পুরীতে জগন্নাথের বর্ণাঢ্য রথযাত্রা ও বাৎসরিক মহোৎসব

Share your experience
  • 337
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    337
    Shares

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা
পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়— পুরীতে জগন্নাথের  রথযাত্রা বিশ্বব্যাপী প্রচারিত একটি জাঁকজমক পূর্ণ উৎসব। সব জগন্নাথ মন্দিরেই এই রথযাত্রা উৎসবটি হয়, কিন্তু পুরীর ব্যাপারটাই আলাদা। জগন্নাথ দেবের সবচেয়ে পুরোনো না হলেও সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মন্দিরটি তো পুরীতেই। তাছাড়া পুরী হল হিন্দুদের চারধামের অন্যতম ধাম। তাই পুরীর রথযাত্রার একটা অন্য ডাইমেনশন থাকে। জীবনে অন্ততঃ একবার পুরীর রথযাত্রাটি দেখা উচিত। আসেনও সারা পৃথিবী থেকে ভক্ত এবং অভক্ত ট্যুরিস্টের দল এই অপূর্ব উৎসবটি দেখতে।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রায় ভিড়

“হলো যে ভোর/ খোল  রে দোর/সময় বয়ে যায়/নীলাচলের রাজার রাজা/ডাক দিয়েছে আয় …”

সেই ডাকে সারা দিয়ে যদি রথের সময় পুরী পৌঁছে যান, তবে একটা ভয়ংকর ভিড় ফেস করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন। কুম্ভমেলায় যাঁরা গেছেন, বিশেষ করে মুখ্য শাহী স্নানের দিন, তাঁদের কাছে এমন কিছু না হলেও ভিড়টি কিন্তু যথেষ্ট সমীহ করার মতই।তবে চিন্তা করবেন না, ভিড় অ্যাভয়েড করে কাছ থেকে রথ দেখার একটা কায়দা আছে।
বড়া দণ্ডা বা গ্র্যান্ড রোড, যেখান দিয়ে রথ চলে, তার দু’পাশের বাড়ি, দোকান আর হোটেল — সব ক’টা বিল্ডিঙের ব্যালকনি আর ছাদ ভাড়া হয় রথ দেখার জন্য। মালিকরা দর্শকদের বসার ব্যবস্থার সাথে সাথে খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করে। তারপর পজিশন অনুযায়ী গলা কাটা ভাড়া নেয়। এটা একটা ওয়েল অর্গানাইজড ট্যুরিজম প্যাকেজ হয়ে গেছে।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রার রথের বিবরণ

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রাতে থাকে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার তিনটি রথ। রথগুলি কাঠের তৈরী।
তিনটি রথ প্রতি বছরই ফসি, দাউসা ইত্যাদি কাঠ দিয়ে নতুন করে তৈরী করা হয়। কাঠ আসে পূর্বতন দেশীয় রাজ্য দশপল্লী (বা দাসপল্লী) থেকে। মহানদীতে ভাসিয়ে পুরীর কাছাকাছি এনে তারপর সেখান থেকে ট্রান্সপোর্টে আনা হয় পুরীতে। তারপর শুরু হয় রথ তৈরীর কাজ।
অপূর্ব কারুকার্যমণ্ডিত প্রতিটি রথের সামনে থাকে চারটি করে কাঠের ঘোড়া।

 জগন্নাথের রথ

নাম – নন্দিঘোষ বা গরুড়ধ্বজ বা কপিধ্বজ।
উচ্চতা ৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি। লম্বায় ৩৪ ফুট ৬ ইঞ্চি; চওড়ায়ও তাই।
চাকা – ১৬ টি; প্রতিটি চাকার ডায়ামিটার ৭ ফুট।
রক্ষক – গরুড়। সারথি – দারুকা।
চূড়ার কাপড়ের রং লাল-হলুদ (নারায়ণ = পীতবাস, তাই পীত বা হলুদ)।
পতাকা – ত্রৈলোক্যমোহিনী।
নয় পার্শ্বদেবতা – বরাহ, গোবর্ধন, গোপীকৃষ্ণ, নৃসিংহ, রাম, নারায়ণ, ত্রিবিক্রম, হনুমান ও রুদ্র।
রথের ঘোড়া — সাদা রঙের। নাম শঙ্খ, বলাহক, সুবেতা ও হরিদাস।
রথের রশি বা দড়ি – শঙ্খচূড় নাগিনী।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা-বলভদ্রের রথ
পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা-বলভদ্রের রথ

