বিষ্ণু রূপী রামচন্দ্র হিসাবে পূজিত হন থাইল্যাণ্ডের রাজা জনগণের কাছে

Share your experience
  • 626
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    626
    Shares

বিষ্ণু নারাই থাইল্যাণ্ডে
বিষ্ণু নারাই থাইল্যাণ্ডে

অনিতা বসুঃ  ব্যাঙ্কক মিউজিয়ামের গাইড রূপে গত কয়েক বছরে অনেক কিছু দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। অতি সুভদ্র সজ্জন ব্যবহারের থাইজাতির ইতিহাসে অনেক রাজবংশ, অনেক রাজার শাসন কাহিনী বিস্তৃত। রাজাদের প্রাসাদ বা প্রাসাত (থাইভাষায়) নির্মাণে যেমন রামায়ণ, মহাভারতের ছাপ পড়েছে তেমনি আজও বর্তমান গ্র্যাণ্ডপ্যালেস বা ব্যাঙ্কক এর রাজপ্রাসাদের অলিন্দে বিষ্ণুরূপী সি RAMA বা ফ্রা লামIর কাহিনী উজ্জ্বলভাবে প্রতীয়মান। থাইল্যাণ্ডের প্রতিটা মানুষের কাছে রাজা = বিষ্ণু। এর অন্যথা আমি এখনও দেখিনি। প্রতিটি রাজপরিবারের সদস্যকে এরা বিষ্ণুরূপী সর্গের প্রতিভু রূপে মান্যতা দেন। শ্রীরামচন্দ্রকে ভারতবর্ষ শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার বলে নির্দ্দিষ্ট করেছে তার আধ্যাত্মিক, শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায়। বিষ্ণু রূপী রামচন্দ্র হিসাবে পূজিত হন থাইল্যাণ্ডের রাজা জনগণের কাছে। তাছাড়া কম্বোজ সহ এশিয়ার বহুদেশ তাদের রাজাকে ঠিক এই বিষ্ণুরূপী রামচন্দ্র রূপেই পূজো করে থাকেন।  ২০১৮ সালেও যা অত্যন্ত বাস্তব ঘটনা।

শিল্পের নেশায়, ভারততত্ত্বের ছাত্রী রূপে, ভালোবাসার টানে গুটিগুটি করে অনেকগুলি স্টাডি ট্রিপ বা সভ্যতা-সংস্কৃতি বিষয়ক ভ্রমণ দলের সঙ্গিনী হয়েছি। আর এভাবেই পৌঁছে গিয়েছিলাম থাইল্যাণ্ডের উত্তর-পূর্বে প্রান্তের ‘নাখোন রাচাসীমা’ (নগর রাজাসীমা) র ‘ফিমাই’তে। কি আশ্চর্য্য ব্যাপার, দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। ‘প্রাসাত হিন ফিমাই’ বলে চোখের সামনে যে অপূর্ব রাজপ্রাসাদ এর ছবি দেখছি তা কথিত ভীমাপুরা বা ভীমের শহর নামে। ভামায়াপুরা → ভীমায়া → ফিমাই এভাবেও ব্যাখ্যা করেন প্রাচীন থাইরা। আমরা হরপ্পা-মহেঞ্জোদ্বারো সভ্যতায় সুন্দর রাস্তা নির্মাণের কথা পড়েছি, মেক্সিকোর মায়া সভ্যতার শহরগুলি বা প্রাচীন মিশরের শহরগুলির গঠনেও যে সুন্দর রাস্তা বা যাত্রাপথ ছিলো জানি; এই ‘ফিমাই’ কেন্দ্রটি ছিলো আঙ্কোরভাটের হিন্দু কম্বোজ রাজাদের এক সুদীর্ঘ হাইওয়ে বা অতিদীর্ঘ রাজপথের এক প্রান্তসীমার শহর।

