ত্যাগরাজা স্বামী শিব -তামিলনাড়ুর থিরুবারুরে বর্ণময় মন্দির

Share your experience
  • 140
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    140
    Shares

আথারা (আধার) লিঙ্গমের সাধারণ আলোচনায় আমরা জেনেছি যে প্রথম আথারা লিঙ্গম হলেন মূলাধার চক্রের অধীশ্বর ত্যাগরাজা স্বামী শিব, এবং তাঁর মন্দিরটি তামিলনাড়ুর থিরুবারুর জেলার সদর শহর থিরুবারুরে অবস্থিত। আমরা এখন সেই মন্দির দর্শনে যাবো।লিখছেন- আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

ত্যাগরাজা স্বামী, থিরুবারুর

ত্যাগরাজা স্বামী : অবস্থান

তামিলনাড়ুর থিরুবারুর জেলার সদর শহর থিরুবারুরে ত্যাগরাজা স্বামীর বিশাল মন্দির। চেন্নাই থেকে থিরুবারুরের দূরত্ব সড়কপথে ৩৪০ কিলোমিটার। এর ভৌগোলিক অবস্থান হল ১০.৭ ডিগ্রী নর্থ, ৭৯.৬ ডিগ্রী ইস্ট। লক্ষ্য করে দেখুন, বহু বিখ্যাত মন্দির ও তীর্থস্থানের মত থিরুবারুরের অবস্থানও সেই ৭৯ ডিগ্রী ইস্ট লঙ্গিচ্যুডে। কাকতালীয়, নাকি কোনও গূঢ় রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই ৭৯ ডিগ্রী ইস্ট লঙ্গিচ্যুডের মধ্যে? এ নিয়ে অন্যত্র বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, তাই আর তাতে ঢুকছি না।

ত্যাগরাজা স্বামী : লৌকিক কাহিনী

একবার মুচকুন্দ চক্রবর্তী নামের একজন চোল রাজা দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে বর পেয়ে ইন্দ্রের কাছে ভগবান বিষ্ণুর দেওয়া ত্যাগরাজা স্বামীর পান্নার তৈরী শিবলিঙ্গটি চাইলেন মন্দিরে স্থাপন করার জন্য। ইন্দ্রের একেবারেই ইচ্ছা ছিল না ঐ শিবলিঙ্গটি দেওয়ার। তাই তিনি ত্যাগরাজা স্বামীর আসল শিবলিঙ্গটির সঙ্গে একই রকম ছ’টি পান্নার শিবলিঙ্গ বানিয়ে রাজা মুচকুন্দকে বললেন আসল শিবলিঙ্গটি বেছে নিতে। মুচকুন্দ পড়লেন খুব বিপদে। সাতটি শিবলিঙ্গই দেখতে একদম একরকম। মুচকুন্দ শিবকে স্মরণ করে যে শিবলিঙ্গটি স্পর্শ করলেন, সেটিই ছিল আসল শিবলিঙ্গ। এতে ইন্দ্র খুব খুশি হয়ে মুচকুন্দকে সাতটি শিবলিঙ্গই দিয়ে দিলেন। মুচকুন্দ আসল শিবলিঙ্গকে থিরুবারুরে এবং অন্য শিবলিঙ্গগুলিকে যথাক্রমে থিরুনাল্লার দর্ভ অরণ্যেশ্বর মন্দিরে, নাগপত্তিনাম কায়ারোহণস্বামী মন্দিরে, থিরুকারাভাসাল কন্যায়ারিয়াম মুদালিয়ার মন্দিরে, থিরুভাইমুর ভাইমুরনাথ মন্দিরে, থিরুক্কুভালাই ব্রহ্মপুরেশ্বর মন্দিরে এবং বেদারণ্যম বেদারণ্যেশ্বর মন্দিরে স্থাপন করেন।

বলা হয় যে এই সাতটি ত্যাগরাজা স্বামীর ‘উৎসব মূর্তি’ শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাওয়ার সময় “সপ্ত বিদাঙ্গম” রীতির নাচ নাচেন (আসলে মূর্তি বাহকরা নাচেন)।

