খড়দহে শ্যামচাঁদের রাস উৎসব

সারাবছর নানা উৎসব লেগে থাকলেও খড়দহের মুখ্য উৎসব হল মাঘী পূর্ণিমার পাটোৎসব এবং কার্ত্তিকের রাসোৎসব। দূর দূর থেকে বহু ভক্তের সমাগম হয় রাসের তিনদিন। আর ওই উৎসবকে আরও অন্য মাত্রায় পৌঁছায় রাসমঞ্চকে কেন্দ্র করে বসা বিরাট মেলা, যা পরবর্তী প্রায় একমাস পর্যন্ত চলে। রাসমঞ্চকে কেন্দ্র করে মেলার বিরাট খোলা মাঠের নামই তাই রাসখোলা। যদিও বর্তমান রাসখোলার চেয়ে পূর্বে শ্মশানের সন্নিকটের পুরানো রাসখোলা ছিল আরও বৃহৎ।লিখছেন–ঋত্ত্বিক হাজরা

নবদ্বীপের রাস উৎসবের বৈচিত্র 

নবদ্বীপে যেমন বৈষ্ণব ধর্ম প্রাধান্য পেয়েছিলো শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শে তেমনি নবদ্বীপেই বাংলার প্রথম দক্ষিণা কালী আগমেশ্বরী মাতার মূর্তির পূজা করেছিলেন তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ আগামবাগীশ। নবদ্বীপে শুধু বৈষ্ণব না তন্ত্রসাধনার ও পীঠস্থান ছিল না; প্রাচীন বাংলার Oxford তথা বাংলার সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসাবে সুপরিচিত ছিল।  নবদ্বীপেই প্রথম বাংলায় ন্যায় শাস্ত্র পড়ানো হতো। শ্রীবাসুদেব সার্বভৌম ও রঘুনাথ শিরোমণি সকলেই নবদ্বীপের। সেন সাম্রাজ্যে নবদ্বীপ ছিলো প্রাচীন বাংলার রাজধানী। নবদ্বীপের শাক্তরাস উৎসব যেমন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের  পৃষ্ঠপোষকতায় বিস্তার লাভ করেছিল…লিখছেন–সপ্তক দাস।

কোচবিহারের মদনমোহনের রাসচক্র তৈরি করেন বংশ পরম্পরায় আলতাফ মিঞারা

কোচবিহারের রাসউৎসবের মূল আকর্ষণ রাসচক্র । কোচবিহারের বাসিন্দা আলতাফ মিঞা বংশপরম্পরায় এই রাসচক্র তৈরী করেন । লক্ষীপূর্ণিমার দিন থেকে আলতাফ মিঞা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একমাস ধরে নিরামিষ খেয়ে কাগজকেটে নানারকম সূক্ষ্মনকশা করে এবং তারসাথে থাকে দেবদেবীর রঙ্গিন ছবি দিয়ে রাসচক্র বানানো শুরু করেন এবং কোচবিহারবাসীরা রাসচক্র ঘুরিয়ে পুণ্য অনুভব করেন।…লিখছেন–আবির ঘোষ।

পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৮ – কাঞ্চী বা কংকালীতলা

ধারাবাহিক অষ্টম পর্বে পড়ুন বীরভূমের কঙ্কালীতলার ইতিকথা।লিখছেন আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

ব্ল্যাক ডোকরাশিল্প আজও টিকে আছে উড়িষ্যার বারাখামায়

ডোকরা শিল্প তৈরিতে যেমন শুধু পুরানো পিতল ব্যাবহার করা হয়, ব্ল্যাক ঢোকরা মূর্তি তৈরিতে কিন্তু পিতল ছাড়াও পুরানো কাঁসা ব্যবহৃত হয়। ব্ল্যাক ঢোকরা মূর্তি কখনও ফাঁপা  হয় না, সলিড ধাতুর তৈরি, তাই এর ওজন ও বেশি হয়।এগুলিকে হাতের ব্রাশ বা বাফিং মেশিন দ্বারা পালিশ করা হয়না। তাই এই মূর্তিগুলির রঙ কালো বা কালচে হয়ে।কন্ধমাল জেলার উপজাতিরা মুখ্যত কন্ধমাল হলেও এখানকার ঢোকরা শিল্পীরা কিন্তু ঘাসি উপজাতির।লিখছেন–ডা.তিলক পুরকায়স্থ

