সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ : বিজ্ঞান, ধর্ম ও বিভিন্ন দেশের মিথোলজি

Share your experience
  • 337
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    337
    Shares

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ ২-২৬-ডিসেম্বর-২০১৯-সালে-স্থান-ঢাকা
সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ ২৬-ডিসেম্বর-২০১৯-সালে-স্থান-ঢাকা

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়–  আজ ২১ জুন 2020 এই বছরের প্রথম সূর্য গ্রহণ, এবং এক বিশেষ ধরণের সূর্যগ্রহণ — বলয়গ্রাস বা অ্যানিউলার (annular) সূর্যগ্রহণ, যাতে আমরা সূর্যকে একটি আলোর বালা বা ring of fire হিসেবে দেখতে পাবো। এই সূর্যগ্রহণটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনার অন্ত নেই। তাই এ বিষয়ে চলুন আমরাও কিছুটা শুনি, তবে শুধুমাত্র সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে নয়, সূর্য ও সূর্যদেবতা সম্বন্ধেও।

সূর্য : বিজ্ঞানে

Oh, be a fine girl, kiss me …
নাহ্, বুড়ো হলেও এখনও আমার ভীমরতি হয় নি যে কোনও পাঠিকাকে এই কথাটা বলবো।  এটা হচ্ছে একটা মেমোনিক্স — অর্থাৎ কোনও তথ্য সহজে মনে রাখার জন্য একটা ক্যাচি বাক্য। এই মেমোনিক্সটি হচ্ছে নক্ষত্র বা তারা (star) বা আরও স্পেসিফিক করে বলতে গেলে main sequence star- য়ের টাইপ কী কী, তা মনে রাখার মেমোনিক্স। ঐ শব্দগুলোর প্রথম অক্ষরটা হল তারার টাইপ। মেন সিকুয়েন্স তারাদের আয়তন ও রং (অর্থাৎ তাপমাত্রা) অনুসারে O, B, A, F, G, K আর M এই ক’টা টাইপে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে বামদিকের তারাগুলি যেযন O, B, A আয়তনে বড় এবং খুব গরম, আর ডানদিকের তারাগুলি ক্রমশঃ আয়তন ও তাপমাত্রায় কম হয়ে যায়। আমাদের সূর্য হচ্ছে একটি G টাইপের (G2V)  হলদে রঙের তারা। আমরা যতই গ্রীষ্মকালে সূর্যের গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাই না কেন, আয়তন ও তাপমাত্রায় সূর্য নক্ষত্র-পরিবারে নিতান্তই নিম্নমধ্যবিত্ত।

সূর্যের বয়স

প্রায় 4.6 বিলিয়ন (1 বিলিয়ন = 100 কোটি) বছর বয়সের সূর্যের ব্যাস 8,64,000 মাইল, অর্থাৎ পৃথিবীর ব্যাসের চেয়ে 109 গুণ বড়। সূর্যের ভর পৃথিবীর ভরের চেয়ে 3,33,000 গুণ বেশি। সমগ্র সৌর জগতের যে ভর, একা সূর্যের ভর তার 99.86%!  সূর্যের এই বিপুল ভরের 73% হল হাইড্রোজেন, 25% হল হিলিয়াম এবং বাকি 2% হল ভারী মৌল পদার্থ, যার মধ্যে আছে অক্সিজেন, কার্বন, নিওন ও আয়রণ অর্থাৎ লোহা।

সূর্য প্রতি সেকেন্ডে 600 মিলিয়ন টন (1 মিলিয়ন = 10 লক্ষ) হাইড্রোজেনকে ফিউশন পদ্ধতিতে হিলিয়ামে পরিনত করে এবং এই ফিউশন রিঅ্যাকশনে প্রতি সেকেন্ডে 4 মিলিয়ন টন পদার্থ (matter) শক্তি তে (energy) রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তরণে আইনস্টাইনের বিখ্যাত E= mc^2 ফরমুলা অনুসারে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, সূর্যের আলো ও তাপ তারই ফসল। সূর্যের আভ্যন্তরীন তাপমাত্রা 15 মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস হলেও সারফেস টেম্পারেচার 6 হাজার ডিগ্রীর কাছাকাছি।

পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব 1.496 X 10^8 কিলোমিটার বা 8 লাইট-মিনিট 19 লাইট-সেকেন্ড, অর্থাৎ সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে 8 মিনিট 19 সেকেন্ড সময় লাগে। তার মানে আমরা যে সূর্যকে দেখি, সেটি 8 মিনিট 19 সেকেন্ড আগের সূর্য।

সূর্য তার জীবনের শেষে একদিন লাল দৈত্য নক্ষত্রে (Red Giant star) পরিনত হবে। তখন সেই লাল দানব সূর্যের আকার এখনকার শুক্রগ্রহের কক্ষপথের সমান হয়ে যাবে। সেই দৈত্যাকার সূর্যের তাপে পৃথিবীতে জীবন বলে আর কিছু থাকবে না। তবে তা হতে এখনও 5 বিলিয়ন বছর বাকি। তারপর মোটামুটি আরও 3 বিলিয়ন বছর পরে, অর্থাৎ এখন থেকে 8 বিলিয়ন বছর পরে তখনকার রেড জায়ান্ট সূর্য একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণে বাইরের গ্যাসীয় খোলসটা দূরে সরিয়ে দিয়ে একটি প্ল্যানেটারি নেবুলায় (Planetary Nebula) পরিনত হবে যার কেন্দ্রে থাকবে একটি সাদা বামন নক্ষত্র (White Dwarf star)।

 সাদা বামন নক্ষত্রের পরের অবস্থা

কিন্তু সাদা বামন নক্ষত্রই সূর্যের শেষ অবস্থা নয়। সাদা বামন নক্ষত্র আর শক্তি (energy) উৎপাদন করতে পারে না। ফলে জমা শক্তি তাপ ও আলোর আকারে ক্রমাগত খরচ হওয়ার ফলে ধীরে ধীরে প্রায় এক কোয়াড্রিলিয়ন (1 Quadrillion, 1 X 10^15) বছর পরে সূর্য একটি তাপ ও আলো বিহীন কালো বামন নক্ষত্রে (Black Dwarf star) পরিনত হয়ে তার জীবন শেষ করে মহাবিশ্বের অসীম মহাশূন্যে অনন্তকালের জন্য ভূতের মত অদৃশ্য অথচ মহাকর্ষ বা গ্র্যাভিটি-যুক্ত কালো বামন নক্ষত্রের রূপে থেকে যাবে। Black Dwarf star কিন্তু Black hole নয়, Black hole সম্পূর্ণ অন্য জিনিস।
বর্তমানে আমাদের বিজ্ঞান এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলতে পারে না।

সূর্য এবং Main sequence star, Red Giant star, Planetary Nebula, White Dwarf star বা Black Dwarf star সম্বন্ধে এর বেশি লেখার জায়গা এটা নয়, তাই এ চ্যাপ্টার এখানেই শেষ করছি। উৎসাহীরা গুগল করে দেখে নিতে পারেন।

সূর্যআমরা-যা-দেখি
সূর্য আমরা-যা-দেখি

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ

আদিম মানুষ চোখ মেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রথমেই যা দেখেছে তা হল সূর্য। সূর্য জীবনদায়ী তাপ দেয়। সূর্যের অবর্তমানে সবদিক অন্ধকার হয়ে যায়, আর অন্ধকার মানেই খারাপ, অন্ধকার মানেই ভয়। সেজন্য প্রায় সমস্ত প্রাচীন সভ্যতাতেই (মেসোপটেমিয়া, মিশর, ভারতবর্ষ, চীন, গ্রীস, রোম, মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকা, জাপান, কোরিয়া, ইউরোপ) সূর্যকে অমিত শক্তিশালী একজন দেবতা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যাঁর আলোর অস্ত্রের আঘাতে অন্ধকার নিহত হয় এবং যিনি আকাশের একদিক থেকে অন্যদিকে ভ্রমণ করেন। আর ভ্রমণ করতে গেলে প্রয়োজন হয় বাহনের। এই রকম ধারণা থেকেই সূর্যদেবতার রথ ও ঘোড়ার কল্পনাটি এসেছে।

