পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থান ৯ – বিভাস তমলুকের বর্গভীমা

Share your experience
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    24
    Shares

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়ঃপীঠনির্ণয় তন্ত্রের ৩৭ নম্বর পীঠস্থান, যা পশ্চিমবঙ্গের পীঠস্থানগুলির মধ্যে ৯ নম্বর স্থানে আসে, তা হল বিভাস। এ পীঠস্থানটি কিছু বিতর্ক থাকলেও (নীচে দ্রষ্টব্য) মেদিনীপুর জেলার তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরকেই পীঠস্থান বিভাস বলে মনে করা হয়। এখানে আমরা এই পীঠস্থানটি নিয়ে আলোচনা করবো।

বিভাস : পীঠস্থানের তালিকায় অবস্থান

ক) প্রচলিত তালিকা (ক্রমিক সংখ্যা এই তালিকায় যেমন আছে) :-

ক্রমিকসংখ্যা – পীঠস্থান ——————— দেহাংশ ———————— দেবী ———————– ভৈরব

৩৭ —– বিভাস (তমলুক) ————- বাম গুল্ফ (গোড়ালি) ——- ভীমরূপা বা কপালিনী ——– সর্বানন্দ

 খ) তন্ত্রচূড়ামণির তালিকা  (ক্রমিক সংখ্যা এই তালিকায় যেমন আছে) :-

৩৭ — বিভাস ——————— বাম গুল্ফ —————— কপালিনী —————– সর্বানন্দ

গ) শিবচরিত (ক্রমিক সংখ্যা এই তালিকায় যেমন আছে) :-

৪৯ ——-বিভাস —————— বাম গুল্ফ —————— ভীমরূপা —————- কপালী

এখানে দেখা যাচ্ছে যে তিনটি প্রামান্য তালিকার দুটিতে (প্রচলিত ও তন্ত্রচূড়ামণি) বিভাসের ক্রমিক সংখ্যা, পীঠস্থানের নাম, সতীর দেহাংশ, অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ও ভৈরবের নাম একই, অর্থাৎ অন্য ভাষায় এই তালিকা দুটি এখানে ম্যাচ করছে। তৃতীয় তালিকা (শিবচরিত) ক্রমিক সংখ্যা ও ভৈরবের নাম আলাদা, বাকি তিনটি প্যারামিটার ম্যাচ করছে।

এই তথ্যজ্ঞানকে হাতে নিয়ে এবার চলুন বিভাস যাওয়া যাক।

কোথায়?

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সদর শহর তমলুকে এই পীঠস্থানটি অবস্থিত। তমলুক বা তাম্রলিপ্ত একটি অতি প্রাচীন শহর। মহাভারতেও তাম্রলিপ্তের উল্লেখ আছে। তমলুক শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রূপনারায়ণ নদ। প্রাচীন কালে তাম্রলিপ্ত একটি বিখ্যাত বন্দর ছিল এবং এখান থেকে সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচল করত। কলকাতা ও খড়্গপুর থেকে তমলুকের দূরত্ব যথাক্রমে ৮৭ ও ৮৫ কিলোমিটার।

বিভাস পীঠস্থানের বিতর্ক

ক) দেবীর নাম বিতর্ক

প্রথমেই বলি, লোকমুখে দেবীর নাম ‘বর্গভীমা’ হলেও যে প্রামান্য তিনটি তালিকা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, তার কোনটাতেই দেবীর নাম বর্গভীমা নয়। পীঠনির্ণয় ও শিবচরিতে দেবীকে ভীমরূপা এবং তন্ত্রচূড়ামণিতে কপালিনী বলা হয়েছে। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের বাঙ্গালা ভাষার অভিধানেও দেবীর নাম ভীমরূপা। অন্নদামঙ্গল কাব্য কবি ভারতচন্দ্র এই পীঠস্থানটি সম্পর্কে বলেছেন –

“বিভাসকে বামগুল্ফ ফেলিলা কেশব। ভীমরূপা দেবী তাহে কপালী ভৈরব।।”

‘বর্গভীমা’নামটির সন্ধান পাওয়া যায় ‘তাম্রলিপ্ত মাহাত্মে’–

“কপালমোচনে স্নাত্বা মুখং দৃষ্ট্বা জগৎপতে। বর্গভীমাং সমালোক্য পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।।”

কিন্তু বর্গভীমা নামটি এল কোথা থেকে, অর্থাৎ ভীমা-র সঙ্গে বর্গ কথাটি যুক্ত হল কেন?