বিষ্ণু বাহন গড়ুর থায়ল্যাণ্ড
বিষ্ণু বাহন গড়ুর থায়ল্যাণ্ড

বিষ্ণু কৃষ্ণ দুর্গা-মন্দির নগরী ফিমাই

বিরাট জায়গা নিয়ে প্রায় আঙ্কোরভাটের আকৃতিতে তৈরী হয় ফিমাই। ১০২০ × ৫৪০ মিটার জায়গা নিয়ে তৈরী এই মন্দির নগরী ছিলো দশম-দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত। কম্বোজ এর ‘খমের’ রাজাদের অন্যতম বিশাল রাজপ্রাসাদটিতে অসংখ্য বিষ্ণু, শিব এর মন্দির পাওয়া গেছে। অবাক হয়ে দেখেছি মন্দিরের লিনটেল গুলিতে শ্রীকৃষ্ণের জীবনী যেমন উত্কীর্ণ রয়েছে, তেমনি মহাভারতের অশ্বমেধ যজ্ঞর অপূর্ব পাথরের ভাষ্কর্য্যও উপস্থিত। কৃষ্ণের নাগ বা কালীয়নাগ দমন যেমন উত্কীর্ণ তেমনি এই পাথরের কবিতায় মহিষাষুর মর্দিনী দুর্গাকে দেখে চমকে উঠেছি। ফিমাই প্রাসাদ, ফিমাই ন্যাশনাল মিউজিয়াম, দুটোই অসাধারণ।

বিষ্ণু ব্যাঙ্কক মিউজিয়াম
বিষ্ণু ব্যাঙ্কক মিউজিয়াম

বিষ্ণু, ব্যাংকক মিউজিয়ামে

লোপবুড়ি, সুকোথাই রাজত্ব কালেও বহু অপূর্ব বিষ্ণুমূর্ত্তি, কৃষ্ণকথার ভাষ্কর্য্য তৈরী করেছে থাইল্যাণ্ড। বিষ্ণুর অনন্ত শয়নের এক নয়নাভিরাম পাথরের মূর্ত্তি আছে ব্যাঙ্কক মিউজিয়াম এ। আর আছে ব্রোঞ্জের এক অসাধারণ বিষ্ণু। প্রায় সাতফুটের কাছে দৈর্ঘ্যের এই মূর্ত্তিটি ‘সুখোথাই’ সাম্রাজ্যের এক অসামান্য শিল্পকর্ম। সেসময় না জানি কত পূজার অর্ঘ্যই নিবেদিত হয়েছে তার চরণে, আজও যতবার দাঁড়াই মাথা নত হয়ে যায় আপনা হতেই, মন ভরে যায় প্রশান্তিতে। পাথুরে মূর্ত্তির হিসাব নিকাশ থেকে মন সরিয়ে নিলে দেখি আজও বিষ্ণু স্মরণ করে সমস্ত রাজারা উপাধি গ্রহণ করছেন ‘রামা’।

থাইল্যাণ্ডের রাজবংশে বিষ্ণু

থাইল্যাণ্ডের এক প্রখ্যাত রাজবংশ ‘নারাই’ বংশ। রাজা নারাই (১৬৩৩–১৬৮৮ খ্রীঃ) বিখ্যাত ছিলেন ‘রামা থি বোদি’ নামেও। বিষ্ণুর বাহন ‘গড়ুর’ এখনও থাইল্যাণ্ডের জাতীয় প্রতীক যেমন আমাদের ‘অশোক চক্র’। ‘গড়ুর’ পরিচিত ‘ফ্রা ক্রু’ নামে। অর্থাত্ মহান গুরু। বহু লোকালয়ের মধ্যে, বিশেষ উল্লেখযোগ্য অফিসে বা পার্কে ‘নারাই’ অর্থাত্ ‘নারায়ণ’ রূপী বিষ্ণু এবং তাঁর বাহনের মূর্ত্তির উপস্থিতি অত্যন্ত প্রবল। ‘নারায়া’ নামে একটি বিখ্যাত ব্র্যাণ্ড আছে ব্যাগ এর। এয়ারপোর্ট থেকে যেকোন বানিজ্য কেন্দ্র এর বিশেষ প্রভাব। এমনকি বেশ কিছু বড় আবাসিক প্রকল্প ‘নারাই’ বা ‘নারায়া’ নামে নামাঙ্কিত। থাইল্যাণ্ডের বর্তমান রাজবংশ বিখ্যাত ‘চক্রী’ রাজবংশ নামে, যা এসেছে শ্রীবিষ্ণুর আয়ুধ ‘চক্র’ হতে। রাজপরিবার নিজস্ব যে প্রতীকচিহ্ন তাতেও দেখা যায় চক্রের উপস্থিতি। বার্ষিক হলকর্ষন উৎসবে বিষ্ণু, নারায়ণ, লক্ষ্মীর উপস্থিতি এবং যথাযোগ্য মর্যদায় পূজার অনুষ্ঠান দেখবার সৌভাগ্যও হয়েছে।

