শোভাবাজার রাজবাড়ির গোপীনাথ-ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিতর্ক

Share your experience
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

কলকাতার প্রাচীনতম কৃষ্ণবিগ্রহের মধ্যে অন্যতম হল শোভাবাজার রাজবাড়ির গোপীনাথ বিগ্রহ,।যাঁর ঐতিহ্য এবং আভিজাত্য রাজবাড়ির ইতিহাসকে আরও গৌরবান্বিত করে। শোভাবাজারের রাজাদের গৌরবপর্বের সাথে শ্রীগোপীনাথ জীউ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ইনিই রাজবাড়ির(রাজকৃষ্ণবাটী) গৃহদেবতা বা বলা যেতে পারে প্রাণের জন, ভালোবাসার জন।লিখছেন–শুভদীপ রায় চৌধুরী

শোভাবাজার রাজবাড়ির গোপীনাথ
শোভাবাজার রাজবাড়ির গোপীনাথ

শোভাবাজারের রাজবাড়ির গোপীনাথ

রাজবাড়ির যে কোন অনুষ্ঠান যেমন বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা কেউ মারা যাওয়ার পর গোপীনাথের মালা তুলসী নিয়ে তবেই যান। আবার কেউ রাজবাড়িতে জন্মগ্রহণ করলে শ্রীগোপীনাথের প্রসাদ খাওয়ানো হয় তাকে, অর্থাৎ রাজবাটীর যে কোন কাজের আগে তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই তবে শুরু হয় সমস্তকিছু।

গোপীনাথ বিতর্ক

তবে এই গোপীনাথ এলেন কোথা থেকে? এই নিয়ে অগ্রদ্বীপের সাথে সুতানুটির রাজপরিবারের এক বিতর্ক রয়েই আছে। তবে ঐতিহাসিক তথ্য এবং যুক্তির কাছেও স্থান পেয়েছে লৌকিক ইতিহাস ও কিংবদন্তি। শোভাবাজার রাজবাড়িতেই শ্রীশ্রীগোপীনাথ জীউ’এর আসল বিগ্রহ অবস্থান করছেন, এর পেছনে রয়েছে এক বহু প্রাচীন ইতিহাসের কাহিনী। আমার এই শ্রীগোপীনাথকে নিয়ে লেখার জন্য সাহায্য করলেন শোভাবাজার রাজবাড়ির সদস্য শ্রী প্রবীর কৃষ্ণ দেব মহাশয় এবং তার লেখা “আঁকায়-লেখায় মহারাজা নবকৃষ্ণের গোপীনাথ” বইটি এছাড়াও অন্যান্য তথ্যসূত্রসমূহ। এবার বলাবাহুল্য যে অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ নিয়ে প্রথম গবেষণা করেছিলেন প্রাচ্য বিদ্যার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু মহাশয়। তাঁর বিশ্বকোষের প্রথম ভাগে(১৯১৬সালে প্রকাশিত) অগ্রদ্বীপ এবং গোপীনাথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

 অগ্রদ্বীপ জনপদ

“অগ্রদ্বীপ” কথাটির প্রাথমিক অর্থ হল আগে অথবা যে দ্বীপ এগিয়ে রয়েছে বা বলা যেতে পারে প্রথমে যে দ্বীপ জেগে ওঠে। দ্বিগ্বিজয়প্রকাশে লিখিত রয়েছে যে অগ্রদ্বীপে গঙ্গাস্নানে করলে বারাণসীতে গঙ্গাস্নানের সমপূণ্য লাভ সম্ভব। কাটোয়ায় অগ্রদ্বীপ জনপদটি ১৬৬০সালে ভ্যান ডেন ব্রুকের ম্যাপে দেখা যায় যে গঙ্গার পশ্চিমতীরে গাজিপুর এবং পূর্বতীরে হগদিয়া অর্থাৎ অগ্রদ্বীপ। ১৭৭৯সালে জেমস রেনেলে ম্যাপেও অগ্রদ্বীপের অবস্থান রয়েছে। অগ্রদ্বীপের শ্রীগোপীনাথ মন্দিরের সর্বপ্রথম প্রামাণিক তথ্য মেলে বিজয়রামসেনের তীর্থমঙ্গলকাব্যে। ভূকৈলাশের রাজা জয়নারায়ণ ঘোষালের বাবা কৃষ্ণচন্দ্র ১১৭১ সনে ত্রিস্থলী করে ফেরার পথে অগ্রদ্বীতে গোপীনাথ দর্শনে যান।