ত্যাগরাজা স্বামী, থিরুবারুর ২

ত্যাগরাজা স্বামী : ইতিহাস

অতীতে এই জায়গাটির নাম ছিল “আরুর”, পরে ত্যাগরাজা স্বামীর প্রতি সম্মান দেখাবার জন্য “থিরু” কথাটি যোগ করে জায়গাটির নাম হয় “থিরুবারুর”। এই জায়গাটির দ্বিতীয় নাম হল ত্যাগরাজা স্বামী শিবের শক্তি  কমলাম্বিগাই এবং পবিত্র জলাশয় কমলালয়ম-য়ের নামে “কমলালয় ক্ষেত্র”।

থিরুবারুর ছিল চোল সাম্রাজ্যের পাঁচটি রাজধানীর অন্যতম। খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দিতে রচিত তামিল ধর্মগ্রন্থ ‘তেভরম’-য়ে থিরুবারুরের ত্যাগরাজা স্বামীর উল্লেখ আছে। চোল রাজারা ত্যাগরাজা স্বামী মন্দিরের পৃষ্ঠপোষক ছিলে। পরে পাণ্ড্য এবং হয়সালা রাজারাও এই মন্দিরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন।

ত্যাগরাজা স্বামী : মন্দির

এই মন্দিরে শিব ‘ত্যাগরাজা’ রূপে পূজিত হন। ত্যাগরাজা হলেন শিবের সোমস্কন্দ রূপ। আগেই বলা হয়েছে যে থিরুবারুরের ত্যাগরাজা স্বামী হলেন মূলাধার চক্রের অধীশ্বর।

খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দির তামিল ধর্মগ্রন্থ ‘তেভরম’-য়ে এই মন্দিরের উল্লেখ  থাকলেও এই মন্দিরটির গ্র্যানাইট পাথরের স্ট্রাকচারটি প্রথম নির্মাণ করেন খৃষ্টীয় নবম শতাব্দিতে আদিত্য চোল (৮৭১ – ৯০৭ খৃঃ)। রাজরাজা চোল (৯৮৫ – ১০১৪ খৃঃ) মন্দিরটি বড় করে পুনর্নির্মাণ করেন। এরপর রাজেন্দ্র চোল (১০১২ – ১০৪৪ খৃঃ) মন্দিরটিকে আরও বড় করেন। সঙ্গম রাজবংশের রাজারা (১৩৩৬ – ১৪৮৫ খৃষ্টাব্দ) এবং সালুভা ও তুলুভা বংশের রাজারা (১৪৯১ – ১৫৭০ খৃষ্টাব্দ) এই মন্দিরের উন্নতিসাধন করেন।

দাক্ষিণাত্যের অধিকাংশ বড় মন্দিরের মত থিরুবারুর ত্যাগরাজা মন্দিরও রাজনৈতিক পালাবদলের ঝামেলায় পড়েছে। এমনকি ১৭৫৯ খৃষ্টাব্দে ফরাসীরা এই মন্দিরটি দখল করে লুঠতরাজ এবং হত্যালীলা চালায়।

স্থল বৃক্ষ, থিরুবারুর

৩০ একরেরও বেশি জমির উপর স্থাপিত এই মন্দিরটি ভারতের সবচেয়ে বড় মন্দিরগুলির মধ্যে একটি। এর চারদিকে চারটি গোপুরম, তার মধ্যে পূর্ব দিকের ৩০ মিটার (৯৮ ফিট) উঁচু গোপুরমটিই সর্বোচ্চ। দ্রাবিড় রীতিতে তৈরী মন্দিরটিতে অনেকগুলি ছোট মন্দির, মণ্ডপ বা হল, কুণ্ড অর্থাৎ পবিত্র জলাশয় ইত্যাদি আছে। এখানকার কমলালয়ম পুকুরটির আয়তন ৩৩ একর এবং এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম temple pond।

এই মন্দিরের দুই প্রধান বিগ্রহ হল বনমিকিনাথার শিব এবং থিরুবারুর ত্যাগরাজা স্বামী। পার্বতী এখানে ‘কমলাম্বিগাই’। মূল মন্দির ছাড়া এখানে অনেকগুলি ছোট ছোট মন্দির আছে (তামিলে ‘সন্নিথি’)। বলা হয় যে এত ‘সন্নিথি’ ভারতের আর কোনও মন্দিরে নেই। এই ‘সন্নিথি’-গুলির মধ্যে প্রধান হল আনন্দীশ্বর, অচলেশ্বর, অদগেশ্বর, বরুণেশ্বর, আন্নামালাইয়েশ্বর, কমলাম্বল ইত্যাদি।