জাজিগ্রামের শ্রীনিবাস আচার্য ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার বিরল ব্যক্তিত্ব

মল্লরাজ বীরহাম্বীর ও রানী সুলক্ষণাকে দীক্ষাদান করলেন শ্রীনিবাস।এই প্রথম একজন বৈষ্ণব ধর্মপ্রাচরক রাজগুরুর সম্মান লাভ করলেন।শিখরভূমির রাজা হরিনারায়ণও দীক্ষা লাভের জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন।কিন্তু তিনি রামভক্ত হওয়ার জন্য নিজে দিক্ষা দেন নি।তাঁর প্রভাবে  মল্লরাজ বীরহাম্বির ঘোরতর সাম্রাজ্যবাদী শাসক থেকে পরিণত হলেন বৈষ্ণব পদকর্তা চৈতন্যদাস। মল্লরাজধানী বনবিষ্ণুপুরে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে একের পর এক টেরাকোটা মন্দির।বন বিষ্ণুপুর হয়ে উঠলো দ্বিতীয় বৃন্দাবন।লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

কার্তিকের ভোরে আজও শোনা যায় টহলের গান

রাঢ় বঙ্গের অন্তর্গত জেলাগুলির মধ্যে বীরভূম,বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলার বিভিন্ন গ্রামগুলিতে প্রচলন রয়েছে এই টহল গানের। টহল গায়কেরা  ভোর বেলায় হাতে থাকা খঞ্জনির দ্বারা  মিঠে আওয়াজ করে পদাবলী কীর্তনের অন্তর্গত ‘কুঞ্জভঙ্গের’ প্রথম পর্ব গুলি, বা চৈতন্যের বাল্যলীলার গান গুলি সুমধুর সুরে গাইতে গাইতে সমগ্র গ্রাম পরিভ্রমণ করেন। এই গান গাইবার জন্য এলাকা ভিত্তিক একজন করে ব্যক্তি নিৰ্দিষ্ট থাকেন…লিখছেন–রটন্তী ঘোষ।

কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রীপুজো

১৭৭২ সালে রাজবাড়ির দেখাদেখি কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়ায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজারা জগদ্ধাত্রী পূজা শুরু করেন। বুড়িমার পূজা নামে পরিচিত এই পূজা শুরু হয়েছিল ঘটে ও পটে। প্রথম দিকে স্থানীয় গোয়ালারা দুধ বিক্রি করে এই পূজার আয়োজন করতেন। ১৭৯০ সাল নাগাদ গোবিন্দ ঘোষ ঘটপটের পরিবর্তে প্রতিমায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন। এখানকার প্রতিমার বৈশিষ্ট্য হল প্রায় সাড়ে সাতশো ভরি সোনায় গয়নায় দেবীপ্রতিমার অলংকারসজ্জা…লিখছেন–তিরুপতি চক্রবর্তী।

নজরকাড়া লোকউৎসব কাগ্রামের জগদ্ধাত্রীপুজো

কাগ্রামের জগদ্ধাত্রীপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য “দুপুরে মাতান” অনুষ্ঠান।অষ্টমীর পুজো শেষে প্রতিটি পুজোকমিটির দেওয়া সাদাধুতির পাগড়ি মাথায় বাঁধে বাজনদাররা।দেবীর চরণের সিঁদুর কপালে টেনে এবার শুরু হয় বাজনা আর নাচ।সেই সঙ্গে গ্রামপরিক্রমা…লিখছেন–স্বপনকুমার ঠাকুর

 জগদ্ধাত্রী কি আদি সিংহবাহিনী মূর্তি?

মহিষমর্দিনী বা মহিষাসুরমর্দিনী নয়;প্রাচীন সিংহবাহিনীর দেবীর সঙ্গেই আধুনিক জগদ্ধাত্রীর প্রভূত মিল রয়েছে।‘  জগদ্ধাত্রীকে মহিষমর্দিনী বা মহিষাসুরমর্দিনীর সংগে একাত্ম করার জন্যই পরবর্তীকালে  মহিষাসুরের সাদৃশ্যে করিন্দ্রাসুরের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে…লিখছেন–