তাঁরা গোপীনাথ দর্শন না পেলেও গোপীনাথের মন্দির দর্শন করে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এই গোপীনাথের মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন নবদ্বীপাধিপতি মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। মূল মন্দির ছাড়াও আরও পাঁচটি কক্ষ ছিল,যেমন ভোগঘর, বাসনপত্র রাখার ঘর, একটি ভাণ্ডার ঘর ইতাদি। এছাড়াও যাত্রীদের থাকার জন্য আরও দুইটি ঘর। অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ বিগ্রহের সেবা রাজকীয়তার সাথে সম্পন্ন হত, এবং নদীয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র সেবা চালানোর জন্য প্রভূত সম্পত্তি দান করেছিলেন।

শোভাবাজবাড়িতে গোপীনাথ

শ্রীশ্রীগোপীনাথ জীউ কিভাবে অগ্রদ্বীপে এলেন তার এক বিস্তার কাহিনী রয়েছে। কাটোয়া শহর থেকে ১৬কিমি উত্তর-পশ্চিমে প্রাচীন কুলাই গ্রাম। সেই গ্রামের উত্তররাঢ়ীয় কায়স্থ ঘোষবংশে গোবিন্দঘোষের জন্ম হয়। গোবিন্দ ঘোষ শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবের পার্ষদ ছিলেন। চৈতন্যদেব একবার গোবিন্দ ঘোষ সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে বৃন্দাবন যাওয়ার জন্য গঙ্গার ধার দিয়ে যেতে যেতে একটি গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজনের পর মুখশুদ্ধি চাইলে গোবিন্দ ঘোষ একটি বাড়ি থেকে হরীতকী চেয়ে এনে মহাপ্রভুকে তারথেকে একটুকরো দিয়ে বাকিটুকু রেখে দিলেন।

গোবিন্দ ঘোষ প্রসঙ্গ

গ্রাম পরিক্রমাকালে পরদিন অগ্রদ্বীপে এসে একটি বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজনের পর আবার মুখশুদ্ধি চাইলব গোবিন্দ আগের দিনের সঞ্চিত হরীতকীর অংশটি দিলেন মহাপ্রভুকে। মহাপ্রভু হেসে বললেন, “গোবিন্দ, আমার সঙ্গে তোমার যাওয়া হবে না। তোমার এখনও বিষয় বাসনা যায় নি।” এই কথা শুনে গোবিন্দ ঘোষ কাঁদতে কাঁদতে বললেন যে, প্রভু তোমার সেবা করার জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছি তোমাকে ছেড়ে কিছুতেই যাব না। মহাপ্রভু তখন বললেন,”দুঃখ করো না গোবিন্দ। তুমি এখানে থেক গৃহজীবন-যাপন কর এবং এখানে বিষ্ণুবিগ্রহ স্থাপন করে তাঁর সেবা কর, তাহলেই আমার সেবা হবে।”
গোবিন্দ ঘোষ গঙ্গাতীরে একটি ছোট্টো কুটির তৈরি করে সাধনভজনে মন দিলেন। পরে কষ্টিপাথরে নির্মিত গোপীনাথ বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা করেন। অপরূপ সেই গোপীনাথ বিগ্রহ, মন্দিরের সামনে দাঁড়ালে মনে হয় যেন স্বয়ং গোপীনাথ বৃন্দাবন থেকে অগ্রদ্বীপে হাজির হয়েছেন। গোপীনাথ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পর ঘোষ ঠাকুর বহুকাল জীবিত ছিলেন।