অন্যান্য দ্রাবিড় রীতির বড় মন্দিরের মত ত্যাগরাজা স্বামী মন্দিরেও অনেকগুলি মণ্ডপ বা হল আছে। তার মধ্যে প্রধান হল ভক্ত কাটচি মণ্ডপ, ঊনজাল মণ্ডপ, থুলাপর মণ্ডপ, পুরান মণ্ডপ, রাজনারায়ন মণ্ডপ এবং রাজেন্দ্র চোল বা সভাপতি মণ্ডপ।

পাথরে ভাস্কর্য, ত্যাগরাাজা স্বামী মন্দির, থিরুবারুর

ত্যাগরাজা স্বামী : রথ

এই মন্দিরের রথের কথা না বললে থিরুবারুরের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আকর্ষণকে বাদ দেওয়া হয়। এখানকার ৯০ ফিট উঁচু এবং ৩০০ টন ওজনের বিশাল রথটি দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে বড় রথ। এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এই রথযাত্রা এখানকার সবচেয়ে বড় উৎসব।

ত্যাগরাজা স্বামী : “সপ্ত বিদাঙ্গম”

এই বিষয়টির সঙ্গে রাজা মুচকুন্দ ও ইন্দ্রের কাহিনীটি জড়িয়ে আছে (উপরে দেখুন)। রাজা মুচকুন্দ যে সাতটি ত্যাগরাজা স্বামী মূর্তি নিয়ে এসে সাত জায়গায় স্থাপন করেছিলেন, তা উপরে বলা হয়েছে। বলা হয় যে উৎসবের সময় যখন শোভাযাত্রা করে এই সাতটি শিবের ‘উৎসব মূর্তি’-কে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁরা সাত রকমের নাচ নাচেন (আসলে তাঁদের ভক্তরা নাচেন)। এই সাত রকম নাচকে বলা হয় “সপ্ত বিদাঙ্গম”।

ত্যাগরাজা স্বামী, থিরুবারুর 4

এই নাচগুলি কী এবং সেগুলি কোন শিবের সঙ্গে জড়িত তা নীচে দেওয়া হল :-

১) থিরুবারুর ত্যাগরাজা স্বামী শিব —  নাচ ‘অজবা (অজপা) নাটনম’ — সঙ্গীত বিহীন নাচ।

২) থিরুনাল্লার দর্ভ অরণ্যেশ্বর শিব — নাচ ‘উন্মত্ত নাটনম’ — নেশাগ্রস্ত বা উন্মাদ মানুষের মত ভঙ্গিতে নাচ।

৩) নাগপত্তিনাম কায়ারোহণস্বামী — নাচ ‘ভিলাথি নাটনম’ — সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ভঙ্গিতে নাচ।

৪) থিরুকারাভাসাল কন্যায়ারিয়াম মুদালিয়ার — নাচ ‘কুকটা নাটনম’ — মোরগের মত ভঙ্গিতে নাচ।

৫) থিরুভাইমুর ভাইমুরনাথ — নাচ ‘কমল নাটনম’ — বাতাস বইলে প্রস্ফূটিত পদ্মফুল যেমন দোলে তেমন ভঙ্গিতে নাচ।

৬) থিরুক্কুভালাই ব্রহ্মপুরেশ্বর  — নাচ ‘ভৃঙ্গ নাটনম’ — ভৃঙ্গ অর্থাৎ ভ্রমরের মত ভঙ্গিতে নাচ।

৭) বেদারণ্যম বেদারণ্যেশ্বর — নাচ ‘হংসপ্থ’ — রাজহাঁসের মত ভঙ্গিতে নাচ।

ত্যাগরাজা স্বামী মন্দির, থিরুবারুর ১

লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

আমি চেন্নাই এগমোর স্টেশন থেকে রাত ২২.০৫-য়ের ১৬১৮৫ ভেলানকান্নি এক্সপ্রেস ধরে পরদিন ভোর ০৪.১৫ নাগাদ থিরুবারুর জংশনে পৌঁছোই। তারিখটা ছিল ০৮ এপ্রিল ২০১৫। তখনও আকাশে আলো ফোটেনি। আমি স্টেশনের ওয়েটিং হলের দিকে উঁকি মারলাম। লোকজন বেশি নেই, কিন্তু অনেকেই বসার বেঞ্চে লম্বা হয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছে। বসার জায়গা নেই। আমি টয়লেটে উঁকি মারলাম — নাঃ, নোংরা নয়, অন্ততঃ আমার মত পরিব্রাজক মার্কা মানুষের কাছে ‘চলবে’। টয়লেট ঘুরে প্ল্যাটফর্মে এসে একটা বেঞ্চে বসে রইলাম। আস্তে আস্তে আলো ফুটছে। মনে হল জংশন হলেও থিরুবারুর তেমন ব্যস্ত স্টেশন নয়।