সূর্যদেব-ইটণ্ডা
সূর্যদেব-ইটণ্ডা

হিন্দু ধর্মে সূর্যদেবতা

‘সূর্য’ কথাটা শুনলে প্রথমেই হিন্দুদের মনে যা ভেসে ওঠে তা হল “জবাকুশুমসংকাসন কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম ধ্যান্তারিং সর্বপাপঘ্ণ প্রণতোহস্মি দিবাকরম” এই মন্ত্রটি। অর্থাৎ মহাদ্যুতি সম্পন্ন সর্বপাপনাশকারী সূর্যদেবতাকে প্রণাম করি।
হিন্দুধর্মে সূর্য সপ্তাশ্ববাহিত রথে গমন করেন। তাঁর সারথি হলেন কশ্যপ-অদিতির জ্যেষ্ঠপুত্র (গরুড়ের বড়ভাই) অরুণ।
সূর্যদেবতা বা আদিত্যকে বিশ্ব এবং সমস্ত প্রাণের স্রষ্টা বলা হয়। আবার অনেক সময় আদিত্যকে সূর্যের থেকে আলাদা করে বলা হয়েছে। ঋগবেদে সাতজন বা মার্তণ্ড্যকে ধরে আটজন আদিত্য হলেন ‘দেব’। ভাগবত পুরাণে বারোজন আদিত্য বা দ্বাদশ আদিত্যের কথা বলা হয়েছে যাঁরা সূর্যরূপী বিষ্ণুর বারোটি বিভিন্ন রূপ এবং বছরের বারো মাসের এক এক মাসে আকাশে সূর্যরূপে বিরাজ করেন।

ঋগবেদেই আমরা সূর্যদেবতার দেখা পাই।  সূর্য প্রথমে প্রধান বৈদিক দেবতাদের একজন ছিলেন, পরে বিষ্ণু ও শিবের প্রভাবে সূর্যের গুরুত্ব কিছুটা কমে যায়।

পুরাণে সূর্য

ভানু বা সূর্যের    অনেক নাম, তার মধ্যে বিভাসত, সবিতৃ, ভাস্কর, দিনাকর, দিবাকর, লোকচক্ষু, সহস্রকিরণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বিষ্ণুদেব পরবর্তীকালে সূর্যের অনেক কাজের অধিকারী বলে পরিগণিত হন এবং সূর্যকে পরবর্তীকালে সূর্যনারায়ণ বলা হয়েছে।
সূর্যের মাতাপিতা কে, সে নিয়ে মতানৈক্য আছে। কোথাও বলা হয়েছে সূর্য কশ্যপ ও অদিতির পুত্র (সেজন্য সূর্যকে কাশ্যপ বলা হয়েছে), আবার কোথাও সূর্যকে ব্রহ্মা ও দয়ূস বা আকাশের পুত্র বলা হয়েছে।

সূর্যের পত্নী হলেন বিশ্বকর্মার কন্যা সংজ্ঞা। সূর্য আর সংজ্ঞার প্রথমে তিন সন্তান হয় — বিভাসত (চোদ্দজন মনুর অন্যতম), যম ও যমী। গল্পে আছে যে সূর্যের তেজ সহ্য করতে না সংজ্ঞা পালিয়ে গিয়ে একটি ঘোটকীর রূপ ধরে জঙ্গলে চলে যান। সূর্য সেখানে ঘোটকের রূপে হাজির হয়ে ঘোটকী রূপী সংজ্ঞার সঙ্গে মিলিত হন এবং তার ফলে তাঁদের আরও তিন পুত্রের জন্ম হয় — রেবন্ত এবং দুই অশ্বিনীকুমার। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে সুগ্রীব, ঊষা এবং শনিদেবও সূর্যের সন্তান। তাছাড়া মহাভারতের কাহিনী অনুসারে কর্ণের পিতা হলেন সূর্য।