অগ্রদ্বীপের নিকটবর্তী কাশীপুর বিষ্ণুতলায় সিংহবংশের সাথে তাঁর বিবাহ হয় এবং বৎসরান্তে একটি সন্তানের জন্ম দিয়ে স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে। গোবিন্দ মাতৃহারা শিশুকে মানুষ করতে থাকেন এবং একই সাথে গোপীনাথের সেবাও করতে থাকেন। পাঁচ বছর বয়েসে তাঁর পুত্রটিও মারা গেলে গোবিন্দ মুহ্যমান হয়ে পড়েন তখন স্বয়ং গোপীনাথজী তাঁকে সান্তনা দেন যে তিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের করণীয় কাজগুলি করবেন। এমনকি শ্রাদ্ধশান্তিও। কোন এক বারুণী উৎসবের আগে চৈত্রমাসের একাদশীতে ঘোষঠাকুর ইহলোক ত্যাগ করেন। ঘোষঠাকুরকে মন্দিরের পাশে সমাধি দেওয়া হয়। স্বয়ং গোপীনাথ শ্রাদ্ধের বাস ও কুশাঙ্গুরীয় পরিধান করে ঘোষঠাকুরের শ্রাদ্ধ করেন। সেই থেকে প্রতিবছর এই তিথিতে বিগ্রহকে শ্রাদ্ধের বসন পরানো হয় ও তাঁকে দিয়ে পিণ্ডদান করানো হয়। গোবিন্দ ঘোষের তিরোধানের পর তাঁর শিষ্য ও ভক্তগণের প্রচেষ্টায় গোপীনাথ বিগ্রহের খ্যাতি ছড়িয়ে পরে।

গোপীনাথ নিয়ে নানা কাহিনী

বহু দূরদূরান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ আসতে শুরু করেন। এই সময় তাঁদের কেউ গোপীনাথ বিগ্রহকে পূর্ববঙ্গে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁদের যেসব শরিক রাঢ়ে ছিলেন তাঁরা গোপীনাথের বিগ্রহ ছাড়তে রাজী না হওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীরা গোপনে একদিন বিগ্রহ নিয়ে পালিয়ে যান। তখন অগ্রদ্বীপের পাটুলির জমিদারকে গোপীনাথ বিগ্রহ উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করায় তিনি সৈন্য পাঠিয়ে কুষ্টিয়ার নিকট বিগ্রহ উদ্ধার করেন। কিন্তু পাটুলিরাজ বিগ্রহ উদ্ধারের পর অগ্রদ্বীপবাসীকে না দিয়ে পাটুলি-নারায়ণপুরের রাজবাড়িতে প্রতিষ্ঠা করলেন। গোপীনাথ অগ্রদ্বীপের হাতছাড়া হল। কেবলমাত্র চৈত্রমাসের একাদশীর দিন শ্রাদ্ধশান্তির জন্য অগ্রদ্বীপে পাঠানো হত গোপীনাথকে।

এরপর গোপীনাথ বিগ্রহ আবার হাতবদল হয়। সম্ভবত অষ্টাদশ শতকে বারুণী উৎসবের সময় প্রচুর জনসমাগম হয়। ভিড়ের চাপে কিছু লোকের প্রাণহানিও ঘটে। এই সংবাদে মুর্শিদাবাদের নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ পাটুলির রাজাকে এর কারণ বলতে বলেন। নির্দিষ্ট দিনে পাটুলির রাজার উকিল রাজ দরবারে উপস্থিত থেকেও ঘাবড়ে গিয়ে উত্তর দিতে বিরত থাকেন। এই সুযোগে নদীয়ার রাজা রঘুনাথের উকিল নবাবকে জানান যে মেলায় প্রচুর জনসমাগমের ফলে প্রাণহানি হয়েছে। তবে এমন যেন ভবিষ্যতে না হয় তার দিকে নদীয়ারাজ সাবধানতা অবলম্বন করবেন, নবাবও উত্তরে সন্তুষ্ট হলেন। উকিলের কৌশলে গোপীনাথ সহ অগ্রদ্বীপের জমিদারি নদীয়ারাজের হস্তগত হল।