এ সম্বন্ধে নানা রকম মত আছে। কেউ বলেন একই বেদির উপর তিনটি মূর্তি থাকার জন্য ভীমা-র সঙ্গে বর্গ কথাটি যুক্ত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন স্থানীয় কোনও লৌকিক দেবী বর্গ-য়ের সঙ্গে ভীমা নামটা যুক্ত হয় বর্গভীমা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন ভীমা দেবী ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ এই চতুর্বর্গ দান করেন বলে তাঁর নাম হয়েছে বর্গভীমা। আবার অন্য এক মতে বঙ্গদেশ আক্রমণকারী মারাঠা বর্গীরা এই ভীমা দেবীকে দেখে ভয় পেয়ে এই অঞ্চলে কোনও অত্যাচার করেনি। সেই থেকে ভীমা দেবী বর্গভীমা নামে পরিচিত হন।

এ তো গেল দেবীর নামের বিতর্ক।

খ) ভৈরবের নাম বিতর্ক

পীঠনির্ণয় এবং তন্ত্রচূড়ামণিতে ভৈরবের নাম সর্বানন্দ এবং শিবচরিতে কপালী। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের বাঙ্গালা ভাষার অভিধানে ভৈরবের নাম কপালী ও সর্বানন্দ দুইই বলা হয়েছে। অন্নদামঙ্গলে ভৈরবের নাম কপালী। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্যতন্ত্রচূড়ামণিতে দেবীর নাম ‘কপালিনী’ বলা হয়েছে। অতএব দেখা যাচ্ছে, এই পীঠস্থানটির সঙ্গে কপাল কথাটি জড়িয়ে রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হল কেন?এর উত্তর খোঁজার আগে চলুন আমরা দেখি এই পীঠস্থানটির নাম নিয়ে কী ধোঁয়াশা আছে।

গ) পীঠস্থানের নাম বিতর্ক

পীঠনির্ণয়, তন্ত্রচূড়ামণি ও শিবচরিতে পীঠস্থানটির নাম বলা হয়েছে বিভাস। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের বাঙ্গালা ভাষার অভিধানে পীঠস্থানটিকে বলা হয়েছে বিভাস বা বিভাসক। অন্নদামঙ্গল কাব্যে কবি ভারতচন্দ্র এই পীঠস্থানটিকে বলেছেন বিভাসক।

বিভাস বা বিভাসক একই নামের ভ্যারিয়েশন ধরাই যেতে পারে। কিন্তু ‘তাম্রলিপ্ত মাহাত্মে’ পীঠস্থানটির নাম বলা হয়েছে কপালমোচন, এবং মনে করা হয় যে দেবীর কপালিনী বা ভৈরবের কপালী নামটি এই কপালমোচন কথাটিকে এসেছে।

কপালমোচন নামটির উল্লেখ আছে ‘তাম্রলিপ্ত মাহাত্মে’–

“কপালমোচনে স্নাত্বা মুখং দৃষ্ট্বা জগৎপতে। বর্গভীমাং সমালোক্য পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।।”

ভালো কথা। কিন্তু কপালমোচন কথাটি কোথা থেকে এল?

এ ব্যাপারে একটি পৌরাণিক গল্প আছে। দক্ষযজ্ঞ পণ্ড করার পর মহাদেব দক্ষের মাথা কেটে ফেললেন। কিন্তু দক্ষ ছিলেন একে মহাদেবের শ্বশুর তায় ব্রাহ্মণ। পিতৃতুল্য গুরুজন তথা ব্রাহ্মণ-বধের পাপে দক্ষের কাটা মাথা মহাদেবের হাতে আটকে গেল। পাপস্খালনের জন্য মহাদেব বহু তীর্থে ঘুরলেন, কিন্তু হাতের মাথা কিছুতেই খুলল না। অবশেষে বিষ্ণুর পরামর্শে মহাদেব তাম্রলিপ্তে এসে এখানে একটি জলাশয়ে স্নান করতেই তাঁর হাত থেকে দক্ষের কাটা মাথা বা কপাল খুলে পড়ল, অর্থাৎ কপালটির মোচন হল। সেই থেকে এই তীর্থটি কপালমোচন নামে এবং এখানকার দেবী কপালিনী ও ভৈরব কপালী নামে পরিচিত হলেন।

ঘ) পীঠস্থানের অস্তিত্ব বিতর্ক–

তমলুকের বর্গভীমা কি আদৌ কোনও পীঠস্থান?