সূর্য ও  বিশ্বকর্মা

বিশ্বকর্মা নিজের মেয়ে সংজ্ঞার কষ্ট কমাবার জন্য সূর্যের দেহের কিছুটা অংশ ভেঙে টুকরো করে সূর্যের আয়তন একটু কমিয়ে দেন, যাতে সূর্যের তেজ কমে যায়। সূর্যের দেহের ভাঙা টুকরোগুলো থেকেই বিষ্ণুর চক্র, শিবের ত্রিশূল, কুবেরের গদা আর কার্তিকের বর্শা এই দিব্যাস্ত্রগুলির সৃষ্টি হয়।

সূর্য যাজ্ঞবল্ক ঋষিকে শুক্ল যজুর্বেদ দান করেন।
বর্তমানে সূর্য প্রধান হিন্দু দেবতাদের মধ্যে পরিগণিত না হলেও হিন্দুরা এখনও সূর্যের উপাসনা করেন।

সূর্যমন্দির

ভারতের বহু জায়গায় সূর্যমন্দির আছে, তার মধ্যে সম্ভবতঃ সবচেয়ে বিখ্যাত কোণার্কের সূর্যমন্দির। রাজা প্রথম নরসিংহদেব খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এই মন্দিরটি  প্রতিষ্ঠা করেন।খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে সম্রাট ললিতাদিত্য মুক্তাপীড়  প্রতিষ্ঠিত কাশ্মীরের মার্তণ্ড মন্দিরটি আর একটি বিখ্যাত সূর্যমন্দির।

ভারতীয় মন্দির আইকনোগ্রাফিতে সূর্য এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন, কিন্তু বর্তমান প্রবন্ধে তা নিয়ে কথা বলার স্কোপ নেই, শুধু পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলঙ্করণেও যে সূর্য আছেন, তার উদাহরণ হিসাবে একটি ফটো দিলাম। ফটোটি বীরভূম জেলার ইটণ্ডা গ্রামের জোড়বাংলা কালীমন্দিরের একটি টেরাকোটা প্যানেলের।

 সূর্য সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ গ্রীক-সূর্যদেব-হেলিয়স।-ফটো-ইন্টারনেট-
গ্রীক-সূর্যদেব-হেলিয়স।-ফটো-ইন্টারনেট-

অন্যান্য সভ্যতায় সূর্যদেবতা

শুধুমাত্র হিন্দুধর্ম বা ভারতীয় সংস্কৃতি নয়, বহির্ভারতের বহু সভ্যতা ও সংস্কৃতিতেই সূর্যকে দেবতার স্থান দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক এই যে অনেক দেশে সূর্য দেবতা নন, দেবী।

ক) সূর্য যেখানে দেব (অর্থাৎ পুরুষ) :
মিশরীয় সভ্যতা : প্রাচীন মিশরের সূর্যদেব হলেন রা (Ra/Re), পরে এঁকে দেবতা হোরাসের সঙ্গে যুগ্মরূপে রা-হোরাখতি (Re-Horakhti) এবং দেবতা আমুনের সঙ্গে যুগ্মরূপে আমুন-রা (Amun-Ra) হিসেবে দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন সময় হাথর (Hathor), ওয়াজেট (Wadjet), নুট (Nut), বাস্ট (Bast), বাট (Bat), মেনহিট (Menhit)-কে সূর্য ও আকাশের দেবীও বলা হয়েছে।।
মেসোপটেমিয়া : উটু (Utu) বা শামাশ (Shamash) ছিলেন সূর্যদেব।

সূর্যদেব–অন্যান্য দেশ

চীন : Tai Yang Gong হলেন চীনের সূর্যদেব।
গ্রীস : হেলিওস, পরে অ্যাপোলো হলেন সূর্যদেব।
রোম : অ্যাপোলো এবং সল ইনভিক্টাস (Sol Invictus)  হলেন সূর্যদেব।
অ্যাজটেক : হুইটজিলোপোচটলি (Huitzilopochtli) এবং টোনাটিউহ (Tonatiuh) হলেন সূর্যদেব।
মায়ান : কিনিচ অহায়ু (Kinich Ahau) হলেন মায়ান সভ্যতার সূর্যদেব।
পারস্য (ইরান) :  মিথ্র বা মিত্র (Mithra) এবং হ্বর ক্ষয়িতা (Hvar Khshaita) – হলেন সূর্যদেব।
ইনকা সভ্যতা : ইনটি (Inti) — সূর্যদেব।
পশ্চিম আফ্রিকা : লিজা (Liza) — সূর্যদেব।