আমাকে ঐ ভাবে অনেকক্ষণ একা বসে থাকতে দেখে একজন টিকিট চেকার ভদ্রলোক এগিয়ে এসে বিচিত্র টানের দক্ষিণী ইংরেজিতে জানতে চাইলেন আমি কারো জন্য অপেক্ষা করছি কিনা। আমি প্রথমে বললাম, “ইয়েস স্যার, ফর মিস্টার সান।” তারপর ভদ্রলোক আমার কথা বুঝতে পারছেন না দেখে ওনাকে বুঝিয়ে বললাম যে আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি ত্যাগরাজা স্বামীর মন্দির  দর্শন করতে, দর্শন করে আজই রাতের ট্রেন ধরে চেন্নাই ফিরে যাব। সেখান থেকে ফ্লাইটে কোলকাতা। শুনে ভদ্রলোক অবাক হয়ে গেলেন। বললেন উনি ভাবতেও পারছেন না শুধুমাত্র একটা শিবমন্দির দেখার জন্য কেউ এতদূর আসতে পারে।

গোপুরম, ত্যাগরাজা স্বামী, থিরুবারুর

 অবাক হওয়ার পালা

যাই হোক, ভদ্রলোক আমাকে একটা ভাড়া গাড়ি ঠিক করে দিয়ে বললেন তাঞ্জাভুর এখান থেকে ৬০ কিলোমিটার। ত্যাগরাজা স্বামীর মন্দির দেখতে বড়জোর ঘণ্টা দুয়েক লাগবে। আমার ফেরার ট্রেন তো রাতে। তাই চাইলে আমি এই গাড়িতে করেই তাঞ্জাভুরের বৃহদীশ্বর মন্দির দেখে আসতে পারি।

এবার আমার অবাক হওয়ার পালা। একজন সম্পূর্ণ অচেনা মানুষের জন্য ঐ ভদ্রলোকের এই অযাচিত সাহায্য করা দেখে একটা কথাই মাথায় এলো — ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’।

কিন্তু অবাক হওয়ার পালা তখনও শেষ হয়নি। ত্যাগরাজা মন্দিরে ঢুকলাম। বিশাল মন্দির। তিনটে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এনক্লোজার। ছোট বড় বহু মন্দির (এগুলোকেই ‘সন্নিথি’ বলে); বড় বড় হলঘর। এর মধ্যে মূল মন্দিরটা কোথায়? সকাল ছ’টা বাজে মাত্র, লোকজন কেউ নেই।

কী করব ভাবছি, এমন সময় দেখি একজন খুব বয়স্ক মতন ভদ্রলোক একদিকে যাচ্ছেন। হাতে পূজার ডালি। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে ওঁকে জিজ্ঞাসা করলাম উনি ইংরেজি বোঝেন কিনা। উনি ‘হ্যাঁ’ বলতে আমি আমার সমস্যাটা ওনাকে জানিয়ে ক্যাজুয়ালি ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ বলতেই ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়েই কী রকম যেন চমকে উঠলেন। তারপরেই আমাকে সম্পূর্ণ অবাক ও অপ্রস্তুত করে আমার পায়ের কাছে বসে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন, তার সঙ্গে দুর্বোধ্য তামিলে গড়গড় করে কী সব বলে চললেন!

আমার প্রথম রি-অ্যাকশনটা হল ‘পাগল নয় তো?’

শিব দর্শন!!

একটু পরে ওঁর কান্না থামল। তারপর অনেক কষ্টে ওঁর দুর্বোধ্য তামিল-ইংরেজির জাল ভেদ করে যা বুঝলাম তাতে আমার তো যাকে বলে ‘আক্কেল গুড়ুম’। উনি নাকি আমার মধ্যে শিব দর্শন করেছেন!