গোপীনাথের বৈশিষ্ট্য

অগ্রদ্বীপে নতুন মন্দির নির্মাণ করে গোপীনাথ বিগ্রহকে স্থাপন করা হয়। বর্তমানে বারোদোল উপলক্ষে আর শ্রীগোপীনাথকে পাঠানো হয় না আবার স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে গোটপাড়াতেও আর বিগ্রহ পাঠানো হয় না। পৃথিবীতে অনেক মন্দিরই রয়েছে কিন্তু দেবতা ভক্তের ছেলে হয়ে কাছা পরে শ্রাদ্ধ করতে দেখা যায় কেবলমাত্র গোপীনাথকেই। এইদিন কেউ অন্ন গ্রহণ করেন না সকলে দই-চিঁড়ে-কলা খেয়ে চিঁড়ে উৎসব পালন করেন। এই উপলক্ষ্যে অগ্রদ্বীপে বিরাট মেলা বসে। ভক্তরা ওই দিন গোপীনাথকে মাটির সরায় দই-চিঁড়ে-মুড়কি-বাতাসা নিবেদন করেন। সাধারণ পূন্যার্থীরা অগ্রদ্বীপে সমবেত হয়ে নাম-কীর্তনে মুখোরিত করে তোলেন গোটা মেলাকে। দ্বিতীয়দিন ভক্তেরা অন্ন-মহোৎসব পালন করেন। তৃতীয়দিনে আম বারুণীর গঙ্গাস্নান করে তাঁরা বাড়ি ফেরেন।

শিল্পীর আঁকায় গোপীনাথ আসছেন অগ্রদ্বীপ থেকে শোভাবাজার রাজবাড়িতে
গোপীনাথ আসছেন অগ্রদ্বীপ থেকে শোভাবাজার রাজবাড়িতে শিল্পী প্রবীর কৃষ্ণ দেব।

শোভাবাজার রাজবাড়ির গোপীনাথ কথন

এই গোপীনাথের আদি বিগ্রহ বর্তমানে কলকাতার শোভাবাজারের রাজপরিবারে অবস্থিত। প্রসঙ্গত ১৭৬৬সালে রাজা নবকৃষ্ণ বাড়িতে গোবিন্দজী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর কিছু দিন পরেই তিনি শ্রীশ্রীগোপীনাথকে প্রতিষ্ঠা করলেন রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের বসতবাড়িতে। শোভাবাজার রাজবাড়ির মতে ১৭৬২সালে দিল্লির দরবার থেকে নবকৃষ্ণ দেব “মহারাজা বাহাদুর”খেতাব এবং সেই সঙ্গে ‘হাজারি মনসবদারি’ পদ লাভ করেন। সেই সময় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের ঠাকুরদের নিয়ে একটি সন্মেলন করেন। বিখ্যাত সমস্ত দেব বিগ্রহকে আনা হয়েছিল সেই সময়, তাদের মধ্যে খড়দহের শ্রীশ্রীরাধাশ্যামসুন্দর, বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, সাইবনের নন্দদুলাল, বিষ্ণুপুরের মদনমোহন এবং অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ অন্যতম। মহারাজা নবকৃষ্ণদেব এক বিরাট উৎসবের আয়োজন করেছিলেন সেই সময়।

ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে কাতারে কাতারে মানুষ এসেছেন সভায়, যেন উপচে পড়া ভীড়, জনশ্রতু অনুযায়ী এই বিরাট সভা থেকে অঞ্চলের নাম সভাবাজার এবং পরবর্তীকালে লোকমুখে শোভাবাজার নাম হয়। অন্যমতে শোভারাম বসাকে নামানুসার শোভাবাজার নামের উৎপত্তি। বহুদিন ধরে উৎসব চলার পর সমস্ত দেবতারা ফিরে গেলেন এবং দেবতাদের গহনা ও জমিজমা সমেত ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মহারাজা নবকৃষ্ণদেব অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে কিছুতেই ফেরত দিলেন না। অগ্রদ্বীপের মালিক মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দূতকে তিনি জানালেন যে তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন যে গোপীনাথ তাঁর হাতের পুজো নিতে চান। তিনি কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে তিনলক্ষ টাকার ঋণ মুকুব করেন কিন্তু শর্ত হল গোপীনাথ তাঁর কাছেই থাকবেন। কৃষ্ণচন্দ্র এই শর্ত না মেনে আদালতে মামলা করলেন। যদিও সেই সময়ে ইংরেজ মহলে নবকৃষ্ণের প্রতিপত্তি ছিল তবুও তিনি হেরে গেলেন মামলায়। তবুও আদালতের কাছে কিছু সময় চেয়ে নিলেন এবং সেই আবেদনও মঞ্জুর হল।