 সূর্য সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ মায়ান-সূর্যদেব-কিনিচ-অহায়ু।-নেট-থেকে-সংগৃহীত
মায়ান-সূর্যদেব-কিনিচ-অহায়ু।-নেট-থেকে-সংগৃহীত

 সূর্য যেখানে দেবী

নর্ডিক সংস্কৃতিতে সূর্য হলেন দেবী। তার নাম সল বা সুন্না (Sol/ Sunna)।
হিট্টাইট সভ্যতা (বর্তমান সিরিয়া) : সূর্য হলেন দেবী, নাম আরিন্না (Arinna) এবং হেপা (Hepa)।
জাপান : জাপানের শিন্টো ধর্মের একজন প্রধানা দেবী হলেন সূর্য, সেখানে তার নাম আমাতেরাসু (Amaterasu)।
এছাড়া মিশরের সূর্যদেবীদের কথা আগেই বলা হয়েছে।
সূর্যগ্রহণ : বিজ্ঞান ও মিথোলজি

সূর্যগ্রহণের বৈজ্ঞানিক দিক

এখানে প্রথমেই আমাদের একটি কথা মাথায় রাখতে হবে যে সূর্যের ব্যাস বা ডায়ামিটার চাঁদের ব্যাসের 400 গুণ হলেও পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের 400 গুণ। সেজন্য পৃথিবী থেকে চাঁদ ও সূর্যকে একই সাইজের (apparent size) দেখায়। এই কারনে সূর্যের তুলনায় আকারে অতি ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও চাঁদের পক্ষে সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেওয়া (অর্থাৎ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হওয়া) ফিজিকালি সম্ভব হয়।

যখন পৃথিবীর কোনও অংশে চাঁদের ছায়া পড়ে সেই জায়গা থেকে সূর্যকে আংশিক বা পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়, তখন সেই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

এই ঘটনাটি ঘটতে গেলে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদকে একই সরলরেখায় এবং চাঁদকে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকতে হবে। এটা একমাত্র অমাবস্যাতেই সম্ভব বলে সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র অমাবস্যাতেই হয়।

সূর্য সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ মিশরের-এক-সূর্য-দেবী-সম্ভবতঃ-হাথর
মিশরের-এক-সূর্য-দেবী-সম্ভবতঃ-হাথর

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ–সব অমাবস্যাতেই সূর্যগ্রহণ হয় না কেন?

এর উত্তর হল যদি চাঁদের পৃথিবীর চারদিকে ঘোরার অরবিট বা কক্ষপথ এবং পৃথিবীর সূর্যের চারধারে ঘোরার অরবিট একই অরবিটাল প্লেনে বা কক্ষতলে থাকত, তবে তাই হত। কিন্তু ঘটনাক্রমে চাঁদের অরবিট পৃথিবীর অরবিটের সঙ্গে 5 ডিগ্রী কোণ করে আছে। সেই কারনে সব অমাবস্যায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর দিকে বিস্তৃত হলেও পৃথিবীকে স্পর্শ করে না। চাঁদের ছায়া পৃথিবীকে স্পর্শ করতে হলে চাঁদকে অমাবস্যায় এক্লিপটিক প্লেনে (যেখান থেকে এক্লিপস বা গ্রহণ ঘটা সম্ভব)  থাকতে হবে। এই ঘটনা বিরল।
এইসব কারনে বছরে দুই থেকে পাঁচবারের বেশি সূর্যগ্রহণ হওয়া সম্ভব নয়, এবং এর মধ্যে সর্বাধিক দু’বার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে পারে।

সূর্যগ্রহণের সঙ্গে চন্দ্র গ্রহণের সম্পর্ক –দেখা যায় যে সূর্যগ্রহণের দু’সপ্তাহ আগে অথবা দু’সপ্তাহ পরে চন্দ্রগ্রহণ হয়।

