শ্রীবাটীর চন্দ্রবাড়ির দুর্গাপুজো

Share your experience
  • 37
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    37
    Shares

দেবপ্রিয় দাস

বর্ধমান জেলার প্রাচীন জনপদ শ্রীবাটি।এই গ্রামের নাম বিখ্যাত হয়েছে চন্দ্রপরিবারের তিনটি টেরাকোটা অলঙ্করণ সমৃদ্ধ শিবমন্দিরের জন্য।শ্রী ‘- মানে সুন্দর।আর  বাটী মানে ভবন/বাড়ি।শ্রীবাটী শব্দটির বৃৎপত্তিগত অর্থ হল সুন্দর বাড়ি বা ভবন।পূর্ববর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার অন্তগত শ্রীবাটী গ্রাম।শ্রীবাটীর ইতিহাস দেখলে দেখা যায় প্রায় 400 বছর আগে গুজরাট থেকে চন্দ্রবণিক পরিবার তৎকালীন নাম ইন্দ্রাণী পরগণার অন্তর্গত শ্রীবাটী গ্রামে বসবাস শুরু করে।মূলত লবণ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তারা

শ্রীবাটীর অন্যতম বৈশিষ্ট হল উঁচু দেওয়াল বিশিষ্ট পোড়ামাটির ইট দ্বারা র্নিমিত বড় বড় প্রাচীন বাড়ি।তৎকালীন জমিদারী আমলে  বাড়িগুলি এমন ভাবে র্নিমিত হয় যে একটি ছাদে উঠলে প্রতিটি বাড়ি পরিভ্রমণ করা যেত, বর্তমানে সংস্কারের

অভাবে ভগ্নপ্রায় । তবে বাড়িগুলির আজও প্রাচীন র্নিদশন বর্তমান।চন্দ্রবণিক পরিবারে প্রতিটি বাড়িতে দেবী দুর্গার আগমন ও পুজোপার্বণ অনুষ্ঠিত হত, চন্ডীমন্ডপগুলি আজও বিরাজমান।কিছু মন্ডপে আজও দেবীর পূজা চলে প্রথা মেনে।বণিকরা ছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের উপাসক।তাই শ্রীবাটী গ্রামে প্রাচীন একাধিক শিবমন্দির লক্ষ করা যায়।শ্রীবাটীর ত্রিমন্দির বিশ্বখ্যাত প্রাচীন টেরাকোটার ঐতিহাসিক পোড়ামাটির মন্দির।যার কারুকার্য ও সৌন্দয্য বহু পর্যটককে আকর্যিত ও বিস্মিত করে তুলেছে। চিত্রভাস্কর্যের এক অপূর্ব প্রাচীন-আধুনিক যুগের মিশ্রণ সমগ্র মন্দিরটিকে আলোকিত করে তুলেছে।বর্তমানে রাজ্যসরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মন্দিরটি অধিগ্রহণ করেছে।

বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো।মা দূর্গা অর্থাৎ দেবী দশভূজা রূপে দেবীর আগমন সমগ্র মর্ত্তবাসীকে আনন্দিত করে তোলে।শ্রীবাটীর চন্দ্রবণিক পরিবারে পূজোবাড়ির দেবী দুর্গার সাবেকী পূজা প্রাচীনতম নির্দশন।প্রায় 300 বছরের প্রাচীনতম এই পূজো নিষ্ঠা ও প্রথা এক ব্যাতিক্রম নির্দশন।জাগ্রত দেবীমূর্তির আলোর ঝলকানি সমগ্র পুজোমন্ডপকে সুশোভিত করে তোলে।

রথের দিন দেবীর গায়ে মাটি দিয়ে শুরু হয় দেবীর্নিমাণের পূর্ণযাত্রা। মহালয়ের পরদিন প্রতিপদের শুভলগ্নে দেবীর মন্দিরে ঘট প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে দেবীর পূজাপর্ব শুরু হয়। নিষ্ঠা ও ভক্তিসহকারে পঞ্চমী পর্যন্ত ঘটে পূজাপর্ব চলে।ষষ্ঠীতে বোধন, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীর শুভলগ্নে নানা প্রথা ও ভক্তিসহকারে পূজা চলে।মহাষ্টমীর সন্ধিপূজা এখানে বিশেষ আকর্ষণ। সন্ধিপূজায় মায়ের দেবীরূপে এক অপূর্ব ভক্তির মায়াআলোয় সমগ্র পূজোবাড়িতে আলোকিত করে। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী
চালকুমড়ো ও আখ বলি প্রচলিত। সানাই ও ঢাকের সুর সমগ্র পূজোবাড়িকে মাতিয়ে তোলে। দশমীর যাত্রা নতুন পোশাকে সৌরভিত নীলকন্ঠ হাতে দেবীর বিদায়ের করুণ সুরধ্বনী চোখের জল আনে।সিন্দুর খেলা ও ঘট বিসর্জন পর্ব সমাপ্তির পর দেবীর নিরঞ্জন যাত্রা খুবই নিষ্ঠা সহকারে উদযাপিত হয়। আবার দেবীদর্শনের প্রতিক্ষার আশায় একবছরের অপেক্ষায় থাকে শ্রীবাটীর চন্দ্রবণিক পরিবার । শ্রীবাটীর পুজোবাড়ির দেবীমা ও প্রাচীনতম মন্দিরকে দেখতে প্রতিনিয়ত বহু পর্যটক দেশ ও বিদেশ থেকে আগত হয় এই গ্রামে।।

আপনারাও এবারে শ্রীবাটী আসুন।

ছবি–লেখক


Share your experience
  • 37
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    37
    Shares

Facebook Comments

Post Author: দেবপ্রিয় দাস

দেবপ্রিয় দাস
দেবপ্রিয় দাস ক্ষেত্রসমীক্ষক ও লেখক