এই প্রশ্নটি নিয়েও বিতর্ক আছে। এ সম্বন্ধে পূর্বা সেনগুপ্ত তাঁর একান্নপীঠ বইটিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, এখানে তার সার দেওয়া হল।

১) দেবী ভাগবত, হেবজ্রতন্ত্র, রুদ্রযামল, কুলার্ণব তন্ত্র, জ্ঞানার্ণব তন্ত্র ও প্রাণতোষিণী তন্ত্রে পীঠস্থানের তালিকায় বিভাস বা বিভাসক নেই।

২) বিভাস বা বিভাসক আর তমলুকের বর্গভীমা এক কিনা তা নিয়েও বিতর্ক আছে। কারো কারো মতে আসল বিভাস হল বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের কাছে তখৎ-ই-ভাই।

৩) তবে বেশির ভাগ পণ্ডিতই মনে করেন তমলুকের বর্গভীমাই হলেন বিভাস পীঠস্থানের ভীমা দেবী।

ঙ) বর্গভীমা কি বৌদ্ধ মন্দির ছিল?

তাম্রলিপ্ত বৌদ্ধের একটি প্রধান তীর্থস্থান ছিল। এখান থেকেই জাহাজে করে বোধিবৃক্ষকে সিংহল নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তমলুক অঞ্চলে গভীর বৌদ্ধ প্রভাব ছিল। সেজন্য কেউ কেউ মনে করেন বর্গভীমা মন্দিরটি আগে সম্ভবতঃ বৌদ্ধ মন্দির ছিল।

দেবীর দেহাংশ

সব প্রামান্য তালিকা অনুসারেই এখানে দেবীর বাম গুল্ফ বা বাঁ পায়ের গোড়ালি পড়েছিল।

দেবী দর্শন

বর্গভীমা দেবীর মন্দির

তমলুক বাজারের মধ্যে একটি নীচু টিলার মত ঢিবির উপর বর্গভীমা মন্দিরটি। পিছনেই রূপনারায়ণপুর নদীর পরিত্যক্ত খাত। মন্দিরের পাশেই কুণ্ড, যেখানে স্নান করায় শিবের হাত থেকে দক্ষের কাটামুণ্ড খসে পড়ে যায়। বিভিন্ন লৌকিক কাহিনীতে এই কুণ্ডটির জলের কিছু অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে বলা হয়েছে (যেমন মরা মাছ জ্যান্ত করা বা পিতল সোনা হয়ে যাওয়া)।

বর্গভীমার আদি মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাকাল মোটামুটি ১১৫০ বছর আগে। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন সম্রাট অশোক তাম্রলিপ্তে যে বৌদ্ধস্তূপ বানিয়েছিলেন তার উপরে পরবর্তী কালে এই মন্দিরটি তৈরী হয়।

এর প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ময়ূর রাজবংশের রাজা ময়ূরধ্বজের পুত্র তাম্রধ্বজকে ধরা হয়।আবার অন্য একটি লৌকিক কাহিনী অনুসারে ময়ূরবংশের রাজা গরুড়ধ্বজ এর প্রতিষ্ঠাতা। আবার তৃতীয় একটি লৌকিক কাহিনী অনুসারে ধনপতি সওদাগর এই মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা। তবে যিনিই প্রতিষ্ঠা করুন, প্রাচীন মন্দিরটি এখন আর নেই। বর্তমান মন্দিরটি বঙ্গে মুসলমান রাজত্বকালের পরেই তৈরী করা বলে মনে করা হয়।

বর্তমান মন্দিরটি মিশ্র রীতির। গঠনগত ভাবে কলিঙ্গ বা ওড়িশী রীতির হলেও বাংলা রীতির মিশ্রন প্রকট। সামনের নাটমন্দিরটি দালান রীতির ও জগমোহনটি চারচালা, যা বাংলা রীতিকে স্মরণ করায়। মূল মন্দির বা বিমানটি ওড়িশী দেউল বা শিখর ধাঁচের।