রাজপ্রাসাদের ইতিহাসে বিষ্ণু ভাবনা

থাইল্যাণ্ডের বিভিন্ন প্রাদেশিক রাজপ্রাসাদ গুলির ইতিহাসে বিষ্ণুর উপস্থিতি প্রবল। কম্বোজ এবং ভারতের যুগ্মপ্রভাবে ভিনদেশের মাটিতে শ্রীকৃষ্ণের অভিনব উপস্থাপন তাই খুব উজ্জ্বল। কত যে স্থাপত্যে, ভাষ্কর্যে, কালীয় সর্পদমন, বা (কৃষ্ণা কিলিং নাগা কালিয়া) নাগকালীয় দমন ঘটনার উল্লেখ তা বিষ্ময়কর। অনেকে মনে করেন এগুলি বোধকরি শুধুমাত্রই কাহিনী, কল্পনার খেলা। ভাবতে অবাক লাগে সেই কাহিনীকারদের লেখনী দক্ষতাকে, সম্মান করি সেই কল্পনার স্রষ্টাদের যাদের হাত ধরে ভারতবর্ষ এমনভাবে আপন হয়ে গেছে বর্হিভারতের অঙ্গনে। প্রাসাত ফিমাই, প্রাসাত শিখরাফুম, প্রাসাত ফানোমরুং যেমন আশ্চর্য্যজনক ভাবে ‘বিষ্ণুকথা’র পাথুরে ভাষ্যকার, তেমনি অপূর্ব থাই মানুষদের দৈনন্দিন জীবনের একটি ধারায় অনুষ্ঠান — ‘কতা বুচা ফ্রা নারাই’ অর্থাত্ ভারতীয় সত্য নারায়ণ কথা পূজার থাই সংস্করণ। কতা — কথা, বুচা বা বুছা — পূজা, ফ্রা-নারাই অর্থাত্ শ্রী নারায়ণ। সত্যনারায়ণ পূজায় যেভাবে কথাপাঠ হয় এখানেও ‘কতা ফ্রা নারাই সংস্কৃত’ অর্থাত্ নারায়ণ কথা গানের মতো করে বা সুর করে পাঠ করা হয়।

বিষ্ণু আরাধনা

‘বিষিনু গায়ত্রী’ এবং ‘নারাই গায়ত্রী’ মন্ত্র পাঠ অত্যন্ত আবশ্যিক এই অনুষ্ঠানে। এ প্রসঙ্গে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করি। আমাদের পরিবারে প্রতিবছর একটি ‘সত্যনারায়ণ’ পূজার আয়োজন করা হয়, দেশে ও দেশের বাইরে যেখানেই থাকি সেখানে এটি আমরা পালন করে থাকি। ব্যাঙ্ককে প্রথম বছর যখন অনুষ্ঠান করি আমাদের পারিবারিক থাইভাষা শিক্ষিকাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। মনে মনে একটি চিন্তায় ছিলাম থাই শিক্ষিকা হয়তো একটু অপ্রস্তুত বোধ করবেন এই পূজায় এসে, ভাষা আলাদা, আচার-আচরণও তাই। কিন্তু খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছিলাম অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়ে তিনি পুরো অনুষ্ঠানটি পর্যবেক্ষণ করলেন। শুধু তাই নয় ভক্তিভরে প্রণাম করে জানিয়ে গিয়েছিলেন যে তারাও একইভাবে বিষ্ণুর আরাধনা করে। তার একটুও মনে হয়নি কোনও ভারতীয়র বাড়ির পূজো দেখছেন। আজ যখন এবিষয়ে লিখতে বসেছি তখন মনে পড়েছে সেই কথাগুলি, সত্যিই তো অনেক অমিলের মধ্যে বহু সাজুয্য রয়েছে দুদেশের ‘নারায়ণ’ আরাধনায়।

