অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ীমূর্তি পূজিত হয় মেদনীপুরের কেশপুরে

Share your experience
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares

অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ীমূর্তি পূজিত হয় মেদনীপুরের কেশপুরের দেববাড়িতে।কয়েক পুরুষ শেষ করে দেব পরিবারের আট কর্তা গোকুলচন্দ্র দেব, লক্ষ্মণ দেব, রামকৃষ্ণ দেব, হরি দেব, হরি সাধন দেব, নীল মাধব দেব, হরিপদ দেব, অরুণ কুমার দেব ছাড়াও পরিবারের সকল সদস্য আজও ঐতিহ্য ও বনেদীয়ানাকে মেনেই দুর্গাপুজো করে আসছেন।লিখছেন– শুভদীপ রায় চৌধুরী

কেশপুরের দেবপরিবারের অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ী মূর্তি
কেশপুরের দেবপরিবারের অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ী মূর্তি

অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ীমূর্তি

দুর্গাশুধুমাত্র খড়গপুর বা মেদিনীপুরে নয় পশ্চিম মেদিনীপুরে বহু জায়গায় ছড়িয়ে আছে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনী যা ইতিহাস। তার কোথাও কোথাও সেই ধারা আজও প্রবহমান। তারমধ্যে অন্যতম হল কেশপুরের গড় সেনাপত্তা গ্রামের দেব পরিবারের ঐতিহ্য মণ্ডিত দুর্গাপুজো আজও ইতিহাসের বহু প্রাচীনত্বের ধারাবাহিকতা বহন করে চলেছে। জড়িয়ে আছে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কবি কঙ্কন মুকুন্দ রামের স্মৃতিও।

কিন্তু গড় সেনাপত্তা গ্রামের দেব পরিবারের পুজো যে কতটা ইতিহাসের সাক্ষী তা বর্তমান দিনের এই পরিবারের পুজোয় না থাকলে বোঝাই যাবে না।  রাজা বাঁকুড়া দেব এখানকার দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। এখানে আজও আঠারো হাতের দেবী দুর্গা হয়। বেশ কয়েক পুরুষ শেষ করে দেব পরিবারের আট কর্তা গোকুলচন্দ্র দেব, লক্ষ্মণ দেব, রামকৃষ্ণ দেব, হরি দেব, হরি সাধন দেব, নীল মাধব দেব, হরিপদ দেব, অরুণ কুমার দেব ছাড়াও পরিবারের সকল সদস্য আজও ঐতিহ্য ও বনেদীয়ানাকে মেনেই দুর্গাপুজো করে আসছেন।

অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ীমূর্তির বৈচিত্র্য

চণ্ডী মতে তৈরি হয় এখানকার অষ্টাদশভুজা দেবী দুর্গার মূর্তি। দেবীর আঠেরোটি হাতে থাকে লাঠি, ঘন্টা, আয়না, ধনুক, পাকানো দাড়, জমরু, ত্রিশূল, গদা, বজ্র, খড়গ, অঙ্কুশ, চুলের মুঠি এবং শূল ও চক্র। সপ্তমী থেকে মহানবমীর মধ্য রাত্রি পর্যন্ত বলি দেওয়া হয় চালকুমড়ো, আখ এবং ছাগল। বহু ভক্তবৃন্দ তাদের মানত পূরণের জন্য বলির সামগ্রী নিয়ে আসেন। ষষ্ঠীতে সেনা পত্তার বাঁধে দেবীর বোধন হয়। এরপর অধিবাস, আমন্ত্রণ ও অস্ত্র সাজানো হয়। সপ্তমীতে কুবাই নদীর জলে হয় কলাবউ এর স্নান।

এই বাড়ির পুজোয় সকলেই বংশপরম্পরায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। যেমন যারা কুমোর তারা বংশপরম্পরায় মূর্তি তৈরি করে আসছেন, আবার কুলপুরোহিত বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন, যারা বলির কাজ করেন তারাও বংশপরম্পরায় করে আসছেন সেই কাজ। মানে ঐতিহ্য-ধারাবাহিকতা আর সঙ্গে আভিজাত্য যেন একাকার হয়ে আছে এই বাড়ির দুর্গাপুজোয়।

কেশপুরের দেবপরিবারের অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ী মূর্তি
কেশপুরের দেবপরিবারের অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ী মূর্তি

অষ্টদশভুজা দুর্গার মৃণ্ময়ীমূর্তি ও ধাতব মূর্তি

এই দেব পরিবারে রয়েছে একটি অষ্টধাতুর মূর্তি। সেই মূর্তি আলাদাভাবে পুজো করা হয় একই সঙ্গে। দুর্গাপুজোর মহানবমীতে অনন্ত ৫০টি পাঁঠাবলি হয়। আজও দেব পরিবারের পুজোর দিন গুলিতে বাজে নহবত। শুধু প্রদীপ নয় এখানে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত জ্বলে হোমের আগুন। পুরানো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনও এই বাড়িতে ৪দিন ধরে যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসীদের দল নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসে দেবীর সামনে, আর অনুষ্ঠান করে তারাও।

আরও পড়ুন–অর্ধ কালীদুর্গা রূপের বিচিত্র পুজো হয় সুভাষগ্রামের ঘোষবাড়িতে

অপরাজিতার পুজো

দশমীতে দেব পরিবারে অপরাজিতা পুজোও হয়। সেই অপরাজিতা পুজোর পর প্রতিটি সদস্য-সদস্যা নীল অপরাজিতার মালা ও বেড়ি শরীরে খানিকক্ষণের জন্য ধারন করেন। একসময় কবি কঙ্কন মুকুন্দ রাম ছিলেন এই জমিদার বাড়ির সভাকবি। ঘোনা যায় এখানকার দেবীপূজাকে অবলম্বন করে মুকুন্দ রাম লিখেছিলেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্য। সেখানে আঠারো হাতের উল্লেখও আছে তা সম্ভবত দেবীর আঠারো হাতকেই বোঝানো হয়েছে। অতীত যেন কথা বলে এই বাড়ির পুজোয়। ইতিহাসকে খুঁজে পেতে গেলে আপনাকে পৌঁছে যেতেই হবে কেশপুরে।

বনেদিবারির দুর্গাপুজো নিয়ে কৌলালের একগুচ্ছ ভিডিও তথ্যচিত্র দেখুন-

কৃতজ্ঞতাস্বীকার– শ্রী উমাশঙ্কর রায়


Share your experience
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares

Facebook Comments

Post Author: শুভদীপ রায় চৌধুরী

শুভদীপ রায় চৌধুরী
শুভদীপ রায় চৌধুরী, ১২বছর দক্ষিণ কলকাতার স্বনামখ্যাত বিদ্যালয় "বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়" থেকে পড়ার পর উত্তর কলকাতার স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে স্নাতক এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর, বিশেষ বিষয় ছিল-ভারতের আধুনিক ইতিহাস। তাছাড়া ২০১৬সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে স্বতন্ত্র গবেষণায় যুক্ত। বর্তমানে বহু পত্রিকায় যুক্ত স্বতন্ত্র লেখায়, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখার কাজেও যুক্ত। বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের ৩৬তম বংশধর