 সূর্য সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ চীনা-সূর্যদেব।ফটো-ইন্টারনেট-
চীনা-সূর্যদেব।ফটো-ইন্টারনেট-

কত রকমের সূর্যগ্রহণ হতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তর হল চার রকমের।
পূর্ণগ্রাস (Total eclipse) : যখন চাঁদের ছায়ায় সূর্যের পুরোটাই ঢাকা পড়ে যায়। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে গেলে চাঁদকে তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথের পেরিজিতে (perigee), অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকতে হবে।
বলয়গ্রাস (Annular eclipse) : যখন পৃথিবী, চাঁদ আর সূর্য একই সরলরেখায় এবং একই তলে থাকে, কিন্তু চাঁদের আপাতঃ আকার (apparent size) সূর্যের আপাতঃ আকারের চেয়ে ছোট হয়, তখন কালো চাঁদের ছায়ার চারধারে সূর্যকে একটি রিং অথবা বালার মত দেখা যায়। একেই বলয়গ্রাস বলে। যখন পৃথিবী নিজের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে (apogee) থাকে, তখন বলয়গ্রাস হতে পারে।

আংশিক গ্রহণ (Partial eclipse)

যখন চাঁদের ছায়ায় সূর্যের কিছুটা অংশ ঢাকা পড়ে, তখন তাকে আংশিক গ্রহণ বলে। যখন চাঁদ তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথের অ্যাপোজিতে (apogee) অর্থাৎ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে, তখন যদি সূর্যগ্রহণ হয়, তবে তা আংশিক গ্রহণ ছাড়া অন্যকিছু হতে পারে না।

মিশ্র গ্রহণ বা হাইব্রিড এক্লিপস (Hybrid eclipse) বা Annular/Total eclipse : এই ধরণের গ্রহণের সময় পৃথিবীর কোনও কোনও জায়গা থেকে পূর্ণগ্রাস ও কোনও কোনও জায়গা থেকে বলয়গ্রাস দেখা যায়।

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ-পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের বিভিন্ন মুহূর্ত :

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের ছায়া সূর্যকে যেভাবে ঢেকে দেয়, তাকে 5 ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলি হল :
First contact : যখন চাঁদের ছায়া সূর্যকে জাস্ট স্পর্শ করে।
Second contact : এইসময় বেইলি’জ বিডস (Baily’s beads) এবং ডায়মণ্ড রিং দেখা যায়। চাঁদ প্রায় পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলেছে।

Totality : এই সময়ে সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়ে গেছে। সূর্যের কালো ডিস্কের চারধারে সূর্যের কোরোনা দেখা যায়।
Third contact : যখন সূর্যের কালো ডিস্কে প্রথম আলোর রেখা দেখা যায়। এইসময় আর একবার ডায়মণ্ড রিং দেখা যেতে পারে।
Fourth contact : যে মুহূর্তে সূর্য পূর্ণভাবে চাঁদের ছায়া থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং গ্রহণ শেষ হয়।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সর্বাধিক স্থায়িত্ব সাড়া সাত মিনিটের কম হবে। কখনোই তা 7 মিনিট 32 সেকেণ্ডের বেশি হতে পারে না।
আগামী 2186 সালের 16 জুলাই গায়ানার উত্তরাংশ থেকে যে সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে তার স্থায়িত্ব হবে 11,000 বছরের মধ্যে (3000 BC থেকে 8000 AD ) দীর্ঘতম — 7 মিনিট 29 সেকেণ্ড।

সূর্যগ্রহণের কিছু সহজবোধ্য বৈজ্ঞানিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হল। বলাই বাহুল্য এ একেবারে প্রাথমিক স্তরের আলোচনা। যারা উৎসাহী তারা উপযুক্ত বই বা তার অভাবে গুগল করে দেখতে পারেন।

সূর্য সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ মিশরের-সূর্যদেব-রা।-ফটো-ইন্টারনেট
-মিশরের-সূর্যদেব-রা।-ফটো-ইন্টারনেট