বলভদ্রের রথ

নাম – তালধ্বজ।
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ্ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৩৩ ফুট, ৩৩ ফুট এবং ৪৩ ফুট ৩ ইঞ্চি।
চাকা—১৪ টি; প্রতিটি চাকার ডায়ামিটার ৭ ফুট।
রক্ষক – বাসুদেব। সারথি – মাতলি।
চূড়ার কাপড়ের রং লাল-সবুজ।
পতাকা – উন্ননী।
নয় পার্শ্বদেবতা – গণেশ, কার্ত্তিক, সর্বমঙ্গলা, প্রলমবরী, হতযুদ্ধ, মৃত্যুঞ্জয়, নটম্বর, মুক্তেশ্বর ও শেষদেব।
ঘোড়া — কালো রঙের। নাম ত্রিব্র, ঘোড়া, দীর্ঘশর্মা ও সুবর্ণনাভি।
রথের রশি বা দড়ি – বাসুকি নাগ।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা -সুভদ্রার রথ
পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা -সুভদ্রার রথ

 সুভদ্রার রথ

নাম – দর্পদলন বা পদ্মধ্বজ বা দেবদলন।
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ্ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি , ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং ৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি।
চাকা—১২ টি; প্রতিটি চাকার ডায়ামিটার ৭ ফুট।
রক্ষক – জয়দুর্গা। সারথি – অর্জুন।
চূড়ার কাপড়ের রং লাল-কালো (কালো রং শক্তির প্রতীক)।
পতাকা – নাদম্বিকা।
নয় পার্শ্বদেবতা – চণ্ডী, চামুণ্ডা, উগ্রতারা, বনদুর্গা, শুলীদুর্গা, বারাহী, শ্যামাকালী, মঙ্গলা ও বিমলা।
ঘোড়া — লাল রঙের। নাম রোচিকা, মোচিকা, জীতা ও অপরাজিতা।
রথের রশি – স্বর্ণচূড় নাগিনী।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা

পুরীর মন্দির থেকে তিনটি রথ বড়া দণ্ডা বা গ্র্যাণ্ড রোড দিয়ে সোজা তিন কিলোমিটার দূরে গুণ্ডিচা বাড়িতে জগন্নাথের মাসির বাড়ি যায়। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা সেখানে সাতদিন থেকে উল্টোরথের দিন আবার শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন।

রথের দিন ভোরবেলা থেকেই ভিড়ে উপচে যায় গ্র্যাণ্ড রোড। দু’পাশের প্রতিটি বিল্ডিংয়ের বারান্দা ও ছাদে অজস্র মানুষ ও টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার ভিড়।

রথ আসার আগেই রাস্তায় দলে দলে কীর্ত্তন গাইতে গাইতে নাচতে নাচতে আসেন অসংখ্য মানুষ। কত রকমের পোষাক তাঁদের। বহু লোক মাথায় রাধাকৃষ্ণের মূর্তি নিয়ে নাচছেন। কয়েকজন মাথায় ছোট টবে তুলসীগাছ নিয়ে নাচছেন। খোল কর্ত্তালের তালে তালে ভক্তিতে আনন্দে বিভোর হয়ে নাচছেন তাঁরা। প্রভু যে একটু পরেই দর্শন দেবেন।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা --আসল হিরো
পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা –আসল হিরো

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রায় ভলেন্টিয়ার

রাস্তায় প্রচুর ভলানটিয়ার। তাঁরা পুলিশদের সাহায্য করছেন। রাস্তা পরিস্কার থেকে জলের পাউচ ডিস্ট্রিবিউট করা – নানা কাজে ব্যস্ত ওঁরা। তাছাড়াও আছেন স্ট্রেচার নিয়ে আর একদল ভলান্টিয়ার। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথে স্ট্রেচারে করে বয়ে এনে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিচ্ছেন ওরা। অ্যাম্বুলেন্স সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বাজাতে বাজাতে ভিড় ঠেলে বেরিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের দিকে।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রার সময়  অসহ্য ভ্যাপসা গরম। সমাগত মানুষদের একটু আরামের জন্য জলের ট্যাঙ্কার ও দমকলের গাড়ি থেকে স্প্রে করে বৃষ্টির মতো জল ছেটানো হয় হয় জনসাধারণের উপর। বহু ভলান্টিয়ারও পিঠে ছোট ছোট জলের ট্যাঙ্ক নিয়ে অনেকটা ক্ষেতে ইনসেক্টিসাইড স্প্রে করার টেকনিকে জনতার উপর জল ছেটান।

মন্দির থেকে রথে তোলার সময় জগন্নাথের দারুমূর্তি কাপড়ে মুড়ে নেওয়া হয়, যাতে চোট না লাগে। শুধু বিশাল পলকহীন চোখদুটো দেখা যায়। দইতারি ও অন্যান্য পাণ্ডা পুরোহিতের দল দারুব্রহ্মকে বয়ে আনেন, মাথায় চামর দোলান আর বিশাল বিশাল চিত্রবিচিত্র হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করেন। কাঠের মূর্তিটা ভীষণ ভারী। অতজন লোক হাঁপিয়ে হয়ে যাচ্ছে বয়ে আনতে।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা--জগন্নাথ রথে উঠছেন
পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা–জগন্নাথ রথে উঠছেন

