নীলদুর্গা পুজো ঘোষ রায় পরিবারে দেবীর স্বপ্নাদেশে শুরু হয়েছিল

Share your experience
  • 769
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    769
    Shares

নীলদুর্গা
নীলদুর্গা

নীলদুর্গা বাংলার দুর্গাপুজোর এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য।এই মূর্তি কল্পনায় দেবী কালীকার প্রভাব রয়েছে।এটি আসলে শ্যামারূপার প্রভাব জাত রূপকল্পনা।বাংলার অনেক স্থানে নীলদুর্গা পুজো হয় সাড়ম্বরে।যেমন কৃষ্ণনগরে।দেবীমূর্তির গায়ের রঙ এখানে শ্যামবর্ণা।সঙ্গে কার্তিক গণেশের অবস্থান বিপরীত করা হয়।কলকাতার বনেদি পরিবার ঘোষ রায় পরিবারের নীলদুর্গা পুজো নিয়ে লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী

 

"<yoastmark

নীলদুর্গার পুজো হতো পূর্ববঙ্গে

পূর্ববঙ্গের বরিশাল জেলার অন্তর্গত নরোত্তমপুর গ্রামের ঘোষ রায় পরিবারে প্রায় ১৮২৭সাল থেকে নীলদুর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই ঘোষ রায় পরিবারের পূর্বসূরিরা ছিলেন উক্ত অঞ্চলের জমিদার। দীর্ঘ ১২০ বছর ধরে তাদের গ্রামের জমিদারীবাড়িতেই পুজো হত। তারপর ১৯৪৮সালে নীলদুর্গাপুজো কলকাতার প্রতাপাদিত্য প্লেসে শ্রীযুক্ত নলিনী মোহন ঘোষ রায়ের বাড়িতে সেই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেই পুজো স্থানান্তরিত হয়ে চলে আসে দক্ষিণ কলকাতার সার্দান এভিনিউতে, এখনও এখানেই পুজো হয়ে আসছে নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সাথে, দেবী এখানে নীলবর্ণা। মায়ের শ্যামারূপের পুজো শুরু করার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন এই বাড়ির পূর্বপুরুষ।

নীলদুর্গার রূপবৈচিত্র্য

একচালার প্রতিমায় দেখা যায় দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী সরস্বতীর অবস্থান ঠিক থাকলেও কার্তিক গণেশের অবস্থান বিপরীত। ডাকের সাজে সজ্জিত করা হয় দেবীকে সাথে থাকে গহনা। পূর্ববঙ্গ থেকেই এইরকম বিগ্রহ তৈরি করেই পুজো করে এসেছেন ঘোষ রায় পরিবারের সদস্যরা।

নীলদুর্গা পুজোতে রোজ বাড়ির তৈরি নাড়ু নিবেদন করা হয় মাকে এছাড়া নিত্যপুজোতে থাকে কাঁচা সবজি, তরিতরকারির জন্য নানান রকমের মশলা অর্থাৎ সরষের তেল, চাল, ডাল, লেবু, লঙ্কা, লবণ ইত্যাদি। প্রতিদিন সব দেবীদেবতার জন্য কাঁচা রুইমাছের টুকরো নুন হলুদ মাখিয়ে দেওয়া হয়। কারণ ঘোষ রায় পরিবারে অন্নভোগ নিবেদনের প্রথা নেই। অতীতে এই পরিবারে বলিদান প্রথা ছিল, বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ। এই বাড়ির পুজোর পৌরোহিত্য করেন শ্রী মলয় গোস্বামী মহাশয়।

 

আরও পড়ুন- –বনেদীবাড়ির কাঠামোপুজো শুরু হয় পবিত্রতিথি রথযাত্রায়

নীলদুর্গা পুজোর বৈচিত্র্য

পঞ্চমীর দিন সকালে কালীঘাটের পটুয়াপাড়া থেকে মাকে নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। সন্ধ্যাবেলায় বেলবরণ হয় ও বোধন হয়। সপ্তমীর দিন সকালে বাবুঘাটে কলাবউ স্নান করাতে যান শ্রী প্রদীপ মোহন রায় মহাশয়। অষ্টমীর সন্ধিপূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করে একটি কাঠের বারকোষে সাজিয়ে নিবেদন করা হয়, তারসাথে ১০৮টি পদ্মও নিবেদন করা হয় দেবীর উদ্দেশ্যে। ঠাকুরমশাই নীলবস্ত্র ধারণ করে পুজো করতে বসেন। মহানবমীর দিন যজ্ঞ হয় ও দশমীর দিন সকালে দর্পণ বিসর্জন হয়।

ক্ষীরোদ নট্টের ঢাকের বাজনা

একসময় এই বাড়িতে ঢাক বাজাতেন বাংলাদেশের বিখ্যাত ঢাকী শ্রী ক্ষীরোদ নট্ট, যিনি ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত। দশমীর বিকালে দেবীবরণের পর বিসর্জনের জন্য রওনা হয় ঘোষ রায় পরিবারের সদস্যরা। এইভাবে ঐতিহ্যের সাথে আজও পুজো করে আসছেন পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।

দেখুন নীলদুর্গাপুজো    


Share your experience
  • 769
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    769
    Shares

Facebook Comments

Post Author: শুভদীপ রায় চৌধুরী

শুভদীপ রায় চৌধুরী
শুভদীপ রায় চৌধুরী, ১২বছর দক্ষিণ কলকাতার স্বনামখ্যাত বিদ্যালয় "বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়" থেকে পড়ার পর উত্তর কলকাতার স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে স্নাতক এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর, বিশেষ বিষয় ছিল-ভারতের আধুনিক ইতিহাস। তাছাড়া ২০১৬সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে স্বতন্ত্র গবেষণায় যুক্ত। বর্তমানে বহু পত্রিকায় যুক্ত স্বতন্ত্র লেখায়, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখার কাজেও যুক্ত। বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের ৩৬তম বংশধর