সূর্যগ্রহণ : মিথোলজিতে

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ পর্যায়ে এবার আমরা আসছি আমাদের সূর্যগ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনার শেষ পর্যায়ে। তা হল বিভিন্ন দেশের মিথোলজিতে সূর্যগ্রহণ।

প্রাচীনকালে, যখন সূর্যগ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানা ছিল না, তখন মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে সূর্যগ্রহণের ব্যাখ্যা করত। দেখা যায় যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ব্যাখ্যাগুলির সঙ্গে ভয় ব্যাপারটা জড়িয়ে আছে। সূর্য সবার প্রাণদায়ী, তাই দেবতা। তাঁকে কালো একটা কিছু ঢেকে দিচ্ছে বা খেয়ে নিচ্ছে, এ দৃশ্যটি স্বাভাবিক ভাবেই ভয়ের উদ্রেক করত। বিভিন্ন দেশে তাই সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে অনেক ভয়ের গল্প বা মিথোলজি গড়ে উঠেছিল।

সূর্যগ্রহণ, ২১/৬/২০;  দুর্গাপুর। ফটো লেখক
সূর্যগ্রহণ, ২১/৬/২০; দুর্গাপুর। ফটো লেখক

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ- গল্পের সারসত্য

এই গল্পগুলি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি সাধারণ (কমন) পয়েন্ট উঠে আসে : —
কোনও দুষ্ট রাক্ষস সূর্যকে খেয়ে নিচ্ছে (ভারতের রাহু)।
কোনও দুষ্ট জন্তু সূর্যকে খেয়ে নিচ্ছে (চীনে ড্রাগন, ভিয়েতনামে ব্যাং, কোরিয়ায় কুকুর, অ্যামেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পোমো গোষ্ঠীর নেটিভ-অ্যামেরিকানদের গল্পে ভালুক)।

সূর্যদেবতা মানুষের উপর রেগে গিয়ে আকাশ থেকে চলে যাচ্ছেন (প্রাচীন গ্রীস, মেক্সিকোর তেওয়া উপজাতি)।
সূর্যের সঙ্গে চাঁদের লড়াই (ইনুইট উপজাতির মধ্যে প্রচলিত গল্পে সূর্য হচ্ছেন দেবী আর চাঁদ সূর্যের ভাই এবং সূর্যগ্রহণ হল ভাইবোনের লড়াই; আফ্রিকার বেনিন ও টোগোতে বসবাসকারী বাটামালিবা উপজাতির মধ্যে প্রচলিত গল্পে সূর্যগ্রহণ মানে হচ্ছে সূর্য আর চাঁদের লড়াই এবং তা পৃথিবীর মানুষকে সব রকম লড়াই থামাতে বলে — ব্যক্তিগত ভাবে আমার এই গল্পটিই সবচেয়ে ভালো লাগে)।

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ বিষয়কএই  গল্পগুলি সম্বন্ধে বিস্তারিত লেখার সুযোগ বর্তমান প্রবন্ধে নেই, তাই যাঁরা বিস্তারিত জানতে চান তাঁরা গুগলে Solar eclipse myths সার্চ দিলেই এগুলি পেয়ে যাবেন।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে কিছু আধুনিক কুসংস্কার

বিজ্ঞানের এত উন্নতির পরেও এবং সূর্যগ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে জেনে যাওয়ার পরেও সূর্যগ্রহণ নিয়ে কুসংস্কার কিন্তু পুরোপুরি দূর হয় নি। এই কুসংস্কারগুলির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও সাধারণ মানুষদের একটা অংশ এখনও এগুলি আঁকড়ে ধরে আছেন।
এই কুসংস্কারগুলির বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এগুলি প্রধানতঃ দু’ধরণের — খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা ও ভালো কিছু ঘটার আশা।

খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা

কুসংস্কারগুলির মধ্যে অধিকাংশই এই দলে পড়ে। গ্রহণের সময় রান্না করলে বা খাবার খেলে অসুখ হবে অথবা প্রেগন্যান্ট মহিলারা বাড়ির বাইরে গেলে গর্ভস্থ বাচ্চার ভীষণ বিপদ হবে এই ধরণের কুসংস্কার অনেক জায়গাতেই আছে। এমনকি অনেকেই সূর্যগ্রহণের সময় মলমূত্র ত্যাগ করাও বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে বিশ্বাস করেন। খোদ ইউ.এস.এ-তেই কিছু লোক এখনও বিশ্বাস করেন যে কারোর জন্মদিনে সূর্যগ্রহণ হলে তার স্বাস্থ্যহানি হবে। অনেক শিক্ষিত মানুষও বিশ্বাস করেন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় যখন সূর্যের কোরোনা দেখা যায়, তখন তা থেকে ক্ষতিকর রেডিয়েশন বার হয়। এটা সম্পূর্ণ ভুল।

কোরোনা যে শুধুমাত্র সূর্যগ্রহণের সময়েই হঠাৎ করে আবির্ভূত হয়, তা নয়। কোরোনা সবসময়ই সূর্যের চারধারে আছে, সূর্যগ্রহণ ছাড়া অন্যসময় সূর্যের ফোটোস্ফিয়ারের উজ্জ্বলতায় তা দেখা যায় না। কোরোনা থেকে সবসময়ই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন বার হয়, এবং এতদূর পৃথিবীতে তার ক্ষতি করার ক্ষমতা প্রায় নেই বললেই চলে।

ভালো কিছু ঘটার আশা : বিরল হলেও এ ধরণের কুসংস্কারও প্রচলিত আছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ইটালির কিছু মানুষের বিশ্বাস সূর্যগ্রহণের সময় ফুলগাছ লাগালে বেশি সুন্দর ফুল ফোটে।

আরও পড়ুন– আজগৈবীনাথ শিব ও সুলতানগঞ্জের উত্তরবাহিনী পবিত্র গঙ্গা

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ- আসল ভয়!

সূর্যগ্রহণের আসল ভয় কিন্তু অলৌকিক কিছু নয়, নিতান্তই বাস্তব। খালি চোখে অথবা অনপুযুক্ত সানগ্লাস/কালো কাচ/এক্স রে ফিল্মের কালো অংশ ইত্যাদি দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনার ভীষণ ক্ষতি হতে পারে। আর একটি ভয় রিসেন্টলি অ্যাড হয়েছে, তা হল ক্যামেরা দিয়ে ফটো তোলা। মনে রাখবেন, ক্যামেরা যাই হোক না কেন, ফটো তোলার সময় আনপ্রোটেকটেড ক্যামেরার ক্ষতি হবে এবং ফটোগ্রাফারের চোখেরও ক্ষতি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে।

কী ভাবে চোখের ক্ষতি বাঁচিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে?

সঠিক গুণমানের সোলার প্রোটেকটেড চশমা দিয়ে দেখলে চোখের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। তবে ঐ চশমার সঠিক ব্যবহার হওয়া চাই।এছাড়া পরোক্ষ উপায়ে (যেমন হোমমেড পিনহোল ক্যামেরা দিয়ে) দেখলে চোখের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আজকাল বহু নিউজ চ্যানেল সূর্যগ্রহণের লাইভ টেলিকাস্ট করে। সেটা চোখের পক্ষে ক্ষতিকর নয়।

উপসংহার

সূর্য, সূর্যদেবতা ও সূর্যগ্রহণ সংক্রান্ত উপসংহারে একটি কথা উল্লেখ না করে পারছি না। মহাভারতে জয়দ্রথ বধের ঘটনার যে বিবরণ আছে, সেটি পড়লে মনে হয় ঐ সময় একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। শ্রীকৃষ্ণ আগে থেকেই তা জানতেন বলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের ঐ সামান্য সময়টুকুকে ব্যবহার করে (সাময়িক ভাবে “সূর্যাস্ত” ঘটিয়ে) জয়দ্রথকে বাইরে এনে অর্জুনকে দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছিলেন। বলা হয় যে এই থিয়োরির উপর হিসেব করে মহাভারতের যুদ্ধের তারিখ বার করা হয়েছে, যদিও এই বিষয়ে কিছু মন্তব্য করার মত জ্ঞান আমার নেই।

দেখুন

ছবি -লেখক 


Share your experience
  • 337
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    337
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।