ্বিতীয় দলের উদাহরণ হল বীরভূমের ইটণ্ডার জোড়বাংলা কালীমন্দির ও শিবমন্দির, পূর্ব বর্ধমানের শ্রীবাটির শিবমন্দির এবং পশ্চিম বর্ধমানের বনকাটির শিবমন্দির।

গ) বিরল দর্শন কার্ত্তিক

এই দলে আমরা তিনটি উদাহরণ রাখতে পারি –

১) স্কন্দমাতা রূপী দুর্গার কোলে শিশু কার্ত্তিক – এই রূপে কার্ত্তিককে দেখা যায় বীরভূম জেলার অন্যতম পীঠস্থান সাঁইথিয়ার নন্দিকেশ্বরী মন্দিরের দেওয়ালে আঁকা ছবিতে (টেরাকোটা নয়)।

২) শিব-দুর্গার সঙ্গে গণেশ ও কার্ত্তিককে দেখা যায় মেদিনীপুর জেলার মালঞ্চ-সাহাচকের নন্দেশ্বর শিবমন্দিরের গেটের বা তোরণের উপরে মূর্তি হিসাবে।

৩) “বাবু”কার্ত্তিক– পশ্চিম বর্ধমানের উখরার একটি মন্দিরে বাবড়ি চুল ও কোঁচানো ধুতি পরা আগেকার বাঙালি বাবুদের মত চেহারার কার্ত্তিকের ছবি পাই, যে রকম আমি আর কোথাও দেখি নি। রং করা এই ছবিটি খুব সম্ভবতঃ স্টাকো অর্থাৎ পঙ্খের কাজের।

কার্ত্তিকের পত্নী

যদিও উত্তর ভারতের কালচারে কার্ত্তিক চিরকুমার, বীরভূমের সুপুরের একটি মন্দিরের দুর্গা প্যানেলে কার্ত্তিকের পাশে একটি মহিলা মূর্তি আছে। ইনি কি দক্ষিণ ভারতীয় মতের কার্ত্তিকের পত্নী দেবসেনা অথবা বল্লীর একজন? প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা উচিত যে এই প্যানেলটির গণেশের সঙ্গে গণেশের দুই পত্নী রিদ্ধি ও সিদ্ধির ছবি আছে (অর্থাৎ কার্ত্তিকের সঙ্গের মহিলার কার্ত্তিক-পত্নী হওয়ার সম্ভাবনা আছে)।

এই বিষয়টি খুবই ইন্টারেস্টিং কারন এই ছবিটিতে যদি সত্যি সত্যিই কার্ত্তিকের পত্নীকে (তা তিনি দেবসেনা বা বল্লী যিনিই হোন) দেখানো হয়ে থাকে তবে এই ছবিটি এক কথায় ইউনিক।

জানি না পণ্ডিতরা কী বলেন বা আদৌ কেউ কখনও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন কিনা।

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিকের কী ছবি পাই না

বলাই বাহুল্য, এটি একটি নিগেটিভ পয়েন্ট, কিন্তু যে কোন বিশ্লেষাত্মক আলোচনায় নিগেটিভ পয়েন্টের দরকার আছে।

এখানে আমরা যা দেখতে পাই না, তার মধ্যে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ –

১) দুর্গা শিশু কার্ত্তিককে স্তন্যপান করাচ্ছেন এমন দৃশ্য নেই (দুর্গা গণেশকে কোলে নিয়ে স্তন্যপান করাচ্ছেন এমন দৃশ্য অনেক মন্দিরেই আছে)। এর কারন কি শিল্পীরা জানতেন যে কার্ত্তিক দুর্গার স্তন্যপান করেন নি? তাহলে তাঁরা ছ’জন কৃত্তিকা মায়েরা ষড়ানন কার্ত্তিককে স্তন্যপান করাচ্ছেন এমন নাটকীয় দৃশ্য চিত্রায়িত করেন নি কেন?

২) অনেক মন্দিরেই শিব ও দুর্গা শিশু গণেশকে নিয়ে খেলা ও আদর করছেন এমন ছবি আছে। কার্ত্তিককে নিয়ে সেরকম ছবি নেই কেন?

৩) কার্ত্তিকের তারকাসুর বধের ছবি নেই কেন? সে কি পশ্চিমবঙ্গে কার্ত্তিক ততটা গুরুত্বপূর্ণ দেবতা নন বলে?

উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণে কার্ত্তিক অনেকগুলি প্রশ্ন উথ্থাপন করে, যার উত্তর সত্যিই কঠিন। এ নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে।

ছবি পরিচিতি– সপরিবারে কার্তিক নন্দেশ্বর সাহাচক,ইটণ্ডা,নানুর,বাবুকার্তিক-উখরা,ব্রহ্মা-উচকরণ,স্কন্দমাতা,অস্ত্রধারী কার্তিক শ্রীবাটী,দুর্গাপ্যানেল–বালি দেওয়ানগঞ্জ,সুপুর,হদলনারায়ণপুর,রত্নেশ্বর-ভট্টবাটী।সমস্ত ছবি লেখকের তোলা।

 


Share your experience
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।