পথের ছবি

এদিকে পুরো পথটাই একটা বিশাল জ্যান্ত অজগরে পরিণত হয়েছে। তার নিযুত মাথা। অজগরটা দুলছে, ফুঁসছে আর পাক খেয়ে খেয়ে এগোচ্ছে আর পেছোচ্ছে। এই হট্টমেলার মধ্যে কি আর কারুর কথা শোনা যায়? তবুও যেন মনে হলো, পথ বলছে “ধন্য আমি, ধন্য আমি ধরার বুকে। যুগ যুগান্ত ধরে আমার বুকের উপর দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে রাজার রাজা জগতের প্রভুর রথ। লক্ষ কোটি মানুষ যুগ যুগান্ত ধরে আমার বুকে আনন্দে নাচছে তাদের অন্তরের রাজার রাজাকে দেখে। রাজা-প্রজা ধনী-গরীব ব্রাহ্মণ-চণ্ডাল হাতধরাধরি করে নাচছে গাইছে কাঁদছে হাসছে … পৃথিবীর আর কোন রাস্তার কপালে এত সুখ, এতো সম্মান আছে বলতো?”
সত্যিই। রাস্তা উপচে পড়ছে মানুষে। নাচছে গাইছে কাঁদছে হাসছে …!!

সোনার ঝাড়ু

প্রথা অনুসারে পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রায়   পুরীর রাজা আগে গিয়ে তিনটি রথে ঝাঁট দেন সোনার ঝাড়ু দিয়ে। তারপরেই চলে রথ। রাজা এলেন। তারপর হাজার মানুষের হাতের টানে এগিয়ে চললো রথ। প্রথমে বলভদ্র, তারপর সুভদ্রা ও শেষে জগন্নাথের রথ।

মাঝেই মাঝেই রথ থেমে যাচ্ছে, আবার জগঝম্প বাজনার তালে তালে চলতে শুরু করছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে রথের কিছুটা আগে আগে সিগনালার হাজির। একাধিক পুলিশকর্মী লাল আর সবুজ ফ্ল্যাগ দেখিয়ে রথের মুভমেন্ট কন্ট্রোল করছেন।
রথের জার্নি কিন্তু গড়গড়িয়ে হচ্ছে না, বরং বলা চলে ফিটস অ্যান্ড স্টার্টসে হচ্ছে। একটু গিয়েই দাঁড়িয়ে পড়ছে সামনে লাল ঝাণ্ডার চোখরাঙানিতে। তারপর সবুজ ঝাণ্ডার দেখা পেলেই দে ছুট দে ছুট !পর পর তিনটে রথ পেরিয়ে গেল। লোকজন পাগলের মতন পিছনে ছুটছে। আস্তে আস্তে এদিকে ভিড় কমে গেল। রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার চটি কাবলি চপ্পল জুতো এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। সাফাইকর্মীরা সেই জুতো চটি ঝাঁট দিয়ে রাস্তার উপরে জায়গায় জায়গায় স্তুপাকারে জমা করছেন।

গুণ্ডিচাবাড়ি

প্রভু দাদা আর বোনের সঙ্গে গুণ্ডিচা বাড়িতে মাসির কাছে বেড়াতে গেলেন, সাতদিন পরে আবার বাড়ি ফিরবেন।
মাসির বাড়ি দাদা বলভদ্র আর বোন সুভদ্রাকে নিয়ে গেলেও জগন্নাথ তাঁর দুই স্ত্রী ভূদেবী আর শ্রীদেবীকে নিয়ে যান না। তাঁদের ফেলে দাদা আর বোনের সঙ্গে ড্যাং ড্যাং করে মাসির বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার অপরাধের ফাইন হিসেবে স্বয়ং জগতের নাথকেও নাকি ফিরে এসে ঘুষ দিয়ে বৌদের রাগ ভাঙাতে হয়! আর সেই ঘুষ নাকি আদি ও অকৃত্রিম রসোগোল্লা, যার আদি উৎপত্তি নিয়ে বাংলা আর ওড়িশার মধ্যে তুমুল ঝগড়া!

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা--গুণ্ডিচাবাড়িতে তিনরথ
পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রা–গুণ্ডিচাবাড়িতে তিনরথ

আরও পড়ুনবারুইপুরের রথযাত্রা ও জমিদার রায়চৌধুরী পরিবারের ভূমিকা

উপসংহার

পুরীতে জগন্নাথের  রথযাত্রা সত্যিই একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। একটা মিনি কুম্ভমেলা বলা যায়। সেই ভারতের মহামানবের সাগরের ঢেউতে নিজের ইগোটাকে ভাসিয়ে দেওয়ার যে কী আনন্দ, তা বলে বোঝাবার ক্ষমতা আমার নেই। তা অনুভব করার। তাই একবার অন্ততঃ রথযাত্রায় পুরী যান। আর যদি যান, তবে রথের উপর বামন আছে কিনা লক্ষ্য করে দেখবেন। কারন প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে রথে বামন দর্শন করলেই মুক্তি, আর পুনর্জন্ম হবে না।

ছবি–লেখক

 দেখুন–

 


Share your experience
  • 337
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    337
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।