গর্ভগৃহে বেদিতে মা বর্গভীমার কালো পাথরের মূর্তি। বলা হয় যে মায়ের রূপটি উগ্রতারার রূপ। ফুলের স্তূপ ভেদ করে দেবীমূর্তির উপরের দুটি হাত, মুখমণ্ডল ও মাথার মুকুট ছাড়া আর বিশেষ কিছু চোখে পড়ে না। মুখমণ্ডলে বড় বড় চোখ আর বড় জিহ্বা, নাকে নথ। গলায় মুণ্ডমালা। যে ডানহাতটি দেখা যাচ্ছে তাতে খড়্গ, তেমনি দৃশ্যমান বাম হাতে পানপাত্র। জানা যায় যে একখণ্ড পাথরের সামনের দিকটা কুঁদে শিল্পী বর্গভীমার মূর্তিটি গড়েছেন। মূর্তি নির্মানের এই শৈলী খুবই বিরল।

বলা হয় যে বর্গভীমা মায়ের এই উগ্রতারা রূপটি দেখে বর্গীরা যেমন ভয় পেয়েছিল, তেমনি প্রচণ্ড হিন্দুবিদ্বেষী ও হিন্দু মন্দির ধ্বংসকারী কালাপাহাড়ও ভয় পেয়ে এই মন্দিরের কোনও ক্ষতি না করে ফিরে যায়।

এই পাথরের কালীমূর্তির পিছনে রয়েছে পাথরের গুহ্যমূর্তি। এই মূর্তিটি শুধুমাত্র স্নানের সময় দেখা যায়।

মন্দির চত্ত্বরে একটি তমাল গাছের গুঁড়িতে ভক্তরা মানত করে সুতো বাঁধেন। নানা রঙের সুতোয় গাছটির গুঁড়িটা প্রায় ঢাকা পড়েছে।

ভৈরব মন্দির

বর্গভীমার ভৈরবের মন্দিরটি মূল মন্দিরে ওঠার সিঁড়ির একপাশে। যদিও বর্গভীমার ভৈরবের নাম সর্বানন্দ বা কপালী, জনসাধারণ কিন্তু ভৈরবকে ভূতনাথ বলে। এই মন্দিরটি অপেক্ষাকৃত নতুন।

একটা কথা উল্লেখ করাটা খুব অপ্রাসঙ্গিক হবে বলে মনে হয় না। তা হল ১৯৩৮ সালের ১১ই এপ্রিল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এই মন্দিরটি দর্শন করেন।

কী ভাবে যাবেন

তমলুক রাস্তা এবং ট্রেনলাইন দিয়ে কলকাতা ও খড়্গপুর সহ বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতা থেকে জাতীয় সড়ক ৬ (NH 6) দিয়ে বাসে বা গাড়িতে সহজেই তমলুক আসা যায়। তমলুকের রেলপথে যোগাযোগও ভালো। হাওড়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথে অবস্থিত তমলুকে মোট সাতটি ট্রেন যায়। তারমধ্যে ১২৮৫৭ তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি (হাওড়া ছাড়ে ০৬.৩৫ এবং তমলুক পৌঁছায় ০৮.১৩) একদিনের যাত্রার জন্য খুবই ভালো। এছাড়া ৩৮০৫১ হাওড়া-হলদিয়া লোকাল (হাওড়া ছাড়ে ০৬.১৫ এবং তমলুক পৌঁছায় ০৮.৪৩) ও ৩৮০৫৩ হাওড়া-হলদিয়া ফাস্ট লোকাল (হাওড়া ছাড়ে ০৯.৩২ এবং তমলুক পৌঁছায় ১১.৩৫) ট্রেনদুটিও বর্গভীমা দর্শনের জন্য ভালো।

আর ফেরার জন্য ১২৮৪৮ দীঘা-হাওড়া সুপার এসি এক্সপ্রেস (তমলুক ছাড়ে ১৬.৫০ ও হাওড়া পৌঁছায় ১৮.৪০) এবং ৩৮০৫৬ হলদিয়া-হাওড়া ফাস্ট লোকাল (তমলুক ছাড়ে ১৫.৫৮ ও হাওড়া পৌঁছায় ১৭.৫৭) খুব সুবিধাজনক।

 

উপসংহার

নানা কিংবদন্তীতে ঘেরা বর্গভীমার মন্দির দেখার অসুবিধা কিছু নেই। তমলুকের যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব ভালো। দেখেই আসুন না একদিন।

ছবি–লেখক


Share your experience
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    24
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।