নারাই পুজো থাইল্যাণ্ডে

নারাই পূজার সামগ্রী ও আচার সঙ্গতভাবেই থাইজাতির নিজস্ব প্রভাবে প্রভাবিত। এদেশে কলাপাতা দিয়ে এক অপূর্ব শিল্পকর্ম করা হয়। যাকে ক্র্যাথোং বলে। সেই কলাপাতার ক্রাথোং এ কি কি থাকে জানলে অবাক হতে হয়। একধরণের রঙবেরঙের মুড়ির চাক বা গোলাকার মুড়ির মণ্ড (অনেকটা আমাদের বাদামচাকের মতো), তিন প্রকার সবজী যা নোনতা স্বাদের হবে, পাঁচপ্রকার মিষ্টি জাতীয় খাবার, তিনটি ফল, মূলতঃ কলা, নারিকেল এবং আঁখ, দুধ, ঘি বা মাখন, ক্যাপরাও বা থাই তুলসি পাতা, সাদা এবং সবুজ শষ্যের বীজ, লাল বীন নারকেলের দুধে তৈরী, সুগন্ধী জল (অগরুর মতো) সাতটি ছোট ছোট সবুজ পতাকা, তিনটি রঙীন কাপড়ের টুকরো সবুজ, লাল, হলুদ রং এর। একটি ছোট পাথর, বা সিমেন্ট কখনো কাঠের কারুকার্য করা একটি খণ্ড, এবং তারই সাথে আমাদের ঝুলনের মতো কিছু গরু, বাছুর, হাতি ঘোড়ার ছোট ছোট মূর্ত্তি! ধূপ, মোমবাতি, ফুল তো অবশ্যই আছে। এর সাথেই থাকে এক গ্লাস জল।

 

আরও পড়ুন —ভীমায়াপুরা / ফিমাই- অজানা থাইল্যাণ্ডের অচেনা পথে ভ্রমণ

নারাই কতা

আরো চমৎকার ব্যাপার ঐ পাথরের বা কাঠের খণ্ডটি কি স্নানের জন্য সুগন্ধি জল রেখে দেওয়া হয় শাঁখের ভিতর। পূজার আয়োজন সমাপ্ত হলে ‘নারাই কতা’ অর্থাত্ বিষ্ণুকথা পাঠ হয়। তারপর আমাদের যেরকম বাহুতে বা কবজিতে লাল বা সাদা তাগা অর্থাত্ মন্ত্রপুতঃ সুতো বাঁধা হয় এখানে তেমনি আমুলেট অর্থাত্ ধাতব মাদুলি ধারণ করে। মাদুলিটি তিনবার মন্ত্র উচ্চারণ করে ধারণ করা হয়। প্রথমবার বলার পর এটি নারায়ণের আসনে রাখা হয়। একে বলা হয় ‘পিতি বুয়াং সুআং’। স্থানীয় মানুষ বিশ্বাস করেন এই মাদুলিতে রোজ একবার করে অন্ততঃ ফুঃ দিতে হয়, যা তোমার নিঃশ্বাসকে এই মাদুলিতে ধরে রাখে। এদের বিশ্বাস এইটি তোমায় দীর্ঘজীবন দান করবেই, শুধু তাই নয় শ্রী নারাই এর দৈবশক্তি ও আশীর্বাদে তোমার জীবন ধন্য হবে। নিজস্ব দেশীয় ভঙ্গীতে উচ্চারিত হয় বিষ্ণু গায়ত্রী মন্ত্র, নারায়ণী গায়ত্রী মন্ত্র, তারপর নারায়ণের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করা, যাকে ‘বাতা খোর পোন’ বলা হয়।কখনো কিষিনা কখোনা বা নারাই