 শোভাবাজার রাজবাড়ির গোপীনাথ –আসল নকল একাকার

ইতিমধ্যে তিনি দক্ষ শিল্পী দিয়ে তৈরি করালেন অবিকল আরও কয়েকটি বিগ্রহ। কৃষ্ণচন্দ্রের দূত বিগ্রহ নিতে এসে ধাঁধায় পরে যান যে সমস্ত বিগ্রহগুলিই এক। শেষে কৃষ্ণচন্দ্রের পুরোহিত একটি বিগ্রহ নিয়ে যান। সেই থেকে একটি মূর্তি নদীয়ায় এবং আর একটি শোভাবাজারের রাজবাটীতে। এখন আসল কোনটি সেই নিয়ে বিস্তর তর্ক রয়েছে তবে অনুমান নবকৃষ্ণদেব যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান ছিলেন এবং তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে আসলটি রেখে দিয়েছিলেন। রাজবাড়ির সেই প্রাচীন যুগলমূর্তি যেন নয়নাভিরাম রূপ তাঁর, গঠনে যেন প্রাচীনত্বের ছাপ।

তারপর ১৭৮৯সালে নবকৃষ্ণ দক্ষিণ দিকে রাজা রাজকৃষ্ণের জন্য বিশাল বাড়ি সাথে ঠাকুরদালান নির্মাণ করেন সেখানে গোপীনাথকে প্রতিষ্ঠা করেন। এনাকে পাওয়ার জন্য মহারাজা নবকৃষ্ণদেব যেভাবে তার কাছে টেনেছেন ঠিক সেইভাবে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও ভালোবাসেন গোপীনাথকে। রাজা রাজকৃষ্ণ দেব বিষয়সম্পত্তি ছেড়ে গোপীনাথকেই বেছে নেন। তিনি গোপীনাথকে পুত্ররূপে দেখতেন, সকালে উঠে তিনি ঘুম থেকে উঠে দোতলা থেকে নেমে গোপীনাথের বাড়িতে গিয়ে চোখ খুলতেন তারপর তাঁকে কোলে নিয়ে বসতেন।

আরও পড়ুন- অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ

আজও নিত্য সেবা হয় রাজবাড়িতে গোপীনাথ জীউ। জন্মাষ্টমীর উৎসব, দোল উৎসব বিভিন্ন উৎসব পালিত হয় শ্রীগোপীনাথকে কেন্দ্র করে। জন্মাষ্টমীর দিনও শ্রীগোপীনাথের বিশেষ পূজা হয়, বিভিন্ন রকমের মিষ্টান্ন নিবেদন করা হয় গোপীনাথ জীউকে এই ভাবেই প্রাচীন ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখে আজও রাজবাড়ির সদস্যরা তাঁর সেবা করে আসছেন।

দেখুন কৌলালের তথ্যচিত্র-

 

কৃতজ্ঞতা–প্রবীরকৃষ্ণ দেব মহাশয়।

 


Share your experience
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

Facebook Comments

Post Author: শুভদীপ রায় চৌধুরী

শুভদীপ রায় চৌধুরী
শুভদীপ রায় চৌধুরী, ১২বছর দক্ষিণ কলকাতার স্বনামখ্যাত বিদ্যালয় "বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়" থেকে পড়ার পর উত্তর কলকাতার স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে স্নাতক এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর, বিশেষ বিষয় ছিল-ভারতের আধুনিক ইতিহাস। তাছাড়া ২০১৬সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে স্বতন্ত্র গবেষণায় যুক্ত। বর্তমানে বহু পত্রিকায় যুক্ত স্বতন্ত্র লেখায়, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখার কাজেও যুক্ত। বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের ৩৬তম বংশধর