লাও ঠ্যালা! আমাকে দেখে কার কী মনে হয় বা এযাপৎ কাল হয়েছে, তাতে ‘বোকা’ ‘বুদ্ধু’ ‘মাকাল ফল’-ই প্রধান (বৃদ্ধা ব্রাহ্মণী কী দেখেছিল সেটা আর সাহস করে জিজ্ঞাসা করে উঠতে পারি নি), শিবের চ্যালা চামুণ্ডাও মনে হতে পারে, কিন্তু একেবারে শিব! জয় ভোলে!

আরও পড়ুন- –আথারা বা আধার লিঙ্গম : শিবঠাকুরের খোঁজে — পর্ব ২

যাই হোক, ঐ ভদ্রলোক শুধু যে আমাকে ত্যাগরাজা স্বামী দর্শন করালেন তাই নয়, ত্যাগরাজার বিশাল মন্দিরটা ঘুরিয়ে দেখালেন, মন্দিরের বিখ্যাত রথটা দেখালেন, কফি খাওয়ালেন এবং নিজের বয়সের কাছাকাছি বয়সের একটি ঝরঝরে মোপেডে করে সুন্দররাজা শিবমন্দির ও শিব দেখিয়ে গাড়ির কাছে পৌঁছে দিলেন। শুধু তাই নয়, আমার মোবাইল নম্বর নিলেন এবং আমি তাঞ্জাভুর ঘুরে থিরুবারুর স্টেশনে ফিরে চেন্নাইয়ের ট্রেন ধরে পরদিন চেন্নাই এয়ারপোর্ট পৌঁছনো পর্যন্ত বার বার ফোন করে আমার খোঁজ নিয়েছিলেন।আমি ওনার কাছে কী ঠিক জানি না, কিন্তু উনি আমার কাছে সাক্ষাৎ ভোলেনাথ ত্যাগরাজা স্বামী। ওঁ শিবায় নমাহ।

উপসংহার

থিরুবারুর সম্বন্ধে আর একটি কথা না বললেই নয়। কর্ণাটকী সঙ্গীতের তিন মহারথী ত্যাগরাজা (১৭৬৭ – ১৮৪৭ খৃঃ), মুথুস্বামী দীক্ষিটার (১৭৭৫ – ১৮৩৫ খৃঃ) এবং শ্যামাশাস্ত্রীর (১৭৬২ – ১৮২৭ খৃঃ) বাস এবং কর্মক্ষেত্র ছিল থিরুবারুর।

থিরুবারুর কর্ণাটকী সঙ্গীতের একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। ‘পঞ্চমুগা (পঞ্চমুখ) বাদ্যম’ এবং ‘বারিনয়নাম’ নামের একটি বিশেষ নাদস্বরম বাদ্যযন্ত্র থিরুবারুরের নিজস্ব সম্পদ।

তথ্য ঋণ -উইকিপিডিয়া সহ বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইট।

ফটো–লেখক।


Share your experience
  • 140
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    140
    Shares

Facebook Comments

Post Author: আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

asish chottopadhyay
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৫৬) দুর্গাপুরের একজন প্রতিথযশা স্ত্রীরোগবিশেজ্ঞ। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসতালে ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চাকরি করার পর এখন উনি সম্পূর্ণ ভাবে গরীব ও দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। দেশভ্রমণ, ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখালেখি করা ওঁর নেশা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বইতে ওঁর তোলা ফটো প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা ওঁর দুটি ব্যতিক্রমী উপন্যাস, একটি ছোটগল্প-সংগ্রহ, একটি কবিতার বই , একটি ছড়ার বই ও দুটি ভ্রমণকাহিনী আছে, যার মধ্যে একটি উপন্যাস (চরৈবেতি) দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্ট সেলার লিস্টে স্থান পেয়েছিল। ইংরেজিতে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও মেলা নিয়ে লেখা ওঁর শতাধিক ব্লগের প্রায় দেড় লক্ষ ভিউ আছে। বাংলার মন্দিরের উপর ওঁর ইংরেজিতে লেখা একটি গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার রঙিন ফটোসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ই-বুক আছে, যেটি সাধারণ মানুষ, যাঁরা মন্দির ভালোবাসেন কিন্তু খুব পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা পড়তে চান না, তাঁদের জন্য লেখা।।

1 thought on “ত্যাগরাজা স্বামী শিব -তামিলনাড়ুর থিরুবারুরে বর্ণময় মন্দির

Comments are closed.