বিষ্ণু ব্যাঙ্কক মিউজিয়াম
বিষ্ণু ব্যাঙ্কক মিউজিয়াম

কিষিনা নারাই

ভাবতে আশ্চর্য লাগে কোন সুদূর কালের কোন বণিক বা ব্রাহ্মণদের সাথে যে আচার এসে পৌঁছেছিলো এদেশে আজও তা পালিত হয়ে যাচ্ছে। মনে পড়ে আমাদের ব্রতকথায়, বণিকদের কাহিনী। কি জানি হয়তো দূরে নদীর পাড়ে চোখে পড়ে ভিনদেশী মানুষরা পূজো করছেন। জানতে চান একিসের পূজো, কিবা ফল পাবে, উত্তরে শোনেন – প্রভু শ্রী নারায়ণের জয়। দেশ, কাল পাত্র ভেদে প্রবহমান বিশ্বাস, ভালোবাসা, ভক্তি, শ্রদ্ধার এক জীবন্ত চলমানতা। ‘শ্রীবিষ্ণু’ তাই কখনো কিষিনা হন, কখনো বা নারাই, কিন্তু তাঁর রূপ বদল হলেও মূল বিশ্বাস থাকে একই।

 

 সমাপ্ত

 

তথ্যসূত্র
(১) দেবদেবী ও তাঁদের বাহন — স্বামী নির্মলানন্দ, গুপ্ত। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অ্যাকাদেমী। ২০০০, মে।

(৩) শিল্পে ভারত ও বর্হিভারত — মণীন্দ্রভূষণ গুপ্ত। আনন্দ পাবলিশার্স। তৃতীয় মুদ্রণ, মে ২০১১।

(৪) Brahmanism in South East Asia — Dawee Daweewarn, Sterling Publishers Private Limited.

(৫) Siamese State Ceremonies — Their History and function — H.G. Quaritech Wales., Bernard Quaritech Ltd. London, 1931.

(৬) Hindu Gods of Peninsular Siam — Stanley J. O’Connor. Yr. Arti bus Asiae. Switzerland, 1971.

(৭) Ancient Khmer Sites in North Eastern Thailand. (Khorat, Buriram and the Angkor-Phimai Route). by — Asger Mollerup, White Lotus Publication-2018.

(৮) A History of Indian Shipping and Maritime Activity — by — Radha Kumud Mookerjee, Longmans, Green And Co. 1912.


Share your experience
  • 626
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    626
    Shares

Facebook Comments

Post Author: অনিতা বোস

অনিতা বোস
– Mrs. Anita Bose. শ্রীমতী অনিতা বোস  বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ও  ভারতীয় শিল্প, ভারত তত্ত্ব এবং টেক্সটাইল ডিজাইন তার আয়ত্তে। ব্যাঙ্ককের জাতীয় মিউজিয়ামে বিগত  ৫ বছর  একমাত্র ভারতীয় গাইড রূপে পৃথিবীর বহু দেশের মানুষের কাছে এশিয়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কে পৌঁছে দিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে, তাদের দেশীয় শিল্পে , ইতিহাসে ও ঐতিহ্যে ভারত সংস্কৃতির  প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০১৯এ রামায়ণ চর্চা বিষয়ে বিশেষ বই লিখেছেন- রামায়ণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পদচিহ্ন।২০১৩ সাল থেকে তিনি এই বিষয়গুলিতে অসংখ্য নিবন্ধ লিখেছেন, যা ভারত, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার সম্মানিত ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।  তাঁর প্রথম বই ওড়িশার পটচিত্রে জগন্নাথ সংস্কৃতি 2018 সালে প্রকাশিত হয়েছিল।   তিনি নিজে একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী,ভারতের পাশাপাশি থাইল্যান্ডে বিভিন্ন একক এবং গ্রুপ আর্ট প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন।  স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত , রামকৃষ্ণ মিশনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন হস্তশিল্প শেখানোর কেন্দ্রে  তিনি আন্তরিক ভাবে  সংযুক্ত ।  ভারতের ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন  জায়গায় নারী ও শিশুদের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে সহায়তা করছেন। বিদেশে বিভিন্ন আর্ট ওয়ার্কসপে র মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতি কেও পৌঁছে দিচ্ছেন পৃথিবীর নানা দেশে র মানুষের মনের গভীরে।